Gleanings

Bengali · বাহাউল্লাহ

Add range:

*(রিজওয়ানের উৎসব, এপ্রিল ২১ - মে ২ পর্যন্ত, তাঁহার অনুসারীদের প্রতি বাহা’উল্লাহ্র দৌত্যের ঘোষণাকে স্মরণীয় করে। বাহা’উলাহ ইহাকে “উৎসবসমূহের রাজা” হিসাবে ঘোষণা করিয়াছেন এবং কিতাব-ই-আক্বদাসে ইহার সম্বন্ধে সেই দিবসরূপে উল্লেখ করিয়াছেন যখন “সমগ্র সৃষ্টবস্তুকে পরিশোধনের সাগরে নিমজ্জিত করা হইয়াছিল।’’ )

স্বর্গীয় বসন্তকাল আসিয়াছে, হে সর্বাধিক উচ্চপ্রশংসিত লেখনী, যেহেতু পরম করূণাময়ের উৎসব দ্রুত নিকটবর্তী হইতেছে। নিজেকে জাগ্রত ও সচল কর এবং সমগ্র সৃষ্টির সম্মুখে ঈশ্বরের নাম উচ্চ-প্রশংসিত কর এবং এইরূপে তাঁহার প্রশংসা উদযাপন কর যেন সকল সৃষ্টবস্তু নবজীবন লাভ করিতে পারে এবং নতুন হইতে পারে। কথা বল এবং নিজেকে নিরব রাখিও না। পরম সুখের দিবস তারকা আমাদের নামের দিকচক্রবালের উপর দীপ্তিমান রহিয়াছে, পরম সুখ, যেহেতু, ঈশ্বরের নামের রাজত্ব তোমার পরম প্রভুর নামের অলঙ্কার দ্বারা সজ্জিত হইয়াছে, যিনি স্বর্গসমূহের সৃষ্টিকর্তা। পৃথিবীর জাতিসমূহের সম্মুখে উত্থিত হও এবং এই সর্ব মহান নামের শক্তি দ্বারা নিজেকে সজ্জিত কর এবং তাহাদের মধ্যে গণ্য হইও না যাহারা অপেক্ষা করে...
এই সেই দিবস যেই দিবসে অদৃশ্য জগৎ চিৎকার করিয়া বলিয়াছে: “মহান তোমার পরমানন্দ, হে পৃথিবী, কারণ তোমাকে তোমার ঈশ্বরের পাদপীঠ করা হইয়াছে এবং তাঁহার পরাক্রমশালী সিংহাসনের আসনরূপে মনোনীত করা হইয়াছে।” মহিমার রাজ্য উচ্চঃস্বরে বলিয়াছে : তোমার জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করিতে পারি, যেহেতু তিনি, যিনি পরম করুণাময়ের প্রিয়তম, তোমার উপর তাহার একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা করিয়াছেন, তাঁহার নামের শক্তির মাধ্যমে সকল বস্তুর নিকট যাহা প্রতিশ্রুত হইয়াছে, হোক না তাহা অতীতের অথবা ভবিষ্যতের।” ......
পরম প্রিয়জন আসিয়াছেন। তাঁহার দক্ষিণ হস্তে তাঁহার নামের সুরক্ষিত মদিরা রহিয়াছে। সুখী সেইজন যে তাঁহার দিকে মুখ ফিরায় এবং তাহার পূর্ণ পরিমাণ পান করে এবং উচ্চঃস্বরে বলে : “প্রশংসা তোমারই, হে ঈশ্বরের নিদর্শনসমূহের প্রকাশক !”  সর্বশক্তিমানের ন্যায়পরায়ণতার শপথ ! সত্যের শক্তির মাধ্যমে প্রতিটি নিহিত বস্তু প্রকাশিত করা হইয়াছে। ঈশ্বরের করুণার প্রমাণস্বরূপ তাঁহার সকল অনুগ্রহ প্রেরিত হইয়াছে। মানবের প্রতি চিরস্থায়ী জীবনের সলিলসমূহ, উহাদের পরিপূর্ণতায় প্রদত্ত হইয়াছে। প্রতিটি পেয়ালা পরম প্রিয়তমের হস্ত দ্বারা সর্বত্র বাহিত হইয়াছে । নিকটবর্তী হও, এবং অপেক্ষা করিও না, তাহা যদি একটি সংক্ষিপ্ত মুহূর্তের জন্যও হয়ে থাকে ....
অত্যধিক আনন্দ সহকারে উৎসব মুখরিত হও, হে বাহা’র জনমন্ডলী, যখন তোমরা পরম সুখের দিবসটি স্মরণ করিতে আহ্বান কর, সেই দিবস যাহার সম্বন্ধে দিবসসমূহের প্রাচীনের জিহ্বা সাক্ষ্য দিয়াছে, যখন তিনি তাঁহার গৃহ হইতে প্রস্থান করিলেন, সেই স্থানটির দিকে অগ্রসর হইলেন যেখান হইতে তিনি সমগ্র সৃষ্টির উপর তাঁহার নামের উজ্জ্বলদীপ্তি ছড়াইয়া দিলেন, যিনি পরম করুণাময়। ঈশ্বর আমাদের সাক্ষী। যদি আমরা ঐ দিবসের নিহিত গূঢ় তাৎপর্য প্রকাশ করিতাম, যাহারা পৃথিবীতে ও স্বর্গসমূহে বসবাস করিতেছে তাহাদের সকলে মূর্ছা যাইত এবং মৃত্যুবরণ করিত, তাহারা ব্যতীত যাহারা ঈশ্বর কর্তৃক সুরক্ষিত থাকিবে, যিনি সর্ব-শক্তিমান, সর্বজ্ঞ, সর্ব বিজ্ঞ।
যিনি তাঁহার সন্দেহাতীত প্রমাণসমূহের প্রকাশক তাঁহার উপর ঈশ্বরের বাণীর মাতালকারী প্রভাব এইরূপ যে তাঁহার লেখনী আর সঞ্চালনে অপারগ, তিনি এই বাণী সহকারে তাঁহার ফলকলিপির উপসংহার করিতেছেন: আমি ব্যতীত আর কোন ঈশ্বর নাই, যিনি সর্বাধিক উচ্চপ্রশংসিত, সর্ব-শক্তিমান, শ্রেষ্ঠতম, সর্বজ্ঞ।
এই দিবসের প্রতি সকল মহিমা, দিবসটি যাহার মধ্যে করুণার সুরভিসমূহ সকল সৃষ্ট বস্তুর উপর দিয়া প্রবাহিত হইয়াছে, একটি দিবস এইরূপ সৌভাগ্যশালী যে অতীত যুগসমূহ ও শতাব্দীসমূহ কখনো ইহার প্রতিদ্বন্দ্বী হইতে আশা করিতে পারে না, একটি দিবস যাহার মধ্যে দিবসসমূহের প্রাচীন তাঁহার মুখমন্ডল তাঁহার পবিত্র আসনের প্রতি ফিরাইয়াছে। তখন সকল সৃষ্টবস্তুর কণ্ঠস্বরসমূহ এবং তাহাদের ছাড়াইয়া যাহারা উর্ধ্বরাজ্যের অধিবাসী তাহাদিগকে উচ্চকণ্ঠে ডাকিতে শোনা গেল: “তুমি ত্বরা কর, হে কার্মেল, কারণ দেখ, ঈস্বরের মুখমন্ডলের আলো, যিনি নামাবলীর রাজ্যের শাসক এবং স্বর্গসমূহের গঠনকারী, তোমার উপর উত্তোলিত করা হইয়াছে।” আনন্দে আত্মহারা হইয়া এবং তাহার কণ্ঠস্বর উর্ধ্বে উত্তোলিত করিয়া, সে এইরূপ অকস্মাৎ উক্তি করিল: “আমার জীবন তোমার প্রতি উৎসর্গ হউক, যেহেতু তুমি তোমার স্থির দৃষ্টি আমার উপর নিবদ্ধ করিয়াছ, তোমার বদান্যতা আমার উপর প্রদান করিয়াছ এবং তোমার পদক্ষেপসমূহ আমার দিকে চালিত করিয়াছ। তোমা হইতে বিচ্ছেদ, হে তুমি যিনি চিরস্থায়ী জীবনের উৎস, আমাকে প্রায় নিঃশেষ করিয়াছে এবং তোমার উপস্থিতি হইতে আমার দূরবর্তিতা আমার আত্মাকে দগ্ধ করিয়াছে। তুমি সর্ব প্রশংসিত হও, তোমার আহ্বান শ্রবণ করিতে আমাকে সক্ষম করিবার জন্য, তোমার পদচিহ্নসমূহ দ্বারা আমাকে সম্মানিত করিবার জন্য এবং তোমার দিবসের প্রাণবন্তকারী সুরভি এবং তোমার লেখনীর তীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে আমার আত্মাকে ত্বরান্বিত করিবার জন্য, একটি কণ্ঠস্বর যাহা তুমি তোমার জনমন্ডলীর মধ্যে তোমার তূর্য-ধ্বনি রূপে আদেশ করিয়াছ এবং মুহূর্তটি যখন তোমার অপ্রতিরোধ্য ধর্ম প্রকাশিত হইবার ছিল তখন তাহা ঘোষিত হইয়াছে, তুমি তোমার লেখনীর মধ্যে তোমার চেতনার একটি নিঃশ্বাস ফুঁৎকার করিয়াছ এবং দেখ, সকল সৃষ্টি স্বয়ং ইহার ভিত্তিসমূহে প্রকম্পিত হইয়াছে, মানবজাতির প্রতি এইরূপ রহস্যগুলি প্রকাশ করিয়াছে যাহা তাঁহার ধনাগারসমূহের মধ্যে নিহিত ছিল যিনি সকল সৃষ্টবস্তুসমূহের অধিকারী।” যেইমাত্র তাহার কণ্ঠস্বর সেই পরম মহিমান্বিত স্থানে পৌঁছিল তৎক্ষণাৎ আমরা উত্তর দিলাম: “তোমার পরম প্রভুর প্রতি তুমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর, হে কার্মেল। আমা হইতে তোমার বিচ্ছেদের অগ্নি তোমাকে দ্রুত নিঃশেষ করিতেছিল, আমার উপস্থিতির মহাসাগর যখন তোমার মুখমন্ডলের সম্মুখে উদ্বেলিত হইতেছিল, তখন তোমার এবং সকল সৃষ্টির চক্ষুসমূহ উদ্দীপিত করিতেছিল এবং দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সকল বস্তুকে আনন্দ দ্বারা পূর্ণ করিতেছিল। আনন্দিত হও, কারণ এই দিবসে ঈশ্বর তোমার উপর তাঁহার সিংহাসন স্থাপন করিয়াছেন, তোমাকে তাঁহার নিদর্শনাবলীর প্রাভাতিক-স্থল এবং তাঁহার প্রত্যাদেশের সাক্ষ্যপ্রমাণসমূহের অরুণোদয় করিয়াছেন। মঙ্গল তাহার-ই যে তোমার চতুর্দিকে পরিভ্রমণ করে, যে মহিমার প্রত্যাদেশ ঘোষণা করে, এবং তাহা বর্ণনা করে যাহা তোমার ঈশ্বর বদান্যতার পরম প্রভু তোমার উপর বর্ষিত করিয়াছেন। তোমার পরম প্রভু, সর্ব-গৌরবময়ের নামে তুমি অমরত্বের পানপাত্রটি সাগ্রহে গ্রহণ কর এবং তাঁহার প্রতি কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন কর, যেহেতু তিনি, তোমার প্রতি তাঁহার করুণার নিদর্শনস্বরূপ, তোমার বিষাদকে আনন্দে পরিবর্তিত করিয়াছেন এবং তোমার মর্মপীড়াকে পরম সুখময় উল্লাসে রূপান্তরিত করিয়াছেন। তিনি, সত্য সত্যই, স্থানটিকে ভালবাসিয়াছেন যাহা তাঁহার সিংহাসনের আসন করা হইয়াছে, যাহা তাঁহার পদচিহ্নসমূহ বিচরণ করিয়াছে, যাহা তাঁহার উপস্থিতি দ্বারা সম্মানিত হইয়াছে যেইস্থান হইতে তিনি তাঁহার আহ্বান-ধ্বনি উত্তোলিত করিয়াছেন, এবং যাহার উপর তিনি তাঁহার অশ্রু বর্ষণ করিয়াছেন।
“জাইয়নের প্রতি আহ্বান কর, হে কার্মেল এবং আনন্দপূর্ণ বার্তাসমূহ ঘোষণা কর : তিনি আসিয়াছেন যিনি নশ্বর চক্ষুসমূহ হইতে নিহিত ছিলেন! তাঁহার সর্ব-জয়ী সার্বভৌম ক্ষমতা প্রকাশিত হইয়াছে; তাঁহার সর্ব-আবেষ্টনকারী মহিমা প্রকাশিত হইয়াছে। সতর্ক হও যেন তুমি ইতস্তত না কর অথবা নিবৃত্ত না হও। দ্রুত অগ্রসর হও এবং ঈশ্বরের নগরটি প্রদক্ষিণ কর যাহা স্বর্গ হইতে নামিয়া আসিয়াছে, স্বর্গীয় কা’বা যাহার চতুর্দিকে, ঈশ্বরের অনুগ্রহভাজন, পবিত্র হৃদয় এবং সর্ব প্রশংসিত দেবদূতগণ ভক্তি সহকারে বৃত্তাকারে পরিভ্রমন করিয়াছে। আহা, আমি কিরূপ আকুল আকাঙ্খা করিতেছি, ভূ-পৃষ্ঠের প্রতিটি স্থানের প্রতি ঘোষণা করিতে এবং ইহার প্রতিটি নগরে বহন করিতে, এই প্রত্যাদেশের আনন্দ-বার্তাসমূহ একটি প্রত্যাদেশ যাহার প্রতি সিনাইয়ের হৃদয় আকৃষ্ট হইয়াছে এবং যাহার নামে জলন্ত ঝোপ আহ্বান করিতেছে: ‘মর্ত্য ও স্বর্গের রাজ্যসমূহ ঈশ্বরের, যিনি পরম প্রভুগণের পরম প্রভু।’ সত্য সত্যই এই সেই দিবস যখন স্থল ও সাগর উভয়ে এই ঘোষণায় উল্লসিত হইয়াছে, দিবসটি যাহার জন্য ঐ সকল বস্তু রাখা হইয়াছে যাহা ঈশ্বর, নশ্বর মন অথবা হৃদয়ের জ্ঞানের উর্ধ্বে একটি বদান্যতার মাধ্যমে, প্রত্যাদেশের জন্য নির্ধারিত করিয়াছেন। শীঘ্রই ঈশ্বর তোমার উপর তাঁহার তরী ভাসাবেন এবং বাহা’র জনগণকে প্রকাশ করিবেন যাহারা নামাবলীর গ্রন্থে উল্লিখিত হইয়াছে।” সকল মানবজাতির পরম প্রভু পবিত্র হউন, যাহার নামের উল্লেখে জগতের সকল পরমাণু প্রকম্পিত করা হইয়াছে এবং মহিমার জিহ্বাকে তাহা প্রকাশ করিতে সঞ্চালিত করা হইয়াছে যাহা তাঁহার জ্ঞানে আবৃত ছিল এবং তাঁহার পরাক্রমের ধনাগারের মধ্যে লুক্কায়িত ছিল। তিনি, সত্য সত্যই, তাঁহার নামের শক্তির মাধ্যমে, যিনি শক্তিমান, সর্ব-ক্ষমতাশালী, সর্বোচ্চ, যাহা কিছু স্বর্গসমূহে রহিয়াছে এবং যাহা কিছু মর্ত্যে রহিয়াছে, তাহাদের সকলের শাসক।
মানবজাতির মধ্যে একতার পতাকা উন্নীত কর। হে প্রভু! হে ঈশ্বর মহান শান্তি প্রতিষ্ঠিত কর। হে প্রভু, সমস্ত মানব হৃদয়কে মিলিত করে এক করে দাও।