Prayers & Meditations

Bengali · বাহাউল্লাহ

Add range:
  • (এই প্রার্থনাটি প্রত্যহ প্রাতঃকালে, মধ্যাহ্ন (অপরাহ্নে) ও সন্ধ্যাকালে-এই তিন সময়ে আবৃত্তি করিতে হইবে। যে কেহ এই প্রার্থনা করিতে ইচ্ছা করে তাহাকে তাহার হস্তদ্বয় ধৌত করিতে হইবে এবং যখন সে হস্ত ধৌত করিবে তখন তাহাকে বলিতে হইবে-) আমার হস্ত সবল কর, হে আমার ঈশ্বর, যেন ইহা তোমার গ্রন্থ এইরূপ দৃঢ়তার সহিত ধারণ করিতে পারে যে, পৃথিবীর সৈন্যবাহিনীও ইহার উপর কোন প্রতিরোধ শক্তি থাকিবে না। তৎপর ইহাকে রক্ষা কর যেন যাহার উপর ইহার কোন কর্তৃত্ব নাই তৎ সম্বন্ধে ইহা হস্তক্ষেপ করিতে না পারে। তুমি, সত্যই, সর্বশক্তিমান,পরম ক্ষমতাশালী এরপর যখন সে তাহার মুখম-ল ধৌত করিবে তখন তাহাকে বলিতে হইবে- “আমি তোমার দিকে আমার মুখমন্ডল ফিরাইয়াছি, হে আমার পরম প্রভু। তোমার পবিত্র আননের আলোকে ইহাকে আলোকিত কর। তৎপর ইহাকে রক্ষা কর, যেন তুমি ব্যতীত আর কাহারও দিকে ইহা নিজেকে ফিরাইতে না পারে।” তৎপর তাহাকে উত্তর পশ্চিম কোণে মুখ ফিরাইয়া প্রার্থনার আসনে বসিয়া ৯৫(পঁচানব্বই) বার ‘আল্লাহু আব্হা ’ এই শব্দটি আবৃত্তি করিতে হইবে। তৎপর তাহাকে দাঁড়াইতে হইবে এবং উত্তর পশ্চিম কোণে মুখ ফিরাইয়া (অর্থ্যাৎ উপাসনা-কেন্দ্রে বা প্যালেষ্টাইনের অন্তর্গত আক্কা নগরীর বাহ্জীর পবিত্র সমাধি-সৌধের দিকে) আবৃত্তি করিতে ইহবেঃ *‘‘ ঈশ্বর সাক্ষ্য দিতেছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই। প্রত্যাদেশ ধর্মের ও সৃষ্টির রাজস্ব তাঁহারই। তিনিই বাস্তবিক তাঁহাকে প্রকাশিত করিয়াছেন যিনি ঐশী প্রকাশের উদয়-স্থল, যিনি সিনাই পর্বতোপরি কথোপকথনকারী, যাঁহার দ্বারা সর্বোচ্চ দিকমন্ডল আলোকিত করা হইয়াছে এবং সিদ্রা বৃক্ষ (লোত বৃক্ষ), যাহার সীমা অনতিক্রমনীয়-বাক্যোচ্চারণ করিয়াছে এবং তাঁহার মাধ্যমে স্বর্গ ও মর্তস্থ সকলের নিকট এই আহব্বান ধ্বনি ঘোষণা করা হইয়াছে, দেখ, সর্বাধিপতি আসিয়া গিয়াছেন। স্বর্গ ও মর্ত, প্রভা ও আধিপত্য, সকলই ঈশ্বরের জন্য, যিনি সকল মানবের পরম প্রভু এবং স্বর্গের সিংহাসনের ও মর্তের অধিপতি।’’ তৎপর হস্তদ্বয় জানুদ্বয়ের উপর স্থাপন করিয়া দেহ ও মস্তক অবনত করিবে এবং বলিবে : “হে ঈশ্বর। তুমি আমার প্রশংসার ও আমি ব্যতীত অপর সকলেরও প্রশংসার উর্ধ্বে, গৌরবান্তিত এবং আমার বর্ণনা ও স্বর্গ-মর্তের সকলের বর্ণনার উর্ধ্বে পবিত্র।’’ তৎপর, খোলা হস্তদ্বয়ের সহিত দাঁড়াইয়া, করতলদ্বয় উর্ধ্বে মুখের দিকে স্থাপন করিয়া, তাহাকে বলিতে হইবে : “হে আমার প্রভু। তুমি তাহাকে নিরাশ করিও না, যে মিনতিপূর্বক তোমার করুণার ও অনুকম্পার অঞ্চল আশার অঙ্গুলি দ্বারা জড়াইয়া ধরিয়া রহিয়াছে, হে সকল কৃপা প্রদর্শনকারীর মধ্যে পরম কৃপাময়।’’ তৎপর বসিয়া সে এই প্রার্থনা আবৃত্তি করিবে : “আমি তোমার একত্বের ও তোমার অদ্বিতীয়ত্বের সাক্ষ্য প্রদান করিতেছি এবং আরও সাক্ষ্য দিতেছি যে, তুমিই প্রভু, তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই। তুমি, সত্য সত্যই, তোমার প্রত্যাদেশ ধর্ম অবতীর্ণ করিয়াছ এবং তোমার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করিয়াছ এবং স্বর্গ ও মর্তের সকল অধিবাসীর জন্য তোমার অনুকম্পার দ্বার সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত করিয়া দিয়াছ। আশীষ ও শান্তি, অভিবাদন ও প্রভা, তোমার ঐ সকল বন্ধুদের উপর বর্ষিত হউক, যাহাদিগকে পার্থিব পরিবর্তন ও সম্ভাবনাদি তোমার দিকে অগ্রবর্তী হইতে নিবৃত্ত করিতে পারে নাই এবং যাহারা তোমার নিকট যাহা আছে তাহা পাইবার আশায়, তাহাদের যথাসর্বস্ব¦ দান করিয়াছে। তুমি সত্যই, চির ক্ষমাশীল সর্ব-বদান্যতাপূর্ণ।’’ যদি কেহ প্রার্থনায় দন্ডায়মান অবস্থায় সুদীর্ঘ প্রার্থনা-শ্লোক আবৃত্তি করার পরিবর্তে এই সংক্ষিপ্ত শ্লোকটি আবৃত্তি করে, তবে তাহার পক্ষে তাহা যথেষ্ট হইবে : “ঈশ্বর সাক্ষ্য দিতেছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই, তিনি বিপদে সাহায্যকারী, চির সত্তাবিশিষ্ট।” এবং এই প্রকারে যদি প্রার্থনাকালে শেষ উপবিষ্ট অবস্থায় এই সংক্ষিপ্ত প্রার্থনা আবৃত্তি করে , তবে তাহার পক্ষে যথেষ্ট হইবে : *‘‘আমি তোমার একত্বের ও অদ্বিতীয়ত্বের সাক্ষ্য দিতেছি এবং আরও সাক্ষ্য দিতেছি যে, তুমিই প্রভু, তুমি ব্যতীত অন্য উপাস্য নাই।’’
হে আমার আল্লাহ্! হে আমার আল্লাহ্! সত্য সত্যই আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করিতেছি এবং তোমার পবিত্র প্রাঙ্গনের সম্মুখে সানুনয় আবেদন করিতেছি, যেন এই সকল আত্মার উপর তোমার করুণারাশি অবতীর্ণ হয়। বিশিষ্টভাবে তাহাদিগকে তোমার অনুগ্রহ ও তোমার সত্য প্রদান কর। হে পরম প্রভু, অন্তরসমূহ মিলিত কর এবং ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ কর, সকল আত্মাকে একই সমন্বয়ে মিলিত কর এবং তোমার পবিত্রতা ও একত্বের নিদর্শনসমূহের দ্বারা আত্মাসমূহকে প্রাণবন্ত কর। হে পরম প্রভু। তোমার একত্বের আলোক দ্বারা এই সকল আননকে উজ্জ্বল কর। তোমার রাজত্বের সেবা কার্যে তোমার সেবকদের কটিদেশ শক্তিশালী কর। হে পরম প্রভু। তুমি অসীম দয়ার অধিকারী। হে ক্ষমা ও মার্জনার পরম প্রভু। আমাদের পাপ ক্ষমা কর, আমাদের ত্রুটিসমূহ মার্জনা কর এবং তোমার অনুকম্পার রাজত্বের দিকে, তোমার শক্তি ও ক্ষমতার রাজত্বের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করিয়া তোমার পবিত্র প্রাঙ্গনে বিনীতভাবে এবং তোমার প্রমাণসমূহের প্রভার সম্মুখে বিনম্রভাবে ফিরিতে দাও। হে পরম প্রভু আল্লাহ্ । আমাদিগকে সমুদ্রে তরঙ্গরাশির সদৃশ, উদ্যানের পুষ্পরাজির ন্যায় একতাবদ্ধ কর, তোমার প্রেমের দানসমূহের মধ্য দিয়া ঐক্য সূত্রে মিলিত কর। হে পরম প্রভু। তোমার একত্বের নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে আমাদের বক্ষগুলি বিস্তৃত কর এবং মানবজাতির সকলকে প্রভার একই উচ্চস্থান হইতে দীপ্তিমান তারকাপুঞ্জের সদৃশ কর, যেন তাহারা তোমার জীবন বৃক্ষের উপরিস্থ পূর্ণাঙ্গ বর্ধমান ফলসমূহ। সত্য সত্যই, তুমি সর্ব শক্তিমান, স্বয়ং-সত্তাশীল, দাতা, ক্ষমাশীল, মার্জনাকারী, সর্বজ্ঞ, একক সৃষ্টিকর্তা।
(এই ফলকলিপি মহান বাহা’উল্লাহ্ এবং মহান বা’বের সমাধি-স্থানদ্বয়ে পঠিত হয়। তাঁহাদের বার্ষিক স্মৃতি-উৎসবের সময়ও ইহা ব্যবহৃত হয়।) যে প্রশংসা-স্তুতি তোমার পরম মহিমান্বিত স্বয়ং সত্তা হইতে প্রকাশিত হইয়াছে এবং যে প্রভা তোমার পরম উজ্জ্বল সুষমা হহতে প্রজ্বলিত হইয়াছে তাহা তোমারই উপর বিশ্রাম লাভ করুক (কারণ তাহা তোমার মহিমারই যোগ্য), হে তুমি যিনি মহত্ত্বের ঐশী প্রকাশ এবং চিরিস্থায়ী সম্রাট এবং স্বর্গ ও মর্তের সকলেরই পরম প্রভু। আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, তোমারই মাধ্যমে ঈশ্বরের একাধিপত্য এবং তাঁহার সাম্রাজ্য এবং ঈশ্বরের মহিমা ও তাঁহার মহত্ত্ব প্রকাশিত হইয়াছিল এবং সনাতন প্রভার প্রভাতিক তারকা সমূহ তোমার অপরিবর্তনীয় প্রত্যাদেশ স্বর্গে তাহাদের উজ্জ্বলতা প্রদান করিয়াছে এবং অদৃশ্য জগতের সুষমা, সৃষ্টির চক্রবালের উপর উজ্জ্বল আলোক প্রদান করিয়ছে। আমি আরও সাক্ষ্য দিতেছি যে, তোমার লেখনীর একটি মাত্র গতিতে তোমার ‘‘হও’’ আদেশ প্রবর্তিত করা হইয়াছে এবং ঈশ্বরের নিহিত রহস্য প্রকাশিত করা হইয়াছে এবং সমুদয় সৃষ্ট দ্রব্যকে অস্তিত্বে আনয়ন করা হইয়াছে এবং সকল প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ করা হইয়াছে। আমি আরও সাক্ষ্য দিতেছি যে, তোমার সুষমার মাধ্যমে পূজিত জনের সুষমা প্রকাশিত করা হইয়াছে এবং তোমার আননের মাধ্যমে অভিলাষিত জনের আনন উজ্জ্বল আলোক প্রদান করিয়াছে এবং তোমার নিকট হইতে একটি বাক্যের মাধ্যমে তুমি সকল সৃষ্ট দ্রব্যের মধ্যে বিচার-মীমাংসা করিয়াছ, যাহারা তোমার ভক্ত তাহাদের তুমি গৌরবের শীর্ষে আরোহণ করাইয়াছ, এবং অবিশ্বাসিগণকে নিম্নতম গভীর গহ্বরে নিক্ষিপ্ত করিয়াছ। আমি সাক্ষ্য প্রদান করিতেছি যে, যে ব্যক্তি তোমাকে জানিয়াছে, সে ঈশ্বরকে জানিয়াছে, যে তোমার উপস্থিতি লাভ করিয়াছে সে ঈশ্বরের উপস্থিতি লাভ করিয়াছে। অতএব, তোমার নিদর্শন সমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে এবং তোমার একাধিপত্যের নিকট নিজেকে নত করিয়াছে এবং তোমার সাক্ষাৎকার লাভের দ্বারা সম্মানিত হইয়াছে এবং তোমার ইচ্ছার সন্তোষ লাভ করিয়াছে এবং তোমার চতুর্দিকে পরিভ্রমণ করিয়াছে এবং তোমার সিংহাসনের সম্মুখে দন্ডায়মান হইয়াছে। তাহার প্রতি অভিসম্পাত যে, তোমার বিধানসমূহ লংঘন করিয়াছে এবং তোমাকে অস্বীকার করিয়াছে এবং তোমার নিদর্শনসমূহ পরিত্যাগ করিয়াছে এবং তোমার একাধিপত্য অস্বীকার করিয়াছে এবং তোমার বিরুদ্ধে উত্থিত হইয়াছে এবং তোমার সন্মুখে অহংকার প্রদর্শন করিয়াছে এবং তোমার সাক্ষ্য-প্রমাণসমূহ অস্বীকার করিয়াছে এবং তোমার শাসন ও আধিপত্য হইতে পলায়ন করিয়াছে এবং অবিশ্বাসীদের দলে পরিগণিত হইয়াছে, যাহাদের নাম তোমার পবিত্র ফলক-লিপিসমুহে তোমার আদেশের অঙ্গুলি দ্বারা লিপিবদ্ধ করা হইয়াছে। অতঃপর, আমার দিকে পরিচালিত কর, হে আমার প্রভু এবং আমার প্রিয়জন, তোমার করুণা ও তোমার সস্নেহ সহানুভূতির দক্ষিণ-হস্ত হইতে তোমার অনুগ্রহের পবিত্র নিঃশ্বাসসমূহ, যেন তাহারা আমাকে নিজের নিকট হইতে এবং পৃথিবী হইতে তোমার নৈকট্যের ও উপস্থিতির প্রাঙ্গণে আকর্ষণ করিতে পারে। তুমি যাহা করিতে ইচ্ছা কর তাহা করিতে তুমি সক্ষম। তুমি সত্যই সকলের উপর সর্বোচ্চ শক্তি সম্পন্ন। ঈশ্বরের স্মরণ ও তাঁহার প্রশংসা, ঈশ্বরের প্রভা ও তাঁহার উজ্জ্বল্য তোমারই উপর বিশ্রাম লাভ করুক, হে তুমি, যিনি তাঁহারই সুষমা। আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, সৃষ্টি চক্ষু কখনও তোমার ন্যায় উৎপীড়িত অন্য কাহারও উপর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে নাই। তোমার জীবনের সকল দিনই তুমি দূর্দশারত মহাসাগরে নিমজ্জিত ছিলে। এক সময়ে তুমি শৃঙ্খল ও নিগড়াবদ্ধ ছিলে, অন্য সময়ে তুমি তোমার শত্রুগণের তরবারির ভয় প্রদর্শিত হইতেছিলে। তথাপি এই সকল সত্ত্বেও তুমি সকল লোককে তাহাই প্রতিপালন করিতে আদেশ দিয়াছিলে, যাহা তোমার জন্য তাঁহার দ্বারা নির্ধারিত করা হইয়াছিল, যিনি সর্বজ্ঞ, সর্ববিজ্ঞ। তুমি যে সকল অত্যাচার সহ্য করিয়াছিলে তজ্জন্য আমার জীবন উৎসর্গীকৃত হউক এবং তুমি যে সমুদয় দুর্দশা ভোগ করিয়াছিলে তজ্জন্য আমার আত্মা মুক্তি-পণস্বরূপ হউক। আমি ঈশ্বরের নিকট বিনীত প্রার্থনা করিতেছি, তোমার সহায়তায় এবং তাহাদের সাহায্যে যাহাদের আননসমূহ তোমার মুখমন্ডলের আলোকের উজ্জ্বলতাসমূহ দ্বারা আলোকিত হইয়াছে এবং যাহারা তোমার প্রতি ভালবাসার জন্য তোমা কর্তৃক আদিষ্ট সকল বিষয়ই প্রতিপালন করিয়াছিল, যেন তুমি সেই সকল অন্তরাল, যাহা তোমার ও তোমার সৃষ্ট জীবগণের মধ্যে স্থাপিত হইয়াছে, তাহা অপসারিত কর, এবং যেন এই পৃথিবী ও পরবর্তী পৃথিবীতে আমার জন্য যাহা ভাল ও উপাদেয় তুমি তাহা পুরণ কর। তুমি, সত্য সত্যই, সর্বশক্তিমান,পরম মহিমান্বিত, সর্ব প্রভাময়, চির-মার্জনাকারী, পরম দয়ালু। তুমি আশীর্বাদ কর, হে পরম প্রভু, আমার ঈশ্বর, স্বর্গীয় লোত বৃক্ষকে, ইহার পত্রসমূহ, ইহার শাখা, ইহার প্রশাখা, ইহার কান্ড এবং ইহার পল্লবসমূহকে, যতকাল পর্যন্ত তোমার উৎকৃষ্ট পদবীসমূহ স্থায়ী হইবে এবং তোমার পরম মহিমান্বিত গুণাবলী বর্তমান থাকিবে। অতঃপর ইহাকে প্রথম আক্রমণকারীর অনিষ্ট হইতে এবং উৎপীড়নের বাহিনীসমূহ হইতে রক্ষা কর। তুমি, সত্য সত্যই, সর্বশক্তিমান, পরম ক্ষমতাশালী। তুমি, আরও আশীর্বাদ কর, হে পরম প্রভু আমার ঈশ্বর, তোমার সেবকগণকে ও তোমার সেবিকাগণকে, যাহারা তোমার সান্নিধ্য লাভ করিয়াছে। তুমি, সত্য সত্যই, সর্ব বদান্যতাপূর্ণ, যাহার অনুকম্পা অসীম। তুমি প্রভু ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই, তুমি চির-মার্জনাকারী, পরম দানশীল।
*[দ্বিপ্রহরের পর হইতে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে প্রত্যহ একবার পড়িতে হইবে] আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, হে আমার প্রভু, তোমাকে জানিবার জন্য এবং তোমার উপাসনা করিবার জন্য তুমি আমাকে সৃষ্টি করিয়াছ। আমি,এই মুহূর্তে আমার শক্তিহীনতা ও তোমার সামর্থের, আমার দরিদ্রতা ও তোমার সম্পদের সাক্ষ্য দিতেছি। তুমি ঈশ্বর ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই, তুমি বিপদে সাহায্যকারী, চির-সত্তাবিশিষ্ট।
*“বৎসরের মাসগুলির দিনসমুহের সমষ্টির (কারণ ১৯ মাসে বৎসর, এক মাসে ১৯দিন) অতিরিক্ত দিনগুলি (চার বা পাঁচ দিন) উপবাস মাসের পুর্বে স্থাপন কর। এই দিনগুলিকে রাত্র-দিন একত্রে গণনা করতঃ আরবী আবজাদ গণনার হিসাব মতে আরবী ‘হা’ অক্ষরের প্রকাশরূপে নির্দিষ্ট করিয়াছি। এইরূপে বৎসরের দিনগুলির ও বৎসরের মাসগুলির সংখ্যা নির্ধারিত হইয়াছে। এই দিবসসমুহে বাহা’ই ধর্মালম্বীদের উচিত নিজদিগকে ও আত্মীয়-স্বজনকে এবং দরিদ্র, অভাবগ্রস্থজনকে ভোজন করাইবে এবং মনের আনন্দ ও উৎফুল্লতা সহকারে তাহাদের নিকট ঈশ্বরের একত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব, পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণাকারী শ্লোকসমুহ আবৃতি করিবে এবং যখন দানসমূহের দিবসগুলি অতীত হইয়া যাইবে, তখন উপবাস-মাসে প্রবেশ করিবে-মানবের পরম প্রভু এইরূপই আদেশ করিয়াছেন।’’ কিতাবে আক্বদাস-৪৫ শ্লোক আইয়্যামে-হা অর্থাৎ আবজাদের ‘হা’ বর্ণের সংখ্যার দিনগুলি যাহা পাঁচ দিন, ২৬শে ফেব্রুয়ারী হইতে পহেলা মার্চ পর্যন্ত চার কিম্বা পাঁচ দিন, এইগুলি উপবাসের জন্য প্রস্তুতির দিনসমূহ, অতিথি সৎকারের দিন, দান ও উপহার প্রদানের দিন।’’ প্রভু আমার, অগ্নি আমার এবং আলোক আমার। যে দিবসসমূহকে তোমার ঐশী গ্রন্থে তুমি ‘আইয়্যামে-হা’ নাম দিয়াছ, সেই দিবস সমূহ আরম্ভ হইয়াছে, হে তুমি যিনি নামসমূহের সম্রাট এবং যে উপবাস, তোমার পরম মহিমানি¦ত লেখনী দ্বারা, যাহারা তোমার সৃষ্টির রাজ্যে অবস্থান করিতেছে তাহাদের সকলকে, প্রতিপালন করার জন্য আদেশ করিয়াছ, তাহা নিকটবর্তী হইতেছে। হে আমার পরম প্রভু। এই সমুদয় দিবসের সহায়তায় এবং তাহাদের সকলের সহায়তায়, যাহারা এই নির্ধারিত সময়ে তোমার আদেশসমূহের রজ্জু আঁকড়াইয়া ধরিয়াছে এবং তোমার বিধি-বিধানসমূহের হাতল ধৃত করিয়া রহিয়াছে, আমি তোমার নিকট অনুনয় করিতেছি যেন তুমি প্রত্যেক আত্মার জন্য তোমার প্রাঙ্গণের সীমার মধ্যে একটি স্থান নির্দিষ্ট করিয়া দাও এবং তোমার মুখমন্ডলের আলোকের প্রভাবসমূহের প্রকাশের স্থানে একটি আসন দান করিতে সম্মত হও। ইহারা তোমার সেবক, হে আমার পরম প্রভু, যাহাদিগকে তুমি তোমার ঐশী গ্রন্থে যাহা অবতীর্ণ করিয়াছিলে তাহা হইতে কোন প্রকার দূষিত অনুরাগ পশ্চাদপদ হইতে দেয় নাই। তাহারা তোমার প্রত্যাদেশের সন্মুখে তাহাদের মস্তক অবনত করিয়াছে এবং তাহারা তোমার অবতীর্ণ গ্রন্থ এইরূপ দৃঢ়ভাবে ও দৃঢ় সংকল্পের সহিত গ্রহণ করিয়াছে, যাহা কেবল তোমারই দানে সম্ভব এবং তাহারা তাহাই প্রতিপালন করিয়াছে, যাহা তুমি তাহাদের জন্য ব্যবস্থা প্রদান করিয়াছিলে এবং যাহা তোমা কর্তৃক অবতীর্ণ করা হইয়াছিল, তাহাই তাহারা অনুসরণ করিতে মনোনীত করিয়াছে। তুমি দেখিতে পাইতেছ, হে আমার পরম প্রভু, তুমি তোমার ধর্মগ্রন্থসমূহে যাহা অবতীর্ণ করিয়াছ তাহারা কি প্রকারে তাহা চিনিতে পরিয়াছে এবং স্বীকার করিয়া লইয়াছে। হে আমার প্রভু, তোমার কৃপার হস্ত হইতে তোমার অনন্তকালীন জলরাশি তাহাদিগকে পান করিতে দাও। অতঃপর তাহাদের জন্য সেই প্রতিদান লিপিবদ্ধ কর যাহা তাহার জন্য ব্যবস্থা করা হইয়াছে, যে তোমার উপস্থিতি মহাসাগরে নিজেকে নিমজ্জিত করিয়াছে এবং তোমার সাক্ষাৎকার লাভের উৎকৃষ্ট সুরা পান করিয়াছে। আমি তোমার নিকট বিনীত প্রার্থনা করিতেছি, হে তুমি, যিনি রাজাদের সম্রাট এবং উৎপীড়িতদের প্রতি দয়ালু, যেন তুমি তাহাদের জন্য এই পৃথিবীর ও পরবর্তী পৃথিবীর মঙ্গলের ব্যবস্থা কর। অধিকিন্তু, তাহাদের জন্য উহা লিপিবদ্ধ কর, যাহা তোমার সৃষ্ট জীবদের কেহই আবিস্কার করিতে সমর্থ হয় নাই এবং তাহাদিগকে তাহাদের সহিত গণনা কর, যাহারা তোমার চতুর্দিকে পরিভ্রমণ করিয়াছে এবং যাহারা তোমার জগৎসমূহের প্রত্যেক জগতে তোমার সিংহাসনের নিকটে পরিভ্রমণ করে। সত্যই তুমি সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ,সর্ব বিজ্ঞ।
হে আমার ঈশ্বর এবং আমার পরম প্রভু। আমি তোমার ভৃত্য এবং তোমার ভৃত্যের সন্তান। এই প্রভাতকালে আমি আমার শয্যা হইতে উত্থিত হইয়াছি, যখন তোমার ইচ্ছাশক্তির প্রভাত হইতে তোমার একত্বের প্রভাতিক তারকা উজ্জ্বল আলোক প্রদান করিয়াছে এবং তোমার প্রত্যাদেশ গ্রন্থসমুহে যে আদেশের ব্যবস্থা প্রদান করা হইয়াছে, সেই মতে সমস্ত জগতে ইহার প্রভা বিস্তার করিয়াছে। সকল প্রশংসা তোমারই জন্য, হে আমার প্রভু, কেননা আমরা তোমারই জ্ঞানের আলোকের দীপ্তি সমূহের দিকে জাগরিত হইয়াছি। অতএব, তাহাই আমাদের নিকট অবতরণ কর, হে আমার পরম প্রভু যাহা তুমি ব্যতীত অপর সকলকে পরিত্যাগ করিতে আমাদিগকে সামর্থ্য প্রদান করিবে এবং তুমি ব্যাতীত অপর সকল কিছুর আসক্তি হইতে আমাদিগকে মুক্ত করিবে। আরও লিপিবদ্ধ কর, আমার জন্য এবং তাহাদের জন্য,যাহারা আমার প্রিয় এবং স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে আমার জ্ঞাতিবর্গের জন্য, এই পৃথিবীর এবং পরবর্তী পৃথিবীর সকল মঙ্গল। অতঃপর আমাদিগকে নিরাপদে রক্ষা কর তোমার অব্যর্থ প্রিয় রক্ষনাবেক্ষণ দ্বারা, হে তুমি, যিনি সমগ্র সৃষ্টির প্রিয় এবং সমগ্র বিশ্বের আকাংখিত ঐ সকলের নিকট হইতে যাহাদিগকে তুমি মন্দ রটনাকারীর প্রকাশ স্বরুপ করিয়াছ, যাহারা মানব অন্তরে কুৎসা প্রবেশ করাইয়া দেয়। সত্যই তুমি সর্বশক্তিমান, বিপদে সহায়,স্বয়ং সত্তাবিশিষ্ট। আশীর্বাদ কর তুমি, হে পরম প্রভু, আমার ঈশ্বর, তাহাকে যাহাকে তুমি তোমার অতি উৎকৃষ্ট উপাধি সমুহের উপর প্রতিষ্ঠিত করিয়াছ এবং যাহার মাধ্যমে তুমি লোককে ধার্মিক ও অধার্মিক এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত করিয়াছ এবং অনুগ্রহপুর্বক তুমি আমাদের তাহাই করিবার জন্য সাহায্য কর যাহা তুমি ভালবাস ও অভিলাষ কর। তুমি তাহাদিগকে আশীর্বাদ কর, হে আমার ঈশ্বর, যাহারা তোমারই ব্যক্যাবলী এবং তোমারই অক্ষরসমূহ এবং তাহাদিগকেও যাহারা তোমারই দিকে আনন ফিরাইয়াছে এবং তোমার আননের দিকে ফিরিয়াছে এবং তোমার আহ্বান ধ্বনি মনোযোগপুর্বক শ্রবণ করিয়াছে। তুমি সত্যই পরম প্রভু এবং সকল লোকেরই সম্রাট এবং সকল কিছুর উপর শক্তিশালী।
হে প্রভু, আমার ঈশ্বর, তোমার স্তবগানে চতুর্দিক মুখরিত হউক। এই দৈব প্রকাশের সাহায্যেই যাহা দ্বারা অন্ধকার আলোকে পরিণত হইয়াছে, যুগে যুগে ধর্মের পুনঃব্যবস্থাপনা হইয়াছে, লিপিবদ্ধ ঐশী বাণী প্রকাশিত হইয়াছে এবং বাস্তব কর্মজীবনের বিস্তৃতক্রমপত্র আবরণ মুক্ত হইয়াছে-আমি অনুনয় করিতেছি যে, আমার এবং আমার সহচরদের উপর তাহাই আদিষ্ট কর, যাহা তোমার সর্বোৎকৃষ্ট প্রভার গৌরবরাজ্যে আমাদের উন্নীত হইতে সাহায্য করিবে এবং সেই সমস্ত সংশয়ের কলঙ্ক হইতে মুক্ত করিবে, যাহা সন্দিগ্ধ চিত্তগণকে তোমার একত্বের ছত্র ছায়ায় প্রবেশ করিতে বাধা প্রদান করিয়াছে। হে আমার প্রভু, আমিই তোমার সেই সেবক, যে তোমার করুণার রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধারণ করিয়া রহিয়াছে, তোমার অনুকম্পার আঁচল আঁকড়াইয়া ধরিয়াছে। আমার এবং আমার প্রিয়জনের জন্য ইহলোক ও পরলোকের মঙ্গলময় সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা কর। অতঃপর তাহাদিগকে সৃষ্ট জগতে তোমার অতি প্রিয় ভক্তগণের জন্য নির্ধারিত গুপ্ত উপহার প্রদান কর। হে আমার প্রভু, এই দিবসগুলিতে তুমি তোমার সেবকদের উপবাস পালনের আদেশ করিয়াছ। সে প্রকৃতই অতি সৌভাগ্যশালী যে সম্পূর্ণ নিষ্ঠাসহকারে উপবাস পালন করিয়াছে এবং তোমা ব্যতীত অন্য সমস্ত কিছু হইতে নিরাসক্ত হইয়াছে। হে প্রভু আমাকে এবং তাহাদিগকে তোমার আজ্ঞা পালন করিতে, তোমার নিয়ম পত্রের আদেশানুরূপ চলিতে সাহায্য কর। সত্যই ইচ্ছামত কার্য করিতে তুমি সমর্থ। তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই, সর্বজ্ঞ, সর্ব বুদ্ধিমান, হে সর্বলোকস্বামী! তোমার সার্বিক স্তুতি হউক।
তোমার জন্যই প্রভা, হে অনন্তের সম্রাট এবং জাতিসমূহের সৃষ্টিকর্তা এবং প্রত্যেক ধূমায়িত অস্থির পুনঃগঠনকারী। আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করিতেছি, তোমার সেই পরম নামের সহায়তায় যাহা দ্বারা তুমি মানবজাতিকে তোমার মহত্ত্বের ও প্রভার দিকমন্ডলের দিকে আহ্বান করিয়াছিলে এবং তোমার সেবকগণকে তোমার অনুকম্পা ও অনুগ্রহের প্রাঙ্গনের দিকে পরিচালিত করিয়াছিলে যেন তুমি আমাকে তাহাদের সহিত গণনা করিতে পার যাহারা তুমি স্বয়ং ব্যতীত আর প্রত্যেক কিছু হইতে নিজেদের মুক্ত করিয়া লইয়াছে এবং তোমারই দিকে ফিরিয়াছে এবং তোমার নির্বন্ধানুসারে তাহাদের উপর যে সকল বিপদ পতিত হইয়াছিল তাহা তোমার দানসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হইতে তাহাদিগকে পশ্চাদপদ করে নাই। হে আমার পরম প্রভু, আমি তোমার বদান্যতার হাতল ধরিয়া রহিয়াছি এবং দৃঢ়তার সহিত তোমার অনুগ্রহের পরিচ্ছদের অঞ্চল আঁকড়াইয়া ধরিয়া রহিয়াছি। অতঃপর তোমার উদারতার মেঘমালা হইতে আমার উপর তাহাই অবতরণ কর যাহা আমার নিকট হইতে তুমি ব্যতীত অপর সকলের স্মৃতি অপসারিত করিবে এবং আমাকে তাঁহার দিকে ফিরিতে সক্ষম করিবে যিনি মনুষ্য জাতির সকলের আরাধনার একমাত্র লক্ষ্য, যাঁহার বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহিতার উত্তেজনা প্রদানকারিগণকে শ্রেণীবদ্ধ করিয়া রাখা হইয়াছে, যাহারা তোমার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করিয়াছে এবং তোমাকে ও তোমার নিদর্শনাবলীকে অবিশ্বাস করিয়াছে। হে আমার পরম প্রভু, তোমার দিবসসমূহে তোমার পরিচ্ছদের সৌরভসমূহ হইতে আমাকে বঞ্চিত করিও না এবং তোমার আননের আলোকের উজ্জ্বলতাসমূহের আবির্ভাব সময়ে তোমার অবতীর্ণ বাণীসমূহের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসসমূহ হইতে আমাকে নিরাশ করিও না। তুমি যাহা করিতে ইচ্ছা কর তাহা করিতে তুমি শক্তিশালী। কোন কিছুই তোমার ইচ্ছা-শক্তিকে প্রতিরোধ করিতে পারেনা, আর তোমার শক্তির সহায়তায় তুমি যাহা করিতে উদ্দেশ্য করিয়াছ কেহই তাহা ব্যর্থ করিতে পারে না। তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই, তুমি সর্ব-শক্তিমান, তুমি সর্ব-বিজ্ঞ।
হে তুমি, যাহার নৈকট্য আমার একমাত্র অভিলাষ, যাহার উপস্থিতি আমার একমাত্র আশা, যাহার স্বরণ আমার একমাত্র ভরসা, যাহার প্রভার প্রাঙ্গণ আমার একমাত্র লক্ষ্যস্থল, যাহার বাসস্থান আমার একমাত্র লক্ষ্য, যাহার নাম আমার আরোগ্য, যাহার প্রেম আমার অন্তরের উজ্জ্বলতা, যাহার সেবা আমার উচ্চতম আকাংখা। আমি তোমার নিকট সবিনয় প্রার্থনা করিতেছি, -তোমার পবিত্র নামের সহায়তায় যাহার মধ্য দিয়া তুমি, যাহারা তোমাকে চিনিয়া লইয়াছে, তাহাদিগকে তোমার সমন্ধে জ্ঞানের উচ্চতম শীর্ষে উড্ডয়ন করিতে সামর্থ্য প্রদান করিয়াছ এবং যাহারা আন্তরিক ভক্তিভাবে তোমার অর্চনা করে, তাহাদিগকে তোমার পবিত্র অনুগ্রহ সমুহের প্রাঙ্গনের সীমার মধ্যে আরোহণ করিতে শক্তিদান করিয়াছ, যেন তোমার আননের দিকে আমার মুখ ফিরাইতে, তোমার প্রতি আমার চক্ষুদ্বয় নিবদ্ধ করিতে এবং তোমার প্রভার প্রশংসা-গান করিতে তুমি আমাকে সাহায্য দান কর। আমি সেই ব্যক্তি, হে আমার পরম প্রভু, যে তুমি ব্যতীত আর সকলকে ভুলিয়া গিয়াছে এবং তোমার অনুকম্পার প্রভাতিক তারকার দিকে মুখ ফিরাইয়াছে, যে তোমার দরবারের নৈকট্য লাভের আশায় তুমি ব্যতীত আর সকলকে পরিত্যাগ করিয়াছে। অতঃপর আমার চক্ষুদ্বয়, তোমার সেই পবিত্র সিংহাসনের দিকে, -যাহা তোমার পবিত্র আননের আলোকের উজ্জ্বলতা সমূহের সহিত দীপ্তি প্রদান করে, -উত্তোলিত অবলোকন করিবে। অতঃপর, হে আমার প্রিয়জন, আমার জন্য তাহাই অবতীর্ণ কর, যাহা তোমার প্রত্যাদেশ ধর্মে অটল থাকিতে আমাকে সক্ষম করিবে, যেন অবিশ্বাসীদের সন্দেহাদি তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করিতে বাধা প্রদান করিতে না পারে। তুমি, সত্য সত্যই, শক্তিশালী, প্রভু, বিপদের সাহায্যকারী, সর্ব প্রভাময়, সর্বশক্তিমান।
(যখন বাহা’ই অন্তেষ্টিক্রিয়ার সময় এই প্রার্থনা পঠিত হয়, তখন সকলকে দাঁড়াইতে হইবে) তিনিই প্রভু, গৌরবান্বিত তিনি, সস্নেহ সহানুভূতি ও বদান্যতার পরম প্রভু। গৌরব তোমারই জন্য, তুমি হে আমার প্রভু, সর্বশক্তিমান প্রভু। আমি সাক্ষ্য প্রদান করিতেছি তোমার সর্বশক্তিমত্তা ও তোমার ক্ষমতার, তোমার একাধিপত্য ও তোমার সস্নেহ দয়ার, তোমার কৃপা ও তোমার শক্তির, তোমার সত্তার একত্ব ও তোমার মৌলিক সত্তার অদ্বিতীয়ত্বের, অস্তিত্ব¦ জগতের ও তন্মধ্যস্থ সকল কিছুরই উপর তোমার পবিত্রতার ও মহিমার। হে আমার প্রভু। তুমি আমাকে তুমি ভিন্ন আর সকল হইতে বিচ্ছিন্ন দেখিতে পাইতেছ, তোমাকেই দৃঢ়ভাবে আঁকড়াইয়া ধরিয়া এবং তোমার বদন্যতার মহাসাগরের দিকে, তোমার অনুকম্পার স্বর্গের দিকে, তোমার করুণার প্রভাত-তারকার দিকে মুখ ফিরাইয়াছি। পরম প্রভু আমি সাক্ষ্য প্রদান করিতেছি যে, তুমি তোমার সেবকের উপর তোমার বিশ্বাস ন্যস্ত করিয়াছ এবং তাহা হইতেছে সেই আধ্যাত্মিক শক্তি যাহা দ্বারা তুমি পৃথিবীকে জীবনী-শক্তি প্রদান করিয়াছ। তোমার অবতীর্ণ প্রত্যাদেশ-সূর্যের উজ্জ্বলতার শপথ করিয়া তোমার নিকট সানুনয় প্রার্থনা করিতেছি যেন তোমার দিবসসমূহে সে যেই সফলতা লাভ করিয়াছে, তাহা তাহার নিকট হইতে কৃপা পূর্বক গ্রহণ কর। অতঃপর ইহাতে সম্মতি দান কর যেন সে তোমার শুভ অনুগ্রহের প্রভায় ভূষিত হইতে পারে এবং তোমার অনুমোদনে অলংকৃত হইতে পারে। হে আমার পরম প্রভু। আমি স্বয়ং এবং সমুদয় সৃষ্ট পদার্থ তোমার শক্তিমত্তার সাক্ষ্য প্রদান করিতেছি এবং তোমার নিকট প্রার্থনা করিতেছি যেন তুমি এই আত্মাকে তোমার নিকট হইতে ফিরাইয়া না দাও, যে তোমার দিকে, তোমার স্বর্গীয় স্থানের, তোমার উন্নত স্বর্গের এবং তোমার নৈকট্যের আশ্রয়স্থানের দিকে আরোহণ করিয়াছে। হে তুমি যিনি সকল লোকের প্রভু। অতঃপর, হে আমার ঈশ্বর , ইহাতে সম্মতি প্রদান কর যেন তোমার সেবক তোমার মনোনীত ব্যক্তিগণের, তোমার পবিত্র সিদ্ধ সাধু পুরুষদের এবং তোমার ঐশী বার্তাবাহকদের সহিত স্বর্গীয় স্থানসমূহে সম্মিলিত হইতে পারে, যে স্থানসমূহ সমন্ধে লেখনী কিছুই বলিতে অথবা বাক্শক্তি বর্ণনা করিতে অক্ষম। হে আমার পরম প্রভু। দরিদ্র ব্যক্তি তোমার সম্পদের রাজ্যের দিকে, বিদেশাগত তোমার পবিত্র সীমাসমূহের মধ্যে স্বর্গীয় আবাস-স্থানের দিকে, যে অত্যন্ত পিপাসার্ত সে তোমার দয়ার স্বর্গীয় স্রোতস্বতীর সলিলের দিকে সত্যই দ্রুতগতিতে অগ্রবর্তী হইয়াছে। তুমি তাহাকে, হে পরম প্রভু তোমার অনুকম্পার ভোজে তাহার অংশ হইতে এবং তোমার বদান্যতার অনুগ্রহ হইতে বঞ্চিত করিও না। সত্য সত্যই তুমি সর্বশক্তিমান, তুমি করুণাময়, তুমি সর্ববদান্যতাপূর্ণ। হে আমার প্রভু। তোমার ন্যস্ত দ্রব্য তোমাকে প্রত্যর্পণ করা হইয়াছে। তোমার অনুকম্পা ও তোমার বদান্যতা যাহা তোমার পার্থিব ও স্বর্গস্থ রাজ্যসমূহ পরিবেষ্টন করিয়া রহিয়াছে, ইহাতে তোমার পক্ষে উপযুক্ত যে, তুমি তোমার নূতন অভ্যার্থিত জনকে তোমার দানসমূহ, তোমার উপহারসমূহ এবং তোমার কৃপাবৃক্ষের ফলসমূহ প্রদান করিবে। তুমি যাহা করিতে ইচ্ছা কর তাহা করিতে তুমি শক্তিশালী। তুমি ব্যতীত অপর কোন উপাস্য নাই। তুমি করুণাময়, পরম বদান্য, দয়ালু, দাতা, ক্ষমাশীল, মহীয়ান, সর্বজ্ঞ। আমি সাক্ষ্য দিতেছি, হে আমার পরম প্রভু, তুমি সকল লোকের প্রতি তাহাদের অতিথিকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য আদেশ করিয়াছ এবং যে তোমার দিকে আরোহণ করিয়াছে, নিশ্চয় সে তোমার নিকট পৌঁছিতে সক্ষম হইয়াছে এবং তোমার সকাশে উপস্থিত হইয়াছে। অতঃপর তাহার সহিত তোমার করুণা ও দয়া অনুযায়ী ব্যবহার কর। তোমার প্রভার শপথ। আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে, তোমার সেবকগণকে তুমি যেই আদেশ দান করিয়াছ, তুমি নিজকে তাহা হইতে বঞ্চিত করিবে না যে তোমার দানশীলতার রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে জড়াইয়া ধরিয়া রাখিয়াছে এবং তোমার সম্পদের উৎসমূলে আরোহণ করিয়াছে। তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই, তুমি একক, তুমি অদ্বিতীয়, তুমি শক্তিশালী, তুমি সর্বজ্ঞ, তুমি বদান্যতাপূর্ণ।
হে প্রভু, আমার ঈশ্বর, তোমার জয় হউক। আমি তোমারই সেবক, তোমারই স্বাভাবিক আনুকূল্যে তোমার অপার করুণামৃত পান করিতে সমর্থ হইয়াছি এবং তোমার যুগে তোমার অনুগ্রহের আস্বাদন লাভ করিয়াছি। আমি তোমার সেই পবিত্র নামাবলীর প্রেমবন্দনার সাহায্যে নিবেদন করিতেছি যে, কোন দুঃখ কষ্টই তোমার প্রেমে উল্লসিত হইতে অথবা তোমার দর্শনাকাঙ্খায় আত্মবিভোর হইতে যাহাকে বাধা দিতে পারে না এবং অচেতনতা কিংবা ধর্মহীনতার কোন শক্তিই যাহাকে পথভ্রষ্ট করিতে পারে না, তুমি তোমার সেই সেবককে তোমার সৎবস্তুসমূহ প্রদান কর এবং এত উচ্চতর স্তরে উন্নীত কর যাহাতে সে এই সৃষ্ট জগতকে এক অতি ক্ষণস্থায়ী প্রতিবিম্বরূপে মনে করিতে পারে। অধিকন্তু হে প্রভু, তোমার অপরিমেয় রাজোচিত মর্যাদার শক্তিবলে তাহাকে তোমার সমস্ত ঘৃন্য বস্তুসমূহ হইতে রক্ষা কর। সত্যই তুমি তাহার প্রভু ও সর্বজগতের প্রভু।
তোমার পবিত্র নাম মহিমান্বিত হউক, হে পরম প্রভু আমার ঈশ্বর। তুমি তিনিই যাহাকে সকলেই উপাসনা করে এবং যিনি কাহারও উপাসনা করেন না, যিনি সকলেরই প্রভু এবং কাহারও অধীনস্থ ভৃত্য নহেন, যিনি সকলকেই জানেন এবং যাঁহাকে কেহই জানে না। তুমি ইচ্ছা করিয়াছিলে লোকের নিকট নিজেকে পরিচিত করিতেঃ সুতরাং তুমি, তোমার মুখের একটি বাক্যের মধ্য দিয়া, সৃষ্টিকে সত্তায় আনয়ন করিয়াছিলে এবং বিশ্বজগৎকে গঠিত করিয়াছিলে। তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই। তুমি গঠনকারী, তুমি সৃষ্টিকর্তা, তুমি সর্বশক্তিমান, পরম ক্ষমতাশালী। আমি তোমার নিকট মিনতি পুর্বক প্রার্থনা করিতেছি-তোমার ইচ্ছার দিকমন্ডলের উপর যে বাক্য উজ্জ্বলভাবে প্রকাশিত হইয়াছে, তাহারই মাধ্যমে যেন তুমি আমাকে সেই জীবন্ত স্রোতস্বতীর সলিল প্রচুর পরিমাণে পান করিতে সক্ষম কর যাহা দ্বারা তুমি তোমার মনোনীত জনগণের অন্তর পুনরুজ্জীবিত করিয়াছ এবং যাহারা তোমাকে ভালবাসে তাহাদের আত্মাগুলিকে জীবিত করিয়াছ, যেন আমি, সকল সময় ও সর্ব অবস্থায়, তোমারই দিকে সম্পুর্ণরূপে আমার মুখ ফিরাইতে পারি। তুমি প্রভু, শক্তি, প্রভা ও দয়ার একমাত্র অধিকারী। তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই, তুমি সর্বোচ্চ অধিপতি, সর্বপ্রভাময়, সর্বজ্ঞ।
হে তুমি যাঁহার মুখমন্ডল আমার আরাধনার একমাত্র লক্ষ্য, যাঁহার সুষমা আমার পবিত্র আশ্রয়স্থল, যাঁহার বাসস্থান আমার গন্তব্যস্থল, যাঁহার প্রশংসা-স্তুতি আমার একমাত্র ভরসা, যাঁহার বিধাতৃত্ব আমার একমাত্র সহচর, যাঁহার স্বরণ আমার একমাত্র সান্তনা, যাঁহার নৈকট্য আমার একমাত্র বাঞ্ছিত দ্রব্য, যাঁহার উপস্থিতি আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয় অভিলাষ এবং উচ্চতম আকাঙ্খা। আমি তোমার নিকট অনুনয় বিনয় করিতেছি, তুমি আমার নিকট হইতে ঐ সমুদয় দ্রব্য প্রতিরোধ করিও না যাহা তুমি তোমার মনোনীত সেবকগণের জন্য ব্যবস্থা করিয়াছ। অতএব, এই পৃথিবী ও পরবর্তী পৃথিবীর মঙ্গলাদি আমার জন্য পরিপূর্ণ কর। বাস্তবিক তুমিই সকল মানবের সম্রাট। তুমি ব্যতীত উপাস্য নাই। তুমি চিরক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

Short Obligatory Prayer

To be recited once in twenty-four hours, at noon.

হে আমার ঈশ্বর, তুমি আমাকে সৃষ্টি করিরাহ তোমাকেই জানিবার জন্য এবং তোমারই অর্চনা করিবার জন্য, সেই সাক্ষাই আমি বহন করিতেছি। প্রতি মুহূর্তে আমি আমার শক্তিহীনতা এবং তোমার অসীম শক্তি ও আমার দারিদ্র এবং তোমার ঐশ্বর্যের প্রমাণ পাইতেছি। তুমি ছাড়া আর কোনো ঈশ্বর নাই, বিপদকালে তুমিই পরিত্রাতা, চিরস্থায়ী।