Ridván Messages
Bengali · Universal House of Justice
সমগ্র মানব পরিবারের বৈচিত্রকে আলিঙ্গনকারী অসংখ্য জনগণ এমন একটি পরিবেশে সৃজনশীল বাণীর পদ্ধতিগত অধ্যয়নে ব্যস্ত রয়েছে যা একই সময়ে ঐকান্তিক ও উৎকর্ষকারী। এইরূপে অর্জিত অন্তর্দৃষ্টিসমূহ তারা যখন একটি কর্ম প্রক্রিয়া, ভাবনা ও পরামর্শের মাধ্যমে প্রয়োগ করতে উদ্যমী হয়, তখন ধর্মের সেবাদানে তাদের সামর্থ্যকে তারা একটি নতুন স্তরে উন্নীত দেখতে পায়। সৃষ্টিকর্তার সাথে মনে মনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে আসার জন্য প্রতিটি হৃদয়ের অন্তরতম আকাঙ্খার প্রতি সাড়া দিয়ে তারা বিভিন্ন পারিপার্শি¦কতায় সমষ্টিগত উপাসনার আয়োজন করছে, অন্যদের সাথে প্রার্থনায় মিলিত হচ্ছে, আধ্যাত্মিক গ্রহণশীলতাগুলিকে জাগ্রত করছে, এবং জীবনের একটি আদর্শ গড়ছে যা ইহার ভক্তিমূলক চরিত্রের জন্য বৈশিষ্টপূর্ণ। যখন তারা একে অপরের সাথে তাদের বাড়ীতে সাক্ষাৎ করতে যায় এবং আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের সাথে দেখা করে, তখন তারা আধ্যাত্মিক গুরুত্বের বিষয়াবলী নিয়ে উদ্দেশ্যপূর্ণ আলোচনায় লিপ্ত হয়, তাদের ধর্মের জ্ঞান গভীর করে, বাহা’উল্লাহ্র বার্তা নিয়ে আলোচনা করে, এবং একটি শক্তিশালী আধ্যাত্মিক উদ্যোগে তাদের সাথে যোগ দেয়ার জন্য একটি ক্রমবর্ধমান সংখ্যককে সাদর অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করে। বিশ্বের শিশুদের আকাঙ্খাগুলি এবং তাদের আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রতি সচেতন হয়ে তারা তাদের প্রচেষ্টাকে সেই সকল ক্লাসের চির বর্ধমান অংশগ্রহণকারীদের বাহিনীসমূহের প্রতি ব্যপকভাবে প্রসারিত করেছে যা অল্পবয়সীদের আকর্ষণের কেন্দ্রসমূহে পরিণত হয়েছে এবং সমাজে ধর্মের শিকড় সুদৃঢ় করেছে। তারা কিশোর-কিশোরীগণকে তাদের জীবনের একটি সংকটময় অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে এবং সভ্যতার অগ্রগতিতে তাদের জীবনীশক্তি পরিচালনা করার ক্ষমতায়ণে সাহায্য করে। এ ছাড়াও মানব সম্পদের একটি বৃহত্তর প্রাচুর্যের সুযোগে তাদের একটি ক্রমবর্ধমান সংখ্যক প্রচেষ্টার এক স্ফীত জোয়ারের মাধ্যমে তাদের বিশ্বাসকে ব্যক্ত করতে সক্ষম, যা মানবজাতির আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত উভয় ব্যপ্তির প্রয়োজনে অবদান রাখছে। বিশ্বব্যাপী বাহা’ই সমাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য এই রিজওয়ানে আমাদের সাময়িক বিরতি কালে এইরূপ ছিল আমাদের সম্মুখের চলমান অবাধ দৃশ্যপট।
বিভিন্ন উপলক্ষে আমরা জানিয়েছি যে বিশ্ব পরিকল্পনাগুলির ধারাবাহিকতার লক্ষ্য - যা ২০২১ সালে বাহা’ই বিশ্বকে গঠনাত্মক যুগের শতবর্ষ উদ্যাপনে নিয়ে যাবে - তা কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট অগ্রগতি এবং ব্যক্তি বিশ্বাসীর, প্রতিষ্ঠানগুলির ও সমাজের উন্নয়নের মাধ্যমে অর্জিত হবে। এই অর্ধপথ বিন্দুটি হবে একটি শতাব্দীর এক চতুর্থাংশ সময় ব্যাপী সঙ্গতিপূর্ণ, সংহত প্রচেষ্টা, বর্ধিত সামর্থ্যরে প্রমাণসমূহ যা সর্বত্র দৃশ্যমান। যা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে পরিকল্পনার তিন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা থেকে প্রবাহিত স্বক্রিয়তার বিস্তৃতিশীল প্রভাব। প্রতিষ্ঠানগুলি, জাতীয় থেকে স্থানীয় স্তরগুলিতে, একটি সাধারণ লক্ষ্যের পশ্চাদ্ধাবনে একটি চির বর্ধমান বিশ্বাসীদের সংখ্যার আধ্যাত্মিক শক্তিগুলিকে প্রকাশের প্রতি সহায়ক পারিপার্শি¦কতাগুলি কিভাবে সৃষ্টি করা যায় তা আরও বেশী স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছে । সেই পরিবেশে সমাজ অধিক থেকে অধিকতর কাজ করছে যেখানে ব্যক্তি প্রচেষ্টা ও সম্মিলিত কাজ, প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মধ্যস্থতা লাভ করেছে, অগ্রগতি অর্জনে পরস্পরের সম্পূরক হতে পারে। যে স্পন্দন ইহা প্রকাশ করে এবং যে উদ্দেশ্যের একতা ইহার প্রচেষ্টাগুলোকে প্রাণবন্ত করে তা সকল পেশা থেকে আগত ইহার স্ফীতমান কর্মীবাহিনীর মনোযোগ আকর্ষণ করে যারা তাদের সময় এবং কর্মশক্তিগুলি মানবজাতির কল্যাণে উৎসর্গ করতে আগ্রহী। যে কোন গ্রহণোন্মুখ আত্মার প্রবেশের জন্য সমাজের দরজাগুলি আরও প্রসারিতভাবে উন্মুক্ত এবং বাহা’উল্লাহ্’র প্রত্যাদেশ থেকে আধ্যাত্মিক খাদ্য গ্রহণ সুনিশ্চিত। বিগত বছরে পরিকল্পনার তিন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে শিক্ষাদান কাজের গতিবেগে যে নাটকীয় দ্রুততা প্রত্যক্ষ হয়েছে তার চেয়ে বৃহত্তর কোন প্রামাণিক সাক্ষ্য নাই। দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়ার যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তা বাস্তবিক-ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এই বর্দ্ধিত পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার পরিবেশে, ব্যক্তি উদ্যোগগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে ফলপ্রসূ হচ্ছে। পূর্ববর্তী বার্তাগুলিতে আমরা সেই চালিকাশক্তির উল্লেখ করেছি যে, ইন্সটিটিউট প্রক্রিয়াটি ব্যক্তি বিশ্বাসী কর্তৃক গৃহীত প্রথম পদক্ষেপের কর্মতৎপরতায় অবদান রাখে। প্রতিটি মহাদেশের বন্ধুগণ ধর্মের বৃদ্ধিতে শিক্ষাসমূহের প্রয়োগ শেখার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে পবিত্র লিখনাবলীর অধ্যয়নে ব্যস্ত রয়েছেন। একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যা বর্তমানে তাদের সমাজগুলির আধ্যাত্মিক জীবনশক্তির জন্য গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে; প্রাণবন্তভাবে, তারা সেবার সেই সকল কাজ সম্পাদন করছে যা একটি বৃদ্ধির একটি সুস্থ আদর্শের সাথে মানানসই। ধর্মের সেবাদান ক্ষেত্রে তাদের অধ্যবসায়ী হওয়া, শেখার একটি বিনম্র মনোভাব বজায় রাখা, তাদের সাহস ও বিজ্ঞতা, উদ্দীপনা ও বিচক্ষণতা, ঐকান্তিকতা ও সতর্কতা, দৃঢ়সংকল্প ও ঈশ্বরে আস্থার ফলে তারা একে অপরকে সুদৃঢ় করতে অন্য সবকিছু সংযুক্ত করেছে। বাহা’উল্লাহ্-র বার্তা ও উহার ব্যাখ্যার যথাযথ উপস্থাপনে তারা শৌগী এফেন্দীর বাণীগুলি তাদের হৃদয়ে স্থান দিয়েছে যে তারা অবশ্যই “ইতস্তত” অথবা “দ্বিধাগ্রস্থ” হইবে না, তারা যে সত্যের সমর্থক তা “মাত্রাতিরিক্ত জোরালো” অথবা “খাটো করিয়া” প্রকাশ করিবে না। তারা “ধর্মোন্মাদ” অথবা “অপরিমিতভাবে উদারপন্থী” নয়। শিক্ষাদান কার্যে তাদের স্থিরতার মাধ্যমে, তারা তাদের নিরূপণ করার সামর্থ্য বৃদ্ধি করেছে যে তাদের শ্রোতার প্রতি তাদেরকে “সতর্ক” না-কি “স্পষ্ট” হতে হবে, “দ্রুত কাজ করতে হবে” না-কি “ধীর গতিতে এগোতে হবে”, তাদের ব্যবহৃত কর্ম পদ্ধতিগুলি “প্রত্যক্ষ ” না-কি “পরোক্ষ হবে।
আমরা যা উৎসাহব্যঞ্জক দেখছি তা হচ্ছে এই ব্যক্তি উদ্যোগগুলি কত সুশৃঙ্খল। সর্বত্র সমাজগুলি প্রণালীবদ্ধকরণ থেকে যে শিক্ষালাভ হচ্ছে তা ধীরে ধীরে অন্তঃস্থ করছে, এবং পরিকল্পনার বর্তমান ধারাবাহিকতা দ্বারা নিরূপিত কর্মকাঠামো বন্ধুগণের প্রচেষ্টাগুলিতে সঙ্গতি এবং নমনীয়তা প্রদান করেছে। তাদেরকে আদৌ বাধাগ্রস্থ না করে, এই কর্মকাঠামো তাদেরকে সুযোগগুলি গ্রহণ করতে, সম্পর্কগুলি গড়ে তুলতে, এবং পদ্ধতিগত বৃদ্ধির একটি দূরদৃষ্টির বাস্তবরূপ দিতে সক্ষম করেছে। এক কথায়, ইহা তাদের মিলিত শক্তিগুলিকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে।
বিশ্বব্যাপী কি অর্জিত হয়েছে তা আমরা যখন সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করি, তখন আমাদের হৃদয়গুলি ইরানের বিশ্বাসীদের জন্য বিশেষ শ্রদ্ধায় পরিপূর্ণ হয়, যারা, সর্বাধিক কষ্টকর পরিবেশে তাদের দেশের সেবায় সাহসের সাথে উত্থিত হয়েছে এবং ইহা সঞ্জীবনী শক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য নিজেদের শক্তিগুলিকে প্রয়োগ করিতেছে, যদিও তাদের সম্মুখে উন্মুক্ত পথগুলি সীমিত। এবং ধর্মের প্রশাসনের উপর আরোপিত বাধানিষেধগুলির কারণে, তাদের স্বদেশীয়গণকে বাহা’উল্লাহ্র শিক্ষার সাথে পরিচিত করানোর জন্য তারা একটি ব্যক্তি ভিত্তিক প্রচেষ্টায় নিয়োজিত হয়েছে, তাঁর পুনরুদ্ধারকারী বার্তা সম্বন্ধে সরাসরিভাবে কথোপকথনে তাদেরকে বিজড়িত করছে। এইভাবে কাজ শুরুর পর থেকে তারা সংস্কারমুক্ত আত্মাগুলির কাছ থেকে কেবল নজীরবিহীন সমর্থন-ই লাভ করে নাই বরং তারা একটি গ্রহণোন্মুখতার সম্মুখীন হয়েছেন যা তাদের কল্পনার সম্ভাব্যতাকে বহুগুণ ছাড়িয়ে গেছে।
বাহা’উল্লাহ্র প্রতিটি অনুসারী বর্তমান সমাজে স্বক্রিয় একাঙ্গীকরণ ও বিখণ্ডায়ণের শক্তিগুলি সম্বন্ধে সচেতন রয়েছে এবং তারা বিশ্বের সকল অংশে ধর্মের প্রতি গ্রহণোন্মুখতা ও বিশ্বের পদ্ধতিগুলির অপারগতাগুলির মধ্যে সম্পর্কটি দেখতে পায়। এটা নিশ্চিত যে, মানবজাতির তীব্র যন্ত্রণা গভীরতর হওয়ার ফলে গ্রহণোন্মুখতা বৃদ্ধি পাবে। নিঃসন্দেহেঃ স্ফীতিশীল গ্রহণোন্মুখতার প্রতি সাড়া দিতে সামর্থ্য গড়ে তোলার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল তা এখনো প্রারম্ভিক পর্যায়গুলিতে রয়েছে। আগামী বছরগুলিতে একটি বিশৃঙ্খলাময় বিশ্বের দাবীগুলির বিশালত্ব এই সামর্থ্যকে ইহার সর্বশেষ সীমা পর্যন্ত পরখ করবে। মানবজাতি অত্যাচারের বাহিনীগুলির দ্বারা বিধ্বস্ত, হতে পারে তা ধর্মীয় পূর্বসংস্কার অথবা অনিয়ন্ত্রিত বস্তুবাদের পর্বতশিখর থেকে উৎপন্ন। বাহা’ইগণ এই দুর্ভোগের কারণগুলি উপলব্ধি করতে সক্ষম। বাহা’উল্লাহ্ জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “কোন্ অত্যাচারটি অধিকতর কষ্টদায়ক, একটি আত্মা যা সত্য অন্বেষণ করিতেছে এবং ঈশ্বরের জ্ঞান লাভ করিতে ইচ্ছা করিতেছে, জানে না ইহার জন্য কোথায় যাইতে হইবে এবং কাহার নিকট ইহা চাহিতে হইবে?” নষ্ট করার মত সময় নেই। কর্মকাণ্ড এবং পরিকল্পনার তিন অংশগ্রহণকারীর উন্নয়নে অবশ্যই অব্যাহত অগ্রগতি অর্জন করতে হবে।
আব্দুল-বাহা “সাফল্য ও সমৃদ্ধি” পাইতে “দুইটি আহ্বান” এর উচ্চপ্রশংসা করেছেন যা “মানবজাতির সুখের উচ্চস্থানসমূহ” হতে শ্রবণ করা যেতে পারে। একটি আহ্বান হইতেছে “সভ্যতার”, “বস্তুজগতের অগ্রগতি”। ইহা “আইন”, “নিয়মাবলী”, “চারুকলা ও বিজ্ঞান” নিয়ে গঠিত যার মাধ্যমে মানবজাতি উন্নত হয়। অপরটি হইতেছে “আত্মা-জাগ্রতকারী ঈশ্বরের আহ্বান”, যার উপর মানবজাতির চিরন্তন সুখ নির্ভর করে। মাষ্টার ব্যাখ্যা করেছেন “এই দ্বিতীয় আহ্বানটি পরম প্রভুর আদেশ ও উপদেশগুলির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং নৈতিকতার রাজ্যের তিরস্কারসমূহ ও পরার্থবাদী অনুভূতিগুলি, তোমাদের জন্য একটি উজ্জ্বল তারকার মত, যা মানবজাতির বাস্তবজগতের প্রদীপের অন্তরে আলোর স্ফুরণ ঘটায় ও ঔজ্জ্বল্য দান করে। ঈশ্বরীয় বাণী ইহার অন্তর্ভেদী শক্তি। যেহেতু আপনারা আপনাদের ক্লাষ্টারগুলিতে শ্রম দিচ্ছেন, আপনারা আপনাদের চারপাশের সমাজ জীবনের গভীর থেকে গভীরে আকৃষ্ট হবেন এবং মানব প্রচেষ্টাগুলির একটি বর্ধিষ্ণু সারিকে পরিবেষ্টন করার যে কাজে আপনারা নিয়োজিত রয়েছেন সেখানে পদ্ধতিগত শিক্ষার প্রক্রিয়াটিকে প্রসারিত করার চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবেন। যে উপায়গুলি আপনারা গ্রহণ করেন, যে পদ্ধতিগুলি আপনারা অবলম্বন করেন, যে যন্ত্রাদি আপনারা ব্যবহার করেন, উহাতে আপনাদের একই মাত্রার সঙ্গতিপূর্ণতা অর্জন করতে হবে যা বর্তমানে চলমান বৃদ্ধির আদর্শকে বৈশিষ্টমণ্ডিত করেছে।
ক্লাষ্টারের পর ক্লাষ্টারে বৃদ্ধি ধরে রাখা সেই গুণাবলীর উপর নির্ভর করবে যা বিশ্বের জনগণের প্রতি আপনাদের সেবাকে বৈশিষ্টমণ্ডিত করে। সুতরাং আপনাদের ভাবনাগুলি ও কার্যাবলী যে কোন পূর্বসংস্কারের চিহ্নমুক্ত হতে হবেÑবর্ণগত, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, জাতীয়, গোত্রীয়, শ্রেণী, অথবা সংস্কৃতিকÑএমনকি অপরিচিত ব্যক্তিও যেন আপনাদের মধ্যে সহৃদয় বন্ধু দেখতে পায়। আপনাদের উৎকর্ষতার মান এতই উচ্চ হতে হবে এবং আপনাদের জীবনগুলি এতই পবিত্র ও নিষ্পাপ হতে হবে যেন আপনাদের প্রদর্শিত নৈতিক প্রভাব বৃহত্তর সমাজের চেতনাকে বিদ্ধ করে। আপনারা কেবল যদি আচরণের সততা প্রদর্শন করেন যার প্রতি ধর্মের লিখনাবলী আহ্বান করে, প্রতিটি আত্মা অসংখ্য আকৃতির দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে সক্ষম হবে- প্রকাশ্য ও নিগূঢ়Ñ যা সমাজের জীবনীশক্তিগুলিকে নিঃশেষ করে। আপনারা যদি কেবল প্রতিটি মানুষের মধ্যে সম্মান ও মহত্ব হৃদয়ঙ্গম করেন- ইহা সম্পদ ও দারিদ্রের উপর নির্ভরশীলÑআপনারা ন্যায়পরায়ণতার উদ্দেশ্যের সমর্থক হতে সক্ষম হবেন এবং যে পরিসরে আপনাদের প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলি বাহা’ই পরামর্শের নীতিমালার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে তাহাতে মানবজাতির বিপুল জনসমষ্টি বাহা’ই সমাজে আশ্রয় নিতে সক্ষম হবে।
আপনাদের সম্মুখে এগিয়ে যাওয়ার সময়, নিশ্চিত হউন যে উর্ধ্বরাজ্যের জনমণ্ডলী ইহার বাহিনীসমূহকে সুবিন্যস্ত করছে এবং আপনাদের সাহায্যার্থে আসার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের অব্যাহত প্রার্থনাসমূহ আপনাদিগকে পরিবেষ্টন করবে।
মাত্র তিন বছর পূর্বে আমরা বাহা’ই বিশ্বের সম্মুখে গত সর্বব্যাপী পরিকল্পনার সমাপ্তি লগ্নে কর্ম-কাঠামো স্পষ্টতার সহিত আবির্ভূত হইয়া তাহা সম্পাদনের চ্যালেঞ্জ রাখিয়াছিলাম। আমরা যে সাড়া আশা করেছিলাম তাহা ছিল তাৎক্ষণিক। সকল স্থানের বন্ধুগণ অত্যাধিক বলিষ্ঠতা সহকারে বিশ্বব্যাপী কম পক্ষে ১৫০০ ক্লাষ্টারে নিবিড় বৃদ্ধির কার্যক্রমগুলি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ শুরু করেন, এবং শীঘ্রই এই কার্যক্রমগুলির সংখ্যা বৃদ্ধিলাভ করিতে থাকে। কিন্তু তখন কেহ-ই কল্পনা করিতে পারেন নাই যে ঈশ্বর, তাঁহার অচিন্তনীয় বিজ্ঞতায়, এত স্বল্প সময়ের মধ্যে তাঁহার সম্প্রদায়টি রূপান্তরিত করিতে কত গভীরভাবে ইচ্ছা করিয়াছিলেন। কত যে উদ্দেশ্যমূলক এবং আত্মবিশ্বাসী এই সম্প্রদায়, যাহা চলমান পরিকল্পনার মধ্যবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী এক-চল্লিশটি আঞ্চলিক সম্মেলনে ইহার অর্জনগুলিকে উদ্যাপন করিয়াছে! ইহার সংগতিপূর্ণতা ও কর্মশক্তি সংকটের কুণ্ডলীতে আবদ্ধ একটি বিশ্বের কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা ও বিভ্রান্তির প্রতি কি এক বিপরীত চিত্র প্রদান করিয়াছে! বস্তুত, এটা ছিল সেই পরম সুখী সম্প্রদায় যাহার কথা অভিভাবক উল্লেখ করিয়াছিলেন। এটা একটি সম্প্রদায় যাহা একটি ভগ্ন বিশ্ব পুনঃনির্মাণ করিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং একটি সচেতন ভূমিকা পালন করিতে পূর্ব-নির্ধারিত। এটা ক্রমবর্ধমান শক্তি ও প্রভাব বিস্তারের একটি সম্প্রদায়, যাহা বিশ্বের এক অংশে কঠোর নির্যাতনের শিকার, তৎসত্ত্বেও একটি অদম্য ও অশঙ্কিত সামগ্রিক একতারূপে উত্থিত হইতেছে এবং সর্বাধিক কষ্টকর নিপীড়নের জোয়াল হইতে মানবজাতিকে স্বাধীন করিতে বাহা’উল্লাহ্র উদ্দেশ্য অর্জনে ইহার সামর্থ্যকে শক্তিশালী করিতেছে। এ ছাড়াও প্রায় আশি হাজার অংশগ্রহণকারী যাহারা সম্মেলনগুলিতে উপস্থিত ছিলেন তাহাদের মধ্যে আমরা পরিকল্পনার ফলপ্রসূতার পদ্ধতিগুলি ও কার্যসাধনের উপায়সমূহে পরমভাবে আত্মবিশ্বাসী এবং উহাদের ব্যবহারে লক্ষণীয়ভাবে পারদর্শী ব্যক্তি বিশ্বাসীর আবির্ভাবের ঐতিহাসিক দৃশ্য অবলোকন করিয়াছি। এই পরাক্রমশালী সমুদ্রের প্রতিটি আত্মা ধর্মের রূপান্তরকারী শক্তির প্রতি সাক্ষীরূপে দণ্ডায়মান হইয়াছিলেন। তাহাদের প্রত্যেকে - নিরাসক্তি ও আন্তরিকতা সহকারে যাহারা তাঁহাকে সেবাদান করিতে উত্থিত হইবে তাহাদিগকে সাহায্য প্রদানে বাহা’উল্লাহ্র প্রতিশ্র“তির - সাক্ষ্যপ্রমাণ ছিলেন। তাহাদের প্রত্যেকে সেই উৎসর্গিত ও সাহসী, পরিষ্কার ও পবিত্রকৃত মানবজাতির একটি ঝলক প্রদান করিয়াছেন যাহা বাহা’উল্লাহ্র প্রত্যাদেশের সরাসরি প্রভাবের অধীনে পরবর্তী প্রজন্মগুলিতে বিকশিত হইতে পূর্ব-নির্ধারিত। তাহাদের মধ্যে আমরা পরিকল্পনার শুরুতে পরিস্কারভাবে ও সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আমাদের আশা - ইন্সটিটিউট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধর্মের নৈতিক উন্নতিসাধনকারী প্রভাব লক্ষ লক্ষ লোকের নিকট প্রসারিত হওয়ার - পরিপূর্ণতার প্রথম চিহ্নগুলি দেখিয়াছি। প্রতিটি পূর্ব লক্ষণ বিদ্যমান যে রিজওয়ানের দিবসগুলি শেষ হওয়া পর্যন্ত বিশ্বের সর্বত্র নিবিড় বৃদ্ধির কার্যক্রমের সংখ্যা ১০০০ এর লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করিবে। এই পরম আনন্দময় উৎসবের উন্মোচন লগ্নে আমরা ঈশ্বরের সম্মুখে বিনম্রভাবে আমাদের মস্তকসমূহ অবনত করা এবং সর্বমহান নামের সমাজের প্রতি তাঁহার সীমাহীন উদারতার জন্য তাঁহাকে ধন্যবাদ প্রদান ব্যতীত আর কি করিতে পারি।
১. বাহা’উল্লার অনুসারীগণের জন্য শ্রদ্ধাবোধ দ্বারা পরিপূর্ণ হৃদয়ে, আমরা আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি যে, এই পরম আনন্দময় রিজওয়ান মৌসুমের শুরুতে পৃথিবীর প্রতিটি মহাদেশে নিবিড় বৃদ্ধির কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় সংখ্যা পূরণের জন্য নতুন প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী ১৫০০ এর সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং পাঁচসালা পরিকল্পনার লক্ষ্য ইহার সমাপ্তি লগ্নের এক বছর পূর্বে সুনিশ্চিত করেছে। এই বিষ্ময়কর অর্জন, এই লক্ষণীয় বিজয়ের জন্য আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে ঈশ্বরের প্রতি আমাদের মস্তকগুলি অবনত করছি। এখন সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত প্রসারণ ও দৃঢ়করণের উৎকৃষ্ট উদাহরণটিকে শক্তিশালী করতে, ইহার পরবর্তী বিশ্ব উদ্যোগ - পাঁচ বছর স্থিতিকালের একটি পরিকল্পনা, যা দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের একটি ধারাবাহিকতায় পঞ্চম - যার দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য ইহার প্রতি আহ্বান করা হবে, তাহার প্রস্তুতির জন্য তিনি তাঁর সমাজের উপর একটি সম্পূর্ণ বছর প্রদানের যে বদান্যতা দান করেছেন তা কর্মক্ষেত্রে যারা পরিশ্রম করেছেন তাদের সকলে উপলব্ধি করবেন।
২. এই উৎসবমুখর উপলক্ষ্যে ক্ষণিকের জন্য বিরতিকালে আমরা ইহা জানাতে আন্দোলিত বোধ করছি যে যা কিছু আমাদের হৃদয়ে এইরূপ এক সুগভীর গর্ব ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি জাগ্রত করে তা এত অধিক সংখ্যক কৃতিত্বপূর্ণ কাজ নয় যা আপনারা অর্জন করেছেন, যদিও ইহা উল্লেখযোগ্য বটে বরং তা হলো অধিকতর গভীর সংস্কৃতির স্তরে উন্নয়ণের একটি সংযুক্তি, যা এই সাফল্যের প্রমাণ দেয়। আমরা লক্ষ্য করেছি যে এগুলির মধ্যে প্রধানটি হচ্ছে বন্ধুদের মধ্যে আধ্যাত্মিক বিষয়গুলির উপর অন্যদের সাথে কথোপকথনের এবং বাহা’উল্লাহ ও তাঁর প্রত্যাদেশ সম্বন্ধে স্বাচ্ছন্দে কথা বলার সামর্থ্য বৃদ্ধি। তাহারা ভালোভাবে উপলব্ধি করেছেন যে শিক্ষাদান একটি সহৃদয় দানশীল জীবনযাপনের এক মৌলিক প্রয়োজন।
৩. সাম্প্রতিক বার্তাগুলিতে পৃথিবীর জুড়ে শিক্ষাদানের বেগমাত্রায় দ্রুত বৃদ্ধি প্রত্যক্ষ করে আমরা আনন্দ প্রকাশ করেছি। ব্যক্তি বিশ্বাসী কর্তৃক এই মৌলিক আধ্যাত্মিক বাধ্যবাধকতার পালন সব সময় বাহা’ই জীবনের একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য ছিল এবং থাকবে। ১৫০০ নিবিড় বৃদ্ধির কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠা যা সুস্পষ্ট করেছে তাহা হচ্ছে বিশ্বাসীগণের সাধারণ সদস্যগণ তাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যগণ ও বন্ধুগণের বৃত্তের বাইরে পদক্ষেপ করতে এত অধিক সাহসী ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েছেন যে পরম করুণাময়ের পথপ্রদর্শনকারী হস্ত দ্বারা গ্রহণশীল আত্মাগুলির প্রতি পরিচালিত হতে প্রস্তুত তা তারা যে কোন এলাকায় বসবাস করুক না কেন। এমন কি সর্বাধিক সংযত মূল্যবিচার স্মরণ করিয়ে দেয় যে এখন লক্ষ লক্ষ বিশ্বাসী রয়েছেন যারা উপলব্ধি বিনিময়ের ভিত্তিতে তাদের সাথে বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে তোলার জন্য সাময়িক প্রচারাভিযানগুলিতে অংশগ্রহণ করেন, যাদের পূর্বে অপরিচিত গণ্য করা হতো।
৪. ধর্মের অত্যাবশ্যকীয়গুলি স্পষ্ট ও দ্ব্যার্থহীনভাবে উপস্থাপনে তাদের প্রচেষ্টাগুলিতে রুহী ইন্সটিটিউটের ৬নং পুস্তকের অর্থবোধক উদাহরণ হতে বিশ্বাসীগণ অত্যন্ত লাভবান হয়েছেন। যেখানে ঐ উপস্থাপনার মৌলিক যুক্তি বোধগম্য হয়েছে, এবং ইহাকে একটি পদ্ধতিতে পরিবর্তনের ইচ্ছাকে দমন করা হয়েছে; তখন ইহা দুইটি আত্মার মধ্যে একটি কথোপকথনে বৃদ্ধি ঘটায় Ñ কথোপকথন যা অর্জিত উপলব্ধির গভীরতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং সম্পর্কের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কথোপকথনটি প্রারম্ভিক সাক্ষাৎকারকে অতিক্রম করে একটি পর্যায়ে পৌঁছে এবং সত্যিকার বন্ধুত্বগুলি গড়ে ওঠে, এই ধরনের সরাসরি শিক্ষাদান প্রচেষ্টা আধ্যাত্মিক রূপান্তর প্রক্রিয়ার একটি স্থায়ী অনুঘটকে পরিণত হতে পারে। এইরূপ নতুন পাওয়া বন্ধুদের সাথে প্রথম সাক্ষাতে বাহা’ই সমাজে তাদেরকে তালিকাভুক্ত করার অথবা ইহার কর্মকাণ্ডগুলির কোন একটিতে অংশগ্রহণের জন্য একটি আমন্ত্রণ করার কোন আচ্ছন্নকারী উদ্বেগ নেই। অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রতিটি আত্মা সমাজের কল্যাণসাধনে অবদান রাখার জন্য ইহাতে যোগ দিতে সাদরে গৃহীত মনে করে, মানবজাতির প্রতি সেবার একটি পথ আরম্ভ করে, শুরুতে অথবা বিলম্বে, আনুষ্ঠানিক তালিকাভুক্তি হতে পারে।
৫. এই উন্নয়নের গুরুত্বকে ছোট করে দেখা যাবে না। প্রতিটি ক্লাস্টারে, কাজের একটি সঙ্গতিপূর্ণ উৎকৃষ্ট উদাহরণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সহকর্মী ও পরিচিতগণের একটি সম্বন্ধযুক্ত সংশ্রয়ের মাধ্যমে ইহাকে আরও বিস্তৃতভাবে প্রসারিত করার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে, একইসময়ে শক্তিগুলিকে জনসমষ্টির অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রতর বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলিতে নিবদ্ধ করতে হবে, যেগুলির প্রতিটি নিবিড় কর্মকাণ্ডের এক একটি কেন্দ্রে পরিণত হবে। একটি নগরস্থ ক্লাস্টারে, এইরূপ কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র একটি মহল্লার সীমানা দ্বারা নিরূপণ করা হয়ত বা সর্বোত্তম হতে পারে: একটি ক্লাস্টারে যা মূলত বৈশিষ্ট্যগতভাবে গ্রামীণ, একটি ছোট গ্রাম এই উদ্দেশ্যের জন্য একটি উপযুক্ত সামাজিক স্থান প্রদান করতে পারে। যারা এই পারিপার্শিকতার মধ্যে কাজ করেন, স্থানীয় অধিবাসীগণ এবং অতিথি শিক্ষাদানকারী উভয়ে সমাজ গঠনের কার্য-পরিধিতে তাদের কাজ সঠিকভাবে দেখতে সক্ষম হবেন। তাদের শিক্ষাদান প্রচেষ্টাগুলিকে ‘দ্বারে দ্বারে’ পৌঁছানোর লেবেল হিসাবে আরোপ করতে, যদিও প্রথম সাক্ষাতে একটি বাড়ীর বাসিন্দাদের পূর্বে না জানিয়ে যাওয়া হতে পারে, তা প্রক্রিয়ার প্রতি ন্যায়বিচার হবে না যা একটি জনগোষ্ঠিকে ইহার নিজস্ব আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দায়িত্বভার গ্রহণে সামর্থ্য বৃদ্ধি করতে চায়। যে সকল কর্মকাণ্ড এই প্রক্রিয়াকে চালিত করে, এবং যাতে নতুন পাওয়া বন্ধুগণ সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য আমন্ত্রিত - সভাগুলি যা সমাজের আধ্যাত্মিক চরিত্র শক্তিশালী করে; ক্লাসগুলি যা শিশুদের নরম মন ও হৃদয়গুলিকে প্রশিক্ষিত করে; সমষ্টিগুলি যা জুনিয়র ইয়ূথদের তরঙ্গায়িত শক্তিগুলিতে প্রবাহিত করে; সকলের জন্য উন্মুক্ত অধ্যয়ন চক্রগুলি, যা বিভিন্ন শিক্ষা-সংস্কৃতির জনগণকে সমান পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে এবং তাদের ব্যক্তি ও সমষ্টিগত জীবনে শিক্ষাগুলির প্রয়োগের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করতে সক্ষম করে - সেগুলিকে ভালভাবে চালিয়ে যেতে কিছু সময়ের জন্য স্থানীয় জনগণের বাইরে থেকে সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। তা সত্ত্বেও ইহা প্রত্যাশিত হবে যে শীঘ্রই মূল কর্মকাণ্ডগুলির বহুগুণ বৃদ্ধি স্বয়ং গ্রাম বা মহল্লার স্থানীয় মানবসম্পদ দ্বারা অব্যাহত রাখতে হবে - সেই সকল নারী ও পুরুষ দ্বারা যারা তাদের পারিপার্শিকতায় পার্থিব ও আধ্যাত্মিক অবস্থাগুলিকে উন্নত করতে আগ্রহী। অত:পর, বাহা’উল্লার দূরদৃষ্টির একটি নতুন বিশ্ব-ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যথোপযুক্ত সামর্থ্যরে ব্যক্তিগণের একটি প্রসারণশীল মূল অংশ দ্বারা সামাজিক জীবনের একটি ছন্দ ক্রমান্বয়ে বেরিয়ে আসবে।
৬. প্রাসঙ্গিকভাবে, মূল কর্মকাণ্ডের দ্বারা সৃষ্ট সমাজ গঠনের প্রক্রিয়াটিতে অংশগ্রহণ করার আগ্রহ স্বয়ং গ্রহণশীলতা সুস্পষ্ট করে। বর্তমানে যেখানে ক্লাস্টারের পর ক্লাস্টারে একটি নিবিড় বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রয়েছে, সেখানে আগামী বছরে বন্ধুদের সম্মুখে যে কাজ রয়েছে তাহা হচ্ছে এক বা একাধিক গ্রহণশীল জনসমষ্টিকে শিক্ষাদান করা, তাদের ধর্মের মৌলিক বিষয়ের ব্যাখ্যাগুলিতে একটি স্পষ্ট পদ্ধতি প্রয়োগ করা, এবং সেই আত্মাগুলিকে খুঁজে বের করা যারা সমাজ কর্তৃক তাদের উপর আরোপিত আলস্য ত্যাগ করতে এবং একটি সম্মিলিত পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করতে তাদের মহল্লা বা গ্রামগুলিতে একে অপরের সাথে মিলেমিশে কাজ করতে সাগ্রহ আকাঙ্খা করছে। বন্ধুগণ যদি এইভাবে একটি ক্ষুদ্র পরিসরে সমাজ গঠনের উপায় ও পদ্ধতিগুলি শিখতে তাদের প্রচেষ্টাগুলিতে নিজেদের অটল রাখতে পারেন, আমরা নিশ্চিত যে ধর্মের বিষয়গুলির বিস্তার কয়েক ধাপ এগিয়ে নেয়া হাতের মুঠোয় মাত্র।
৭. এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে বিশ্বাসীগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলি যারা ক্লাস্টারটিতে তাদের সেবাদান করে তাদের ইন্সটিটিউট প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে হবে; ইহার সীমানার মধ্যে অধ্যয়ন চক্রসমূহে টিউটর হিসাবে সেবাদান করতে যারা সক্ষম তাদের সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি করা; যেহেতু ইহা স্বীকার করতে হবে যে গ্রাম ও মহল্লাগুলিতে একটি স্পন্দনশীল সমাজ জীবনযাপন করা এখন বন্ধুদের জন্য উন্মুক্ত, উদ্দেশ্যের এইরূপ গভীর একটি অনুভূতি দ্বারা বৈশিষ্ট্যময় কেবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নগুলির দ্বারা সম্ভব হয়েছে যা বিগত দশক ব্যাপী বাহা’ই সংকৃতির সেই বিশেষ দিকটিতে সংঘটিত হয়েছে যা জ্ঞান-গভীর করণের সাথে সংযুক্ত।
৮. আমরা যখন ১৯৯৫ এর ডিসেম্বরে বিশ্বব্যাপী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য আহ্বান করেছিলাম, তখন বাহা’ই সমাজে ব্যক্তি বিশ্বাসীগণকে ধর্মে তাদের জ্ঞান-গভীর করতে সাহায্য করার জন্য সর্বাধিক প্রচলিত আদর্শ রীতি প্রধানতঃ বিভিন্ন মেয়াদের সাময়িক কোর্স ও ক্লাসগুলি নিয়ে গঠিত ছিল যেগুলি বিবিধ বিষয়ের উপর আলোচনা করত। সেই আদর্শ রীতিটি উদীয়মান বাহা’ই সমাজের প্রয়োজনগুলি খুব ভালোভাবে পূর্ণ করেছে, এখনও অপেক্ষাকৃত সংখ্যায় অল্প এবং পৃথিবীর সর্বত্র মূলত ইহার ভৌগোলিক বিস্তারে উদ্বিগ্ন। আমরা অবশ্য সেই সময়ে স্পষ্ট করেছিলাম যে যদি দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়াকে লক্ষণীয়ভাবে ত্বরান্বিত করতে হয়, লিখনাবলী অধ্যয়নের অপর একটি পথ তৈরী করতে হবে, যা কর্মক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যককে উদ্দীপ্ত করবে। এই বিষয়ে, আমরা চেয়েছি যে কোর্সগুলি প্রস্তুত করার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটগুলি বিশ্বাসীগণের চির বর্ধিষ্ণু সমষ্টিকে ধর্মের সেবাদান করতে সাহায্য করবে যা তাদেরকে জ্ঞান, অন্তরদৃষ্টি এবং দক্ষতাগুলি প্রদান করবে যা গতিশীল প্রসারণ ও দৃঢ়করণের সাথে সম্পৃক্ত অনেকগুলি কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজন।
৯. ধর্মের লিখনাবলী পাঠ করা এবং বাহা’উল্লার বিষ্ময়কর প্রত্যাদেশের গুরুত্বের উপর একটি অধিকতর পর্যাপ্ত উপলব্ধি পাওয়ার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা করা তাঁর অনুসারীদের প্রত্যেকের উপর ন্যস্ত বাধ্যবাধকতা। তাঁর প্রত্যাদেশের মহাসাগরের গভীরে অনুসন্ধান করতে এবং তাদের সামর্থ্য ও আকাঙ্খার সাথে উহাতে বিদ্যমান জ্ঞানের মুক্তাগুলির অংশীদার হতে সকলের প্রতি আদেশ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে, স্থানীয় জ্ঞান-গভীর ক্লাসগুলি, শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন স্কুলসমূহ এবং বিশেষভাবে আয়োজিত সমাবেশগুলি যেগুলিতে লিখনাবলীতে জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি বিশ্বাসীগণ সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলির অন্তরদৃষ্টিগুলি অন্যদের সাথে ভাগ করে নিতে সক্ষম ছিলেন স্বাভাবিকভাবে তা বাহা’ই জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্যরূপে আবির্ভূত হয়েছে। প্রতিদিন পড়ার অভ্যাস বাহা’ই পরিচিতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশরূপে বিদ্যমান থাকবে, এভাবে এই প্রকার অধ্যয়ন সমাজটির সম্মিলিত জীবনে একটি স্থান করে নেবে। কিন্তু প্রত্যাদেশটির নিহিতার্থগুলির উপলব্ধি, ব্যক্তির বৃদ্ধি ও সমাজের অগ্রগতি উভয় ক্ষেত্রে বহুবিধ বৃদ্ধি ঘটে যখন অধ্যয়ন ও সেবাদান একত্রিত হয় এবং সংঘটনশীলভাবে সম্পন্ন করা হয়। সেবার ক্ষেত্র সমূহে জ্ঞান-পরীক্ষিত হয়, অভিজ্ঞতা থেকে প্রশ্নগুলি উত্থিত হয় এবং উপলব্ধির নতুন স্তরসমূহ অর্জিত হয়। দূর-শিক্ষণ পদ্ধতিতে যা এখন দেশে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে -- যার প্রধান উপাদানগুলির মধ্যে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে অধ্যয়ন চক্র, টিউটর এবং রুহি ইন্সটিটিউটের পাঠ্যবিষয় -- বিশ্ব ব্যাপী বাহা’ই সমাজ বাহা’ই শিক্ষাগুলিকে বাস্তবে রূপান্তর করার সুনির্দ্দিষ্ট উদ্দেশ্যের সাথে হাজার হাজার, না লক্ষ লক্ষ জনকে, ছোট ছোট দলে পবিত্র লিখনাবলী অধ্যয়নে সক্ষম করার সামর্থ্য অর্জন করেছে, ধর্মের কাজগুলিকে ইহার পরবর্তী ধাপ: বৃহৎ মাত্রার প্রসারণ ও দৃঢ়করণে বজায় রেখেছে।
১০. কেহ যেন এভাবে সৃষ্ট সম্ভাবনাগুলিকে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ না হই। অক্রিয়তা আজকের সামাজিক শক্তিগুলি হতে উৎপন্ন। ক্রমবর্ধমান দক্ষতার সাথে হৃদয়ে পোষণযোগ্য একটি আকাঙ্খা শৈশব হইতে লালিত হয়, শিক্ষিত প্রজন্মসমূহ তার দ্বারা পরিচালিত হতে ইচ্ছুক যে কেহ বাহ্যিক আবেগগুলির প্রতি আকর্ষণ করতে দক্ষ প্রমাণিত হয়। এমনকি অনেক শিক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীগণ এমনভাবে ব্যবহৃত হয় যেন তাদেরকে তথ্য গ্রহণের আধার রূপে গঠন করা হয়েছে। অপরদিকে বাহা’ই বিশ্ব একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সফল হয়েছে যা চিন্তার, অধ্যয়নের এবং কাজ করার একটি উপায় প্রবর্তন করে, যাতে সকলে মনে করেন যেন তাহারা সেবার একটি সাধারণ পথে চলছেন -- একজন অপরজনকে সাহায্য করছেন এবং একত্রে এগিয়ে যাচ্ছেন, প্রত্যেকের মধ্যে যে জ্ঞান রয়েছে তার প্রতি সবসময় শ্রদ্ধাশীল এবং বিশ্বাসীগণকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করার প্রবণতাটি পরিহার করছে -- যেমন জ্ঞান-গভীরকৃত এবং অন-অবহিত -- প্রচুর সামঞ্জস্যগুলির একটি অর্জন। এবং একটি অদম্য গতিশীলতার স্বক্রিয়-শক্তি ইহাতে বিদ্যমান রহিয়াছে।
১১. যা কিছু অবশ্যপালনীয় তা হলো আগামী বছরে অধ্যয়ন চক্র পর্যায়ে শিক্ষার মান লক্ষণীয়ভাবে উন্নীত করা যেন এইরূপ স্বক্রিয়-শক্তি সৃষ্টিতে স্থানীয় জনগণের সম্ভাবনাগুলি লাভ করা যায়। এই বিষয়ে বেশীরভাগ দায়িত্ব তাদের উপর থাকবে যারা টিউটর হিসাবে সেবা দিচ্ছেন। সেইরূপ পরিবেশ প্রদানের চ্যালেঞ্জটি তাদের হবে যা ইন্সটিটিউটের কোর্সগুলিতে কল্পনা করা হয়েছিল, একটি পরিবেশ যা ব্যক্তির আধ্যাত্মিক ক্ষমতায়নের প্রতি সহায়ক, তারা নিজেদেরকে তাদের নিজ নিজ শিক্ষার স্বক্রিয় প্রতিনিধি রূপে, ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত রূপান্তর প্রভাবিত করতে জ্ঞান প্রয়োগের একটি অবিরাম প্রচেষ্টার মুখ্য চরিত্র রূপে দেখতে পাবে । এতে ব্যর্থ হলে, একটি ক্লাস্টারে যতই অধ্যয়ন চক্র গঠিত হয়ে থাকুক না কেন, পরিবর্তনকে সম্মুখে চালিয়ে নিতে যে শক্তি প্রয়োজন তা উৎপাদিত হবে না।
১২. যদি একজন টিউটরের কাজ উৎকর্ষতায় উচ্চতর থেকে উচ্চতরে নিয়ে যেতে হয়, মনে রাখতে হবে যে একটি অঞ্চল বা দেশের মানবসম্পদগুলির উন্নয়ণের জন্য প্রাথমিক গুরুদায়িত্ব প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের উপর নির্ভর করে। একটি কাঠামো স্বরূপ ইন্সটিটিউটকে ইহার অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কঠোর প্রচেষ্টা করার সময় - বোর্ড হতে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে কো-অর্ডিনেটরদের প্রতি, তৃণমূল পর্যায়ে টিউটরদের প্রতি - পদ্ধতিটির সামগ্রিক কার্যকারিতার উপর সমানভাবে চাপ প্রয়োগ করতে হবে, যেহেতু, চুড়ান্ত বিশ্লেষণে বিদ্যমান পরিমাণগত অর্জনসমূহ গুণগত অগ্রগতির উপর অনিশ্চিত হবে। ক্লাস্টারের স্তরে যারা টিউটর হিসাবে সেবাদান করছেন তাদের সহগামী হতে কো-অর্ডিনেটরকে অবশ্যই বাস্তব অভিজ্ঞতা ও তার প্রচেষ্টাগুলির গতিশীলতা উভয় নিয়ে আসতে হবে। তাকে অবশ্যই তাদের প্রচেষ্টাগুলির উপর প্রতিফলন করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে সমাবেশের আয়োজন করতে হবে। ইন্সটিটিউটের পাঠ্যবিষয় থেকে নির্বাচিত অংশের অধ্যয়নের পূণরাবৃত্তি করার জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলি কখনো কখনো সহায়ক প্রমাণিত হতে পারে, যদি সেগুলি ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের একটি প্রয়োজন থেকে চিত্তনিষ্ঠ না হয়। একজন টিউটরের সামর্থ্যগুলি তখন প্রগতিশীলভাবে উন্নত হয় যখন ব্যক্তি কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেন এবং বর্তমান বিশ্ব পরিকল্পনার পরম্পরায় অবদান রাখার জন্য কোর্সগুলির অনুক্রম অধ্যয়নের দ্বারা এবং সেগুলির বাস্তব উপাদানগুলি কাজে পরিণত করার মাধ্যমে অন্যদের সাহায্য করেন। এবং বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষগণ যখন বিভিন্ন অনুক্রমের সাথে সঞ্চালিত হন এবং টিউটরদের সাহায্য নিয়ে প্রতিটি কোর্সের তাদের অধ্যয়ন শেষ করেন, অন্যদের অবশ্যই তাদের পছন্দ ও সামর্থ্যগুলি অনুযায়ী গৃহীত সেবার কাজগুলিতে সহগামী হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে -- বিশেষভাবে কো-অর্ডিনেটরগণ শিশুদের ক্লাস, জুনিয়র ইয়ূথ গ্রুপ ও অধ্যয়ন চক্রগুলির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত, পদ্ধতিটিকে চলমান রাখার জন্য সেবার কাজগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পদ্ধতির মাধ্যমে সঠিক মাত্রার প্রাণশক্তি স্পন্দিত হওয়া নিশ্চিত করতে পরবর্তী বারো মাস ব্যাপী প্রতিটি দেশে শেখার লক্ষ্য অব্যাহত রাখতে হবে।
১৩. দীর্ঘকাল যাবৎ শিশুদের আধ্যাত্মিক শিক্ষার জন্য উদ্বেগ বাহা’ই সমাজের সংস্কৃতির একটি উপাদান ছিল, একটি উদ্বেগ যা দুইটি বাস্তবতার যুগপৎ অবস্থানে পরিণত হয়েছে। একটি, ইরানের বাহা’ইদের অর্জনগুলির সমকক্ষ হতে বা ছাড়িয়ে যেতে, গ্রেড হতে গ্রেডে, বাহা’ই পরিবারগুলির শিশুদের প্রতি সাধারণত: নতুন প্রজন্মের প্রতি ধর্মের শিক্ষাগুলি ও ইতিহাসের মৌলিক জ্ঞান জ্ঞাত করতে পদ্ধতিগত ক্লাসগুলি প্রদানের সামর্থ্য দ্বারা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হয়েছিল। বিশ্বের বেশীরভাগ অংশে এই ক্লাসগুলির দ্বারা যারা উপকৃত হয়েছে তাদের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম ছিল। অপর বাস্তবতাটি সেই এলাকাগুলিতে ছিল যেখানে বৃহৎ মাত্রার তালিকাভূক্তি হয়েছিল, গ্রাম ও নগর উভয় স্থানে। একটি অধিকতর সামুদয়িক মনোভাব ঐ অভিজ্ঞতার বৈশিষ্ট্য ছিল। তথাপি, যখন সকল প্রকারের গৃহস্থালী কাজের শিশুরা বাহা’ই শিশুক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য একই সময়ে আগ্রহী হলো এবং স্বাগত জানানো হলো তখন নিয়মানুবর্তিতার প্রয়োজনীয় মাত্রার সাথে পাঠগুলির প্রদানকে বছরের পর বছর বিভিন্ন কারণে প্রতিরোধ করেছে। এই দ্বৈত চিত্র দেখে আমরা কত আনন্দিত, বন্ধুগণ যখন ইন্সটিটিউট দ্বারা প্রশিক্ষিত হয়ে একটি পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে সর্বত্র ক্লাসগুলি প্রদানের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, যা সকলের জন্য উন্মুক্ত, তখন ঐতিহাসিক পরিস্থিতিগুলির একটি পরিণতি বিনষ্ট হতে শুরু করেছে।
১৪. এইরূপ প্রতিশ্রুতিশীল সূচনাগুলিকে এখন বলিষ্ঠভাবে লক্ষ্যে পরিণত করতে হবে। প্রতিটি ক্লাস্টারে যেখানে নিবিড় বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রয়েছে, বর্ধিত সংখ্যক শিশুর আধ্যাত্মিক শিক্ষার সুযোগ আরও প্রণালীবদ্ধ করার জন্য প্রচেষ্টাগুলি প্রয়োজন রয়েছে, বিভিন্ন শিক্ষা-সংস্কৃতির পরিবার হতে - গ্রাম ও মহল্লাগুলিতে সমাজ গঠনের প্রক্রিয়ায় একটি গতিবেগ সঞ্চারিত হচ্ছে। এটি একটি কঠিন কাজ হবে , যাতে পিতা-মাতা ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের পক্ষ থেকে ধৈর্য ও সহযোগীতার প্রয়োজন হবে। ইতিমধ্যে রুহি ইন্সটিটিউটকে শিশু-ক্লাসের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য ইহার কোর্সসমূহের অনুরূপ পাঠগুলি সম্পূর্ণ করতে পরিকল্পনাগুলি বিস্তারিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে, ৫ বা ৬ বছরের শিশুদের থেকে আরম্ভ করে সেগুলি ১০ বা ১১ পর্যন্ত নিয়ে যেতে, যেন বিদ্যমান পাঠ এবং ইহার জুনিয়র ইয়োথদের পাঠ্য পুস্তকগুলির মধ্যে বিরাজমান বর্তমান ব্যবধানগুলি দূর করা যায়, যেমন বিশ্বাসের চেতনা এবং আসন্ন পাওয়ার অব দ্য হোলি স্পিরিট যা ঐ বয়ঃ শ্রেণীর জন্য কার্যক্রমের প্রতি সুনির্দিষ্টভাবে একটি বাহা’ই উপাদান প্রদান করে। যখন এই অতিরিক্ত কোর্স ও পাঠগুলি পাওয়া যাবে তখন প্রত্যেক দেশের ইন্সটিটিউটগুলি, বিভিন্ন গ্রেডে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক ও কো-অর্ডিনেটর প্রস্তুত করে নিয়োজিত করতে পারবে, শিশুদের আধ্যাত্মিক শিক্ষার জন্য একটি কর্মসূচীর মূল বিষয়কে কেন্দ্র করে মাধ্যমিক উপাদানগুলি বিন্যাস করা যেতে পারে। ইতোমধ্যে, ইন্সটিটিউটগুলি শিক্ষকগণকে তাদের উপযুক্ত পাঠ্যবিষয় দেয়ার জন্য সবকিছু করবে, অন্যগুলির মধ্যে যা বর্তমানে বিদ্যমান, বিভিন্ন বয়সের শিশুদের নিয়ে গঠিত তাদের ক্লাসগুলিতে প্রয়োজন মত ব্যবহারের জন্য প্রদান করবে।
১৫. নির্ধারিত সময়ের পূর্বে পাঁচসালা পরিকল্পনার লক্ষ্যের অর্জন নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টাগুলিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষাদান কেন্দ্র যে অপরিহার্য প্রণোদনা প্রদান করেছেন তাহার জন্য ইহা আমাদের চিরন্তন কৃতজ্ঞতা অর্জন করেছে। এই বিশ্বব্যাপী উদ্যোগে ইহা যে পরিমাণের শক্তি নিয়ে এসেছেন, এত অধিক ধৈর্যের সাথে প্রত্যেক মহাদেশের অগ্রগতিগুলির অনুসরণ করেছেন এবং এত ঘনিষ্ঠভাবে মহাদেশীয় উপদেষ্টাগণের সাথে অনুসরণ করেছেন তা প্রত্যক্ষ করা বিশ্ব ব্যবস্থার অন্তঃস্থায়ী অসাধারণ শক্তির একটি ক্ষণিক দৃষ্টির ছিল। বর্তমানে শিক্ষাদান কেন্দ্র ক্লাস্টার পর্যায়ের কর্মকাণ্ডের ফলপ্রসূতার প্রতি সম্পৃক্ত প্রশ্নগুলির প্রতি সমান শক্তি নিয়ে যখন ইহার মনোযোগ নিবদ্ধ করছেন, তখন নিঃসন্দেহে ইহা বাহা’ই শিশুক্লাসগুলি বাস্তবায়নের প্রতি বিশেষ বিবেচনা রাখবেন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আসন্ন বছরে কয়েকটি নির্বাচিত ক্লাস্টারে -- বৈচিত্রময় সামাজিক বাস্তবতাগুলির প্রতিনিধি -- অর্জিত অভিজ্ঞতায় ইহার বিশ্লেষণ বাস্তব সমস্যাগুলির উপর আলোকপাত করবে যা গ্রাম ও মহল্লাগুলিতে প্রত্যেক বয়সের শিশুদের জন্য নিয়মিত ক্লাসসমূহ প্রতিষ্ঠাকে সম্ভব করবে।
১৬. জুনিয়র ইয়ূথদের আধ্যাত্মিক ক্ষমতায়নের জন্য ক্রমান্বিত শিক্ষণের দ্রুত বিস্তার বাহা’ই সমাজের সাংস্কৃতিক অগ্রগতির অপর একটি অভিব্যক্তি। পৃথিবীব্যাপী গতিধারাগুলিতে যখন এই বয়সীদের ভাবমূর্তী সমস্যাসংকুল, শারীরিক ও আবেগপূর্ণ পরিবর্তনের বিশৃঙ্খল তীব্র যন্ত্রণায় দিশেহারা, দায়িত্বহীন এবং আত্মমগ্ন, তখন বাহা’ই সমাজ - যে ভাষা ইহা ব্যবহার করে এবং যে উপায়গুলি ইহা গ্রহণ করে - সুস্পষ্টভাবে বিপরীত দিকে চালিত হচ্ছে, কিশোরদের মধ্যে বরং নিঃস্বার্থতার দৃষ্টান্ত, ন্যায়পরায়ণতার একটি তীব্র অনুভূতি, মহাবিশ্ব সম্বন্ধে জানার আগ্রহ এবং একটি অধিকতর ভালো পৃথিবী গঠনে অবদান রাখার আগ্রহ দেখতে পাচ্ছে। অনেক অনেক বর্ণনায়, যেখানে সমগ্র গ্রহের দেশগুলিতে কিশোরগণ পাঠকার্যক্রমের অংশগ্রহণকারী হিসাবে তাদের ভাবনাগুলিকে বক্তব্যে রূপ দিয়াছে, এই দূরদৃষ্টির যথার্থতার সাক্ষ্য দিয়াছে। সকল পূর্ব-লক্ষণ রয়েছে যে কার্যক্রমটি তাদের প্রসারণশীল সচেতনতাকে বাস্তবতার একটি অনুসন্ধানে লিপ্ত করে যা তাদেরকে সমাজের অভ্যন্তরে স্বক্রিয় গঠনমূলক ও বিধ্বংসী শক্তিগুলি বিশ্লেষণ করতে এবং এই শক্তিগুলি যে তাদের চিন্তা ও কাজে প্রভাব বিস্তার করে তা শনাক্ত করতে, তাদের আধ্যাত্মিক উপলব্ধি তীক্ষè করতে, তাদের অভিব্যক্তির শক্তিগুলিকে বৃদ্ধি করতে এবং নৈতিক কাঠামোগুলিকে সুদৃঢ় করতে সাহায্য করে যা তাদেরকে তাদের সমগ্র জীবন ব্যাপী সেবা দেবে। একটি বয়সে যখন অঙ্কুরিত বুদ্ধিমত্তা, আধ্যাত্মিক ও দৈহিক শক্তিগুলি তাদের নিকট অভিগম্য হয় তখন তাদেরকে প্রয়োজনীয় হাতিয়ার দেয়া হচ্ছে যা দিয়ে তারা সেই শক্তিগুলি যা তাদের কাছ থেকে তাদের মহান সত্তার প্রকৃত পরিচয় কেড়ে নেয় সেগুলিকে প্রতিহত করবে এবং সর্ব-সাধারণের মঙ্গলের জন্য কাজ করবে।
১৭. যেহেতু কার্যক্রমটির অধিকাংশ উপাদান বাহা’ই পরিপ্রেক্ষিত থেকে একটি বিষয়বস্তু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করে, কিন্তু ধর্মীয় নির্দেশের ধরণে নয়, একটি বৈচিত্রময় যোজনা ও পারিপার্শিক অবস্থায় ইহার বিস্তারের জন্য কিশোরদের প্রতি পথ খুলে দিয়েছে। অতঃপর, এইরূপ অনেক দৃষ্টান্তে, যারা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন তারা সামাজিক কাজের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রবেশ করেন, বহুবিধ প্রশ্ন ও সম্ভাবনাগুলির সম্মুখীন হন, যেগুলি পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কার্যালয় কর্তৃক শিক্ষার একটি পৃথিবীব্যপী প্রক্রিয়ায় পর্যবেক্ষণ ও সংগঠিত করা হচ্ছে । ইতিমধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ক্লাষ্টারগুলির কয়েকটিতে যেগুলির প্রত্যেকটি এক হাজারের অধিক কিশোরকে ধারণ করছে। এইদিকে অন্যান্যদের দ্রুত এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে, কার্যালয়টি সকল মহাদেশে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করছে, বিশ্বাসীদের একটি কর্মীবাহিনীর সাহায্য নিয়ে যা বহুসংখ্যক ক্লাষ্টার থেকে কো-অর্ডিনেটরগণকে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই রিসোর্স পার্সনগণ তাদের নিজেদের ক্লাস্টারে ফেরার পর কো-অর্ডিনেটরগণকে সাহায্য দিয়ে যাবেন, একটি আধ্যাত্মিকভাবে সঞ্চারিত একটি পরিবেশ তাদের সক্ষম করবে যেখানে কিশোর কার্যক্রম সুদৃঢ় হবে।
১৮ প্রচেষ্টার এই ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে আরও জ্ঞানার্জন হবে, যদিও ইতিমধ্যে কাজের একটি উদাহরণ স্বচ্ছ হয়েছে। কেবল বাহা’ই সমাজের সামর্থ্য কার্যক্রমে বিদ্যালয় ও নাগরিক সমষ্টিগুলির চাহিদার প্রতি সাঁড়াদানের মাত্রা সীমিত করে। ক্লাস্টারগুলির মধ্যে যেগুলি বর্তমানে একটি নিবিড় বৃদ্ধির কার্যক্রমে নিবদ্ধ, সেখানে ব্যাপক বিন্যাসের পরিস্থিতিগুলি বিদ্যমান রয়েছে, তাদের হতে যাদের কয়েকটি বিক্ষিপ্ত জুনিয়র ইয়ূথ দল রয়েছে, তাদের মধ্য থেকে যারা একটি পর্যাপ্ত সংখ্যা অক্ষুন্ন রাখছে, যেখানে একজন নিবেদিত কো-অর্ডিনেটরের সেবার প্রয়োজন, যে জ্ঞান বিতরণ করার জন্য একটি কেন্দ্র থেকে এক ক্রমাগত সমর্থন লাভ করবে । যাহাতে এই সামর্থ্য এই সকল ক্লাস্টারের সমগ্র দৃশ্যপট জুড়ে বৃদ্ধি পায়, এই লক্ষ্যে আমরা ৩২টি শেখার কেন্দ্রের (লার্নিং সাইট) জন্য আহ্বান করেছি, প্রতিটি শেখার কেন্দ্র বা লার্নিং সাইট কুড়িটি ক্লাস্টার নিয়ে কাজ করবে যাদের সার্বক্ষণিক কো-অর্ডিনেটর রয়েছে, ইহা বর্তমান পরিকল্পনার শেষ নাগাদ কাজ শুরু করবে। অন্যান্য সকল ক্লাস্টারে, আগামী বছরের মধ্যে কার্যক্রম প্রদানের সামর্থ্য সৃষ্টির প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে, দলগুলির সংখ্যা পদ্ধতিগতভাবে বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে।
১৯. এ পর্যন্ত আমরা যে উন্নয়ণের কথা উল্লেখ করেছি - প্রত্যক্ষভাবে ধর্মের শিক্ষাদান করার এবং সকল শ্রেণীর লোকজনের সাথে আধ্যাত্মিক গুরুত্বের বিষয়গুলির উপর উদ্দেশ্যপূর্ণ আলোচনায় লিপ্ত হওয়ার সামর্থ্য বৃদ্ধি, পবিত্র লিখনাবলী অধ্যয়নের একটি প্রচেষ্টা পুষ্পিত হয়েছে যা কাজের প্রতি নিবেদিত হয়েছে। মহল্লা ও গ্রামগুলিতে যুবদের প্রতি নিয়মিতভাবে আধ্যাত্মিক শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নবায়ন করা হয়েছে, এবং একটি কার্যক্রমের প্রভাব বিস্তারিত হয়েছে যা জুনিয়র ইয়ূথদের মধ্যে নৈতিক উদ্দেশ্যের সচেতনতা দ্বিগুণভাবে সঞ্চারিত করে। তাদের সহজাত সম্ভাবনাগুলি উন্নত করতে এবং সমাজের রূপান্তরে অবদান রাখতে সকলে দৃঢ়কৃত -- কোন ক্ষুদ্র মাত্রায় নয় -- সংস্কৃতির স্তরে আরও একটি অগ্রগতির দ্বারা বস্তুত যাহার নিহিতার্থগুলি সুদূরপ্রসারী। সম্মিলিত সচেতনতায় এই বিবর্তনপ্রক্রিয়া উপলব্ধি করার আগ্রহে বর্ধিতভাবে পুন:পুন সংঘটনের সাথে একটি শব্দ “সাহচর্য প্রদান” বন্ধুদের মধ্যে আলোচনায় উপস্থিত হয়, একটি শব্দ যা নতুন অর্থ দ্বারা বিভূষিত হচ্ছে এখন ইহা বাহা’ই সমাজের সাধারণ শব্দভাণ্ডারের অঙ্গীভূত হচ্ছে। ইহা একটি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ বলবান হওয়ার সঙ্কেত দিচ্ছে যেখানে শেখার পদ্ধতি, একটি পদ্ধতি যা অধিক হতে অধিকতর লোকদের অবগত অংশগ্রহণকারীগণকে একটি ঐশ্বরিক সভ্যতা গঠন করতে বাহা’উল্লারশিক্ষাগুলি প্রয়োগে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় প্রতিপালন করে, যাকে অভিভাবক ধর্মের প্রাথমিক দায়িত্ব বলেছেন। এইরূপ একটি উদ্যোগ পুরাতন সামাজিক ব্যবস্থা যা প্রায়ই নিরঙ্কুশ ক্ষমতার মাধ্যমে, লোভের মাধ্যমে, অপরাধের মাধ্যমে অথবা নিজ উদ্দেশ্য সাধনের মাধ্যমে মানব শক্তিকে ব্যবহার করতে চেষ্টা করে তা আধ্যাত্মিকভাবে দেউলিয়া এবং মুমূর্ষু উপায়গুলির প্রতি একটি লক্ষ্যণীয় বৈপরীত্য প্রদান করে।
২০. অত:পর, সংস্কৃতিতে এই উন্নয়ন বন্ধুগণের পারস্পরিক সম্পর্ক তাহাদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়াগুলিতে ভিন্নতর বৈশিষ্ট্য দেখতে পায়। শেখা একটি কাজের পদ্ধতির মত যাতে এগুলির সবকিছু ধারণ করার জন্য প্রয়োজন হয় একটি বিনম্রতার মনোভাব, একটি অবস্থা যেখানে ব্যক্তি তাহার নিজের প্রতি বিস্মরণশীল হয়ে যায়, ঈশ্বরে সম্পূর্ণ ভরসা রাখে, তাঁর সর্ব-পোষণকারী ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল এবং তাঁর অন্তহীন সহায়তায় আস্থাশীল, অবগত যে তিনি, এবং তিনিই একা, একটি ডাঁশ-মশাকে একটি ঈগলে, এক বিন্দু জলকে একটি অসীম সাগরে পরিবর্তন করতে পারেন। এবং এইরূপ একটি অবস্থায় আত্মাগুলি অন্তহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের নিজেদের সাফল্যগুলিতে খুব বেশী উল্লসিত নন বরং অন্যদের অগ্রগতি ও সেবাগুলিতে। সুতরাং ইহা এইরূপ যে তাদের ভাবনাগুলি সবসময় তাঁর ধর্মের প্রতি সেবার উচ্চতাগুলি উপলব্ধি করতে এবং তাঁর জ্ঞানের স্বর্গে উড্ডয়নে একে অপরকে সাহায্য করতে নিবদ্ধ। এইগুলি বর্তমান কর্মকাণ্ডের উৎকৃষ্ট উদাহরণ যা আমরা বিশ্বের সর্বত্র যুব ও বৃদ্ধদের দ্বারা, দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও সদ্য তালিকাভূক্তদের দ্বারা উন্মোচিত হতে দেখছি, যারা একত্রে মিলেমিশে কাজ করছেন।
২১. সংস্কৃতিতে এই অগ্রগতি কেবল ব্যক্তিগণের মধ্যে সম্পর্কগুলিকে প্রভাবিত করে না বরং ইহার প্রভাব ধর্মের প্রশাসনিক বিষয়গুলির আচরণেও অনুভব করা যেতে পারে। শেখা যখন সমাজের কার্যপদ্ধতিকে বিশিষ্টতা প্রদান করছে, প্রসারণ ও দৃঢ়করণের প্রতি সম্পর্কিত নির্দ্দিষ্ট কিছূ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিশ্বাসীগণের সমষ্টির উপর ন্যস্ত করা হয়েছে, যা কর্মক্ষেত্রের পারিপার্শি¦ক অবস্থাগুলির প্রতি অধিকতর দ্রুত সাড়াদানের জন্য পরিকল্পনা করতে ও বাস্তবায়নে সমর্থ করে। সুনির্দিষ্টভাবে, প্রতিফলন সভার মাধ্যমে তাদের জন্য একটি স্থান সৃষ্টি করা হয়েছে যারা ক্লাস্টার পর্যায়ে তাদের কর্মকাণ্ডগুলিতে লিপ্ত, অভিজ্ঞতা ও প্রতিষ্ঠানগুলির হতে প্রাপ্ত দিক-নির্দেশনার আলোকে, এবং তাদের আসন্ন পরবর্তী পদক্ষেপগুলি নিরূপণ করতে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থানের উপর ঐক্যমতে পৌঁছতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সমবেত হয়ে থাকেন । একইভাবে, ইন্সটিটিউট দ্বারা অনুরূপ একটি স্থান উন্মুক্ত হয়েছে, যা তাদের জন্য সুযোগ করে দেয় যারা একটি ক্লাস্টারে টিউটর হিসাবে, শিশুদের ক্লাসের শিক্ষক হিসাবে, এবং জুনিয়র ইয়ূথ গ্র“পের এনিমেটরগণ পৃথক পৃথকভাবে মিলিত হয় এবং তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করে। এই তৃণমূল পরামর্শ প্রক্রিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ইন্সটিটিউটের অঙ্গসংগঠনগুলি এবং এরিয়া টিচিং কমিটি, এবং তাদের সাথে সাহায্যকারী বোর্ডের সদস্যগণ রয়েছেন, যাদের মিলিত মিথস্ক্রিয়াগুলি আর একটি স্থান উন্মুক্ত করে যাতে বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত সিদ্ধান্তগুলি নেয়া হয়, এই ক্ষেত্রে একটি উচ্চতর মাত্রার আনুষ্ঠানিকতার সাথে। ক্লাস্টার পর্যায়ে কাজের জরুরী প্রয়োজনে এই পদ্ধতি জন্মলাভ করেছে যা বাহা’ই প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করে: এমনকি একটি জীবন্ত প্রাণীর মত ইহার সামর্থ্যরে মধ্যে ইহা উচ্চতর থেকে উচ্চতর মাত্রাগুলির জটিলতা ধারণ করার ক্ষমতা রয়েছে, যা সার্বজনীন বিচারালয়ের দিক-নির্দেশনায় কাঠামো ও প্রক্রিয়াগুলি, সম্পর্ক এবং কর্মকাণ্ডগুলির ভিত্তিতে বিকশিত হয়।
২২. ধর্মের সকল স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলি -- স্থানীয় ও আঞ্চলিক হতে, জাতীয় ও মহাদেশীয় পর্যন্ত, -- এইরূপ ক্রমবর্ধমাণ জটিলতা অধিক থেকে অধিকতর দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করার সামর্থ্য উহাদের দ্রুত পরিপক্কতার একটি লক্ষণ এবং একটি আবশ্যকতা। প্রশাসনিক কাঠামোগুলির মধ্যে বিকশিত সম্পর্কগুলি স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদকে ঈশ্বরের বাণী চতুর্দিকে ছড়িয়ে দেয়ায় ইহার দায়িত্বগুলির অনুশীলনে একটি নতুন পর্যায়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে, বিশ্বাসীগণের শক্তিগুলিকে কাজে লাগাতে সমবেত করতে এবং একটি পরিবেশ গড়তে যা আধ্যাত্মিকভাবে উন্নতিসাধক। পূর্ববর্তী উপলক্ষগুলিতে আমরা ব্যাখ্যা করেছি যে একটি আধ্যাত্মিক পরিষদের পরিপক্কতা কেবল ইহার সভাগুলির নিয়মানুবর্তিতা ও ইহার কাজ করার দক্ষতা দ্বারা নিরূপণ করা যেতে পারে না। বরং শক্তি পরিমাপ করতে হবে, একটি বৃহৎ ব্যাপ্তীতে ইহা যে সমাজের সেবাদান করছে উহার আধ্যাত্মিক ও সামাজিক জীবনের প্রাণশক্তি দ্বারা -- একটি বর্ধণশীল সমাজ যা উভয়ের গঠনমূলক অবদানকে স্বাগত জানায় যারা আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভূক্ত হয়েছে তাদের এবং যারা হয় নাই তাদের। ইহা প্রত্যক্ষ করা সন্তোষজনক যে বর্তমান পথগুলি, পদ্ধতিগুলি এবং যন্ত্রাদি স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদগুলিকে , এমনকি যেগুলি নতুন গঠিত, তারা যখন এই দায়িত্বগুলি পালন করতে শুরু করে তখন নিশ্চিত করে যে তাদের এলাকাগুলিতে পাঁচসালা পরিকল্পনার প্রয়োজনগুলি পর্যাপ্তরূপে পূরণ করা হয়েছে। বস্তুত, পরিকল্পনার সাথে পরিষদের যথাযথ সম্পৃক্ততা বৃহৎ সংখ্যাকে আলিঙ্গণ করার প্রতিটি চেষ্টায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে -- ইহার ক্ষমতা ও সামর্থ্যগুলি পরিপূর্ণ বিন্যাসের বিকাশসাধনের জন্য স্বয়ং একটি পূর্বশর্ত।
২৩. আগামী বছরগুলিতে স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদগুলির মধ্যে যে উন্নয়ন আমরা নিশ্চিত দেখব তা জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদের ক্রমবর্ধমাণ শক্তির দ্বারা সম্ভব হয়েছে, যার ভাবনা ও কৌশলগতভাবে কাজ করার সামর্থ্য উপলব্ধিজাতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষভাবে তৃণমূলসমূহে সমাজ গঠন প্রক্রিয়া বর্ধিত বিচক্ষণতা ও কার্যকারিতার সাথে বিশ্লেষণ করতে শিখেছেন এবং প্রয়োজন মত সাহায্য, সম্পদগুলি, উৎসাহ, এবং প্রেমপূর্ণ দিক-নির্দেশনা সঞ্চারিত করছেন। যে সকল দেশের অবস্থা দাবী করে এই সম্পর্কিত তাদের দায়িত্বগুলির বেশ কয়েকটি রিজিওনাল কাউন্সিলকে হস্তান্তরিত করেছেন, নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কর্মগুলিকে বিকেন্দ্রীকরণ করে, তাদের আওতাধীন এলাকাগুলিতে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছেন, এবং মিথস্ক্রিয়াগুলির অধিকতর জটিল সমষ্টিগুলিকে লালন করছেন। ইহা বলার মধ্যে অতিরঞ্জিত কিছু নেই যে বর্তমান পরিকল্পনার লক্ষ্যগুলি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত অভিঘাত সৃষ্টিতে জাতীয় পরিষদগুলির পরিপূর্ণ জড়িত হওয়ার নিমিত্তস্বরূপ ছিল, এবং উপদেষ্টাদের সাথে ঐক্যমতে, তারা সংকটপূর্ণ পথে সচেষ্ট হবে, সম্মুখের ক্ষণস্থায়ী মাসগুলিতে পরবর্তী পাঁচসালা উদ্যোগে আরোহণ করতে তাদের সমাজগুলিকে প্রস্তুত করার এক পরম প্রচেষ্টার এই দিকে আমরা আরও উন্নয়ন দেখার প্রত্যাশা করি।
২৪ প্রশ্নাতীতভাবে, বিগত দশকে উপদেষ্টাগণের প্রতিষ্ঠানের বিবর্তন প্রক্রিয়া বাহা’ই প্রশাসনিক ব্যবস্থার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিগুলির একটি। ঐ প্রতিষ্ঠানটি ইহার উন্নয়নে ইতিমধ্যে অসাধারণ অগ্রগতি সাধন করেছে, জানুয়ারী ২০০১ এ, উপদেষ্টাগণ ও অক্সিলারী বোর্ড মেম্বারগণ আন্তর্জাতিক শিক্ষাদান কেন্দ্র কর্তৃক কার্মেল পর্বতের উপর ইহার স্থায়ী আসন গ্রহণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সম্মেলনের জন্য পবিত্র ভূমিতে সমবেত হন। নিঃসন্দেহে, সেই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা দ্বারা যে শক্তিগুলি মুক্ত করা হয়েছিল তা প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত সম্মুখে চালিত করেছে। পরিকল্পনার অগ্রগতিতে উপদেষ্টাগণ ও অক্সিলারী বোর্ড মেম্বারগণ যে পরিমাণ প্রভাব বিস্তার করেছিলেন যে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে সম্মুখভাগে তারা তাদের স্বাভাবিক স্থান প্রতিগ্রহণ করেছেন। আমরা নিশ্চিত যে আগামী বছরে প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সহযোগীতার ক্ষেত্রে, যখন সকলে দৃঢ়তর করতে কঠোরভাবে চেষ্টা করবে, ইহাদের প্রতিটি যখন ইহার স্বাভাবিকভাবে বিকশিত কাজ ও দায়িত্বসমূহ অনুযায়ী হওয়ায় তাহাদের অধিকতর ঘনিষ্ঠ করবে, জ্ঞানার্জনের পদ্ধতি যা সমাজের কর্মকাণ্ডের একটি লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে ---- এটা অত্যন্ত জরুরীভাবে সেই ক্লাস্টারগুলি যেগুলিতে নিবিড় বৃদ্ধির কার্যক্রম রয়েছে।
*
২৫. বাহা’উল্লারপ্রত্যাদেশ বিশাল। ইহা কেবল ব্যক্তি পর্যায়ে প্রগাঢ় পরিবর্তনের জন্য আহ্বান করে না বরং সমাজের কাঠামোতেও। তিনি স্বয়ং ঘোষণা করেছেন, “মানবজাতির সামগ্রিক চরিত্রে একটি পরিবর্তন সাধন করা কি প্রত্যেক প্রত্যাদেশের লক্ষ্য নহে, একটি পরিবর্তন যা স্বয়ং ইহাকে সুস্পষ্ট করবে, বাহ্যিক এবং আভ্যন্তরিক উভয়ভাবে, যা ইহার ভিতরের জীবন ও বাহিরের অবস্থাগুলি উভয়কে প্রভাবিত করবে?” আজ পৃথিবীর প্রতিটি কোনে যে কাজ এগিয়ে চলেছে তাঁর শিক্ষাগুলির মধ্যে সংরক্ষিত মহিমান্বিত সভ্যতার কেন্দ্রীয় অংশ সৃষ্টি করতে চলমান বাহা’ই প্রচেষ্টার অতি সাম্প্রতিক পর্যায়কে উপস্থাপন করে, একটি নির্মাণ কাজ যা অন্তহীন জটিলতা ও পরিমাপের একটি উদ্যোগ, এইরূপ একটি যা ফলপ্রসূ করতে মানবজাতি কর্তৃক কয়েক শত বছরের প্রচেষ্টা দাবী করে। এখানে কোন সংক্ষিপ্ত পথ নাই, কোন সূত্র নাই। একমাত্র তাঁর প্রত্যাদেশ থেকে অন্তর্দৃষ্টিগুলি লাভের জন্য চেষ্টা দ্বারা মানবজাতির পুঞ্জীভূত জ্ঞান আহরণ করতে, মানবজাতির জীবনে তাঁর শিক্ষাগুলিকে বুদ্ধিমত্তার সাথে প্রয়োগ করা এবং অপরিহার্য জ্ঞানার্জন হবে কি এবং সামর্থ্য গড়ে উঠবে কি উত্থিত প্রশ্নগুলির উপর পরামর্শ করা।
২৬. সামর্র্থ্য বৃদ্ধির এই দীর্ঘ-মেয়াদী প্রক্রিয়ায়, বাহা’ই সমাজ শিক্ষাদান ক্ষেত্রে ইহার অভিজ্ঞতা পদ্ধতিগত করণে প্রায় দেড় দশক কাল একান্তভাবে নিয়োজিত করেছে, সুনির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডগুলি অধিক থেকে অধিকতর সংখ্যক লোকের নিকট উন্মোচন করা এবং ইহার প্রসারণ ও দৃঢ়করণ টেকসই করতে শিখছে। সমাজের উষ্ণ আলিঙ্গনে প্রবেশ করতে এবং বাহা’উল্লারজীবনদানকারী বাণী হতে জীবন রক্ষাকারী উপায়সমূহ গ্রহণ করতে সকলে স্বাগত। নিশ্চয়ই, সত্যের জন্য আকুল আকাঙ্খা, ধর্মের দূর্গে আশ্রয় খুঁজে পাওয়া এবং চুক্তি-পত্রের একতাবদ্ধকারী ক্ষমতা হতে শক্তি আহরণের চেয়ে একটি আত্মার নিকট বৃহত্তর কোন আনন্দ নাই। তথাপি, প্রতিটি মানবসত্তা এবং প্রতিটি দলের ব্যক্তিগণ, তাঁর অনুসারীদের মধ্যে গণ্য বা নয়, তাঁর শিক্ষাবলী হতে অনুপ্রেরণা লাভের জন্য অংশগ্রহণ পারে, বিজ্ঞতার মূল্যবান রতœরাজি হতে উপকৃত হতে পারে এবং তারা যে সকল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় সেগুলির মোকাবিলা করতে জ্ঞান তাদের সাহায্য করবে। বস্তুত, সভ্যতা যা মানবজাতিকে অনুসরণের জন্য ইশারা করে তা কেবল বাহা’ই সমাজের প্রচেষ্টাগুলির মাধ্যমে অর্জিত হবে না। বিপুল সংখ্যক দল ও প্রতিষ্ঠান, বিশ্ব সংহতির চেতনা দ্বারা প্রাণবন্ত যা মানবজাতির একতার নীতি বাহা’উল্লারপরিকল্পনার একটি পরোক্ষ প্রকাশ যা বর্তমান সমাজের উদ্দেশ্যহীন সংঘাত ও বিশৃঙ্খলার ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে কাঙ্খিত সভ্যতার প্রতি অবদান রাখবে। প্রত্যেকের নিকট ইহা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন যে আনুক্রমিক বিশ্ব পরিকল্পনাগুলি দ্বারা বাহা’ই সমাজের মধ্যে যে সামর্থ্য সৃষ্টি হয়েছে তা সভ্যতা গড়ার বহুবিধ ও বৈচিত্রময় পরিসরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে ক্রমবর্ধমানভাবে সক্ষম করছে, ইহার সম্মুখে জ্ঞানার্জনের নতুন সীমান্তগুলি খুলে দিয়েছে।
২৭. আমাদের ২০০৮ এর রিজওয়ান বার্তায় আমরা জানিয়ে ছিলাম যে, ক্লাস্টার পর্যায়ে বন্ধুগণ যেভাবে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন, তারা নিজেদেরকে সমাজ জীবনের অধিক থেকে অধিকতর অভ্যন্তরে দেখতে পাবে এবং একটি প্রসারণশীল মানবীয় প্রচেষ্টার বিন্যাসকে আবেষ্টন করতে তারা যে পদ্ধতিগত জ্ঞানার্জন প্রক্রিয়াটির সাথে বিজড়িত রয়েছেন তা সম্প্রসারিত করার চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারেন। সর্ব-সাধারণের উপাসনার কাজ রূপে প্রতিটি ক্লাস্টারে সমাজ জীবনের একটি উন্নত চিত্র দৃশ্যমান হতে থাকে, গৃহের ঘনিষ্ঠ পরিবেশে ইতস্ততবিক্ষিপ্ত আলোচনাগুলির আয়োজন করা হয়, কর্মকাণ্ডগুলির সাথে গ্রথিত করা হয় যা একটি জনসমষ্টির -- বয়স্ক, তরুণ ও শিশু -- সকল সদস্যের আধ্যাত্মিক শিক্ষা প্রদান করে। সামাজিক সচেতনতা স্বাভাবিকভাবে বর্ধিত হয়, উদাহরণস্বরূপ, পিতামাতার মধ্যে তাদের শিশুদের আকাঙ্খাগুলি এবং জুনিয়র ইয়ূথদের পদক্ষেপ দ্বারা উদ্ভূত সেবার প্রকল্পগুলি সম্বন্ধে আনন্দোচ্ছল কথোপকথনগুলি দ্রুত বিস্তারলাভ করে। একটি ক্লাস্টারে যখন মানবসম্পদগুলি যথেষ্ট প্রাচুর্যপূর্ণ, এবং বৃদ্ধির উৎকৃষ্ট উদাহরণ দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত, তখন বৃহত্তর সমাজের সাথে সমাজের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেতে পারে, এবং অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে। পরিকল্পনা উন্মোচনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, যখন এত অধিক সংখ্যক ক্লাস্টার এইরূপ একটি পর্যায়ের নিকটবর্তী হচ্ছে, ইহা উপযুক্ত মনে হচ্ছে যে সকল স্থানের বন্ধুগণ দানের প্রকৃতির উপর ভেবে দেখবেন যা তাদের বাড়ন্ত, স্পন্দমান সমাজগুলি বৃহত্তর সমাজের বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক অগ্রগতিতে অবদান রাখবে। এই বিষয়ে, পারস্পরিকভাবে দৃঢ়করণের কর্মক্ষেত্রগুলিতে পরস্পরসংযুক্ত দুইটি শব্দের উপর ভেবে দেখা ফলপ্রসূ প্রমাণিত হবে: সামাজিক কাজে সম্পৃক্ততা এবং বৃহত্তর সমাজের প্রচলিত আলোচনাগুলিতে অংশগ্রহণ।
২৮. দশকগুলি ব্যাপী, বাহা’ই সমাজ প্রচেষ্টার এই দুইটি ক্ষেত্রে প্রচুর অভিজ্ঞতা লাভ করেছে। অবশ্য, অনেক বাহা’ই রয়েছেন যারা ব্যক্তি হিসাবে সামাজিক কর্মকাণ্ডে এবং তাদের পেশাগুলির মাধ্যমে সর্বসাধারণের আলোচনায় বিজড়িত রয়েছেন। বেশ কিছু সংখ্যক বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান, ধর্মের শিক্ষাগুলি দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়গুলিতে স্বক্রিয় রয়েছে, তাদের জনগোষ্ঠির কল্যাণের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজ করছে। জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদগুলির অঙ্গসংগঠনগুলি সাধারণের কল্যাণের প্রতি সহায়ক ধারণাগুলির উন্নয়নে বিভিন্ন পথের মাধ্যমে অবদান রাখছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, জাতিসংঘ কার্যালয়ের বাহা’ই ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির মত অঙ্গসংগঠনগুলি অনুরূপ কার্য সম্পাদন করছেন। যতটুকু আবশ্যক এবং কাঙ্খিত, সমাজের তৃণমূলে যে সকল বন্ধু কাজ করছেন এই অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য অর্জন করবেন যখন তারা তাদের চারপাশের সমাজের উদ্বেগগুলিকে দূর করতে চেষ্টা করবেন।
২৯. সর্বাধিক উপযুক্তভাবে ধারণাকৃত একটি দৃশ্যপটের পরিভাষায়, সামাজিক কর্মোদ্যোগ ব্যক্তি অথবা বন্ধুদের ক্ষুদ্র সমষ্টি কর্তৃক গৃহীত সীমিত মেয়াদের বেশ মোটামুটি অনানুষ্ঠানিক প্রচেষ্টাগুলির বিন্যাস হতে বাহা’ই অনুপ্রাণিত প্রতিষ্ঠানগুলি দ্বারা বাস্তবায়িত একটি উচ্চ পর্যায়ের জটিল ও সূক্ষè সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম পর্যন্ত হতে পারে। ইহার সুযোগ ও পরিসর যা-ই হোক না কেন, সকল সামাজিক কর্মোদ্যোগ একটি জনগোষ্ঠির সামাজিক অথবা অর্থনৈতিক জীবনের কয়েকটি দিকের উন্নতিসাধনের জন্য বাহা’ই শিক্ষাগুলি ও নীতিগুলির প্রয়োগের চেষ্টা করে, যদিও সংযতভাবে। অত:পর, এইরূপ প্রচেষ্টাগুলি একটি জনসমষ্টির বস্তুগত কল্যাণ সংবর্ধিত করতে, ইহার আধ্যাত্মিক কল্যাণের অতিরিক্ত, তাদের বিবৃত উদ্দেশ্য দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। যেহেতু বিশ্ব সভ্যতাকে এখন মানবজাতির চক্রবালের উপর বাহা’ই শিক্ষাবলীর প্রতি কেন্দ্রীয় বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক প্রয়োজনগুলির মধ্যে একটি প্রাণবন্ত সামঞ্জস্য অবশ্যই লাভ করতে হবে। সুস্পষ্টভাবে এই আদর্শে বাহা’ইদের দ্বারা উদ্দেশ্যকৃত যে কোন সামাজিক কর্মোদ্যোগের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের জন্য প্রগাঢ় নিহিতার্থ বিদ্যমান, ইহার সুযোগ ও বিন্যাসের প্রভাব যা-ই হোক না কেন। যদিও এক দেশ হতে অন্য দেশে, এবং হয়ত বা এক ক্লাস্টার হতে অন্য ক্লাস্টারে অবস্থাগুলি ভিন্নতর হবে, বন্ধুদের নিকট থেকে প্রচেষ্টাগুলির একটি বৈচিত্র, কিছু মৌলিক ধারণা রয়েছে যা সবাইকে মনে রাখতে হবে। একটি হচ্ছে সামাজিক অস্তিত্বে জ্ঞানের প্রাধান্য। অজ্ঞতা চিরস্থায়ীকরণ কঠিন অত্যাচারের একটি রূপ; ইহা কুসংস্কারের অসংখ্য দেয়ালগুলিকে সুদৃঢ় করে যা মানবজাতির একতা বাস্তবায়নের প্রতি, একই সময়ে বাহা’উল্লারপ্রত্যাদেশের লক্ষ্য ও পরিচালনা নীতিগুলির প্রতি বাঁধাস্বরূপ দণ্ডায়মান হয়। জ্ঞানার্জনের সুযোগ প্রত্যেক মানুষের একটি অধিকার, এবং ইহার সংঘটন, প্রয়োগ এবং বি¯তৃতকরণে অংশগ্রহণ একটি দায়িত্ব যা একটি সমৃদ্ধ বিশ্ব সভ্যতা গড়ার মহান উদ্যোগ যা সকলকে কাঁধে তুলে নিতে হবে। সামাজিক পরিবর্তন কোন প্রকল্প নয় যা লোকদের একটি দল অন্যদের উপকারের জন্য করে থাকে। সামাজিক উদ্যোগের সুযোগ ও জটিলতা একটি গ্রাম বা মহল্লাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রাপ্তিসাধ্য মানবসম্পদের সাথে যথোপযুক্ত হতে হবে। অতএব, প্রচেষ্টাগুলি সংযত মাত্রায় শুরু করা এবং জনসমষ্টির মধ্যে সামর্থ্য উন্নয়নের সাথে জৈবিকভাবে বৃদ্ধি সর্বোত্তম। অবশ্যই, সামর্থ্য নতুন স্তরগুলিতে উন্নীত হয় যখন সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান চরিত্রগুলি বাহা’উল্লারপ্রত্যাদেশের উপাদানগুলিকে বর্ধিত দক্ষতার সাথে তাদের সামাজিক বাস্তবতায় বিষয়বস্তু ও বিজ্ঞানের পদ্ধতিগুলির সাথে প্রয়োগ করতে শেখে। এই বাস্তবতা তাদেরকে অবশ্যই এমন একটি পদ্ধতিতে বুঝতে চেষ্টা করতে হবে যেন তা তাঁর শিক্ষাগুলির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয় -- তাদের নিজেদের লোকদের মধ্যে অমূল্য রতœরাজি দেখতে পাওয়া এবং হৃদয় ও মন উভয়ের, এ ছাড়াও সামাজিক কাঠামোতে একাঙ্গীকরণ ও বিখণ্ডায়নের দ্বৈত প্রক্রিয়ার প্রভাব চিনতে পারা।
৩০. কার্যকর সামাজিক উদ্যোগ সমাজের প্রচলিত আলোচনাগুলিতে অংশগ্রহণ সমৃদ্ধশালী করতে সাহায্য করে, সুনির্দিষ্ট আলোচনাগুলিতে অংশগ্রহণ থেকে লব্ধ অন্তর্দৃষ্টিগুলি প্রগতির ধারণা সুস্পষ্ট করতে সাহায্য করতে পারে যা সামাজিক উদ্যোগ গঠন করবে। ক্লাস্টার পর্যায়ে বৃহত্তর সমাজের প্রচলিত আলোচনার প্রাত্যহিক কথোপকথনে বাহা’ই ধারণাগুলির পরিচয় করিয়ে দেয়ার মত সরল একটি কাজ হতে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ, শাসন ও মানবাধিকারগুলি, উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সামাজিক উদ্বেগে প্রতিপাদ্যের প্রতি নিবেদিত প্রবন্ধগুলি প্রস্তুতকরণ এবং সমাবেশগুলিতে উপস্থিত থাকা পর্যন্ত অধিকতর আনুষ্ঠানিক বিন্যাস থাকতে পারে। এ ছাড়াও ইহা গ্রাম ও মহল্লাগুলিতে নাগরিক গোষ্ঠি ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে অর্থপূর্ণ মিথষ্ক্রিয়া অনিবার্য ফলস্বরূপ।
৩১. এই সম্বন্ধে, আমরা একটি সতর্কবাণী তুলে ধরার তাগিদ অনুভব করছি। ইহা স্বীকার করা সকলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে সামাজিক উদ্যোগ ও প্রচলিত সাধারণ আলোচনাগুলিতে অংশগ্রহণের মূল্য তালিকাভূক্তি করণের সামর্থ্য দ্বারা বিচার করা যাবে না। যদিও, স্বক্রিয়তার এই দুইটি ক্ষেত্রের প্রচেষ্টাগুলি বাহা’ই সমাজের বৃদ্ধি সাধন করতে পারে, কিন্তু সেগুলি এই উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয় নাই। অকপটতা এই বিষয়ে অবশ্য পালনীয়। তদুপরি, বাহা’ই অভিজ্ঞতাগুলি বাড়াইয়া বলা অথবা অধুনা শুরু হয়েছে এমন প্রচেষ্টা গুলির প্রতি অনুচিত মনোযোগ আকর্ষণ পরিহারের জন্য সতর্কতা অনুশীলন করতে হবে, যেমন জুনিয়র ইয়ুথ ক্ষমতায়ন কার্যক্রম, যেগুলিকে ইহাদের নিজ গতিতে পরিপক্কতা লাভের জন্য ছেড়ে দেয়া ভালো হবে। সকল ক্ষেত্রে সতর্ক শব্দটি হচ্ছে বিনম্রতা। তাদের বিশ্বাস সম্বন্ধে প্রবল উৎসাহ অন্যকে জ্ঞাপন করার সময়, বন্ধুগণের উচিত হবে একটি বিজয়ের সমীরণ প্রক্ষেপ করা হতে সতর্ক থাকা, যা নিজেদের মধ্যে নামেমাত্র যথাযথ, অন্য পরিস্থিতিগুলিতে আরও অনেক কম।
৩২. ক্লাস্টার পর্যায়ে বর্তমানে উন্মোচিত হওয়ার পর্যায়ে এই নতুন সুযোগগুলি আপনাদের নিকট বর্ণনার দ্বারা, আমরা আপনাদিগকে বর্তমান পথকে কোনভাবে পরিবর্তন করতে বলছি না। ইহা কল্পনা করা উচিত হবে না যে, এইরূপ সুযোগগুলি সেবাদানের একটি বিকল্প ক্ষেত্র দিচ্ছে, প্রসারণ ও দৃঢ়করণের কাজে সমাজের সীমিত সম্পদগুলি ও সামর্থ্যগুলির সাথে প্রতিযোগীতা করছে। আগামী বছর ব্যাপী, ইন্সটিটিউট প্রক্রিয়া এবং ইহা স্বক্রিয়তার যে উৎকৃষ্ট উদাহরণ উৎপন্ন করে থাকে সেগুলিকে শক্তিশালী করা অব্যাহত থাকতে হবে, এবং শিক্ষাদান প্রত্যেক বিশ্বাসীর মনে সর্বাধিক প্রবল থাকতে হবে। বৃহত্তর সমাজের জীবনে আরও বিজড়িত হওয়া উপযুক্ত সময়ের পূর্বে করা যাবে না। ইহা স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যাবে যখন প্রতিটি ক্লাস্টারে বন্ধুগণ কাজের একটি প্রক্রিয়া প্রতিফলন, পরামর্শ ও অধ্যয়ন, এবং ফলস্বরূপ শেখার মাধ্যমে পরিকল্পনার শর্তাবলী প্রয়োগে অধ্যবসায়ী হবে। বৃহত্তর সমাজের জীবনে বিজড়িত হওয়া বৃদ্ধি পাবে যখন ইহার নিজ বৃদ্ধি করতে, সংবর্ধিত করতে এবং ইহার জীবনীশক্তি অক্ষুন্ন রাখতে সামর্থ্য ক্রমান্বয়ে বর্ধিত হবে। ইহা সমাজের প্রসার ও দৃঢ়করণের প্রচেষ্টায় ততটুকু পরিমাণ সামঞ্জস্য লাভ করবে যতটুকু ইহা ধারণাগত কর্মকাঠামোর উপাদানগুলি থেকে লাভ করে যা বর্তমান বিশ্ব পরিকল্পনার অনুক্রমগুলিকে পরিচালনা করছে। এবং ইহা বাহা’উল্লারদূরদৃষ্টির একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব-সভ্যতার দিকে জনসমষ্টিগুলির বিচলনে ততটুকু অবদান রাখবে যতটুকু ইহা এই উপাদানগুলিকে শেখার নতুন ক্ষেত্রগুলিতে সৃজনশীলভাবে নিয়োজিত করবে।
*
৩৩. প্রিয় বন্ধুগণ: প্রিয়তম মাস্টার কতোবার এই আশা ব্যক্ত করেছেন যে, বিশ্বাসীদের হৃদয়গুলি পরস্পরের জন্য ভালোবাসা দ্বারা উপচে পড়বে, যেন তারা বিভক্তির কোন রেখা গ্রাহ্য না করে বরং সমগ্র মানবজাতিকে এক পরিবাররূপে বিবেচনা করবে। তাঁর উপদেশ; “তোমরা কোন অপরিচিত দেখিও না বরং সবাইকে বন্ধু রূপে দেখ, কারণ ভালোবাসা ও একতা কঠিন হয়ে পড়ে যখন তোমরা তোমাদের স্থির দৃষ্টি অন্যভাবে স্থাপন করো।” পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাগুলিতে সতর্কভাবে পরীক্ষিত উন্নয়নগুলি, সর্বাধিক গভীর পর্যায়ে, পবিত্র আত্মার ক্ষমতার মাধ্যমে অর্জিত সার্বজনীন ভালোবাসার বহি:প্রকাশ ব্যতীত আর কিছু নয়। কারণ ইহা কি ঈশ্বরের জন্য ভালোবাসা নয় যা বিচ্ছেদ ও বিভক্তির সকল পর্দাগুলি দগ্ধ করে এবং হৃদয়গুলিকে পরিপূর্ণ একতায় একত্রিত করে? ইহা কি তাঁর ভালোবাসা নয় যা আপনাদিগকে সেবার পথে উদ্দীপ্ত করে এবং প্রতিটি হৃদয়ে তাঁকে জানার এবং তাঁর উপাসনা করার সামর্থ্য দেখতে সক্ষম করে? আপনারা কি তাঁর জ্ঞান দ্বারা উদ্দীপ্ত নন যা তাঁর প্রত্যাদেশ মানবজাতির জন্য তাঁর ভালোবাসার কারণে আনন্দের সাথে দুঃখবেদনার একটি জীবন সহ্য করেছিলন? আপনাদের নিজেদের স্তরের মধ্যে, ইরানে আপনাদের প্রিয় ভ্রাতা ও ভগিনীদেরও প্রতি লক্ষ্য করুন। তারা কি ঈশ্বরের ভালোবাসা হতে উৎপন্ন বীরোচিত ধৈর্য ও তাঁর প্রতি সেবার আকাঙ্খার দৃষ্টান্তস্বরূপ নন। নিষ্ঠুরতম এবং সর্বাধিক তিক্ত যন্ত্রণা ভোগে তাদের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার সামর্থ্য কি বিশ্বের কোটি কোটি নির্যাতিত লোকের উত্থিত হওয়ার এবং পৃথিবীতে ঈশ্বরের রাজত্ব গড়তে একটি চূড়ান্ত অংশগ্রহণে তাদের সামর্থ্য প্রমাণ করে না? বিভেদকারী সামাজিক গঠন দ্বারা অদম্যভাবে এগিয়ে যান এবং বাহা’উল্লারবাণী প্রতিটি নগরের মহল্লাগুলিতে, প্রতিটি গ্রামীণ ক্ষুদ্র পল্লীতে, বিশ্বের প্রতিটি কোনে, অপেক্ষমান আত্মাগুলির প্রতি নিয়ে যান, তাদেরকে তাঁর সমাজে নিয়ে আসুন, যা সর্বমহান নামের সমাজ। আপনারা কখনোই আমাদের ভাবনাগুলি ও প্রার্থনাগুলি হতে দূরে নন, এবং তাঁর বিস্ময়কর করুণা দ্বারা আপনাদের সুদৃঢ় করতে সর্বশক্তিমানের নিকট আমরা মিনতিপূর্ণ প্রার্থনা করে যাব।
এই মহিমান্বিত মৌসুমের প্রারম্ভে সদ্য উন্মোচিত মহান বা’ব এর মহিমান্বিত সমাধিটির স্বর্ণালী গম্বুজের প্রভা অবলোকন করে আমাদের চক্ষুগুলি দীপ্তিমান হয়েছে। শৌগী এফেন্দী কর্তৃক কাঙ্খিত স্বর্গীয় দীপ্তিতে ইহাকে সংস্কার করা হয়েছে, যে সুমহান অট্টালিকাটি আর একবার ভূমি, সাগর এবং আকাশ, দিনে এবং রাতে, তাঁর রাজকীয় ক্ষমতা ও পবিত্রতার সাক্ষ্য দিচ্ছে, যাঁর পবিত্র দেহাবশেষ ইহা আবেষ্টন করে আছে।
এই আনন্দঘন মুহুর্ত ঐশী পরিকল্পনা উন্মোচনের একটি শুভ অধ্যায়ের সমাপ্তির সাথে সুনিবিড়ভাবে সমন্বিত। আব্দুল-বাহার ইচ্ছাপত্রের সদাশয় ছায়াতলে প্রথম একশত বছর অতিবাহিত হতে গঠনাত্বক যুগের প্রথম শতাব্দীর শুধুমাত্র একটি দশক অবশিষ্ট রয়েছে। এখন যে পাঁচসালা পরিকল্পনাটি শেষ হচ্ছে তা অপর একটি দ্বারা স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে, যার বৈশিষ্ট্যগুলি ইতিমধ্যে বাহা’ই বিশ্ব জুড়ে নিবিড় অধ্যয়নের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বাস্তবিক-ই, উপদেষ্টাগণের মহাদেশীয় বোর্ডের সম্মেলন এবং বারো মাস পূর্বে রিজওয়ান বার্তায় দেয়া আমাদের বার্তার প্রতি প্রদত্ত সাড়াদান দ্বারা আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছি। উহাদের বিষয়বস্তুর একটি অসম্পূর্ণ উপলব্ধিতে সন্তুষ্ট না হয়ে বন্ধুগণ একাকী এবং সমষ্টিগতভাবে, আনুষ্ঠানিক সভায় এবং স্বতঃস্ফুর্ত সমাবেশগুলিতে এই বার্তাগুলির প্রতি বার বার ফিরে যাচ্ছেন। তাদের ক্লাষ্টারগুলিতে বিকাশমান বৃদ্ধির কার্যক্রমে স্বক্রীয় এবং তথ্যাভিজ্ঞ অংশগ্রহণের দ্বারা তাদের উপলব্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে, সমগ্র বিশ্বের বাহা’ই সমাজ কয়েক মাসের মধ্যেই আগামী দশকে একটি আত্মপ্রত্যয়ী সম্মুখ যাত্রার সূচনার জন্য কি কি প্রয়োজন তা সচেতনভাবে আত্মস্থ করেছে।
একই সময়ের মধ্যে, বিভিন্ন মহাদেশে রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ও অর্থনৈতিক গোলযোগ ক্রমবর্ধমান দৃষ্টান্তগুলি সরকার ও জনগণকে আন্দোলিত করেছে। সমাজগুলিকে বিপ্লবের প্রান্তে নিয়ে আসা হয়েছে, এমনকি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঘটনায় তা সীমানা অতিক্রম করেছে। নেতৃবৃন্দ দেখছেন যে অস্ত্র বা সম্পদ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। জনগণের আকাঙ্খাগুলি যেখানে অপূর্ণ থেকে গেছে, সেখানে ক্ষোভের ভান্ডার স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা স্মরণ করছি, বাহা’উল্লাহ্ কতটা সুনির্দিষ্টভাবে পৃথিবীর শাসকগণকে সতর্ক করেছিলেন: “তোমাদের জনগণ তোমাদের সম্পদ। সতর্ক হও যেন তোমাদের শাসন ঈশ্বরের আদেশাবলী লঙ্ঘন না করে, এবং তোমরা যেন তোমাদের সংরক্ষনে যারা রয়েছে তাদেরকে দস্যুর হাতে তুলে না দাও।” একটি সতর্ক বাণী: পরিবর্তনের জন্য জনগণের আকাঙ্খার লক্ষ্যণীয় দৃশ্য যতই বিমুগ্ধকারী হোক না কেন, এ কথা মনে রাখতে হবে যে এখানে স্বার্থগুলি বিদ্যমান যা ঘটনাগুলিকে নিজ উদ্দেশ্যসাধনে ব্যবহার করছে। এবং, যতক্ষন না ঐশী চিকিৎসক কর্তৃক নির্দেশিত প্রতিষেধক প্রয়োগ করা না হচ্ছে, ততক্ষন পর্যন্ত এই যুগের দুঃখ-কষ্টগুলি বিদ্যমান থাকবে এবং গভীরতর হবে। এই সময়গুলোর একজন মনোযোগী পর্যবেক্ষক অনায়াসেই সনাক্ত করতে পারবে যে, একটি বিশ্বব্যবস্থা অনিয়মিত অথচ অবিশ্রান্তভাবে, দ্রুততার সাথে বিখণ্ডিত হয়ে শোচনীয়ভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
তৎসত্ত্বেও, ইহার অপরদিকে একটি গঠনমূলক প্রক্রিয়াও প্রতীয়মান হচ্ছে, অভিভাবক যাকে “বাহা’উল্লাহর বর্ধিষ্ণু ধর্ম” এর সহিত সংযুক্ত করেছেন এবং “ধর্ম যা অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করবে সেই নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার অগ্রদূত” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মানবীয় বোধ এর প্রবাহমানতায় ইহার পরোক্ষ প্রভাব লক্ষ্যণীয়, বিশেষ করে যুবকদের মাঝে ইহা সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার একটি ব্যাকুল আকাঙ্খা হতে সজোরে প্রবাহমান। এই ব্যাকুল আকাঙ্খা যাহা প্রতিটি দেশের মানব চেতনা হতে ফোয়ারার ন্যায় অপ্রতিরোধ্যরূপে প্রবাহমান, এবং যাহা এই গ্রহের বিভিন্ন রকমের মানুষের মাঝে ফলপ্রসু কর্মকাণ্ডের সামর্থ্য নির্মাণের জন্য বাহা’ই সমাজ যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে তাতে বাগ্মী অভিব্যক্তি খুঁজে পাওয়ার সামর্থ্য প্রদান করছে, তাহা প্রাচীন সৌন্দর্যের অনুসারীদের জন্য একটি স্বপ্রণোদিত বদান্যতা। ইহার সাথে অন্য কোন সুযোগের কি কোন তুলনা হতে পারে?
এই কর্মকাণ্ডের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য উপলদ্ধির জন্য প্রতিটি বিশ্বাসী আব্দুল বাহা’র প্রতি লক্ষ্য করুক, মিশর ও পাশ্চাত্যে তাঁহার “যুগান্তকারী ভ্রমণ” এর শতবার্ষিকী এই সময়ে বিশেষভাবে চিহ্নিত। ক্লান্তিহীনভাবে, প্রতিটি সামাজিক অঙ্গনেঃ গৃহে এবং ধর্মীয় মিলনায়তনসমূহে, গীর্জা এবং সিনাগগসমূহে, নগর-উদ্যান ও নগরমধ্যস্থ উম্মুক্ত স্থানসমূহে, রেলের বগি ও সামুদ্রিক জাহাজসমূহে, সঙ্ঘ ও সমিতিসমূহে, বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে, তিনি ধর্মের শিক্ষাবলী ব্যাখ্যা করেছেন। এই যুগের প্রয়োজনসমূহ পূরণে তিনি সার্বজনীন স্বর্গীয় মূলনীতি আনয়ন করেছিলেন, চলনে বলনে অসীম ভদ্রতা সত্ত্বেও সত্য রক্ষার্থে তিনি আপোসহীন ছিলেন। কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, শ্রমিক, শিশু, পিতা-মাতা, নির্বাসিতগণ, রাজনৈতিক/সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় ব্যক্তিবর্গ, ধর্ম যাজক, সংশয়বাদী নির্বিশেষে সকলের জন্য তিনি সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী প্রেম, বিজ্ঞতা, শান্তনা অকাতরে বিলিয়েছেন। তাদের আত্মাগুলিকে উন্নীত করার সঙ্গে সঙ্গে, তিনি তাদের পূর্ব-ধারণাগুলিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তাদের দৃষ্টিকোনগুলিকে নতুন পরিবেশের সাথে পুণরায় পরিচিত করিয়েছেন, তাদের সচেতনতা প্রসারিত করেছেন, এবং তাদের শক্তিসমূহকে কেন্দ্রীভূত করেছেন। বাক্য ও কর্ম দ্বারা তিনি এইরূপ সমবেদনা ও সহৃদয়তা প্রদর্শন করেছিলেন যে হৃদয়গুলি সম্পূর্ণভাবে রূপান্তরিত হয়েছিল। কাউকে-ই ফিরিয়ে দেয়া হয় নাই। আমাদের মহান আশা এই যে, এই শতবার্ষিক সময়ে, মাষ্টারের অতুলনীয় তথ্যপ্রমাণ তাঁর আন্তরিক গুণগ্রাহীগণকে বারংবার স্মরণ, অনুপ্রাণিত ও সুরক্ষিত করবে। তাঁর উদাহরণ আপনাদের চক্ষুর সামনে স্থাপিত হউক এবং আপনাদের দৃষ্টি ইহাতে নিবদ্ধ হউক; পরিকল্পনার লক্ষ্যের পশ্চাদ্ধাবনে ইহাকে আপনার সহজাত পথপ্রদর্শক হতে দিন।
বাহা’ই সমাজের প্রথম বিশ্ব-পরিকল্পনার সূচনালগ্নে, শৌগী এফেন্দী দৃঢ় প্রত্যয় উৎপাদনকারী ভাষায় ইহার আনুক্রমিক পর্যায়গুলির বর্ণনা করেছিলেন, তার বর্ণনামতে সিয়াহ্-চাল এ ঐশ্বরিক আলো প্রদীপ্ত হয়ে, বাগদাদে প্রত্যাদেশের প্রদীপ পরিচ্ছদে ভূষিত হয়ে, এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলিতে ছড়িয়ে পড়ল এমনকি এ্যাড্রিয়ানোপল এবং পরবর্তীতে আক্কায় ইহা আরও অধিক ঔজ্জ্বল্য সহযোগে আলো বিকীর্ণ করতে থাকল, অতঃপর সে আলো সাগরগুলির অপর প্রান্তের অবশিষ্ট মহাদেশগুলিতেও প্রক্ষেপিত হলো, এবং এইভাবেই ইহা পৃথিবীর রাষ্ট্রসমূহ ও অঙ্গরাজ্যগুলোতে ক্রমবর্ধিষ্ণুভাবে ছড়িয়ে যেতে লাগল। এই প্রক্রিয়ার শেষাংশকে তিনি “ভূমণ্ডল এর অবশিষ্ট সকল শাসিত অঞ্চলে .... সেই আলোর প্রবেশ” হিসেবে বিশিষ্টতা দান করেছেন, ইহাকে তিনি সেই পর্যায় বলে উল্লেখ করেছেন “যেই পর্যায়ে ঈশ্বরের বিজয়দৃপ্ত ধর্মের আলো ইহার সকল শক্তি ও মহিমায় ধীরে ধীরে ছড়িয়ে যাবে এবং সমগ্র গ্রহটিকে আবৃত করে ফেলবে।” যদিও সেই লক্ষ্যটি পরিপূর্ণতা প্রাপ্তি হতে দূরে অবস্থিত, তথাপিও আলো ইতিমধ্যেই বহু অঞ্চলে তীব্রভাবে দ্যুতি ছড়াচ্ছে। কতিপয় দেশে ইহা প্রতিটি ক্লাস্টারে উদ্ভাসিত হয়েছে। যেই দেশে এই অনির্বাণ শিখা প্রথম প্রজ্জ্বলিত করা হয়েছিল, সেই দেশে যারা ইহা নির্বাপিত করতে চায় তাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও ইহা উজ্জ্বলরূপে প্রদীপ্তমান। বিভিন্ন জাতির মাঝে সমগ্র প্রতিবেশীস্থল ও গ্রামসমূহ জুড়ে ইহা একটি সুদৃঢ় উজ্জ্বলতা অর্জন করছে, যেন বিধাতার হস্ত দ্বারা হৃদয়ের পর হৃদয়ে মোমবাতির পর মোমবাতি প্রজ্জ্বলিত করা হচ্ছে; ইহা সকল স্তরের মানবীয় মিথষ্ক্রিয়ায় চিন্তাশীল কথোপকথনকে উদ্ভাসিত করে; ইহা একটি জনসমষ্টির কল্যাণ এর অগ্রগতি সাধনে গৃহীত বিপুল উদ্যোগগুলির উপর ইহার আলোকধারাগুলি প্রক্ষেপণ করে। এবং প্রতিটি দৃষ্টান্তে ইহা প্রতিটি আলোক সংকেত বিষাদ ও হতাশার বিরুদ্ধে একজন অনুগত বিশ্বাসী, একটি স্পন্দনশীল সমাজ, একটি প্রেমপূর্ণ আধ্যাত্মিক পরিষদ হতে বিকীর্ণ করে।
আমরা পবিত্র দ্বারপ্রান্তে আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করছি যে আপনাদের প্রত্যেকে, অবিনশ্বর অগ্নিশিখার বাহকগণ, যখন ধর্মের স্ফুলিঙ্গ অন্যদের নিকট পৌঁছে দেন তখন যেন বাহা’উল্লাহ্র শক্তিশালী নিশ্চয়তাগুলি দ্বারা আপনারা পরিবেষ্টিত থাকেন।
একশত বছর পূর্বে রিজওয়ান উৎসবের একাদশ দিবসের মধ্যঅপরাহ্নে, আব্দুল-বাহা, কয়েকশত লোকের এক শ্রোতাম-লীর সম্মুখে দাড়িয়ে শক্ত হাতে একজন শ্রমিকের কুঠার তুলে নিয়েছিলেন এবং উত্তর শিকাগোর গ্রোস পয়েন্টের উপাসনালয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানের ঘাষের চাবড়া ভেদ করেছিলেন। সেই বসন্ত দিবসে তাঁর সাথে মাটি খুঁড়তে যারা আমন্ত্রিত হয়েছিলেন তারা বৈচিত্রময় শিক্ষা-সংস্কৃতি থেকে এসেছিলেন - তাদের মধ্যে নরওয়েবাসী, ভারতীয়, ফরাসী, জাপানী, পারস্যবাসী, আমেরিকার আদিবাসী কয়েকজন মাত্র ছিলেন। এমন মনে হচ্ছিল যেন, উপাসনালয়টি-তখনও অনির্মিত-মাস্টারের ইচ্ছাগুলি পূরণ করে চলেছে, যা তিনি উদ্বোধনের প্রাক্কালে এইরূপ প্রতিটি অট্টালিকার জন্য ব্যক্ত করেছিলেন:“মানবজাতি যেন একটি সভাস্থল খুঁজে পায়” এবং “মানবজাতির একতার ঘোষণা যেন ইহার পবিত্রতার উন্মুক্ত আঙ্গিনাগুলি থেকে অগ্রসর হয়।”
সেই সময়ে তাঁর শ্রোতাম-লী, এবং তাঁর মিশর ও পাশ্চাত্যের ভ্রমণকালে যারা তাঁর কথা শুনেছেন তাদের সকলে, সমাজের জন্য, ইহার নৈতিক মানদ-সমূহ ও সর্বাগ্রে করণীয় কাজগুলির জন্য তাঁর বাণীর সুদূর-প্রসারী নিহিতার্থগুলি অস্পষ্টভাবে হয়ত উপলব্ধি করেছিলেন। আজ পর্যন্ত, কেউ কি একটি দূরবর্তী ও অস্পষ্ট ইঙ্গিত ব্যতীত ভবিষ্যৎ সমাজের কোন কিছু এক নজরে দেখার দাবি করতে পারে, যা গড়ে তোলার জন্য বাহা’উল্লাহ্ র প্রত্যাদেশ পূর্ব-নির্ধারিত হয়েছে? এজন্য কেহ যেন অনুমান না করেন যে, যে সভ্যতার প্রতি ঐশ্বরিক শিক্ষাগুলি মানবজাতিকে প্রণোদিত করছে উহাতে কেবল বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার সমন্বয়সাধনগুলি করা হবে। আদৌ তা নয়। পাশ্চাত্যের মাতৃ উপাসনালয়টির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের কয়েকদিন পর প্রদত্ত একটি বক্তৃতায় আব্দুল-বাহা বলেছেন যে “আধ্যাত্মিক শক্তিগুলির প্রকাশের ফলাফলের মধ্যে যা থাকবে তা হচ্ছে মানবজগৎ স্বয়ং একটি নতুন সামাজিক কাঠামোর সাথে খাপ খাইয়ে নেবে” এবং “মানবীয় বিষয়াদির সর্বত্র ঈশ্বরের ন্যায়পরায়ণতা দৃশ্যমান হবে।” এইগুলি, এবং মাস্টারের অন্যান্য অগণিত উক্তি যেগুলির প্রতি বাহা’ই সমাজ এই শতবার্ষিকী লগ্নে বার বার ফিরে তাকাচ্ছে, সেগুলি বর্তমানে যেরূপ সমাজ ব্যবস্থা রয়েছে উহাকে তাঁর পিতা কর্তৃক বিশ্বকে প্রদত্ত বিষ্ময়কর দূরদৃষ্টি থেকে কতটা আলাদা করে সেই দূরত্বের সচেতনতা জাগ্রত করে।
হায়, প্রশংসনীয় প্রচেষ্টাগুলি সত্ত্বেও, প্রতিটি ভূ-খন্ডে, সমাজের পরিস্থিতিগুলির উন্নতিসাধনের জন্য স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে যারা কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের অনেকের কাছে এইরূপ একটি দূরদৃষ্টির বাস্তবায়নে প্রতিরোধকারী বাধাসমূহ অনতিক্রম্য মনে হয়। তাদের আশাগুলি মানব প্রকৃতি সম্বন্ধে ভ্রান্ত অনুমানগুলির উপর প্রতিষ্ঠিত যা বর্তমান কালের জীবনযাত্রার কাঠামোগুলি ও ঐতিহ্যগুলিতে এমনভাবে প্রবেশ করেছে যেন সেগুলিই প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতার মর্যাদা। এই অনুমানগুলি, আধ্যাত্মিকভাবে উদ্দীপিত কোন আত্মা যার নিকট সহজলভ্য আধ্যাত্মিক শক্তির ভান্ডার রয়েছে যে ইহার উপর মনোনিবেশ করে, তার প্রতিও কোন বিবেচনা করে না; তদস্থলে, তারা মানবজাতির ব্যর্থতাগুলির উপর নির্ভর করে. যার উদাহরণগুলি হতাশার এক সাধারণ জ্ঞানকে প্রতিদিন সুদৃঢ় করছে। ভ্রান্তির স্তরবিশিষ্ট একটি পর্দা এভাবেই একটি মৌলিক সত্য আড়াল করছে: বিশ্বের অবস্থা মানব চেতনার একটি বিকৃতি প্রতিফলিত করছে, যা ইহার প্রকৃত স্বভাব নয়। ঈশ্বরের প্রত্যেক প্রকাশের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবজাতির আভ্যন্তরিন ও বাহ্যিক উভয় অবস্থায় একটি রূপান্তর কার্যকর করা এবং এই রূপান্তর জনগণের একটি ক্রমবর্ধমান প্রতিষ্ঠানরূপে প্রাকৃতিকভাবে ঘটে, যা ঐশ্বরিক অনুশাসনগুলি দ্বারা ঐক্যবদ্ধ, যা সামাজিক পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার জন্য আধ্যাত্মিক সামর্থ্যগুলি গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করে। এক শতাব্দী পূর্বে মাস্টার কর্তৃক কঠিন ভূমির উপর আঘাতের মত, হতে পারে এ যুগের বিরাজমান মতবাদগুলি, প্রথমে, পরিবর্তনের জন্য অভেদ্য মনে হতে পারে, কিন্তু সন্দেহাতীতভাবে সেগুলি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাবে, এবং “ঈশ্বরের বদান্যতার বসন্তকালীন বর্ষণগুলি দ্বারা সতেজ ও সুন্দর “প্রকৃত উপলব্ধির পুষ্পরাজি আবির্ভূত হবে।”
আমরা ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তাঁর বাণীর শক্তির মাধ্যমে, আপনারা Ñ তাঁর মহান নামের সমাজ - পরিবেশগুলির উন্নয়ন করছেন যেখানে প্রকৃত উপলব্ধি প্রস্ফুটিত হবে। এমনকি যারা ধর্মের জন্য কারাবাসের দুঃখ-কষ্ট ভোগ করছেন, তাদের অব্যক্ত ত্যাগ ও অবিচলতা দ্বারা, সহানুভুতিশীল হৃদয়গুলি “জ্ঞান ও বিজ্ঞতার হায়্যাসিন্থগুলি(কচুরীপানারফুল)পুষ্পিত হতে সমর্থ হচ্ছে।” বিশ্বের সর্বত্র, আগ্রহী হৃদয়গুলি পাঁচসালা পরিকল্পনার অনুবিধিগুলির পদ্ধতিগত বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নতুন বিশ্ব গড়ার কাজে নিয়োজিত হচ্ছে। ইহার বৈশিষ্ট্যগুলি এত ভালোভাবে বোধগম্য হয়েছে যে, সেগুলির উপর এখানে আর কোন মন্তব্য করার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমাদের মনে হয় না। সর্ব-বদান্য বিধাতার দ্বারপ্রান্তে নিবেদিত আমাদের সানুনয় প্রার্থনা এই যে, পরিকল্পনার অগ্রগতির প্রতি অবদানে আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি সর্বোচ্চ রাজ্যের সহায়তার জন্য প্রদত্ত হোক। আমাদের ঐকান্তিক আকাঙ্খা - বিগত বছরে আপনাদের উৎসর্গিত প্রচেষ্টাগুলি প্রত্যক্ষ করার দ্বারা স্ফীত - এই যে আপনারা আপনাদের জ্ঞান, যা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জন করছেন, তার নিশ্চিত-পদক্ষেপ প্রয়োগ তীব্রতর করবেন । এখন ইতস্ততঃ করার সময় নয়; নতুন প্রভাত সম্বন্ধে অনেকেই অবগত নয়। আপনারা ব্যতীত আর কে ঐশ্বরিক বার্তা পৌঁছাতে পারে? “ঈশ্বরের শপথ ধর্মের প্রতি নির্দেশ করে বাহা’উল্লাহ্ দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, “এই হইতেছে অন্তর্দৃষ্টি ও নিরাসক্তি, দূরদৃষ্টি ও নৈতিক অনুপ্রেরণার ক্ষেত্র, যেখানে করুণাময়ের সাহসী অশ্বারোহীগণ ব্যতীত-যারা সত্তার জগতের সাথে সকল আসক্তি ছিন্নœ করিয়াছে-অন্য কেহ দ্রুত ধাবমান হইতে পারে না ।
কর্মরত বাহা’ই বিশ্বকে মনোযোগ সহকারে দেখতে পাওয়া বাস্তবিক-ই একটি উজ্জ্বল দৃশ্যের অবলোকন। ব্যক্তি বিশ্বাসীর জীবনে সর্বোপরি সৃষ্টিকর্তার সাথে ভাবের আদান-প্রদান করতে এবং মানবজাতির প্রতি সেবা দান করতে অন্যদের নিমন্ত্রণ করার আকাঙ্খা করে, যুগের পরম প্রভূ কর্তৃক এইরূপ প্রতিটি আত্মার জন্য অভিপ্রেত আধ্যাত্মিক রূপান্তরের চিহ্নগুলি প্রত্যক্ষ করা যেতে পারে। যে কোন বাহা’ই সমাজের প্রাণবন্তকারী কর্মকা-গুলি যা ইহার যুব ও বৃদ্ধ সদস্যগণ তথা ইহার বন্ধু ও সহযোগিতাকারীদের সাধারণের কল্যাণের প্রতি সেবাদান করার সামর্থ্য বৃদ্ধির প্রতি উৎসর্গিত, উহার চেতনার মধ্যে ঐশ্বরিক শিক্ষাগুলির উপর প্রতিষ্ঠিত একটি সমাজ কিভাবে উন্নত হতে পারে তার একটি ইঙ্গিত হৃদয়ঙ্গম করা যেতে পারে। এবং ঐ সকল অগ্রগামী ক্লাস্টারে যেখানে পরিকল্পনার কর্মকাঠামো দ্বারা পরিচালিত কর্মকা-গুলি প্রচুর এবং করণীয়গুলির মধ্যে সংলগ্নতা নিশ্চিত করার চাহিদাগুলি অত্যন্ত সাগ্রহ, সেখানে স্বাভাবিকভাবে বিকাশমান প্রশাসনিক কাঠামোগুলি উহার ক্ষীণ আলোকমালা প্রদর্শন করে, সেগুলি যতই অনুজ্জ্বল হোক না কেন, এভাবেই ধর্মের প্রতিষ্ঠানগুলি বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের কল্যাণ ও প্রগতি সংবর্ধিত করতে তাদের দায়িত্বগুলির একটি পূর্ণতর বিন্যাস পরিগ্রহ করবে। অতএব, স্পষ্টভাবে ব্যক্তি, সমাজ, এবং প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়ন অপরিমেয় প্রতিশ্রুতি ধারণ করে। কিন্তু, একে ছাড়িয়ে, আমরা বিশেষ আনন্দের সাথে লক্ষ্য করি কিভাবে এই তিনটির সম্পর্কগুলি এত সহানুভূতিশীল ভালোবাসা ও পারস্পরিক সমর্থন দ্বারা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।
পক্ষান্তরে, মুক্ত বিশ্বে তিন সাদৃশ্যপূর্ণ কর্মীর মধ্যে সম্পর্কগুলি - নাগরিক, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, এবং সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলি - মতানৈক্যের প্রতিফলন করে যা মানবজাতির রূপান্তরের অশান্ত বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। একটি সম্পূর্ণ কাঠামোর পরস্পর নির্ভর অঙ্গরূপে কাজ করতে অনিচ্ছুক, তারা ক্ষমতার লড়াইয়ে আবদ্ধ যা পরিণামে নিষ্ফল প্রমাণিত হয়। সেই সমাজটি কত ভিন্নতর যা আব্দুল-বাহা, অগণিত ফলকলিপি ও বক্তৃতাগুলিতে, বর্ণনা করেছেন - যেখানে প্রাত্যহিক মিথস্ক্রিয়াগুলি, একইভাবে মতামতগুলির সম্পর্ক, মানবজাতির একতার সচেতনতা দ্বারা গঠিত। এই সচেতনতার দ্বারা অনুপ্রাণিত সম্পর্কগুলি বাহা’ইগণ এবং তাদের বন্ধুদের দ্বারা বিশ্বব্যাপী পরিমার্জিত হচ্ছে; তাদের মধ্য থেকে পারস্পরিক মত বিনিময় এবং সহযোগিতার, মতৈক্য ও ভালোবাসার বিশুদ্ধ সুবাস খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। এইরূপ বিনয়ী পারিপার্শি¦কতাগুলিতে, সমাজের পরিচিত বিবাদের প্রতি একটি দৃশ্যমান বিকল্প আত্মপ্রকাশ করছে। সুতরাং ইহা স্পষ্টতঃ প্রতীয়মান হয় যে একজন ব্যক্তি যিনি সাধারণের মঙ্গলের প্রতি নিবেদিত পরামর্শে দায়িত্বশীলভাবে আত্ম-অভিব্যক্তি ও চিন্তাশীলভাবে অংশগ্রহণের অনুশীলন করতে ইচ্ছা করেন এবং নিজস্ব মতের উপর পীড়াপীড়ি করার প্রলোভন অবজ্ঞাভরে প্রত্যাখ্যান করেন; একটি বাহা’ই প্রতিষ্ঠান, যা ফলপ্রসূ সমাপ্তিগুলির দিকে প্রবাহিত হতে সমন্বিত হওয়ার প্রয়োজন সঠিকভাবে মূল্যায়ণ করে, নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে নয় বরং প্রতিপালন ও উৎসাহিত করার জন্য; একটি সমাজ যাকে নিজ উন্নয়নের দায়িত্ব নিতে হবে প্রতিষ্ঠানগুলি কর্তৃক উদ্ভাবিত পরিকল্পনাগুলিতে সর্বান্তঃকরণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রদত্ত একতায় এক অমূল্য সম্পদ চিনতে পারে। বাহা’উল্লাহ্র প্রত্যাদেশের প্রভাবে, এই তিনের মধ্যে সম্পর্কগুলি নতুন আন্তরিকতার অধিকারী হচ্ছে, নতুন জীবন; সমষ্টিগতভাবে, উহারা একটি মাতৃগর্ভ গঠন করে যার মধ্যে একটি বিশ্ব আধ্যাত্মিক সভ্যতা, ঐশ্বরিক অনুপ্রেরণার চিহ্ন বহন করে, ক্রমে ক্রমে পূর্ণতা প্রাপ্ত হচ্ছে।
প্রত্যাদেশের আলো প্রচেষ্টার প্রতিটি ক্ষেত্র আলোকিত করার জন্য পূর্বনির্ধারিত; প্রত্যেকের মধ্যে, সম্পর্কগুলি যা সমাজকে শক্তি জোগায় সেগুলি নতুন করে ছাঁচে ফেলতে হবে; মানুষের পরস্পরের প্রতি কেমন হওয়া উচিত, প্রত্যেকের মধ্যে বিশ্ব সেই উদাহরণগুলি খোঁজ করে। মানবজাতির অর্থনৈতিক জীবন আমরা আপনাদের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করছি, ইহার উত্তেজনা সৃষ্টিকারী চিত্তাকর্ষক অংশের প্রদর্শনী, সম্প্রতি যাতে এত অধিক সংখ্যক লোক জড়িয়ে পড়েছে, যেখানে অন্যায়কে উদাসীনতার সাথে সহ্য করা হয় এবং অনুপাতহীন অর্জনকে সাফল্যের প্রতীকরূপে গণ্য করা হয়। এইরূপ ক্ষতিকর মনোভাবগুলি এত গভীরভাবে বিদ্যমান যে ইহা অনুমান করা কঠিন কেমন করে কোন ব্যক্তি একা এই প্রচলিত মানদ-গুলি পরিবর্তন করতে পারে যা দ্বারা এই কর্মক্ষেত্রের সম্পর্কগুলি পরিচালিত। তথাপি, নিশ্চিতভাবে এইরূপ আচরণগুলি রয়েছে যা একজন বাহা’ই বর্জন করবে, যেমন কারো লেনদেনে অসাধুতা বা অন্যের অর্থে নিজ স্বার্থসাধন। একজন বাহা’ই হিসেবে ঐশ্বরিক উপদেশাবলীর প্রতি বিশ্বস্ত সংলগ্নতা কারো অর্থনৈতিক আচরণ এবং কারো বিশ্বাসগুলির মধ্যে কোন অসঙ্গতি না থাকার দাবি করে। ধর্মের ঐ সকল নীতি যেগুলি পক্ষপাতহীন ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে সম্পৃক্ত সেগুলি কারো জীবনে প্রয়োগের দ্বারা একটি মাত্র আত্মা একটি মানদ-কে অনুচ্চ দ্বারপ্রান্ত থেকে বহু উর্দ্ধে তুলে ধরতে পারে যার দ্বারা বিশ্ব নিজেকে পরিমাপ করে। জীবনের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ পাওয়ার জন্য মানবজাতি পরিশ্রান্ত, যার প্রতি উচ্চাকাঙ্খা-তাড়িত হওয়া যেতে পারে; আমরা সেই সমাজগুলি প্রতিপালন করার জন্য আপনাদের প্রতি তাকিয়ে আছি যার চাল-চলন বিশ্বকে আশা দেবে।
আমাদের রিজওয়ান বার্তা ২০০১-এ আমরা উল্লেখ করেছিলাম যে দেশগুলি, যেখানে দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়া পর্যাপ্তভাবে অত্যন্ত অগ্রসরমান এবং জাতীয় সমাজগুলির অবস্থা সুবিধাজনক, আমরা জাতীয় পর্যায়ে উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা করার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করব, যার আবির্ভাব ধর্মের সাংগঠনিক যুগের পঞ্চম বৈশিষ্ট্যসূচক সময়ের একটি লক্ষ্যণীয় বিষয়ে পরিণত হবে। অত্যধিক আনন্দ সহকারে এখন আমরা ঘোষণা করছি যে, দুইটি দেশে জাতীয় মাশরিকূল আযকার গড়ে তুলতে হবে; গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো এবং পাপুয়া নিউ গিণি। এইগুলিতে, আমরা যে মানদ-গুলি স্থির করেছিলাম সেগুলি প্রতিপাদনীয়রূপে পূরণ হয়েছে, এবং বর্তমান পরিকল্পনাগুলির ক্রম দ্বারা সৃষ্ট সম্ভাবনাগুলির প্রতি তাদের জনগণের সাড়া কোন দিক দিয়ে কম লক্ষ্যণীয় নয়। সান্তিয়াগোতে নির্মিয়মান মহাদেশীয় উপাসনালয়গুলির শেষটির নির্মাণের মাধ্যমে জাতীয় উপাসনালয়গুলি নির্মাণের প্রকল্পগুলির উদ্যোগ সমাজের মাটিতে ঈশ্বরের ধর্ম প্রবেশের আর একটি সন্তোষজনক সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রদান করে।
আরও একটি পদক্ষেপ সম্ভব। মাশরিকুল আযকার, আব্দুল-বাহা কর্তৃক “বিশ্বের সর্বাধিক অপরিহার্য প্রতিষ্ঠানগুলির একটি রূপে বর্ণিত হয়েছে, যা বাহা’ই জীবনের দুইটি অত্যাবশ্যক, অবিচ্ছেদ্য দিক: উপাসনা এবং সেবাদানকে একত্রিত করে । এই দুইটির একীকরণ সঙ্গতিপূর্ণতাও প্রতিফলিত হচ্ছে যা পরিকল্পনার সমাজ-গঠন বৈশিষ্ট্যগুলিতেও বিদ্যমান থাকে, বিশেষভাবে একটি ভক্তিমূলক চেতনার অঙ্কুরিত হওয়া যা প্রার্থনার জন্য সমাবেশগুলিতে অভিব্যক্তি খুঁজে পায় এবং একটি শিক্ষামূলক প্রক্রিয়া যা মানবজাতির সেবা করার জন্য সামর্থ্য গড়ে তোলে। উপাসনা এবং সেবার এই পারস্পরিক সম্পর্কে বিশ্বের ঐ সকল ক্লাস্টারে বিশেষভাবে জোর দেয়া হয়েছে যেখানে বাহা’ই সমাজগুলি আকার ও প্রাণশক্তিতে গুরুত্বপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং সামাজিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত হওয়া স্পষ্টতঃ প্রতীয়মান। এইগুলির কয়েকটিকে শেখার স্থানরূপে চিহ্নিত করা হয়েছে যেন সহযোগী অঞ্চলগুলিতে জুনিয়র ইয়োথ কার্যক্রমের উন্নয়নে বন্ধুদের সামর্থ্য পরিপুষ্ট করা যায়। এই কার্যক্রম টেকসই করার সামর্থ্য, সম্প্রতি আমরা যেরূপ উল্লেখ করেছি, অধ্যয়ন চক্রগুলি এবং শিশুদের ক্লাসগুলির উন্নয়নেও ইন্ধন সরবরাহ করে। এভাবে, ইহার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছাড়িয়ে, শেখার স্থানগুলি প্রসারণ ও দৃঢ়করণের সমগ্র পরিকল্পকে সুরক্ষিত করে। আগামী বছরগুলিতে, এই ক্লাস্টারগুলির মধ্যে একটি স্থানীয় মাশরিকুল আযকারের আবির্ভাব প্রত্যাশা করা যেতে পারে। প্রাচীন সৌন্দর্যের প্রতি কৃতজ্ঞতায় আমাদের হৃদয়গুলি উচ্ছলিতপ্রায়, আমরা আনন্দের সাথে আপনাদিগকে অবগত করছি যে, নিম্নলিখিত ক্লাস্টারগুলির প্রত্যেকটিতে প্রথম স্থানীয় উপাসনালয় নির্মাণের বিষয়ে উহাদের নিজ নিজ জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদের সাথে পরামর্শ শুরু করতে যাচ্ছি: বাট্টামবাং, কম্বোডিয়া; বিহার শরীফ, ভারত; মাটুন্ডা সয়, কেনিয়া; নর্টে ডেল ককা, কলম্বিয়া; এবং তান্না, ভানুয়াতু।
দুইটি জাতীয় এবং পাঁচটি স্থানীয় মাশরিকুল-আযকারের নির্মাণে সাহায্য করার জন্য, আমরা বাহা’ই বিশ্ব কেন্দ্রে এইরূপ সকল প্রকল্পের উপকারার্থে একটি উপাসনালয় অর্থভা-ার প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি । সকল স্থানের বন্ধুগণ, তাদের সাধ্যমত ত্যাগের সাথে ইহাতে দান করার জন্য আমন্ত্রিত।
প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ: একশত বছর পূর্বে আব্দুল-বাহা’র হাত দিয়ে যে মাটি খোঁড়া হয়েছিল তা পুনরায় আরও সাতটি দেশে খুঁড়তে হবে, ইহা অবশ্য সেই দিবসের প্রতি উপক্রমণিকাস্বরূপ হতে যাচ্ছে যখন প্রতিটি শহর ও গ্রামের অভ্যন্তরে, বাহা’উল্লাহ্র আদেশের প্রতি আজ্ঞানুবর্তিতায়, পরম প্রভূর উপাসনার জন্য একটি করে অট্টালিকা নির্মিত হবে। ঈশ্বরের স্মরণের এই সকল প্রভাত-স্থল হতে তাঁর আলোর রশ্মিগুলি প্রতিফলিত হবে এবং তাঁর প্রশংসার সঙ্গীতগুলি ধ্বনিত হবে।
“ঈশ্বরের গ্রন্থটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রহিয়াছে, এবং তাঁহার বাণী মানবজাতিকে তাঁহার প্রতি একত্রিত হতে আহ্বান করিতেছে। সর্বোচ্চের লেখনী একত্রিত ও মিলিত হওয়ার দিবসটির আগমন এইরূপ উৎফুল্লজনক শব্দাবলীতে বর্ণনা করিতেছে।” বাহা’উল্লাহ্ আরও বলেন: “তোমাদের কর্ণগুলি আনত কর, হে ঈশ্বরের বন্ধুগণ, তাঁহার কন্ঠনিঃসৃত ধ্বনির প্রতি যাহাকে পৃথিবীর জনগণ নির্যাতন করিয়াছে, এবং উহার প্রতি দৃঢ়সংলগ্ন থাক যাহা কিছু তাঁহার ধর্মকে উচ্চ-প্রশংসিত করিবে।” তিনি তাঁর অনুসারীগণকে আরও উপদেশ দিয়াছেন: “পরম বন্ধুভাবাপন্নতা সহকারে এবং একটি পরিপূর্ণ সাহচর্যের চেতনায় তোমরা একে অপরের সাথে পরামর্শ করো, এবং তোমাদের জীবনের মূল্যবান দিবসসমূহ পৃথিবীর উন্নতিসাধনে এবং তাঁহার ধর্মের বিস্তারে উৎসর্গিত করো যিনি প্রাচীন এবং সকলের সার্বভৌম পরম প্রভু।”
প্রিয় সহকর্মীগণ: এই জাগ্রতকারী ঘোষণা আমাদের মনে অনাহূত হয়ে দেখা দেয় যখন আমরা বিশ্বজুড়ে বাহা’উল্লাহ্ র আহ্বানের প্রতি সাড়া দিতে আপনাদের উৎসর্গিত প্রচেষ্টাগুলি অবলোকন করি। সকল প্রান্তে তাঁর আহ্বানগুলির প্রতি অত্যন্ত সন্তোষজনক সাড়াদান প্রত্যক্ষ করা যেতে পারে তাদের জন্য, যারা ঐশী পরিকল্পনার উন্মোচনের উপর একটু থেমে প্রতিফলন করে, তাদের নিকট ইহা উপেক্ষা করা অসম্ভব হয় যে ঈশ্বরের বাণীতে বিদ্যমান শক্তি কিভাবে দেশের পর দেশে, ক্লাস্টারের পর ক্লাস্টারে, নারী ও পুরুষ, শিশু ও যুবদের হৃদয়গুলিকে ক্রমবর্ধমানভাবে শক্তিশালী ও প্রভাবিত করছে।
একটি বিশ্বব্যাপী সমাজ ইহার অব্যবহিত বাস্তবতা পড়ার সামর্থ্য পরিশুদ্ধ করছে, ইহার সম্ভাবনাগুলি বিশ্লেষণ করছে, এবং পাঁচসালা পরিকল্পনার পদ্ধতিগুলি এবং কর্মসাধনযন্ত্রগুলি বিচক্ষণতার সাথে প্রয়োগ করছে। যেরূপ প্রত্যাশিত হয়েছিল, সেই ক্লাস্টারগুলিতে সর্বাধিক দ্রুততার সাথে অভিজ্ঞতা পুঞ্জীভূত হচ্ছে যেখানে, শেখার সীমারেখাগুলি সচেতনভাবে উন্নত করা হচ্ছে। এইরূপ স্থানগুলিতে, একটি চির-বর্ধনশীল সংখ্যক ব্যক্তিবর্গকে সেবার জন্য তাদের সামর্থ্যগুলি শক্তিশালী করতে সক্ষম করার উপায়গুলি ভালোভাবে উপলব্ধি লাভ করেছে। পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে সমাজের প্রচেষ্টাগুলির প্রধান অবলম্বনরূপে একটি স্পন্দমান প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট কাজ করছে এবং, যত দ্রুত সম্ভব, ইন্সটিটিউট কোর্সগুলিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দক্ষতা ও সামর্থ্যগুলি কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত করা হচ্ছে। কেহ কেহ, তাদের প্রাত্যহিক সামাজিক মিথস্ক্রিয়াগুলির মাধ্যমে, সেই আত্মাগুলির সম্মুখীন হয়ে থাকেন যারা একটি বৈচিত্রময় বিন্যাসে সম্পাদিত আধ্যাত্মিক বিষয়গুলির তথ্যানুসন্ধান করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন; কেহ কেহ একটি গ্রাম বা মহল্লায় হতে পারে সেই এলাকায় স্থানান্তরিত হওয়ার দ্বারা গ্রহণশীলতার প্রতি সাড়াদান করার অবস্থানে রয়েছেন। দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে বর্ধিত সংখ্যায় উত্থিত হচ্ছেন, তাদের বিন্যাসগুলি স্ফীত হচ্ছে যারা টিউটর, এনিমেটর, এবং শিশুদের ক্লাসগুলিতে সেবা দিচ্ছেন; যারা পরিচালনা ও সমন্বয় করেন বা অন্যথায় যারা কাজটির সমর্থনে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। শেখার জন্য বন্ধুদের গৃহীত দায়িত্ব তাদের নিজেদের প্রচেষ্টাগুলিতে দৃঢ়চিত্ততা এবং অন্যদেরকে তাদেরগুলিতে সহগামী হতে স্বেচ্ছাপ্র্রণোদিত হওয়ার মাধ্যমে একটি অভিব্যক্তি খুঁজে পায়। এ ছাড়াও, তারা ক্লাস্টারটিতে গড়ে ওঠা কর্মের উৎকৃষ্ট উদাহরণের উপর দুইটি পরস্পর সহায়ক দৃশ্যপট দৃষ্টির মধ্যে রাখতে সক্ষম হয়ে থাকেন: এক, কার্যক্রমের ত্রৈ-মাসিক চক্রগুলি - এবং অপরটি, শিশুদের জন্য, কিশোরদের জন্য, এবং যুব ও বয়ষ্কদের শিক্ষার একটি প্রক্রিয়ার স্পষ্ট উন্নতির মাত্রাগুলি। এই তিনটি পর্যায়কে যা সংযুক্ত করে সেই সম্পর্কটি স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করার সময়, বন্ধুগণ সচেতন থাকেন যেন এগুলির প্রত্যেকটির নিজস্ব গতিশক্তি, ইহাদের নিজস্ব প্রয়োজনীয়তাগুলি, এবং ইহাদের নিজস্ব সহজাত গুণ থাকে। সর্বোপরি, তারা শক্তিশালী আধ্যাত্মিক বাহিনীগুলির ক্রিয়ায় সচেতন, যাদের ক্রিয়াগুলি সংখ্যাবাচক তথ্যে ততটা-ই দেখা যেতে পারে যতটা হিসাবের বিন্যাসে সমাজের অগ্রগতিতে প্রতিফলিত হয় যা ইহার সাফল্যের বর্ণনা দেয়। যা বিশেষভাবে প্রতিশ্রুতিপূর্ণ তা হচ্ছে সুদুরতম অগ্রগতি অর্জনকারী ক্লাস্টারসমূহে স্বাতন্ত্রসূচক এবং লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্যগুলির অধিকতর সংখ্যা সেই সমাজগুলিতেও দৃশ্যমান যারা তাদের অগ্রগতির অতি প্রারম্ভিক পর্যায়ে রয়েছে।
বন্ধুদের অভিজ্ঞতা গভীরতর হওয়ার সাথে সাথে, একটি ক্লাস্টারের মধ্যে জীবনের একটি সমৃদ্ধ ও জটিল উৎকৃষ্ট উদাহরণ প্রতিপালন করতে, শত শত এমনকি হাজার হাজার ব্যক্তিবর্গকে অন্তর্ভূক্ত করতে তাদের সামর্থ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বাসীগণ তাদের প্রচেষ্টাগুলি থেকে যে অগণিত অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করছেন তা প্রত্যক্ষ করতে পেরে আমরা কত যে আনন্দিত। দৃষ্টান্তস্বরূপ, তারা উপলব্ধি করেন যে ক্লাস্টার পর্যায়ে পরিকল্পনার ক্রমে ক্রমে উন্মোচন একটি গতিময় প্রক্রিয়া, যা অপরিহার্যভাবে জটিল এবং যা ইহাকে তাৎক্ষণিক সরলীকরণ করতে দেয় না। মানবসম্পদগুলির বৃদ্ধি করা এবং যারা উত্থিত হন তাদের ক্রিয়াগুলি সমন্বিত ও ভালোভাবে পরিচালিত করা উভয়ে তারা যখন তাদের সামর্থ্য বৃদ্ধি করেন তখন কিভাবে ইহা এগিয়ে যায় তা তারা দেখতে পান। বন্ধুগণ উপলব্ধি করেন যে সামর্থ্যগুলি বৃদ্ধির সাথে সাথে আরও বি¯তৃত সংখ্যক উদ্যোগগুলি অঙ্গীভূত করা সম্ভব হয়। সমানভাবে, তারা বুঝতে পেরেছেন যে যখন একটি নতুন কার্যক্রম শুরু করা হয় তখন কিছু সময়ের জন্য বিশেষ মনোযোগের প্রয়োজন হয়, কিন্তু তা কোনভাবেই তাদের সমাজ গড়ার প্রচেষ্টার দিকগুলির গুরুত্বকে হ্্রাস করে না। কারণ তারা উপলব্ধি করেন যে যদি শেখাই তাদের কর্মসাধন প্রণালী হতে হয়, তাহলে তাদেরকে অবশ্যই পরিকল্পনার একটি কর্মসাধন যন্ত্র কর্তৃক প্রদত্ত সম্ভাবনার প্রতি সচেতন থাকতে হবে যা নির্দিষ্ট কোন এক সময়ে, যেখানে প্রয়োজন হবে, ইহার উন্নয়ণে বৃহত্তর শক্তি বিনিয়োগ করা বিশেষভাবে উপযুক্ত প্রমাণিত হবে; তা সত্ত্বেও, ইহা সমর্থন করে না যে প্রত্যেক ব্যক্তিকে অবশ্যই পরিকল্পনার একই দিক নিয়ে নিয়োজিত থাকতে হবে। বন্ধুগণ আরও শিখেছেন যে বৃদ্ধির একটি কার্যক্রমের প্রতিটি কালচক্রের প্রসারণ পর্যায়ের প্রধান মনোযোগটি একই দিকে হওয়া অপরিহার্য নয় কোন একটি কালচক্রে এমন অবস্থার প্রয়োজন হতে পারে, উদাহরণস্বরূপ, যেখানে ব্যক্তি বা সম্মিলিতভাবে গৃহীত, নিবিড় শিক্ষাদান প্রচেষ্টাগুলির মাধ্যমে ধর্ম গ্রহণের জন্য আত্মাগুলিকে আমন্ত্রণ করা, প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে, অপর একটি কালচক্রে, মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু একটি নির্দিষ্ট মূলকর্মকাণ্ডের সংখ্যাবৃদ্ধি হতে পারে।
এ ছাড়াও, বন্ধুগণ সচেতন রয়েছেন যে ধর্ম বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন গতিতে এগিয়ে যায় এবং কারণ এই যে, - ইহা, সর্বোপরি, একটি জৈবিক সত্তা - এবং অগ্রগতির প্রতিটি দৃষ্টান্ত যা তারা দেখতে পান তা থেকে তারা আনন্দ ও উৎসাহ লাভ করেন। বাস্তবিক-ই, তারা সুফলটি স্বীকার করেন যা সামগ্রিক অগ্রগতির প্রতি প্রত্যেক ব্যক্তির অংশগ্রহণ থেকে আসে, এবং এভাবে প্রত্যেকের দ্বারা প্রদত্ত সেবায়, একজনের পরিস্থিতিগুলির দ্বারা সৃষ্ট সম্ভাবনাগুলির সাথে সঙ্গতিপূর্ণতা, সকলের দ্বারা স্বাগত হয়। প্রতিফলনের জন্য সমাবেশগুলিকে উত্তোরোত্তরভাবে উপলক্ষগুলি হিসেবে দেখা হয় যেখানে সমাজের কর্মকাণ্ডগুলি, উহাদের সামগ্রিকতায়, ঐকান্তিক এবং প্রেরণদায়ক পরামর্শের বিষয় হয়ে থাকে। সার্বিকভাবে যা সুসম্পন্ন হয়েছে তা অংশগ্রহণকারীগণ শিখতে পারেন, সেই আলোকে তারা নিজেদের শ্রমগুলি বুঝতে পারেন, প্রতিষ্ঠানগুলির উপদেশসমূহ আত্মীভূত করা এবং তাদের সহ-বিশ্বাসীদের অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করার দ্বারা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া সম্বন্ধে তাদের জ্ঞান বাড়াতে পারেন। এইরূপ অভিজ্ঞতা আরও অনেক ক্ষেত্রে বিনিময় করা হয় যা সুনির্দিষ্টি প্রচেষ্টাগুলিতে প্রগাঢ়ভাবে নিয়োজিত বন্ধুগণের মধ্যে পরামর্শের জন্য বেরিয়ে আসে, হতে পারে তারা একটি সাধারণ কর্মতালিকার পশ্চাদ্ধাবন করছেন অথবা ক্লাস্টারের একটি নির্দিষ্ট অংশে সেবাদান করছেন। এই সকল অন্তর্দৃষ্টিগুলি একটি প্রশস্ততর উপলব্ধিতে রয়েছে যে ভালোবাসা দ্বারা অনুপ্রাণীত একটি পরিবেশে অগ্রগতি সর্বাধিক সহজভাবে অর্জিত হয় Ñ যেখানে দোষ-ত্রুটিগুলি ধৈর্যের সাথে উপেক্ষা করা হয়, বাধাগুলি সহিষ্ণুতার সাথে অতিক্রম করা হয়, এবং পরীক্ষিত কর্মসাধন উপায়গুলি প্রবল উৎসাহের সাথে গ্রহণ করা হয়। এবং ইহা এইরূপ যে, প্রতি স্তরে ক্রিয়াশীল ধর্মের প্রতিষ্ঠানগুলি এবং অঙ্গ-সংগঠনগুলির বিজ্ঞ দিক-নির্দেশনার মাধ্যমে, বন্ধুগণের প্রচেষ্টাগুলি, আলাদা আলাদাভাবে যতই সংযত হোক না কেন, একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মিলিত হওয়া নিশ্চিত করতে হবে যেন আশীষপূতঃ সৌন্দর্যের আহ্বানের প্রতি গ্রহণোন্মুখতা দ্রুত চিহ্নিত করা যায় এবং ফলপ্রসূভাবে প্রতিপালন করা যায়। এই অবস্থায় একটি ক্লাস্টার সুস্পষ্টভাবে সেই-টি যেখানে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানগুলি, এবং সমাজ -- পরিকল্পনার তিন মুখ্যচরিত্র -- সুস্থভাবে বিকশিত হচ্ছে।
সমৃদ্ধশীল কর্মকাণ্ডের এই প্রাকৃতিক ভূ-দৃশ্য থেকে, একটি সম্ভাবনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিন বছর পূর্বে আপনাদের প্রতি দেয়া বার্তায়, আমরা আশা প্রকাশ করেছিলাম যে, ক্লাস্টারগুলিতে যেখানে বৃদ্ধির নিবিড় কার্যক্রম চলছে, সেখানে বন্ধুগণ মহল্লা ও গ্রামগুলিতে প্রগাঢ় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র গড়ে তোলার দ্বারা উপায়গুলি সম্বন্ধে আরও শিখতে প্রচেষ্টা চালাবেন। আমাদের আশাগুলি অতিক্রম করেছে, কারণ এমনকি ক্লাস্টারগুলিতে যেখানে বৃদ্ধির কর্মকাণ্ডগুলি এখনো তীব্রতা অর্জন করে নাই, সেখানেও ক্ষুদ্র এলাকাগুলির অধিবাসীদের মধ্য থেকে কয়েকজনের কর্তৃক হাতে নেয়া মূল কর্মকাণ্ডগুলির প্রচেষ্টাগুলি বার বার তাদের ফলপ্রসূতা প্রদর্শন করেছে। মূলতঃ, এই কর্মসাধন উপায় জনগণের একটি অংশের উপর বাহা’উল্লাহর শিক্ষাগুলির প্রতি সাড়াদানের উপর কেন্দ্রীভূত, যারা তাঁর প্রত্যাদেশ লালিত আধ্যাত্মিক রূপান্তরের জন্য প্রস্তুত। প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট কর্তৃক সংবর্ধিত শিক্ষামূলক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে, তারা সমাজের বাহিনীগুলি কর্তৃক প্রোথিত অসাড় অবস্থা ও উদাসীনতা প্রত্যাখ্যান করতে প্রণোদিত এবং তদস্থলে, সেই কর্মকাণ্ডের উৎকৃষ্ট উদাহরণের পশ্চাদ্ধাবন করেন যা জীবন পরিবর্তনকারী রূপে প্রমাণিত হয়েছে। যেখানে এই কর্মপন্থা একটি মহল্লা বা গ্রামে কয়েক বছর যাবত অগ্রসর হয়েছে এবং বন্ধুগণ তাদের মনোনিবেশ ধরে রেখেছেন, সেখানে লক্ষ্যণীয় ফলাফল ধীরে ধীরে কিন্তু অভ্রান্তভাবে সুস্পষ্ট হচ্ছে। যুবগণ তাদের চারপাশের তাদের থেকে কমবয়েসী যারা রয়েছে তাদের উন্নয়ণের দায়িত্ব নেয়ার জন্য ক্ষমতা অর্জন করেছেন। সমগ্র সমাজের বিষয়াবলী সম্বন্ধে অর্থপূর্ণ আলোচনাগুলিতে যুবদের অবদানকে তাদের থেকে বয়ষ্ক প্রজন্ম স্বাগত জানিয়ে থাকেন। যুব ও বৃদ্ধ নির্বিশেষে সকলের জন্য, সমাজটির শিক্ষামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিমার্জিত শৃঙ্খলা পরামর্শের জন্য সামর্থ্য গড়ে তোলে, এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ কথোপকথনের জন্য নতুন স্থানগুলির আবির্ভাব ঘটে। তৎসত্ত্বেও, পরিবর্তন শুধু বাহা’ইগণ এবং তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় পরিকল্পনা কর্তৃক যাদেরকে মূল কর্মকাণ্ডগুলিতে সম্পৃক্ত হতে আহ্বান করা হয়েছে, তারা একটি সময়ের পরে যুক্তিসঙ্গতভাবে চিন্তার নতুন পথগুলি অবলম্বন করবেন বলে প্রত্যাশা করা যায়। স্থানটির চেতনা স্বয়ং প্রভাবিত হবে। একটি ব্যাপক বি¯তৃত জনগণের মধ্যে একটি আধ্যাত্মিক মনোভাব গড়ে ওঠে। নারী ও পুরুষের সমতার অভিব্যক্তিগুলি আরও অধিক উচ্চারিত হয়। শিশুদের শিক্ষা, ছেলে ও মেয়ে উভয়ের প্রতি, বৃহত্তর মনোযোগ দাবী করে। পরিবারগুলির মধ্যে সম্পর্কগুলির বৈশিষ্ট্য -- যা শত শত বছরের পুরোনো পূর্ব-ধারণা দ্বারা প্রভাবিত -- প্রত্যক্ষভাবে পরিবর্তিত হয়। কারো ঘনিষ্ঠ সমাজ এবং বাস্তব পরিবেশের প্রতি একটি কর্তব্যবোধ ব্যাপকতা লাভ করে। এমনকি পূর্ব-সংস্কারের চাবুক, যা ইহার অশুভ ছায়া প্রতিটি সমাজের উপর ফেলে, তা একতার বাধ্যকারী শক্তির প্রতি অবনত হতে শুরু করে। সংক্ষেপে, সমাজ গড়ার কাজ যার মধ্যে বন্ধুগণ নিয়োজিত রয়েছেন তা সংস্কৃতির দিকগুলিকে প্রভাবিত করে।
বিগত বছরটিতে যখন প্রসারণ ও দৃঢ়িকরণ নিয়মিতভাবে এগিয়ে গেছে, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের কাজগুলিও অগ্রবর্তী হয়েছে, অধিকাংশ সময়ে প্রায় সমান্তরালভাবে। একটি প্রধান উদাহরণস্বরূপ, কিছু সংখ্যক গ্রামে ও মহল্লায় সংস্কৃতির স্তরে যে অগ্রগতিগুলি পরিলক্ষিত হয়েছে তা সামাজিক কর্মকাণ্ডে বাহা’ই সম্পৃক্ততা থেকে যতটুকু জানা গেছে তা কোন ক্ষুদ্র অংশ নয়। সম্প্রতি আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ণের কার্যালয় একটি প্রামান্য দলিল প্রস্তুত করেছে যা বিশ্ব বাহা’ই কেন্দ্রে কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ক্ষেত্রে ইহার ত্রিশ বছরের অভিজ্ঞতাকে শোধন করে। যে পর্যবেক্ষণগুলি ইহা করেছে তন্মধ্যে রয়েছে সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হওয়ার প্রচেষ্টাগুলি যা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট দ্বারা অত্যাবশকীয় চালিকাশক্তি লাভ করেছে। এটা কেবল ইহার মানবসম্পদসমূহের বৃদ্ধি ধরে রাখার মাধ্যমে হয় নাই। আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টিগুলি, গুণাবলী, এবং সামর্থ্যগুলি যেগুলি ইন্সটিটিউট প্রক্রিয়া দ্বারা বিকশিত করা হয়েছে সেগুলি সমাজে অংশগ্রহণের জন্য এতটা-ই গুরুত্বপূর্ণ যতটা সেগুলি বৃদ্ধির প্রক্রিয়ার প্রতি অবদান রাখে। এ ছাড়াও, বর্ণনা করা হয়েছে কিভাবে বাহা’ই সমাজের সহজে দৃষ্ট প্রচেষ্টার ক্ষেত্রগুলি একটি সাধারণ, বিবর্তনশীল, পারস্পরিকভাবে সুদৃঢ়করণের উপাদান নিয়ে গঠিত ধারণাকৃত কর্মকাঠামো দ্বারা পরিচালিত হয়। আমাদের বর্ণিত দলিলটি পরবর্তীকালে জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদগুলির সাথে আলোচিত হয়েছে, এবং আমরা তাদেরকে, উপদেষ্টাগণের সাথে পরামর্শক্রমে, বিবেচনা করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছি যে, ইহা যে সকল ধারণা অনুসন্ধান করেছে তা কিভাবে তাদের পৃষ্ঠপোষকতার আওতায় পশ্চাদ্ধাবনকারী সামাজিক কর্মের প্রচেষ্টাগুলির শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করতে পারে এবং বাহা’ই প্রচেষ্টার এই গুরুত্বপূর্ণ পরিসরে সচেতনতা জাগ্রত করতে পারে। এই ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রসারিত কর্মকাণ্ডের জন্য একটি গণ আহ্বান হিসাবে ইহার ব্যাখ্যা করা যাবে না - সামাজিক কর্মের আবির্ভাব প্রাকৃতিকভাবে হয়ে থাকে - কিন্তু ইহা সময়োপযোগী যে বন্ধুগণ সমাজের রূপান্তরের জন্য তাদের প্রচেষ্টাগুলির নিহিতার্থের উপর আরও গভীরভাবে প্রতিফলন করেন। শেখার তরঙ্গোচ্ছাস যা এই ক্ষেত্রে ঘটছে তা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ণের কার্যালয়ের উপর বর্ধিত দাবী রাখছে, এবং এটা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে যেন ইহার কর্ম সম্পাদন যথোপযুক্তভাবে বিকশিত হয়।
বিগত বারো মাসে একটি বিশেষ লক্ষণীয় দিক ছিল তা হচ্ছে যেভাবে বাহা’ই সমাজকে ঘন ঘন শনাক্ত করা হচ্ছিল, একটি ব্যাপক বি¯তৃত প্রসঙ্গগুলিতে, সমমনা লোকদের সাথে সহযোগীতায় সমাজের কল্যাণ বয়ে আনার প্রচেষ্টাগুলির দ্বারা। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে গ্রামীন জীবনের তৃণমূল পর্যন্ত, সকল প্রকার বিন্যাসের চিন্তাশীল নেতৃবৃন্দ তাদের সচেতনতা প্রকাশ করেছেন যে বাহা’ইগণ তাদের হৃদয়ে কেবল মানবজাতির কল্যাণ-ই রাখেন না, বরং যা সম্পাদন করতে হবে এবং তাদের উচ্চাকাঙ্খাগুলি বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উপায়গুলির একটি জোরালো ধারণার অধিকারী। এই সকল মূল্যায়ন এবং সমর্থনের অভিব্যক্তিগুলি ইতিপূর্বে অপ্রত্যাশিত কিছু স্থান থেকেও এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, যেমনটি ধর্মের সূতিকাগারে, তাদের পথে অত্যাচারী শাসক কর্তৃক ভয়ানক প্রতিবন্ধকতাগুলি স্থাপন করা সত্ত্বেও, বাহা’ইগণতাদের বার্তায় তাদের জাতির অবস্থার জন্য গভীর নিহিতার্থগুলি থাকায় উত্তোরোত্তর ক্রমবর্ধমাণভাবে স্বীকৃত হয়েছেন এবং তাদের দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখতে অনমনীয় দৃঢ়সংকল্পের জন্য সম্মান পেয়েছেন।
ইরানে বিশ্বাসীগণ কর্তৃক সহ্য করা দুঃখকষ্ট, বিশেষভাবে দশকগুলিতে যখন থেকে ধর্মীয় কারণে শাস্তি প্রদানের অতি সাম্প্রতিক প্রবাহের সূচনা থেকে, অন্যান্য দেশে তাদের ভ্রাতা ও ভগিণীগণ তাদের প্রতিরক্ষায় দ্রুতবেগে এগিয়ে এসেছেন। অমূল্য সম্পদের মধ্য থেকে সেই সহিষ্ণুতার একটি ফলাফল স্বরূপ, বিশ্বব্যাপী বাহা’ই সমাজ যা অর্জন করেছে, আমরা এই সম্পর্কিত একটির উল্লেখ করছি: জাতীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত অঙ্গসংগঠনগুলির একটি হৃদয়গ্রাহী নেটওয়ার্ক যা সরকারসমূহ ও সাধারণ সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে সম্পর্কগুলি পদ্ধতিগতভাবে গড়ে তোলার সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছে। সমান্তরালভাবে, আনুক্রমিক পরিকল্পনার প্রক্রিয়াগুলি প্রতিটি ক্ষেত্রে চলমান প্রচলিত ধর্মোপদেশগুলি ÑÑ ব্যক্তিগত কথোপকথন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সর্বসাধারণের আলোচনা মঞ্চে -- যেখানেই হোক তাহাতে অংশগ্রহণে সমাজের সামর্থ্য পরিশুদ্ধ করেছে। তৃণমূল পর্যায়ে, এই প্রকার প্রচেষ্টায় সম্পৃক্ততা স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠে, একই জৈবিক কর্মসাধন উপায় যা সামাজিক কর্মে বন্ধুগণের নিয়োজিত হওয়া নিয়মিত বৃদ্ধিকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে, এবং ইহাকে উদ্দীপিত করতে কোন বিশেষ চেষ্টার প্রয়োজন নাই। জাতীয় পর্যায়ে, যদিও, ইহা প্রায়ই মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে কারণ এই একই নিবেদিত অঙ্গসংগঠনগুলি বেশ কিছূ জাতীয় সমাজে ইতিমধ্যে কর্মরত রয়েছে, এবং ইহা কর্মকাণ্ডের সুপরিচিত ও ফলপ্রসূ উৎকৃষ্ট উদাহরণগুলি প্রতিফলন, পরামর্শ এবং অধ্যয়ন অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে। এইরূপ প্রচেষ্টাগুলি বৃদ্ধি করতে, জ্ঞানের এই ক্ষেত্রে শেখা সহজতর করতে, এবং এটা নিশ্চিত করতে বাহা’ই সমাজের অন্যান্য প্রচেষ্টাগুলির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ পদক্ষেপগুলি নেয়া হচ্ছে, সম্প্রতি আমরা বাহা’ই বিশ্ব কেন্দ্রে সাধারণের জন্য ধর্মোপদেশের কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছি। এই ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে কর্মকাণ্ডগুলির সংবর্ধন ও সমন্বয়সাধন এবং অভিজ্ঞতা পদ্ধতিগতকরণের মাধ্যমে জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদগুলিকে সাহায্য করার জন্য আমরা তাদেরকে আহবান জানাচ্ছি।
অন্যান্য ক্ষেত্রে সংঘটনশীল অগ্রগতিগুলিও উৎসাহ জনক। সান্টিয়াগো, চিলিতে, যেখানে দক্ষিণ আমেরিকার মাতৃ উপাসনালয় গড়ে তোলা হচ্ছে, সেখানে নির্মাণ কাজ দ্রুততার সাথে চলছে। ইহার ভিত্তি, ভূ-গর্ভস্থ কক্ষসমূহ, এবং সরবরাহ সুরঙ্গের ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, একইভাবে স্তম্ভ¢গুলিও যা পরিকাঠামোর ভার বহন করবে তার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পটির সাথে সংযুক্ত প্রত্যাশা বাড়ছে, এবং সাতটি দেশে যেখানে জাতীয় বা স্থানীয় মাশরিক্বুল - আযকার গড়তে হবে সেখানে অনুরূপ প্রত্যাশা জাগ্রত হচ্ছে । প্রত্যেকটিতে, প্রস্তুতিগুলি আরম্ভ হয়েছে, এবং টেম্পল্স অর্থভাণ্ডারে বন্ধুগণ যে দানসমূহ করছেন তার ব্যবহার শুরু হয়েছে; যদিও, বাস্তব বিবেচনাগুলি, যেমন স্থান, নকশা, এবং সম্পদগুলি, বন্ধুগণ কর্তৃক গৃহিত কাজের কেবল একটি দিককে সুস্পষ্ট করে। মৌলিকভাবে, ইহা তাদের একটি আধ্যাত্মিক প্রচেষ্টা, যেখানে সমগ্র সমাজ অংশগ্রহণ করে। মাশরিকুল-আযকার কে প্রিয় মাষ্টার (আব্দুল-বাহা) “ঐশ্বরিক নিশ্চয়তাসমূহের চুম্বক”, “পরম প্রভুর শক্তিশালী ভিত্তি”, এবং “ঈশ্বরের ধর্মের সুদৃঢ় স্তম্ভ” রূপে উল্লেখ করেছেন। যখনই ইহা প্রতিষ্ঠিত হবে, তখনই ইহা স্বাভাবিকভাবে সমাজ গঠন প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদানে পরিণত হবে যা ইহাকে ঘিরে রেখেছে। ঐ সকল স্থানে যেখানে একটি উপাসনালয় দৃশ্যমান হবে সেখানে ইতিমধ্যে সাধারণ বিশ্বাসীদের মধ্যে এই বাস্তবতার সচেতনতা গভীরতা লাভ করছে, যারা স্বীকার করেন যে তাদের সম্মিলিত জীবন উপাসনা ও সেবার ঐক্যের মাধ্যমে অবশ্যই অধিক থেকে অধিকতর প্রতিফলন করবে যার বাস্তব রূপ মাশরিক্বুল-আযকার প্রদান করে।
অতএব, প্রতিটি দিকে, বাহা’ই সমাজকে আমরা নিয়মিতভাবে সম্মুখে এগিয়ে যেতে দেখছি, উপলব্ধি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, অভিজ্ঞতা থেকে অন্তর্দৃষ্টিগুলি অর্জন করতে আগ্রহী, সম্পদগুলি যখন সম্ভব করে তখন নতুন কাজগুলি নিতে প্রস্তুত, নতুন অবশ্যপালনীয়গুলির প্রতি ইহার সাড়াদানে গতিশীল, কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলির মধ্যে সংগতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনের প্রতি সচেতন যেগুলিতে তারা নিয়োজিত রয়েছেন, ইহার জীবনের ব্রত পরিপূর্ণ করার জন্য সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত। প্রায় দুই মাস পূর্বে সমাবর্তনের জন্য বিশ্বব্যাপী ৯৫টি যুব সম্মেলনের ঘোষণার দ্বারা উৎপন্ন অসাধারণ ঐকান্তিকতায় ইহার প্রবল উৎসাহ ও ভক্তি স্পষ্টত প্রতীয়মান। আমরা কেবল যুবদের প্রতিক্রিয়া দ্বারা সন্তুষ্ট নই বরং তাদের সহ-বিশ্বাসীগণ কর্তৃক ব্যক্ত সমর্থনের অভিব্যক্তিগুলি দ্বারাও, যারা উপলব্ধি করেন, কেমন করে বাহা’উল্লাহ্র অল্পবয়েসী বিশ্বাসীগণ ধর্মের সমগ্র প্রতিষ্ঠানটির প্রতি একটি অত্যাবশ্যক উদ্দীপক রূপে কাজ করে।
আমরা ক্রমাগত লক্ষণগুলি দ্বারা আশায় পরিপূর্ণ, আমরা বাহা’উল্লাহ্ র বাণী ছড়িয়ে দেয়া, ইহার প্রভাবে পরিসর, এবং ইহাতে নিহিত আদর্শগুলির প্রতি বর্ধিষ্ণু সচেতনতা দেখতে পাই বার্ষিকীগুলির এই ঋতুতে, আমরা স্মরণ করতে আহ্বান করছি যে “মহত্তম পরিতৃপ্তির দিবস”, এই রিজওয়ান থেকে দেড় শতাব্দী দ্বারা বিযুক্ত, যখন আবহা সৌন্দর্য নাজিবিয়ী উদ্যানে তাঁর সঙ্গীদের নিকট তাঁর দৌত্যের প্রথম ঘোষণা করেছিলেন। সেই পবিত্রকৃত স্থান থেকে, ঈশ্বরের বাণী প্রতিটি শহরে এবং প্রতিটি তটে পৌঁছে গেছে, মানবজাতিকে ইহার পরম প্রভূর সাথে একটি সাক্ষাতের জন্য হাজির হতে আহ্বান করছে। এবং ঈশ্বরের সেই প্রারম্ভিক অনুচরবর্গ- উল্লসিত প্রেমিকগণ থেকে, অভীষ্ট লক্ষ্যের একটি বৈচিত্রময় সম্প্রদায় বিকশিত হয়েছে, যে উদ্যানটিতে তিনি বিভিন্ন রংয়ের ফুল প্রতিপালন করেছেন। প্রতিটি বিলীয়মান দিনের সাথে সাথে, বর্ধিত সংখ্যক নতুনভাবে জাগরিত আত্মাগুলি সানুনয় প্রার্থনায় তাঁর সমাধির দিকে মুখ ফেরায়, সেই স্থান যেখানে আমরা, সেই আশীষপূতঃ দিবসটির সম্মানে এবং মহান নামের সমাজটির উপর প্রদত্ত প্রতিটি বদান্যতার জন্য কৃতজ্ঞতায়, পবিত্র দ্বারপ্রান্তে প্রার্থনায় আমাদের মস্তকগুলি অবনত করি।
ঐশ্বরিক পরিকল্পনার উন্মোচণের বর্তমান পর্যায়ের শুরু থেকে তিনটি পূর্ণ বছর অতিবাহিত হয়েছে, এই একটি উদ্যম যা বাহা’উল্লাহর অনুসারীগণকে একটি একতাবদ্ধ আধ্যাত্মিক প্রচেষ্টায় একত্রে বেঁধে রাখে। ঈশ্বরের বন্ধুগণ ইহার নির্ধারিত সমাপ্তি থেকে মাত্র দুই বছর পিছিয়ে আছে। দুইটি অত্যাবশ্যকীয় কর্মচাঞ্চল্য-প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের কোর্সগুলির অনুক্রমগুলির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীগণের সুষম প্রবাহ এবং এক নিরবিচ্ছিন্ন উন্নয়নের পাশাপাশি ক্লাস্টারগুলির কর্মচাঞ্চল্য যা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি পরিচালিত করা অব্যাহত রেখেছে এবং উভয় তা গত বছরে অনুষ্ঠিত যুব সম্মেলনগুলিতে বিমুক্ত শক্তির প্রবাহ দ্বারা অপরিমেয়ভাবে দৃঢ়তা লাভ করেছে। সেবার ক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক যুবগণকে দায়িত্বে নিয়োজিত করার জন্য বাহা’ই বিশ্ব যে প্রসারিত সামর্থ্য অর্জন করেছে তা এখন আরও ফল উৎপন্ন করবে। কারণ যে সময় অবশিষ্ট রয়েছে, তা বিদ্যমান বৃদ্ধির কার্যক্রমগুলি দৃঢ়তর করার অত্যাবশ্যক করণীয়গুলি এবং নতুন কাজগুলি জরুরিভাবে শুরু করার জন্য সংকেত দিচ্ছে। সর্ব মহান নামের সমাজটি এই সময় শেষ হওয়ার পূর্বে তারা অবশিষ্টদুই হাজার ক্লাস্টারে কার্যক্রমসমূহ যুক্ত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
আমরা দেখতে পেয়ে কত আনন্দিত যে ভূ-মন্ডলের সুদূর-বিক্ষিপ্ত অঞ্চলগুলি জুড়ে, এবং একটি বৈচিত্রময় পরিস্থিতি ও বিন্যাসগুলিতে, ক্লাস্টারগুলিতে এই প্রচেষ্টা বলিষ্ঠভাবে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে, যেগুলির সংখ্যা ইতিমধ্যে প্রায় তিন হাজারে দাড়িয়েছে। অনেক ক্লাস্টার এইরূপ অবস্থানে রয়েছে যেখানে কর্মকা-ের কয়েকটি সহজ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের মাধ্যমে গতিবেগ সঞ্চারিত হচ্ছে। অন্যগুলিতে, কর্মকান্ডের ক্রমাগত চক্রগুলির পরে, পরিকল্পনার কর্মকাঠামোর মধ্যে উদ্যোগ গ্রহণকারী ব্যক্তিগণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কর্মকান্ডের আয়োজন তীব্রতর হয়েছে; অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক শিক্ষা প্রক্রিয়ার মান বৃদ্ধির সাথে সাথে ইহাতে অংশগ্রহণ করতে অধিকতর আত্মাগুলি নির্দ্বিধায় আকৃষ্ট হচ্ছে। কোন কোন সময়, সম্মুখে এগিয়ে যেতে কর্মকান্ডে স্থবিরতা বা প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে; ধৈর্য, সাহস, এবং অধ্যবসায়ের সাথে যুক্ত হয়ে, অচলাবস্থার জন্য কারণগুলির উপর অনুসন্ধানমূলক পরামর্শ, গতিবেগ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম করে। অধিক থেকে অধিকতর ক্লাস্টারগুলিতে, পরিকল্পনার তিন মুখ্যচরিত্র-ব্যক্তি, সমাজ এবং ধর্মের প্রতিষ্ঠানগুলির বর্ধিষ্ণু সামর্থ্যরে সাথে সংগতি রেখে একটি পারস্পরিকভাবে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে বৃদ্ধির কার্যক্রমগুলির পরিসর ও জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবং আমরা আনন্দিত যে, যেরূপ প্রত্যাশা করা হয়েছিল, একটি বর্ধিষ্ণু সংখ্যক ক্লাস্টার রয়েছে যেখানে একশত বা ততোধিক ব্যক্তি বর্তমানে এক সহস্র বা ততোধিকের মধ্যে আধ্যাত্মিক, প্রাণবন্তকারী, রূপান্তরকারী জীবনের একটি পদ্ধতির বুনন সমন্বয় করতে নিয়োজিত রয়েছে। এমন কি শুরু থেকে, অবশ্যই, প্রক্রিয়াটির মূলে বস্তুগত এবং আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধির দূরদৃষ্টির প্রতি একটি সম্মিলিত কর্মচাঞ্চল্য তাঁর দ্বারা নির্ধারিত থাকে যিনি জগতের জীবন দাতা। কিন্তু যখন এইরূপ বৃহৎ সংখ্যা নিয়োজিত হয়, তখন একটি সমগ্র জনসমষ্টির কর্মচাঞ্চল্য বোধগম্য হয়।
এই কর্মচাঞ্চল্য ঐ সকল ক্লাস্টারে বিশেষভাবে সহজে লক্ষণীয় যেগুলিতে স্থানীয় মাশ্রিক্বুল-আয্কার প্রতিষ্ঠিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, এইরূপ একটি হচ্ছে, ভানুয়াতুতে। বন্ধুগণ যারা তান্না দ্বীপটিতে বসবাস করেন পরিকল্পিত উপাসনালয়টির সচেতনতা বৃদ্ধির করতে এক পরম প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, এবং বিভিন্ন উপায়ে ইহার তাৎপর্য সম্বন্ধে ইতিমধ্যে একটি ব্যাপ্তিশীল কথোপকথনে দ্বীপটির ৩০,০০০ অধিবাসীদের কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশকে বিজড়িত করেছেন। এত অধিক সংখ্যক জণগণের মধ্যে একটি মানসিক উন্নতি সাধনকারী কথোপকথন ধারণ করার সামর্থ্য বাহা’উল্লাহরশিক্ষাগুলি প্রদানের এবং একটি প্রাণবন্ত প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের সীমা প্রসারিত করার বহু বছরের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পরিমার্জিত হয়েছে। দ্বীপটিতে জুনিয়র ইয়ুথ গ্রুপগুলি বিশেষভাবে সমৃদ্ধশালী, তারা গ্রাম প্রধানগণ, যারা দেখছে কেমন করে অংশগ্রহণকারীগণ আধ্যাত্মিকভাবে ক্ষমতাপন্ন হয়েছে তাদের সমর্থন নিয়ে গুরুত্ব আরোপ করে। একতা এবং উৎসর্গ দ্বারা উৎসাহিত হয়ে যা তাদের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে, এই অল্পবয়সী জনগণ তাদের নিজেদের মধ্যে কেবল অসাড়তার আলস্য-ই দূর করে নাই বরং বিভিন্ন বাস্তব প্রকল্পের মাধ্যমে, তাদের সমাজের কল্যাণের জন্য কাজ করার উপায়গুলি খুঁজে পেয়েছে, এবং ফলস্বরূপ, তারা বিভিন্ন বয়সীদের, কেবল তাদের পিতামাতাগণ নয়, গঠনমূলক কর্মকা্ন্ডে উদ্দীপ্ত করেছে। বিশ্বাসীগণ এবং বৃহত্তর সমাজের মধ্যে, দিক-নির্দেশনার জন্য এবং কঠিন পরিস্থিতিগুলির সিদ্ধান্তের জন্য স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদের প্রতি মুখ ফিরাতে সক্ষম হওয়ার বদান্যতা স্বীকৃত হচ্ছে, এবং পর্যায়ক্রমে, আধ্যাত্মিক পরিষদের সিদ্ধান্তগুলির বিজ্ঞতা এবং সংবেদনশীলতা ক্রমবর্ধমানভাবে বৈশিষ্ট্যম-িত হচ্ছে। এখানে ইঙ্গিত দেয়ার মত অনেক কিছু রয়েছে যেগুলি, যখন কর্মকান্ডের জন্য পরিকল্পনার রূপরেখার উপাদানগুলি একটি সঙ্গতিপূর্ণ সামগ্রিকতার সাথে যুক্ত হয়, জনসমষ্টির উপর ইহার প্রভাব গভীর হতে পারে। এবং ইহা চলমান প্রসারণ ও দৃঢ়করণের দৃশ্যপটের প্রেক্ষাপটে- বৃদ্ধির নিবিড় কার্যক্রমের ত্রিশতম চক্র সম্প্রতি সমাপ্ত হয়েছে। দ্বীপটির অবশিষ্ট অধিবাসীগণের সাথে, বন্ধুগণ স্বক্রীয়ভাবে সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করছে, মাশ্রিক্বুল-আয্কার বলতে কি বুঝায়, “মানুষের আত্মাগুলির জন্য একটি সম্মিলিত কেন্দ্র”, যা তাদের মধ্যে গড়ে তোলা হবে। ঐতিহ্যগত নেতৃবর্গের স্বক্রিয় সমর্থন সহকারে, তান্না দ্বীপবাসীগণ উপাসনালয়ের জন্য কমপক্ষে একশত নকশার ধারণা প্রদান করেছেন, যা প্রদর্শন করে উপাসনালয়টি কি পরিমাণ কল্পনাশক্তিগুলি ধারণ করেছে, এবং বিমুগ্ধকর অবারিত দৃশ্য উন্মুক্ত করছে কারণ ইহার ছায়াতলে বসবাসকারী জীবনগুলির উপর ইহা যে প্রভাব বিস্তার করার জন্য পূর্ব-নির্ধারিত।
বিপুল সংখ্যক উন্নত ক্লাস্টারে এই উৎসাহব্যঞ্জক বিবরণের হুবহু মিল রয়েছে যেগুলিতে বাহা’উল্লাহরশিক্ষাগুলির নিহিতার্থগুলি মহল্লা ও গ্রামগুলির জীবনের অবস্থাগুলির উপর কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রত্যেকটিতে, একটি জনসমষ্টি, বাহা‘উল্লাহ সম্বন্ধে ক্রমবর্ধমানভাবে সচেতন হচ্ছে, শিখছে, পরামর্শ, এবং অধ্যয়ন, অভিজ্ঞতার উপর প্রতিফলনের মাধ্যমে, তাঁর প্রত্যাদেশের মধ্যে সংরক্ষিত সত্যতাগুলির উপর কিভাবে কাজ করতে হবে, এইরূপভাবে যেন বিস্তৃতিশীল বৃত্তের আধ্যাত্মিক জ্ঞাতিবর্গ সম্মিলিত উপাসনা এবং সেবার বন্ধন দ্বারা সর্বকালের চেয়ে অধিকতর ঘনিষ্ঠভাবে একত্রে আবদ্ধ হতে পারে।
যে সকল সমাজ সর্বাপেক্ষা অধিক দূরে অগ্রগতি সাধন করেছে বিভিন্ন উপায়ে সেগুলি অন্যদের জন্য আমন্ত্রণকারী একটি পথ অঙ্কন করছে। তা সত্ত্বেও, একটি ক্লাস্টারে কর্মকান্ডের মাত্রা যা-ই হোক না কেন, ইহা হচ্ছে স্থানীয় বন্ধুগণের মধ্যে শেখার সামর্থ্য, একটি সাধারণ কর্মকাঠামোর মধ্যে, যা উন্নয়ণের পথ বেয়ে অগ্রগতি উৎসাহিত করে। এই উদ্যোগে প্রত্যেকের অংশ রয়েছে; প্রত্যেকের অবদান সমগ্রের সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। সর্বাধিক বেগবান ক্লাস্টার সেগুলি যেগুলির মধ্যে, সমাজের অধিকারে কি পরিমাণ সম্পদ রয়েছে বা হাতে নেয়া কর্মকা-গুলির সংখ্যা কি পরিমাণ তা নির্বিশেষে, বন্ধুগণ উপলব্ধি করেন যে তাদের কাজ হচ্ছে শনাক্ত করা যা অগ্রগতি সাধনের জন্য প্রয়োজন-বর্ধিষ্ণু সামর্থ্য যা প্রতিপালন করতে হবে, নতুন দক্ষতা যা অবশ্যই অর্জন করতে হবে, একটি অনভিজ্ঞ প্রচেষ্টার সূচনাকারী যাকে অবশ্যই সঙ্গ দিতে হবে, প্রতিফলনের একটি সুযোগ যা অবশ্যই বিকশিত করতে হবে, সম্মিলিত প্রচেষ্টা যা অবশ্যই সমন্বিত করতে হবেÑএবং অতঃপর ইহা অর্জন করতে সৃজনশীল উপায়গুলি খুঁজে বের করতে হবে যার মধ্যে প্রয়োজনীয় সময় ও সম্পদগুলি সহজলভ্য করা যেতে পারে। একই বাস্তবতা যা পরিস্থিতিগুলির প্রতিটি বিন্যাস ইহার নিজস্ব চ্যালেঞ্জগুলি উপস্থাপন করে তা প্রতিটি সমাজকে বাহা’ই বিশ্বের অবশিষ্ট অংশে কি শেখা হয়েছে তা থেকে শুধু লাভবান-ই করে না বরং জ্ঞানের সেই ভান্ডারের সাথে যুক্ত করে। এই বাস্তবতার সচেতনতা ব্যক্তিকে কর্মকান্ডের জন্য একটি অনমনীয় সূত্রের নিষ্ফল খোঁজ থেকে মুক্ত করে তথাপি একইসময়ে বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অবগত করতে বৈচিত্রময় বিন্যাসগুলিতে আহরিত অন্তর্দৃষ্টিগুলি অনুমোদন করে যখন ইহা তার নিজের পারিপার্শ্বিকতায় একটি বিশেষ আকার ধারণ করে। এই সমগ্র অভিগমন “সাফল্য” এবং “ব্যর্থতার সংকীর্ণ ধারণাগুলির সাথে সম্পূর্ণরূপে বিসদৃশ যা ধর্মান্ধতার জন্ম দেয় অথবা ইচ্ছাশক্তি পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে। বিযুক্ততার প্রয়োজন রয়েছে। যখন প্রচেষ্টা সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের নিমিত্তে উৎসর্গ করা হয় তখন যা কিছু ঘটে সেগুলি তাঁর এবং তাঁর নামে অর্জিত প্রতিটি বিজয় তাঁর প্রশংসায় উদ্যাপন করার একটি উপলক্ষ্য।
আমাদের ধর্মের লিখনাবলীতে প্রয়োগকৃত প্রচেষ্টা এবং প্রতিদানে স্বর্গীয়ভাবে সানুগ্রহে প্রদত্ত সাহায্যের মধ্যে সম্পর্ক এত অধিক বর্ণনা করে: “তোমরা যদি শুধু চেষ্টা কর,” মাষ্টার তাঁর ফলকলিপিগুলির একটিতে পুন:নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন, “ইহা নিশ্চিত যে এই সকল উজ্জ্বল দীপ্তি উদ্ভাসিত হইবে, করুণার এই সকল মেঘমালা উহাদের বৃষ্টি বর্ষণ করিবে, জীবনদানকারী এই সকল ঝড় উত্থিত এবং প্রবাহিত হইবে, এই মিষ্ট-সুরভিত কস্তুরী দূর-দূরান্তে ছড়াইয়া যাইবে।” পবিত্র সমাধিগুলিতে আমাদের নিয়মিত পরিভ্রমণে, আমরা আপনাদের পক্ষ থেকে সর্বশক্তিমানের প্রতি সর্নিবন্ধ অনুরোধ জানাবো যে, তিনি যেন আপনাদিগকে ধারণ এবং শক্তিদান করেন, এবং যেন আপনাদের প্রচেষ্টাগুলি তাদের নিকট পৌঁছে যায় যারা এখনো ঐশ্বরিক শিক্ষাগুলির সাথে অপরিচিত এবং তাঁর ধর্মে তাদের নিশ্চয়তা প্রচুরভাবে আর্শিবাদপ্রাপ্ত হতে পারে, এবং যেন তাঁর সীমাহীন অনুগ্রহের উপর আপনাদের আস্থা স্থির-সংকল্প হতে পারে। আমাদের প্রার্থনাগুলি থেকে আপনারা কখনো-ই অনুপস্থিত নন, এবং আমরা কখনো-ই আমাদের সানুনয় প্রার্থনাগুলিতে আপনাদের উৎসর্গিত বিশ্বস্ততার কাজগুলি স্মরণ করা থেকে বিরত থাকব না। যখন আমরা আশু কর্তব্যগুলি গভীরভাবে চিন্তা করি যা পরবর্তী দুই বছরে আশীষপুত সৌন্দর্যের অনুসারীদের সম্মুখে রয়েছে, কাজের প্রতি মাষ্টারের জোরালো আহ্বানটি হচ্ছে চেতনার প্রতি একটি উদ্দীপনা: “পর্দাসমূহ বিদীর্ণ কর, প্রতিবন্ধকতাগুলি দূর কর, জীবনদানকারী জল প্রদান কর, এবং পরিত্রাণের পথ নির্দেশ কর।”
রিজওয়ানের চমৎকার মৌসুম উপস্থিত এবং যে উচ্চতম স্থান থেকে পরম মহান নামের সমাজ যা অর্জন করেছে, তার উজ্জ্বল সম্ভাবনাগুলি দিকচক্রের উপর দৃশ্যমান। এক বিশাল কঠিন পথ অতিক্রম করা হয়েছে: বৃদ্ধির নতুন কার্যক্রম দৃষ্টিগোচর হয়েছে, এবং পরবর্তী বারো মাসে অবশ্যই আরও শত শত উত্থিত হবে, পাঁচসালা পরিকল্পনায় আহ্বান করা প্রয়োজনীয় ৫০০০ ক্লাস্টারে পৌঁছতে প্রায় প্রত্যেকটিতে কর্মকান্ডের প্রয়োজনীয় আদর্শ রীতি স্বক্রীয় করার প্রচেষ্টা ইতিমধ্যে গতিশীল হয়েছে। বিদ্যমান কার্যক্রমসমূহ শক্তিশালী হচ্ছে এবং ঈশ^রের ধর্মের জন্য ক্লাস্টার, মহল্লা বা গ্রামের মধ্যে সামাজিক ভূ-দৃশ্যে আরও প্রসারিত করা বলতে কি বুঝায় অনেকগুলি তা অধিকতর স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করছে। পথসমূহ যা বৃহত্তর-মাত্রায় নিরবিচ্ছিন্ন প্রসারণ ও দৃঢ়করণে নিয়ে যায় সেগুলি প্রায়শ সাহসী যুবগণের পদক্ষেপ দ্বারা অনুসৃত হচ্ছে । উপায়সমূহ যার মধ্যে ধর্মের সমাজ গড়ার শক্তি বিভিন্ন বিন্যাসে বিমুক্ত হতে পারে সেগুলি অধিকতর স্পষ্টত প্রতীয়মান হচ্ছে এবং ঐ সকল নিরূপণকারী দিক যেগুলি একটি ক্লাস্টারে বৃদ্ধির প্রক্রিয়ার উন্মোচন চিহ্নিত করে সেগুলি ক্রমশ বোধগম্য হচ্ছে।
বাহা’উল্লাহর প্রত্যেক অনুসারীকে এই কাজে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান করা হচ্ছে এবং ইহা প্রত্যেক হৃদয়ে এমন সাড়া জাগিয়ে তুলবে যা বিশ্বের শোচনীয় অবস্থায় বেদনাতুর, ঐ সকল শোকাবহ পরিস্থিতি যা থেকে এত অধিক সংখ্যক জনগণ মুক্তি লাভ করতে অক্ষম। কারণ, শেষ পর্যন্ত, ইহা পরিকল্পনার কাঠামোর বিস্তৃত আবেষ্টনের মধ্যে নেয়া পদ্ধতিগত, দৃঢ়সংকল্প এবং নিঃস্বার্থ কর্মকা- যা একটি বিশৃঙ্খল সমাজের বহু সংখ্যায় বর্ধনশীল অসুস্থতার প্রতি প্রত্যেক সংশ্লিষ্ট বিশ্বাসীর সর্বাধিক গঠনমূলক সাড়া। বিগত বছর ব্যাপী, ইহা আরও স্পষ্ট হয়েছে যে, বিভিন্ন জাতিতে, বিভিন্ন উপায়ে ভাবাদর্শগুলি ঘিরে সামাজিক ঐক্যমত যা ঐতিহ্যগতভাবে একতাবদ্ধ এবং জনগণকে একত্রে বেঁধে রেখেছিল তা বর্ধিষ্ণুভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত এবং নিঃশেষিত হচ্ছে। ইহা এক বৈচিত্রময় আত্ম-সেবী, অসহিষ্ণু, এবং বিষাক্ত মতবাদগুলির বিরুদ্ধে আর কোন নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা দিতে পারে না যা অসন্তেুাষ এবং বিরক্তির উপর বেঁচে আছে। একটি সংঘাতময় পৃথিবীর সাথে দৃশ্যমান প্রতিটি দিবস ইহার নিজের সম্বন্ধে অল্পতর নিশ্চিত, এই সকল ধ্বংসাত্মক মতবাদগুলির প্রস্তাবকগণ সাহসী ও উদ্ধত হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ লেখনীর দ্ব্যর্থহীন রায় স্মরণ করি: “তাহারা নরকাগ্নির প্রতি দ্রুত অগ্রসর হইতেছে, এবং ইহাকে আলো বলিয়া ভুল করিতেছে।” জাতিসমূহের সৎ-অভিপ্রায় বিশিষ্ট নেতৃবর্গ এবং জনগণের শুভাকাঙ্খিগণ সমাজের স্পষ্ট ফাটলগুলি মেরামতের জন্য সংগ্রাম করছে কিন্তু তারা সেসবের বিস্তার রোধ করতে অক্ষম। এই সকলের ফলাফল কেবলমাত্র আকর্ষিক সংঘাতগুলিতে অথবা একটি ভেঙ্গে পড়া নিয়মতন্ত্রে দেখা যাবে না। অবিশ্বাসে যা প্রতিবেশীকে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত করে এবং পারিবারিক বন্ধনগুলি ছিন্ন করে, প্রত্যক্ষ বিরোধিতায় যার এত অধিক সংখ্যক সামাজিক বক্তৃতা রূপে পরিচিত, নৈমিত্তিকতায় যার দ্বারা মানবীয় নিচ প্রণোদনগুলির প্রতি আবেদনসমূহ ক্ষমতা ও স্তূপীকৃত সম্পদ লাভ করতে ব্যবহৃত হয় - এই সব কিছুর মধ্যে অভ্রান্তভাবে নিদর্শনগুলি রয়েছে যে নৈতিক শক্তিগুলি যা সমাজকে ধারণ করে তা গুরুতরভাবে শূণ্য করে ফেলা হয়েছে।
তা সত্ত্বেও ইহার নিশ্চয়তা রয়েছে যে, এই বিখান্ডয়নের মধ্যে, এক নতুন ধরণের সম্মিলিত জীবন গড়ে উঠছে যা মানুষের মধ্যে স্বর্গীয় অভিব্যক্তির বাস্তব পরিচয় দিচ্ছে। আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি কিরূপে, বিশেষভাবে ঐ সকল স্থানে যেখানে শিক্ষাদানের এবং সমাজ-গড়ার কর্মকান্ডগুলির নিবিড়তা বজায় রাখা হয়েছে, সেখানে বন্ধুগণ নিজেদেরকে বস্তুবাদের শক্তিগুলি-যেগুলি তাদের মূল্যবান শক্তি নিঃশেষ করার সম্ভাবনা নিয়ে আসে তাদের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত করতে সক্ষম হয়েছেন । শুধু তাই নয়, বরং তাদের সময়ের উপর অন্যান্য বহুবিধ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তারা কখনো তাদের সম্মুখের পবিত্র ও একান্ত জরুরী কাজ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেন না। ধর্মের প্রয়োজনের এবং মানবজাতির সর্বোত্তম স্বার্থসমূহের প্রতি এমন মনোযোগ প্রত্যেক সমাজেই প্রয়োজন। পূর্বে অন-উন্মুক্ত একটি ক্লাস্টারে যেখানে বৃদ্ধির কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে আমরা দেখতে পাই কিভাবে একজন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিশ^াসীর হৃদয়ে ধারণকৃত বাহা’উল্লাহ্র জন্য ভালোবাসা থেকে কর্মকান্ডের প্রাথমিক চাঞ্চল্য জাগ্রত হয়। বিন্যাসের জটিলতা সত্ত্বেও যা অবশ্যই শেষ পর্যন্ত সঙ্গতিপূর্ণ হয় যখন সমাজটি আকারে বৃদ্ধি পায়, সকল কর্মকা- ভালবাসার একটি সাধারণ তন্তু দ্বারা শুরু হয়। ইহা অত্যাবশ্যকীয় সূতা যা থেকে ধৈর্যের এবং পূর্ণ মনোযোগী প্রচেষ্টার একটি নমুনা বোনা হয়, চক্রের পর চক্রে, আধ্যাত্মিক ধারণাগুলির প্রতি শিশু, যুব, এবং বয়স্কদের পরিচিত করতে; প্রার্থনা ও ভক্তির জন্য সমাবেশগুলির মাধ্যমে উপাসনার জন্য একটি অনুভূতি প্রতিপালন করতে; কথোপকথনগুলি জাগ্রত করতে যা উপলব্ধি উদ্দীপিত করে; চির-বর্ধিষ্ণু সংখ্যায় সৃজনশীল বাণীর একটি জীবনব্যাপী অধ্যয়ন শুরু করা এবং ইহা কাজে রূপান্তর, অন্যগুলির সাথে, সেবার সামর্থ্য গড়ে তোলা; এবং যা শেখা হয়েছে তা অনুশীলন করতে একজন অপরজনের সহগামী হওয়া। প্রিয় বন্ধুগণ, আবহা সৌন্দর্যের প্রিয়জনবৃন্দ: প্রতিটি উপলক্ষ্যে আমরা যখন তাঁর পবিত্র দ্বারপ্রান্তে উপনীত হই, আমরা আপনাদের জন্য প্রার্থনা করি যে, তাঁর জন্য আপনাদের ভালবাসা যেন তাঁর ধর্মের প্রতি আপনাদের জীবন উৎসর্গ করতে আপনাদিগকে শক্তিদান করে।
ক্লাস্টারগুলি এবং উহাদের মধ্যে তীব্র কর্মকান্ডের কেন্দ্রগুলি থেকে সমৃদ্ধ অন্তর্দৃষ্টিসমূহ উত্থিত হচ্ছে, যেখানে সমাজ জীবনের গতিশীলতা বৃহৎ সংখ্যক জনগণকে আলিঙ্গন করছে তা বিশেষ উল্লেখ করার যোগ্যতা লাভ করে। আমরা দেখতে পেয়ে সন্তুষ্ট যে, কিরূপে পারস্পরিক সাহায্যের একটি সংস্কৃতি, বন্ধুত্ব ও বিনীত সেবার উপর নির্ভরশীল, এইরূপ স্থানগুলিতে সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে ইহাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, অধিক থেকে অধিক সংখ্যক আত্মাকে পদ্ধতিগতভাবে সামাজিক কর্মকা-ের সীমার মধ্যে নিয়ে আসতে সক্ষম করেছে। বস্তুত, একটি বর্ধিষ্ণু সংখ্যক বিন্যাসে একটি নতুন সমাজের জন্য বাহা’উল্লাহ’র দূরদৃষ্টির প্রতি জনগণের সঞ্চালন এখন আর কেবল বিমুগ্ধকর সম্ভাবনা নয় বরং উদীয়মান বাস্তবতা রূপে আবির্র্ভূত হয়েছে।
আমরা আপনাদের মধ্যে তাদের জন্য আরও কিছু বাক্য সম্বোধন করতে ইচ্ছা করি যারা তাদের প্রতিবেশগুলিতে এখনো লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি ঘটানোর অপেক্ষায় রয়েছেন এবং যারা পরিবর্তনের জন্য আকুল-আকাঙ্খা করেন। আশা রাখুন। ইহা সব সময় একই রকম হবে না। আমাদের ধর্মের ইতিহাস কি প্রতিকূল সূচনা অথচ বিষ্ময়কর ফলাফলে পরিপূর্ণ নয়? কত বার মাত্র কয়েকজন বিশ^াসীর কর্ম-যুব ও বৃদ্ধ-অথবা একটি মাত্র পরিবার, অথবা এমনকি একটি নিঃসঙ্গ আত্মা, যখন ঐশ^রিক সহায়তার শক্তি দ্বারা দৃঢ় প্রতিপন্ন, আপাতদৃষ্টিতে অপ্রীতিকর ভূখ-ে স্পন্দমান সমাজ গড়ে তুলতে সফল হয়েছেন। মনে করবেন না যে, আপনাদের নিজেদের বিষয়টি ভিন্নতর। একটি ক্লাস্টারে পরিবর্তন, হোক তা দ্রুত অথবা কষ্টার্জিত, একটি সূত্রগত অভিগমন বা কোন এলোপাতাড়ি কর্মকা- থেকে প্রবাহিত হয় না; ইহা কর্মকান্ডে ছন্দ, প্রতিফলন, এবং পরামর্শের অনুপাতে অগ্রসর হবে, এবং পরিকল্পনাগুলি অভিজ্ঞতারই ফল। তদুপরি, এবং ইহার আসন্ন ফলাফলগুলি যা-ই হোক না কেন, প্রিয়তমের প্রতি সেবা হচ্ছে আত্মার জন্য চিরস্থায়ী আনন্দের উৎস। এ ছাড়াও, ধর্মের জন্মস্থানে আপনাদের আধ্যাত্মিক জ্ঞাতিবর্গের উদাহরণ থেকে সাহস নিন, কিভাবে তাদের গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি, সমাজ হিসেবে তাদের স্থিতিস্থাপকতা, এবং ঐশ^রিক বাণী সংবর্ধনে তাদের অবিচলতা তাদের সমাজে ভাবনা ও কর্মের ক্ষেত্রে পরিবর্তন নিয়ে আসছে। ঈশ^র আপনাদের সাথে, আপনাদের প্রত্যেকের সাথে রয়েছেন। পরিকল্পনার অবশিষ্ট বারো মাসে, প্রত্যেক সমাজ যেন ইহার বর্তমান অবস্থান থেকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে অগ্রসর হয়।
প্রসারণ ও দৃঢ়করণের সর্ব-গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বাহা’ই বিশ্বের প্রচেষ্টার জন্য একটি মজবুত ভিত্তি গঠন করে তা আরও বহু ক্ষেত্রে গ্রহণ করার জন্য আহ্বান করা হচ্ছে। বাহা’ই বিশ্ব কেন্দ্রে, হাজার হাজার ফলকলিপির বিষয়বস্তু নিয়মনিষ্ঠভাবে সুবিন্যস্ত তালিকা এবং নির্ঘণ্ট তৈরীর প্রচেষ্টাগুলি তীব্রতর করা হচ্ছে যেগুলি অপরিসীমভাবে অমূল্য অর্পিত দায়িত্ব গঠন করে, আমাদের ধর্মের পবিত্র মূল পাঠসমূহ, সমগ্র মানবজাতির মঙ্গলের জন্য বিশ্বাসের সাথে ন্যস্ত -ইহা, এমনভাবে যেন লিখনাবলীর সংকলনসমূহের প্রকাশনা বেগবান করা যায়, উহাদের আদি ভাষায় এবং ইংরেজী অনুবাদে। আটটি মাশ্রিকুল-আয্কার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা, ঈশ্বরের মহিমার প্রতি উত্থিত পবিত্র উপাসনালয়সমূহ, দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে বহিঃসম্পর্ক বিষয়ক কাজ লক্ষ্যনীয়ভাবে ফলপ্রসূতা অর্জন করছে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে পদ্ধতিগত হচ্ছে, ছয় মাস পূর্বে জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদগুলির প্রতি প্রেরিত দলিলের বিমুক্তকরণের দ্বারা আরও উদ্দীপিত হয়েছে,যা বিগত দুই দশকে সৃষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে এবং ভবিষ্যতে এই সকল প্রচেষ্টা উন্নয়নের জন্য একটি প্রসারিত রূপরেখা প্রদান করে। ইতিমধ্যে, বাহা’ই ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির দুইটি নতুন কার্যালয়, ইহার নিউ ইয়র্ক ও জেনেভা ভিত্তিক ইউনাইটেড নেশন্স অফিস এবং ব্রাসেল্স এ ইহার কার্যালয়ের প্রতি একই প্রকারের, আদ্দিস আবাবা এবং জাকার্তায় খোলা হয়েছে, যা আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আন্তর্জাতিক স্তরে ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতগুলির জন্য সুযোগসমূহ বিস্তৃত করবে। প্রায়ই বৃদ্ধির চাহিদাগুলি দ্বারা প্রণোদিত হয়ে, কতিপয় জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ তাদের প্রশাসনিক সামর্থ্য গড়ে তুলছে, যা তাদের নিকট সহজলভ্য সম্পদগুলি সম্বন্ধে তাদের চিন্তাশীল তত্ত্বাবধায়কত্বে দৃশ্যমান, তাদের সমাজের অবস্থাগুলির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হতে তাদের প্রচেষ্টাগুলি, এবং নিশ্চিত করার জন্য তাদের সতর্কতা যেন তাদের জাতীয় কার্যালয়গুলি আরও শক্তিশালী হয়; বর্তমানে এই ক্ষেত্রে সঞ্চিত জ্ঞানের চিত্তাকর্ষক সমষ্টির পদ্ধতিগতকরণের প্রয়োজনীয়তা বিশ্ব কেন্দ্রে ‘প্রশাসনিক পদ্ধতির উন্নয়নের জন্য কার্যালয়’ সৃষ্টিতে নিয়ে গেছে। অনেক দেশে সামাজিক কর্মকান্ডের জন্য বিবিধ প্রকারের উদ্যোগগুলির সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, ব্যাপকভাবে জানতে সক্ষম করছে কিভাবে শিক্ষাগুলির মধ্যে সংরক্ষিত বিজ্ঞতা সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিগুলি উন্নয়নে প্রয়োগ করা যেতে পারে; এই ক্ষেত্রটি এতই প্রতিশ্রুতিশীল যে আমরা ‘সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কার্যালয়’ এর জন্য একটি সাত-সদস্যবিশিষ্ট ‘আন্তর্জাতিক পরামর্শক বোর্ড’ প্রতিষ্ঠা করেছি, ঐ কার্যালয়ের বিবর্তনের পরবর্তী ধাপ উপস্থাপন করেছি। এ ছাড়াও, বোর্ডের তিনজন সদস্য কার্যালয়ের সমন্বয়কারী দলে সেবা দেবেন এবং পবিত্র ভূমিতে বাস করবেন।
অতঃপর, এই রিজওয়ানে, যখন আমরা দেখতে পাই অনেক কিছু করতে হবে, আমরা দেখতে পাই ইহা করার জন্য অনেকে প্রস্তুত রয়েছে। হাজার হাজার ক্লাস্টারে, মহল্লায়, এবং গ্রামে, ধর্মের নতুন ঝর্ণা এবং নিশ্চয়তাসমূহ নির্গত হচ্ছে, তাদের চেতনাগুলি উৎফুল্ল করছে যারা তাদের পুনরুজ্জীবিতকারী জলরাশি দ্বারা স্পর্শ লাভ করছে। বিভিন্ন স্থানে, এই প্রবাহ একটি জলপ্রবাহের মত, আবার কোথাও কোথাও নদীর মত। কোন আত্মার জন্য এখন তীরে উপর বিলম্ব করার মূহুর্ত নয়-সবাই যেন নিজেদেরকে সম্মুখগামী তরঙ্গের সাথে সম্পৃক্ত করেন।
১. উৎসবসমূহের রাজার আগমনের সাথে, পরবর্তী সর্বব্যাপী পরিকল্পনার জন্য প্রস্তুতির সময় শেষ হয়েছে: এখন আমরা ঈশ্বরের বন্ধুগণকে পাঁচবছরব্যাপী সাহস, দৃঢ়সংকল্প এবং সম্পদের অঙ্গীকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
২. বাহা’উল্লাহর বিশ্বস্ত কর্মীদল প্রস্তুত রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক সমাবেশগুলির আহ্বান এই শক্তিশালী উদ্যোগ শুরু করতে আগ্রহের ক্রমাগত সঙ্কেত দিচ্ছে। উপদেষ্টাগণের সম্মেলনের প্রতি সম্বোধনকৃত বার্তায় আধারিত অবশ্যপালনীয় বিষয়গুলি ইতোমধ্যে কর্মের চূড়ান্ত পরিকল্পনায় রূপান্তরিত করা হচ্ছে। বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টার দশকগুলি সমাজকে সুবিন্যস্ত করেছে এবং বৃদ্ধি প্রতিপালন করতে ইহার জন্য প্রমাণিত সামর্থ্যরে একটি মাত্রা অর্জন করেছে, এই মুহূর্তের জন্যই ইহাকে ইস্পাতের ন্যায় দৃঢ় করছে। বিশেষভাবে, বিগত দুই দশকে, পারদর্শীতার কারণে কাঙ্খিত বৃদ্ধি বেগবান হয়েছে।
৩. এই সময়ে, কর্মোদ্যোগের জন্য একটি বিকাশমান নির্মাণকাঠামোর গ্রহণ প্রয়োজনীয় সামর্থ্যগুলি প্রগতিশীলভাবে প্রতিপালন এবং পরিমার্জন করতে বন্ধুগণকে সক্ষম করেছে, প্রথমে সেবার সরল কাজগুলিতে বৃদ্ধি দিয়ে, কর্মোদ্যোগের অধিকতর বিস্তৃত উৎকৃষ্ট উদাহরণগুলিতে নিয়ে গেছে, যা পর্যায়ক্রমে আরো বেশী জটিল সামর্থ্যগুলির উন্নয়ন দাবি করছে। এইভাবে, হাজার হাজার ক্লাস্টারে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সমাজ গড়ার একটি প্রণালীবদ্ধ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল-এবং উহাদের অনেকগুলি, বেশ উন্নত হয়েছে। মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু শুধুমাত্র ব্যক্তি বিশ্বাসী, বা সমাজ, অথবা ধর্মের প্রতিষ্ঠানের উপর ছিল না; নতুন বিশ্ব নিয়মতন্ত্রের বিবর্তনে অবিচ্ছেদ্য তিন অংশগ্রহণকারীর সকলে ঐশ্বরিক পরিকল্পনার উন্মোচনের মাধ্যমে বিমুক্ত হওয়া আধ্যাত্মিক শক্তিগুলি দ্বারা উদ্দীপিত হচ্ছে। তাদের অগ্রগতির চিহ্নসমূহ অধিক থেকে অধিকতর দৃশ্যমান: আত্মবিশ্বাসে যা অগণিত বিশ্বাসীগণ বাহা’উল্লার জীবনের ঘটনাবলী বর্ণনা করতে এবং তাঁর প্রত্যাদেশ ও অতুলনীয় অঙ্গীকারের নিহিতার্থগুলি আলোচনা করতে অর্জন করেছেন; আত্মাগুলির বর্ধিষ্ণু দলগুলিতে যারা, ফলস্বরূপ, তাঁর ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন এবং তাঁর ঐক্যবদ্ধকারী দূরদৃষ্টি অর্জনে অবদান রাখছেন; সমাজের একবারে তৃণমূলপর্যায়ে, চরিত্র রূপান্তর এবং সামাজিক অস্তিত্ব গঠন করতে সক্ষম একটি প্রক্রিয়া সম্বন্ধে তাদের অভিজ্ঞতা বাকপটু শব্দাবলীতে বর্ণনা করতে বাহা’ইগণ এবং তাদের বন্ধুদের সামর্থ্য বৃদ্ধিতে; বাহা’ই প্রতিষ্ঠান এবং অঙ্গসংগঠনের সদস্য হিসেবে দেশের আদি অধিবাসীদের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যা এখন তাদের সমাজের বিষয়াদি পরিচালনা করছেন তাতে; অর্থভান্ডারের প্রতি নির্ভরযোগ্য, উদার এবং উৎসর্গপূর্ণ দানে, যা ধর্মের অগ্রগতি নিরবিচ্ছিন্ন রাখার জন্য এত অপরিহার্য; সমাজ-গড়ার কার্যকলাপগুলির সমর্থনে ব্যক্তির স্ব-উদ্যোগ গ্রহণ এবং সম্মিলিত কর্মোদ্যোগের অভূতপূর্ব সাফল্যে; যৌবনের শুরুতেই এত অধিক সংখ্যক নিঃস্বার্থ আত্মার প্রবল উৎসাহের সাথে যারা, লক্ষণীয়ভাবে অল্পবয়সী প্রজন্মের আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রতি যত্ন নিতে এই কাজের প্রতি অপরিমেয় বলিষ্ঠতা নিয়ে আসছেন; উপাসনার জন্য নিয়মিত সমাবেশগুলির মাধ্যমে সমাজের ভক্তিমূলক চরিত্রের উন্নয়নে; বাহা’ই প্রশাসনের সকল স্তরে সামর্থ্যরে বৃদ্ধিতে; প্রক্রিয়া সম্পর্কে চিন্তা করতে তাদের আসন্ন বাস্তবতা উপলব্ধি করতে এবং যেখানে তারা বসবাস করে সেই স্থানে তাদের সম্পদ নিরূপণ করতে এবং সেই ভিত্তির উপর পরিকল্পনা করতে, প্রতিষ্ঠান, অঙ্গসংগঠন এবং ব্যক্তিবর্গের প্রস্তুতিতে; বর্তমানে সুবিদিত অধ্যয়ন, পরামর্শ, কর্মোদ্যোগ এবং প্রতিফলনের গতিময়তায় যা শেখার একটি সহজাত মনোভাব পরিমার্জিত করেছে; সামাজিক কর্মোদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষাদানের প্রতি সক্রিয় হতে কি বুঝায় তার জন্য বর্ধনশীল উপলব্ধিতে; সমাজে অধুনা প্রচলিত আলোচনায় একটি বাহা’ই পরিপ্রেক্ষিত প্রদান করতে বর্ধিষ্ণু সুযোগ অন্বেষণ করা হচ্ছে এবং সাগ্রহে গ্রহণ করা হচ্ছে; একটি সর্বব্যাপী সমাজের সচেতনতায় যা, ইহার সকল প্রচেষ্টায়, ধর্মের মধ্যে সহজাত সমাজ-গড়ার শক্তি প্রকাশের দ্বারা ঐশ্বরিক সভ্যতার আবির্ভাব ত্বরান্বিত করছে; বস্তুত, বন্ধুদের বর্ধিষ্ণু সচেতনতায় তাদের প্রচেষ্টাগুলি, আভ্যন্তরীন রূপান্তর প্রতিপালন করতে, একতার পরিধি প্রশস্ত করতে, সেবার ক্ষেত্রে অন্যদের সাথে সহযোগিতা করতে, জনগণকে তাদের নিজ নিজ আধ্যাত্মিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দায়িত্বগুলি গ্রহণ করতে সাহায্য করতে-এবং এইরূপ সকল প্রচেষ্টায়, বি্শ্বের কল্যাণ নিয়ে আসতে-স্বয়ং ধর্মের উদ্দেশ্য-ই ব্যক্ত করে।
৪. যদিও কোন একক পরিমাপ বাহা’ই সমাজের অগ্রগতির সমগ্রতা করায়ত্ত করতে পারে না, বিশ্বব্যাপী ক্লাস্টারগুলির সংখ্যা থেকে অনেকটা অনুমান করা যেতে পারে যেখানে বৃদ্ধির একটি কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেগুলি, আবহা সুষমা কর্তৃক প্রদত্ত বদান্যতার জন্য কৃতজ্ঞতা সহকারে, আমরা নিশ্চিত করছি ৫,০০০ অতিক্রম করেছে। ইহার মত এত প্রশস্ত ভিত্তি স্থাপন করা পূর্বাবশ্যক ছিল বাহা’ই বিশ্ব সেই কাজ করার জন্য যার মুখোমুখি হয়েছে-প্রতিটি ক্লাস্টারে যেখানে ইহা শুরু হয়েছে বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং সমাজ জীবনের একটি সমৃদ্ধকারী উৎকৃষ্ট উদাহরণ আরো প্রসারিত করা। প্রয়োজনীয় নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া দূরহ হবে। তবে ফলাফলের গভীর তাৎপর্য্ এমনকি নবযুগের সূচনার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষুদ্র পদক্ষেপগুলি, যদি সেগুলি নিয়মিত ও দ্রুত হয়, তা একটি বিশাল দূরত্ব ভ্রমণ করার সাথে যুক্ত হয়। অগ্রগতির উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার মাধ্যমে যা অবশ্যই একটি ক্লাস্টারে একটি প্রারম্ভিক সময়ের মধ্যে করতে হবে-দৃষ্টান্তস্বরূপ, দ্বিশতবার্ষিকীদ্বয়ের প্রথমটির পূর্বে সংঘটিত ছয়টি কালচক্রে-বন্ধুগণ পূর্ণ পাঁচ বছরের জন্য তাদের লক্ষ্যগুলি নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে অনেক কিছু করবে। প্রতিটি কালচক্রে ন্যাস্ত এগিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ও সবল পদক্ষেপের জন্য দ্রুতগামী সুযোগগুলি, মহামূল্যবান সম্ভাবনাগুলি যা ফিরে আসবে না।
৫. হায়! বৃহত্তর সমাজে, আত্মার অসুস্থতার একটি নিরন্তর-গভীর হওয়া লক্ষণগুলি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অধিকতর মন্দ হচ্ছে। কত লক্ষণীয় যে, যখন পৃথিবীর জনগণ প্রকৃত নিরাময়ের অভাবের কারণে কষ্টভোগ করছে এবং থেকে থেকে একটি মিথ্যা আশা থেকে অপরটিতে মুখ ফিরাচ্ছে, তখন আপনাদের সমবেতভাবে শোধিত একটি সাধনযন্ত্র যা ঈশ্বরের চিরন্তন বাণী দ্বারা হৃদয়গুলিকে যুক্ত করছে। কত লক্ষণীয় যে, একদিকে নির্ধারিত মতামতের এবং পরস্পর বিরোধিতাপূর্ণ স্বার্থসমূহের গোলযোগপূর্ণ শব্দ আরো প্রচ- হচ্ছে, অন্যদিকে আপনারা সমাজকে গড়ে তুলতে জনগণকে একত্রে নিয়ে আসার উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করছেন, যেগুলি একতার আশ্রয়। আপনারা বিশ্বের পূর্বসংস্কার এবং বৈরিতাগুলিকে দেখে কোনমতেই নিরুৎসাহিত হবেন না বরং, নিজেরা আপনাদের চারপাশে বিরাজমান আত্মাগুলির নিরাময়কারী প্রলেপ হিসেবে কাজ করুন।
৬. পাঁচসালা পরিকল্পনাসমূহের ধারাবাহিকতায় ইহা শেষতম। ইহার সমাপ্তিতে, ঐশ্বরিক পরিকল্পনার বিবর্তনে একটি নতুন পর্যায় উন্মুক্ত হবে, যা বাহা’উল্লাহর সমাজকে বাহা’ই যুগের তৃতীয় শতাব্দীর দিকে নিয়ে যাবে। প্রত্যেক দেশে ঈশ্বরের বন্ধুগণ যেন সম্মুখের এই কয়েক বছরের প্রতিশ্রুত উপলব্ধি করতে পারেন, যা আগামী বছরগুলিতে আরো শক্তিশালী কাজগুলির জন্য কঠোর প্রস্তুতি হবে। বর্তমান পরিকল্পনার প্রশস্ত পরিসর প্রত্যেক ব্যক্তিকে, তার অংশ যত নগণ্যই হোক না কেন এই কাজ সমর্থন করতে সক্ষম করবে । আমরা আপনাদিগকে, আমাদের হৃদয়ে লালিত সহকর্মীগণ, তাঁর ভক্তগণ যিনি জগতসমূহের পরম-প্রিয়তম, আপনাদের সকলে যা কিছু শিখেছেন এবং ঈশ্বর-প্রদত্ত প্রত্যেক সামর্থ্য ও দক্ষতা যা আপনাদের রয়েছে, তার সবকিছু ঐশ্বরিক পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে ইহার পরবর্তী অপরিহার্য পর্যায়ের প্রয়োগে কোন প্রচেষ্টা থেকে বিরত না হওয়ার জন্য বলছি। আপনাদের নিজ নিজ অতিশয় আকুল সানুনয় প্রার্থনায় ঐশ্বরিক সাহায্যের জন্য আমরা আমাদের প্রার্থনাগুলি যুক্ত করছি, পবিত্র সমাধিগুলিতে নিবেদিত, সকলের পক্ষ থেকে যারা এই সর্ব-বেষ্টনকারী ধর্মের জন্য শ্রম দিচ্ছেন।
দেখুন মহত্তম নামের সমাজটি কিভাবে উত্থিত হচ্ছে! নতুন পরিকল্পনার আরম্ভ থেকে মাত্র একটি বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, কি করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং কি অর্জিত হতে শুরু করেছে প্রতিবেদনগুলি তার সাক্ষ্য দিচ্ছে। বৃদ্ধির ৫,০০০ কার্যক্রমের জন্য বৃহত্তর তীব্রতা নিয়ে আসা প্রচেষ্টার একটি স্তর যা সম্পূর্ণরূপে নজিরবিহীন। পরিকল্পনার মূল বিষয়বস্তু উপর বন্ধুদের উপলব্ধি বৃদ্ধির সাথে বন্ধুদের বৃহৎ সংখ্যাগুলি তাদের সাড়াদানের বৈশিষ্ট্যে দৃঢ়তাসহকারে ও ত্যাগের সাথে ইহার প্রয়োজনের উপর কাজ করছে। যেরূপ বিবেচনা করা হয়েছিল, কয়েকটি নিবিড় বৃদ্ধির কার্যক্রম যা দীর্ঘদিন যাবৎ পোষণ করা হয়েছে সেগুলি জ্ঞান ও সম্পদের ভাণ্ডারসমূহে পরিণত হচ্ছে, পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে সাহায্য করছে এবং অভিজ্ঞতা এবং অন্তর্দৃষ্টির দ্রুত বিতরণকে সমন্বয় করছে। নিবিড় কার্যক্রমের কেন্দ্রগুলি-ঐ সকল মহল্লা ও গ্রাম যেখানে সমাজ-গড়ার কাজ সর্বাধিক কেন্দ্রীভূত-সম্মিলিত রূপান্তরের জন্য উর্বর ভূমিতে পরিণত হওয়ার প্রমাণ দিচ্ছে। সাহায্যকারী বোর্ডের সদস্যগণ এবং তাদের সহকারীদের প্রসারিত এবং প্রদীপ্ত বাহিনী বিশ্বাসীদের প্রচেষ্টাসমূহ উদ্দীপিত করছে, কিভাবে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হয় এবং উপায়সমূহ শনাক্ত করতে হয় যা প্রতিটি ক্লাস্টারের অবস্থার সাথে মানানসই হয় তার একটি দূরদৃষ্টি অর্জন করতে তাদেরকে সাহায্য করছে। আঞ্চলিক বাহা’ই কাউন্সিলসমূহ তাদের নিজ নিজ জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ কর্তৃক সমর্থিত হয়ে শিখছে কিভাবে একইসাথে ক্লাস্টারের সর্বত্র পরিকল্পনার ভরবেগ গড়ে তোলা যেতে পারে, একইসময়ে যেসমস্ত দেশে আঞ্চলিক বাহা’ই কাউন্সিল নাই সেসব দেশে, জাতীয় পর্যায়ে নতুন প্রতিষ্ঠানসমূহ একই কাজ আরম্ভ করছে। যদিও, একটি জৈবিক প্রক্রিয়া থেকে যেরূপ প্রত্যাশা করা যায় যে, কোন কোন স্থানে দ্রুত অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে, কোথাও কোথাও এখনো আবির্ভূত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এবং বিশ্বে নিবিড় বৃদ্ধির কার্যক্রমের মোট সংখ্যা ইতোমধ্যে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এ ছাড়াও, আমরা দেখে আনন্দিত যে, পরিকল্পনার কার্যকলাপে অংশগ্রহণ ইহার প্রথম চারটি কালচক্রের সময় লক্ষণীয়ভাবে উদ্বেলিত হয়েছে।
আগামী বছর কি নিয়ে আসতে পারে সে ব্যাপারে লক্ষণগুলি এর চেয়ে বেশী প্রতিশ্রুতিময় হতে পারে না । আশীষপূত সৌন্দর্যের প্রতি তাঁর জন্মের দুই শততম বার্ষিকীতে তাঁর ধর্মের পরিসর প্রসারিত করা ব্যতীত তাঁর প্রিয়জনদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আর কি অধিকতর উপযুক্ত হতে পারে? বাহা’ই বিশ্ব কর্তৃক দুইটি দ্বিশতবার্ষিকীর প্রথমটির উদ্যাপিত হওয়া এইভাবে সর্বাধিক রোমাঞ্চকর পরিপ্রেক্ষিতগুলি সহকারে একটি উপলক্ষ। ঠিকভাবে দেখা হলে, বাহা’উল্লাহ্র সাথে হৃদয়গুলি যুক্ত করার জন্য এই বছর বিশ্বব্যাপী একক বৃহৎ সুযোগ রয়েছে । আগামী মাসগুলিতে, আসুন সকলে এই মহামূল্য সুযোগ সম্বন্ধে মনোযোগী হই এবং সম্ভাবনাগুলির প্রতি সচেতন হই যা প্রত্যেক স্থানে তাঁর জীবন এবং সুমহান উদ্দেশ্য সম্বন্ধে অন্যদেরকে পরিচিত করানোর জন্য বিদ্যমান রয়েছে। কারণ শিক্ষাদানের সুযোগ যা এখন বাহা’ই বিশ্বের সম্মুখে রয়েছে, তা পরিপূর্ণরূপে গ্রহণ করতে হবে, কথোপকথনগুলি যা প্রত্যেক পেশার মানুষের সাথে উন্মোচিত হতে পারে, তার প্রতি সৃজনশীল মনোযোগ দেয়ার প্রয়োজন হবে। এইরূপ অর্থপূর্ণ কথোপকথনের ফলে কখনো কখনো তাৎক্ষণিকভাবে উপলব্ধির ক্ষমতা উচ্চতর হয় এবং হৃদয়সমূহ উন্মুক্ত হয়। এই প্রশংসনীয় কর্মে সকলে সেবাদানের একটি উপায় খুঁজে পায় এবং আনন্দ যা এই কাজে নিয়োজিত হওয়া থেকে আসে তা থেকে যেন কেউ যেন নিজেকে বঞ্চিত না করে। আমরা একক প্রিয়তমের নিকট সানুনয় প্রার্থনা করছি, এই সমগ্র দ্বিশতবার্ষিকী বছরটি যেন ঈশ্বরের দিবসের উদয় সম্বন্ধে অন্যান্যদেরকে বলার পবিত্রতম ও মধুরতম আনন্দে পরিপূর্ণ থাকে।
দায়িত্বগুলি যা বিশ্বাসীদের জন্য অবশ্য পালনীয় তা বিশ্বের বিভ্রান্তি, অবিশ্বাস এবং ধোঁয়াশাচ্ছন্নতার কারণে অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে। বস্তুত, বন্ধুগণকে আলো জ্বালানোর প্রত্যেক সুযোগ ব্যবহার করতে হবে যা পথটিকে আলোকিত করতে এবং উদ্বিগ্নের প্রতি নিশ্চয়তা, হতাশের প্রতি আশা দিতে পারে। অভিভাবক কর্তৃক একটি বাহা’ই সমাজের প্রতি প্রদত্ত উপদেশ সম্বন্ধে আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে যা এইরূপ বাক্যাবলীতে ছিল, মনে হয় যেন সেগুলি আমাদের সময়ের জন্য অভিপ্রেত ছিল: “যেহেতু বর্তমান সময়ের সমাজের কাঠামো অশুভ-সূচক ঘটনাবলী এবং বিপর্যয়ের ক্লান্তি এবং কষ্টকর পরিস্থিতির অধীনে উঠা-নামা করছে এবং ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে, যেহেতু মতভেদগুলি যা জাতি থেকে জাতিকে, শ্রেণী থেকে শ্রেণীকে, বর্ণ থেকে বর্ণকে এবং ধর্মীয় মতবিশ্বাস থেকে ধর্মীয় মতবিশ্বাসকে পৃথককারী বিভাজনকে অধিকতর লক্ষণীয় করছে, বহুগুণ বৃদ্ধি করছে, তাই পরিকল্পনার পরিচালনাকারীগণকে অবশ্যই তাদের আধ্যাত্মিক জীবনে এবং প্রশাসনিক কার্যকলাপে আরো বৃহত্তর সংযোগ স্থাপন করতে হবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার, পারস্পরিক সহায়তার এবং তাদের সম্মিলিত উদ্যোগে বৈরিতামুক্ত উচ্চতর মানদণ্ড প্রদর্শন করতে হবে।” সব সময় ধর্মের কাজের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব এবং একাগ্রচিত্ত দৃঢ়সংকল্পের উপর জোর দেয়া, যা দ্বারা বিশ্বাসীগণকে তাদের পবিত্র কর্তব্য পালন করতে হয়, শৌগী এফেন্দী রাজনৈতিক বিতর্কে যেকোনো প্রকারে অংশগ্রহণ করা, বিজড়িত হওয়া এবং গুরুত্বহীন বিষয় নিয়ে ঝগড়া করার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন। “তারা যেন সকল স্বতন্ত্রবাদ এবং দলভূক্ততার ঊর্ধ্বে উত্থিত হয়, এক উপলক্ষে তিনি জোরালোভাবে সাবধান করেন, “বৃথা বিরোধসমূহ, সংকীর্ণ-মনা বিবেচনাগুলি, ক্ষণস্থায়ী তীব্র উত্তেজনাগুলির ঊর্ধ্বে যা মুখমণ্ডলকে আলোড়িত করে এবং একটি পরিবর্তনশীল বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করে।”এইগুলি অবশ্যম্ভাবী পুঞ্জীভূত ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ যা বিক্ষুদ্ধ ও বিভক্ত সমাজকে বার বার আন্দোলিত করছে। এই প্রকার চিত্তবিক্ষেপের সাথে নিয়োজিত হওয়া খুব বেশী ঝুঁকিপূর্ণ। যেহেতু বাহা’উল্লাহ্র প্রত্যেক অনুসারী অবগত রয়েছেন যে, “মানবজাতির চূড়ান্ত কল্যাণ ইহার বিভেদগুলি অতিক্রম করা এবং ইহার একতা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার উপর নির্ভরশীল। এক একটি অবদান যা বাহা’ইরা তাদের সমাজের প্রতি করে থাকেন তার লক্ষ্য হচ্ছে একতা প্রতিপালন করা; সমাজ-গড়ার প্রতিটি প্রচেষ্টা এই পরিণতির দিকে পরিচালিত হয়। যারা কলহ দ্বারা ক্লান্ত, তাদের জন্য মহত্তম নামের ছায়াতলে বর্ধনশীল সমাজসমূহ, একতা কী অর্জন করতে পারে তার একটি জোরালো উদাহরণ নির্দেশ করে।
আমরা তাঁর এত অধিক সংখ্যক প্রিয়জনদের দেখতে পেয়ে পরম প্রভুগণের পরম প্রভুর প্রতি প্রশংসা জ্ঞাপন করছি, যারা এত অধিক সংখ্যক উপায়ে, তাদের সবকিছু প্রদান করছে যেন মানবজাতির মধ্যে একতার পতাকা ঊর্ধ্বে উত্তোলিত হতে পারে। সর্বাধিক সযত্নে লালিত বন্ধুগণ: যেহেতু এখন একটি অত্যন্ত মাঙ্গলিক বছর আরম্ভ হয়েছে, আমরা প্রত্যেকে কি গভীরভাবে চিন্তা করতে পারি না, কোন্ কোন্ স্বর্গীয় কাজগুলি সম্পাদন করতে তাঁর করুণা আমাদিগকে সাহায্য করতে পারে?
বিশ্বের বাহা’ইগণের প্রতি
প্রিয় বাহা’ই বন্ধুগণ,
চারশালা পরিকল্পনার সমাপ্তিপূর্ব ঘটনা বহুল বিগত বছরের অর্জিত সাফল্যসমূহ বিবেচনা করে আমাদের হৃদয়সমূহ আশায় উদ্দীপ্ত হয়েছে। ৮ম আন্তর্জাতিক বাহা’ই সম্মেলনের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বছরগুলিতে বাহা’ই বিশ্বে সৃষ্ট কর্মচাঞ্চল্যের এক উর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে, যা দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। আমাদের সমাজ প্রশংসনীয়ভাবে বর্ধিত হয়েছে। ইহার মানবসম্পদ ব্যাপকভাবে উন্নত হয়েছে। সম্প্রসারণ প্রকল্পসমূহ থেকে দৃঢ়করণের প্রচেষ্টাসমূহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক থেকে বহিঃসম্পর্ক বিষয়, যুবদের সেবাকার্য থেকে শৈল্পিক পরিবেশনা ধর্মের বিশ্বকেন্দ্র থেকে দূরবর্তী গ্রাম বা নগরসমূহ-প্রকৃত পক্ষে যে কোন দিক দিয়ে সমাজকে দেখা হোক না কেন অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। পরিকল্পনার দৃশ্যাবলী মনমুগ্ধকর।
৮ম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সৃষ্ট গতিশীলতা অনতিবিলম্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টাগণের সম্মেলনে সঞ্চারিত হয়ে উহার অক্লান্ত অংশগ্রহণকারীগণকে আরও উদ্দীপ্ত করে এবং মে মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় কনভেনশনসমূহের কার্যাদি পরিচালনায় শক্তি যোগায়। তন্মধ্যে সাবাহ্্ সারাওয়াক ও স্লোভাকিয়া রয়েছে। যারা প্রথমবারের মত মিলিত হয়ে জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহ গঠন করেন। সেই একই শক্তি আন্তর্জাতিক শিক্ষাদান কেন্দ্রে সঞ্চারিত হয় যাঁরা বা’ব এর ঘোষণা বার্ষিকীতে উহার ৬ষ্ঠ কার্যকাল শুরু করে অতি অল্প সময়ে খুবই প্রশংসনীয় কর্মদক্ষতা প্রদর্শন করে যাচ্ছেন। উপদেষ্টা সদস্যগণ তাদের প্রতিষ্ঠানকে সুবিন্যস্ত শক্তিশালীকরণের মনোনিবেশ করতে গিয়ে এই প্রথম বছরে তাদের নিয়মিত ভ্রমণ থেকে বিরত থাকেন। তবে আশা করা যাচ্ছে যে, এরপর থেকে তারা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণে যেতে শুরু করবেন। যাতে করে তাদের শক্তিসঞ্চারকারী প্রভাব চারসালা পরিকল্পনার সফলতাপূর্ণ সমাপ্তি প্রভাবিত করতে পারে।
পবিত্র ভূমিতে এই ঘটনাবলী ছাড়াও কার্মেল পর্বতের ওপর নির্মিয়মান প্রকল্পসমূহ, আন্তর্জাতিক কনভেনশনে আগত প্রতিনিধিগণ এতই আবেগ-আপ্লুত বিষ্ময়ের সাথে অবলোকন করেন, উহা শতাব্দীর সমাপ্তির সঙ্গে সম্পন্ন করার পূর্বে নির্ধারিত সময়ের প্রতি আরও বেগবান হয়েছে। গত রিজওয়ানে সকল নির্মাণ এলাকা উন্মোচিত হওয়ার পর কাজের গতি নতুন মাত্রায় পৌঁচেছে। গ্রন্থসমূহের অধ্যয়ন কেন্দ্র এবং লিপি সংরক্ষনাগারে সম্প্রসারিত অংশ ব্যবহারের জন্য কয়েক সপ্তাহের মধ্যে খুলে দেয়া হবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষাদান কেন্দ্রের বহিঃঅংশ মার্বেল পাথরের আচ্ছাদান সম্পূর্ণ হয়েছে, একই সময়ে, ভেতরের সকল অংশের সমাপনী কাজ এগিয়ে চলছে। যে পথ সেতুটি বা’ব-এর সমাধির ধাপের সমতল ভূমিসমূহকে রাস্তার উভয় পার্শ্বে সংযুক্ত করেছে, সেটির স্থান সংকুলানের জন্য হাটজিওনাট এভেন্যুকে নিচু করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং তা স্বাভাবিক যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সমতল ভূমিসমূহের নয়নার্ভিরাম দৃশ্যের উন্মোচনের ফলে জনসাধারণের মনোযোগ এত বেশি আকৃষ্ট হয়েছে যে, পর্বতোপরি ১৯তম সমতল ভূমি দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে যা এক কৃতজ্ঞ জনতার উৎসাহপূর্ণ সাড়া দিতে হাতছানি দিয়ে যাচ্ছে। শহরের প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের প্রচেষ্টার অংশ স্বরূপ, হাইফার পৌরসভা বা’ব-এর সমাধি এবং পর্বতোপরি সমতল ভূমিসমূহের দৃশ্য সম্বলিত একটি তথ্য পুস্তিকা প্রকাশ করেছে যা হিব্রু ছাড়াও ৫টি প্রধান ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্বকেন্দ্রে সম্পন্ন হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির এমন আরও দুইটি উন্নয়নের উল্লেখ একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছি। প্রথমতঃ তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা প্রতি দলে ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ এ উন্নিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ। ‘সর্বমহান পবিত্রপত্র’ এর সমাধিস্থল সংলগ্ন রাস্তার বিপরীতে অবস্থিত সদ্য অধিগ্রহণকৃত অট্টলিকার সংস্কার কাজ চলছে, সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে। ইহাতে একটি তীর্থযাত্রী সভাস্থল এবং সম্প্রসারিত তীর্থ ভ্রমণ কর্মসূচীর সুবিধাসমূহ থাকবে। দ্বিতীয়তঃ বাহা’উল্লাহ্্র লেখনীসমূহের অনুবাদ এবং তাঁর লেখাসমূহ ইংরেজীতে পুস্তকাকারে প্রকাশের পরিকল্পনাতে যদিও এ প্রক্রিয়া অনিবার্যভাবে ধীরগতি সম্পন্ন এতে লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি হয়েছে। সুরা-ই-মুলূক এবং সুরা-ই-হায়েক্ল্্ এর মত প্রধান ফলকলিপিসমূহ ছাড়াও বিভিন্ন রাজা ও শাসকদের প্রতি লেখা পৃথক পৃথক ফলকলিপিসমূহের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ প্রদানের জন্য প্রচেষ্টা চলছে। এ ছাড়াও এতে সুরা-ই-রা-ইস, লোহ্্্-ই-রা-ইস এবং লোহ্্-ই-ফু-আদ সংযোজনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
পদ্ধতিগত প্রচেষ্টার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বর্ধিতহারে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তার ব্যবহারের মাধ্যমে বাহা’উল্লাহ্্র ধর্ম অপ্রতিরোধ্যভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আরও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ফলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। এদের সংখ্যা বর্তমানে ৩৪৪টি, যার ফলস্বরূপ উত্তর আমেরিকা ও ইরান ব্যতীত যেখানে অসংখ্য শিক্ষাক্রম কার্যকর হয়েছে, ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ হাজার ব্যক্তি কমপক্ষে একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করেছেন, এর সবকিছু ধর্মের সুনিশ্চিত এবং স্বক্রিয় সমর্থকদের বর্ধিষ্ণু সমষ্টিতে অবদান রাখছে। এই অগ্রগতির অব্যক্ত শক্তিসমূহের একটি উদাহরণ, চাঁদ থেকে প্রাপ্ত এক তথ্যবিবরণীতে পাওয়া যায় সেখানে একটি এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীগণের ব্যক্তি উদ্যোগের ফলস্বরূপ ১ হাজারের অধিক ব্যক্তি ধর্মগ্রহণ করেন। মানবসম্পদ উন্নয়নের পদ্ধতিগত কারণের আবশ্যকতা সর্বত্র দৃঢ় হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের কাক্সিক্ষত ফলসমূহ সুনির্শ্চিত করতে, কয়েকটি নির্বাচিত দেশে যেখানকার অবস্থার প্রেক্ষিতে একান্ত প্রয়োজন এবং সম্ভব ছিল, সেখানে আঞ্চলিক বাহা’ই কাউন্সিল বাস্তবায়িত হয়েছে।
একটি কাউন্সিল এবং একটি শিক্ষাদান প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রয়েছে এমন স্থানে ঐ অঞ্চলের সম্প্রসারণ এবং দৃঢ়করণের প্রক্রিয়াসমূহে দ্রুত সংহতি সাধনে এবং স্থানীয় সমাজসমূহের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানসমূহের বাস্তবমুখী শিক্ষাদান সেবার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। এছাড়াও কার্যবিধি অনুযায়ী মহাদেশীয় উপদেষ্টাগণ এবং কাউন্সিলের মধ্যে সরাসরি সহযোগিতা উহার প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ককে আরো উন্নত করেছে যা একই সময়ে কাউন্সিলকে জাতীয় ও স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহের সাথে সংযুক্ত করে আঞ্চলিক পর্যায়ে কার্যসমূহের এক গতিশীল সমন্বয় সাধন করে।
যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের কাজে শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য এবং মহিলাদের উন্নয়নের মত বিষয়সমূহে মনযোগ দিচ্ছে, তারা চিরবর্ধনশীল সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকা-সমূহকেও লাভবান করেছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত কার্যালয়ের আরও ব্যাপক প্রচেষ্টাসমূহ হচ্ছে, এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের সংখ্যা বৃদ্ধির দ্বারা বাহা’ই নীতিসমূহের সাথে সংগতিপূর্ণ বিশ্বজনীন শিক্ষা প্রক্রিয়ার উন্নয়ন সাধন। স্পষ্টভাবেই উন্নয়ন কর্মসূচীসমূহ বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা শক্তিশালী হচ্ছে। বাহা’ই প্রতিষ্ঠানসমূহের গৃহীত প্রকল্পসমূহ এবং ধর্মের দ্বারা অনুপ্রাণিত ব্যক্তি প্রচেষ্টাসমূহে উহা দৃশ্যমান। শেষোক্তটির একটি বিশিষ্ট উদাহরণ হচ্ছে; ইউনিটি কলেজ। প্রথমতঃ ইহা ইথিওপিয়ার একটি পরিবার দ্বারা ত্বরান্বিত হয় এবং ১৯৯৮ এর শেষ থেকে যা দেশের একমাত্র ব্যক্তিমালিকনাধীন কলেজ, যার ছাত্র সংখ্যা বিগত বছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজারে উন্নীত হয়েছে। আরেকটি উদাহরণ ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও উহার গুরুত্ব কোনভাবেই কম নয় যা হচ্ছে, নিউইয়র্কের বাফেলের একটি পরিবারের গৃহীত উদ্যোগ। এখানে তারা তাদের বাড়ীতে শহরের বেশ কিছু শিশু ও যুবকদেরকে আচরণবিধিসহ বাহা’ই আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষাদানের দ্বারা তাদের উন্নয়নে সাহায্য করেছেন, যাতে তারা দারিদ্র ও বর্ণবাদের দ্বারা সৃষ্ট আত্মঘাতী মনোভাব ত্যাগ করতে পারে।
বহিঃসম্পর্কের ক্ষেত্রে ইরানের সংঘঠিত দুইটি মর্মান্তিক ঘটনা দ্বারা প্রাণবন্ত কর্মচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গত জুলাই এ মাশ্্হাদে জনাব রুহুল্লাহ্্ রুহানীর অকস্মাৎ মৃত্যুদ- দেওয়ার ঘটনা যা সরকারীভাবে গত ৬ বছরে প্রথম, বিশ্ববিবেককে প্রবলভাবে নাড়া দেয়, সরকারসমূহ এবং জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠনসমূহে নজিরবিহীন ক্ষোভের সৃষ্টি করে, সেপ্টেম্বরের শেষদিকে বাহা’ই উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর গোয়েন্দা বিভাগ এক আক্রমন পরিচালনা করে, এ সময় তারা ৩৬ জন অনুষদ সদস্যকে গ্রেফতার করে দেশব্যাপী ৫ শতের অধিক বাড়িতে হানা দেয়। শেষোক্ত ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদমুখর জনমত গড়ে তোলে, যা এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে, এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ, সংঘসমূহ, শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্রদলসমূহ অংশ নিচ্ছেন এবং সংবাদ মাধ্যমসমূহ বিশেষ মনযোগ দিয়েছে তন্মধ্যে লে মন্ডে, দি নিউইয়র্ক টাইমস, এবং অন্যান্য বহুল প্রচারিত পত্রিকাসমূহ বেশ কিছু প্রবন্ধের দ্বারা বিষয়টি তুলে ধরেছে। গত ডিসেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইরানের ওপর গৃহীত আরেকটি প্রস্তাব সাফল্যের অনর অধ্যায় যাতে বাহা’ইদের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে যা অবশ্যই এই দুইটি ধর্মীয় নির্দয় নির্যাতনের ঘটনাবলী স্পষ্ট উপস্থাপনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকবে।
আমাদের অবরুদ্ধ ভাইদের রক্ষার্থে বিশ্বের সর্বত্র বন্ধুদের দাবিসমূহ প্রবল হওয়ার পাশাপাশি, বহিঃসম্পর্ক বিষয়ক প্রচেষ্টাসমুহের ব্যাপকতা বৃদ্ধিতে আরও মনযোগ দেয়া হয়েছে। মানবাধিকার শিক্ষার বিকাশে, বাহা’ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জাতিসংঘ কার্যালয়ের আহ্বানে, বেশকিছু জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদের প্রচেষ্টায় সার্বজনীন বিচারালয়ের একজন দূত মি. জিওভান্নী বালেরিও, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপসমূহে চারমাস ব্যাপী এক কার্যক্রম গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি ২২ জন রাষ্ট্রপ্রধান, ৫ জন সরকার প্রধান, ৪০ জনেরও অধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বাহা’ই সমাজের নিমন্ত্রিত অথিতিরূপে ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের সভাসমূহে যোগদেন এবং জাতিগত বৈষ্যমের বছরগুলিতে তাদের মধ্যে বিরাজমান অব্যাহত প্রমাণাদি তুলি ধরতে সক্ষম হন। বলাবাহুল্য, বহিঃসম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভিত্তিক উদ্যোগসমূহে সমাজের নিয়োজিত শক্তিসমূহের উদাহরণ স্বরূপ গণতথ্য প্রকল্পসমূহ সকল মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার লাভ করে।
একটি সুনির্দিষ্ট ঘটনা ছিল ইউরোপে ধর্মের শতবার্ষিকী উদ্্যাপনের জন্য প্যারিসের অনুষ্ঠানে সংগীত শিল্পকলার মত সৃজনশীল মাধ্যমের ব্যবহার । ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে ৬৮ সদস্য বিশিষ্ট বাহা’ই শিল্পীদলের পরিবেশনা ৮টি ইউরোপীয় শহরে অগণিত দর্শকের চিত্তবিনোদন করে এবং বিপুল সংখ্যকের কাছে ধর্মের বাণী পৌঁছে দেয়। গত সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডে ভার্সাই উৎসব নামে পরিচিত সংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, যা সুইডেনের রাণী উদ্বোধন করেন। সেখানে নরওয়ের বাহা’ই কবি লাছেফোরেছেন লিখিত “লাইট এন্ড ফায়ার” এর পূর্ণাঙ্গ নৃত্যাভিনয় সাফল্যজনকভাবে পরিবেশিত হয়। এ শিল্পকর্মটি ইরানের সাম্প্রতিক শহীদের বীরত্ব গাথা নিয়ে রচিত যা দর্শকদের মাঝে ধর্মের ধারণা যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছে। প্রচেষ্টাসমূহের এই বিশেষ ক্ষেত্রে ইউরোপের দর্শনীয় অগ্রণী ভূমিকার আরও স্বীকৃতি পাওয়া গেছে, যখন অষ্ট্রিয়ান চেম্বার মিউজিক উৎসবে মি. খাদেম মিসাগ যিনি একজন বেহালাবাদক এবং সংগঠিত পরিচালককে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি অষ্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ সম্মান অষ্ট্রিয়ান ক্রস ফর সায়েন্স এন্ড আর্টস পদকে ভূষিত করেন। একই উৎসবের একটি অনুষ্ঠানে বাহা’ইসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের পবিত্র বাণীসমূহ আবৃত্তি করা হয়। এছাড়াও বিশ্বের সর্বত্র বাহা’ই যুবগণ ধর্মের প্রচারে শিল্পকলার ব্যবহার দ্বারা যে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন তার কথা অবশ্য উল্লেখ করতে হয়। বিশেষভাবে নৃত্যাভিনয়ের দ্বারা বক্তব্য তুলে ধরার প্রচেষ্টাসমূহ বাহা’ই সমাজে এবং ইহার বাইরে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।
অতঃপর, আমরা দলে দলে অন্তর্ভূক্তির প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে অব্যাহত প্রচেষ্টা এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ দূরদৃষ্টি সম্পন্ন একটি গতিশীল সমাজ হিসেবে এই রিজওয়ান মৌসুমে প্রবেশ করছি।
এভাবে আমরা ইউরোপের তিনটি দেশ লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও মেসেডোনিয়ায় প্রথমবারের মত জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহ গঠনের নির্বাচনী সম্মেলনের দ্বারা প্রশাসনিক শক্তি নিয়ে পরিকল্পনার শেষ বর্ষে প্রবেশ করছি, এর ফলে সার্বজনীন বিচারালয়ের স্তম্ভের সংখ্যা ১৮২তে উন্নিত হবে। তবুও এই উৎসবমুখর মুহূর্তসমূহের উর্ধ্বে কিছু প্রত্যাশা পূরণের জন্য অপেক্ষমান তালিকার প্রথম ও সর্বাগ্রে রয়েছে; ২০০০ সালের রিজওয়ানে চারশালা পরিকল্পনার সমাপ্তি। অতঃপর একই বছরে অঙ্গিকার দিবসে মহাদেশীয় উপদেষ্টা পরিষদের নতুন কার্যকাল শুরু হবে, যখন উহার সকল সদস্যকে বাহা’ই বিশ্বকেন্দ্রে এক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হবে, এতে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বিশ্বব্যাপী শিক্ষাদান ও দৃঢ়করণের পরবর্তী পরিকল্পনাসমূহের পর্যালোচনা করা হবে। উপদেষ্টাগণের সম্মেলন আন্তর্জাতিক শিক্ষাদান কেন্দ্রকে উহার স্থায়ী আসনরূপে প্রতিষ্ঠিত করবে। এ উপলক্ষে সারা বিশ্বের সাহায্যকারী বোর্ডের সদস্য মহাদেশীয় উপদেষ্টাগণের সাথে যোগ দিতে পবিত্র ভূমিতে নিমন্ত্রিত হবেন। ততদিনে কার্মেল পর্বতের প্রকল্পসমূহ সমাপ্ত হবে এবং উহাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটির প্রস্তুতিসমূহ সুসম্পন্ন হবে, এর জন্য ২০০১ সালের ২২ ও ২৩শে মে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। যে সময়ে প্রত্যেক জাতীয় বাহা’ই সম্প্রদায়ের বেশ কিছু প্রতিনিধিকে এতে যোগ দিতে নিমন্ত্রণ করা হবে। এ অনুষ্ঠানের বিস্তারিত যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে।
এই অভাবনীয় ঘটনাসমূহের চিত্র বিংশ শতাব্দী এবং নবজাগরণের সাধারণ যুগ নামে খ্যাত নতুন সহ¯্রবর্ষের সময়কে দ্বিধাগ্রস্থ করেছে। একটি আলোকিত সম্প্রদায়ের দ্বারা গঠনমূলক প্রচেষ্টাসমূহ এবং আতঙ্কগ্রস্থ কোটি কোটি জনতা, যারা সে দিবসের সম্বন্ধে অবগত নন যে দিবসে তারা বসবাস করছেন, তাদের পার্থক্যসমূহ তুলে ধরতে ব্যর্থতার চিত্র। এই শতাব্দীসমূহে বিচ্ছুরিত হবে সে সম্বন্ধে অতি নগণ্য উপলব্ধি নিয়ে প্রকৃত পথ নির্দেশ হারিয়ে ইহার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাসমূহে হতাশাগ্রস্থ হয়ে, তারা শতাব্দীর তীব্র আতঙ্কের মধ্যে বাস করছে। তারা গ্রহের সর্বত্র সংঘটিত সামাজিক অস্থিরতার কারণসমূহ চিহ্নিত করতে ব্যর্থ, বিভ্রান্তির প-িতদের পরামর্শ নিয়ে এবং হতাশার গভীরে নিমজ্জিত হচ্ছে। শেষ বিচারের ভবিষ্যৎ বাণীতে বিচলিত হয়ে, তারা ভ্রান্তভাবে প্রাপ্ত কল্পনার অপচ্ছায়ার সাথে যুদ্ধ করছে। যুগ প্রভু যে পরিবর্তনশীল দূরদৃষ্টি দিয়েছেন, তার সম্বন্ধে কিছুই না জেনে ঈশ্বরের নতুন দিবসের অতুলনীয়তার প্রতি অন্ধ থেকে তারা হোচট খেয়ে চলছে।
একটি পরিকল্পনার সেই উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নে, যার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সেই প্রক্রিয়াকে বেগবান করা যার দ্বারা আরও অধিক সংখ্যক বিশ্ববাসী তাদের অন্বেষণের লক্ষ্য খুঁজে পেতে পারে এবং একটি একতাবদ্ধ শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধশালী জীবন গড়তে পারে তাতে আমাদের সকলের দ্রুত সক্রিয়তা এবং অপ্রশমিত সক্রিয়তা ব্যতিত কোন কিছু হৃদয় ও মনের দুঃখভারাক্রান্ত অবস্থার পরিবর্তন সাধনে সক্ষম নয়।
প্রিয় বন্ধুগণ, একটি তারার ঝিকিমিকির মতই দিনগুলো চলে যাচ্ছে। পরিবর্তনের এই দুর্লভ যুগসন্ধিক্ষণে এতে আপনার চিহ্ন এঁকে দিন যার সমতুল্য যুগ আর কখনোই ফিরে আসবে না। আপনার কাজের দ্বারা সে চিহ্ন সৃষ্টি করুন যা আপনাকে স্বর্গীয় করুণার নিশ্চিয়তা দেবে..........সমগ্র মানবজাতির জন্য সকলে জাগতিক ধারণার উর্ধ্বে একটি ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা আপনি পাবেন।
সর্ববদান্যতার প্রভুর, প্রতি আমাদের মস্তকসমূহ অবনত করছি। চারসাল পরিকল্পনার শুরু হতে প্রভার এই উৎসব পর্যন্ত যে আশ্চর্যজনক পার্থক্য প্রত্যক্ষ করেছি তাতে আমাদের হৃদয়সমূহ কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ে অগ্রগতির অর্জনসমূহ এতই লক্ষণীয় ছিল যে, আমাদের বিশ্ব সম্প্রদায় এমন উচ্চতায় আরোহণ করেছে যেখান থেকে নতুন উজ্জ্বল দিগন্তে উহার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাসমূহ সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে।
সংখ্যাগত পার্থক্য প্রধানত একটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য থেকে উদ্ভুত হয়েছে। বাহা’ই সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি একটি পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা লাভ করেছে। প্রসারিত সার্মথ্য, কার্য সম্পাদনে পদ্ধতিগত আদর্শ এবং পরিকল্পনার তিন অত্যাবশ্যক অংশীদার ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সমাজের প্রাপ্ত বিশ্বাসের গভীরতায় এই পরিবর্তন লক্ষণীয়। এর কারণ এই যে, বন্ধুগণ তাদের জ্ঞান স্বর্গীয় শিক্ষায় সমৃদ্ধ করতে সুস্পষ্টভাবে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করেছেন এবং অনেক শিখেছেন .... এবং তা পূর্বের চেয়ে অধিক পদ্ধিতিগতভাবে ধর্মের প্রসারে তা কেমন করে প্রয়োগ করতে হবে, তাদের ব্যক্তি ও সমষ্টিগত কর্মকা-কে কিভাবে পরিচালনা করতে হবে এবং তাদের প্রতিবেশীদের সাথে কেমন করে কাজ করতে হবে। এক কথায়, তারা একটি শেখার রীতিতে প্রবেশ করেছেন। যা থেকে উদ্দেশ্যপূর্ণ কাজের পশ্চাৎধাবন করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের জন্য প্রধানচালিকা শক্তি ছিল বিশ্বব্যাপী প্রচ- দ্রুততার সাথে স্থাপিত প্রশিক্ষণ ইন্্সটিটিউটটের পদ্ধতির সাফল্য যা প্রসার ও দৃঢ়করণেল ক্ষেত্রে চারসালা পরিকল্পনার একক বৃহত্তম লব্ধ সম্পত্তি হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
ধর্মের শিক্ষাদানে ব্যক্তির বর্ধিত সামর্থ্য,ে যা ব্যক্তি উদ্যোগের প্রবলতায়, বন্ধুগণের প্রচেষ্টাসমূহকে পথ প্রদর্শনে, আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহ, কাউন্সিল এবং কমিটিসমূহের বর্ধিত সামর্থ্যে স্থানীয় সমাজের সম্মিলিত আচরণকে প্রভাবিত করতে, চিন্তা ও কর্মের নতুন আদর্শসমূহের সহিত পরিচয় দেখা গেছে। এমন সকল ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের পদ্ধতি একটি অপরিহার্য চালিকা শক্তি প্রদর্শন করেছে। স্থানীয় অনেক ইন্সটিটিউট অধ্যয়ন চক্রের মাধ্যমে তাদের কার্যবৃদ্ধির দ্বারা বিস্তৃত অঞ্চলসমূহকে কর্মসূচীর আওতায় এনে তাদের সামর্থ্যকে বহুগুণ বৃদ্ধি করেছেন। উদাহরণ স্বরূপ, মঙ্গোলিয়া ১০৬টি অধ্যয়ন চক্র স্থাপন করে, এর ফলে নতুন বিশ্বাসীদের সংখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধি সংযোজিত হয়েছে। এ ধরনের উন্নয়নের সাথে একাত্বতা স্বরূপ, বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায়ের সদস্যগণ প্রার্থনার শক্তি আরোহণে, পবিত্র লেখনীসমূহের ধ্যানে এবং আধ্যাত্মিক সমাবেশসমূহে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক মঙ্গলসমূহ অর্জনে আরো অধিক মনোযোগী হয়েছেন। এই সকল ব্যক্তিগত ও সম্মিলিতভাবে পরিবর্তনের বেগবান বিষয়সমূহের দ্বারা সম্প্রদায়ের আকারবৃদ্ধি প্রাপ্ত হচ্ছে। যদিও নতুন বিশ্বাসীদের সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এপর্যন্ত সামান্য বুদ্ধিপ্রাপ্ত হচ্ছে। যদিও নতুন বিশ্বাসীদের সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এপর্যন্ত সামান্য বুদ্ধি পেয়েছে, ইহা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর যে, এই প্রসার এখন ভৌগলিকভাবে বিস্তৃত, যা সম্প্রদায়ের আরো বৃহত্তর অংশগুলোকে সম্পৃক্ত করেছে এবং নতুন বিশ্বাসীগণকে ধর্মের জীবনের সাথে সাফল্যজনকভাবে বিজড়িত করছে। ধর্মের এই প্রতিশ্রুতিশীল, এই অভাবনীয় অবস্থা ধারণাতীতভাবে উহার পরামর্শ দানকারীগণের প্রভাব, উপদেষ্টাগণের প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতামূলক ভূমিকা এবং বাস্তব কার্যাধির কাছে বিপুলভাবে ঋণী। যা ইন্সটিটিউটসমূহের গঠন ও কার্যকারীতাকে উর্ধ্বে তুলে ধরেছে-যা জাগ্রত ও চির সতর্ক আন্তর্জাতিক শিক্ষাদান কেন্দ্র কর্তৃক পদত্ত একটি সময়োচিত উদ্দীপনার সম্প্রসারণকে মনে করিয়ে দেয়। চারসালা পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় প্রতিপাদ্য দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা ও কর্মের সংযোগ সাধনে একটি উচ্চমাত্রা উপস্থাপন করেছে। ইহা বাহা’ই সম্প্রদায়ের বিবর্তনের একটি বিশাল পর্যায়ের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে, যা অবশ্যই গঠনতান্ত্রিক যুগে অর্জন করতে হবে, কেননা যতক্ষণ না দলে দলে অন্তর্ভূক্তিতে স্থিতিশীল করা যাচ্ছে, দলে দলে ধর্ম গ্রহণের শর্তাবলী পরিপক্কতা লাভ করবে না, যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি শৌগী এফেন্দী তাঁর লেখনীসমূহে করেছেন। পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় বিষয়ে মনোনিবেশ বাহা’ই কর্মকা-ের সকল স্তরকে বিজড়িত করেছে ইহা বোধগম্যতার স্বচ্ছতার একটি ডাক দিয়েছে যা একক ও সম্মিলিত কাজের পূর্ব শর্তরূপে পদ্ধতিগত ও সুষ্ঠু পরিকল্পনাকে সম্ভব করেছে। উন্নয়ন ও বিকাশের প্রক্রিয়াকে চালিয়ে নিয়ে যেতে পদ্ধতিগতকরণ যে কতটা সহায়ক তা নির্ধারণে সমাজের সদস্যগণ ক্রমে ক্রমে এগিয়ে এসেছেন। চেতনার এই জাগরণ একটি বিরাট ধাপ ছিল, যা শিক্ষাদানে কর্মসূচীসমূহের ক্রমোন্নতি এবং সংস্কৃতিতে একটি নতুন পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিয়েছে।
প্রতিপাদ্যের যোগ সূত্রতার বিষয়গুলো পরিকল্পনা গ্রহণ, প্রশাসনিক সামর্থ্য বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রচেষ্টাসমূহে দৃশ্যমান হয়েছে। যে সূতা এই সকলকে গ্রথিত করেছে তা পরিকল্পনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চিহ্নিত করা যেতে পারে। উহার শুরু ছিল পবিত্র ভূমিতে ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত মহাদেশীয় উপদেষ্টা বোর্ডের সম্মেলন। যেখানে উপদেষ্টাগণ পরিকল্পনার বিষয়গুলোর সাথে পরিচিত হয়েছিলেন। এর পরেই ছিল জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদেসমূহের সাথে জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ সভাসমূহে তাদের পরামর্শগুলো যা পর্যায়ক্রমে আঞ্চলিক পর্যায়ে চালিত হয় যখন সাহায্যকারী বোর্ডের সদস্যগণ, স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহ এবং কমিটিগুলোকে সম্পৃক্ত করে। এভাবে সকল পর্যায়ে বাহা’ই প্রশাসনের বিষয়গুলো পরিকল্পনার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয় এবং বাস্তবায়নের ঐ সকল পর্যায় অতিক্রম করে যাতে দলে দলে অন্তভূক্তির সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে প্রশাসনিক দক্ষতা সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়ে দুইটি বিরাট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে; একটি ছিল প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট স্থাপন, অপরটি ছিল আঞ্চলিক বাহা’ই কাউন্সিলসমূহের আনুষ্ঠানিক স্থাপন, জাতীয় ও স্থানীয় স্তরসমূহের মধ্যে প্রশাসনিক ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার জন্য ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছে। কোন কোন সমাজ যেখানে জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহ ক্রমবর্ধমানভাবে প্রশাসনিক জটিলতার সম্মুখিন হয়েছে, সেই সকল স্থানেউহাদের প্রয়োজন দেখা দেয়। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজে প্রয়োগ কৌশল সম্পৃক্ত করা সমানভাবে প্রাসংগিক ছিল। যা দৃঢ়করণে উল্লেখযোগ্য অংশ এরং বহিঃসম্পর্ক প্রচ্ছন্নতা থেকে বেরিয়ে এসে ধর্মকে প্রয়োজনীয় সুফল লাভে সমর্থ করার একটি অপরিহার্য মাধ্যম। উহাদের সম্মিলিত ক্ষমতা প্রশংসনীয় সুফল এনেছে। যার হিসাব এই পৃষ্ঠাগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে। তবুও আমরা পরিকল্পনার কার্যক্ষেত্রে কিছু সংখ্যক সাফল্য উল্লেখ না করে পারছি না।
পবিত্রভূমিতে সমতল ভূমিসমূহ এবং আর্কের ভবনসমূহের নির্মাণ কাজ পূর্ব ঘোষিত সময় অনুযায়ী ইংরেজী বর্ষের শেষ অবধি সমাপ্ত করার সকল নিশ্চয়তা নিয়ে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এছাড়াও আমরা আমাদের গত রিজওয়ান বার্তায় তীর্থযাত্রীদের দলের বর্ধিত সংখ্যার কথা উল্লেখ করে হাইফায় অবস্থিত যে ভবনটির সমন্ধে বলেছিলাম, তা এই রিজওয়ানে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রয়েচে। একই প্রসঙ্গে বাহ্জিতে তীর্থ ভ্রমণকারী এবং অন্যান্য বাহা’ই ও অবাহা’ই পরিদর্শকদের স্থান সংকুলানের জন্য অতি প্রয়োজনীয় যে সুবিধাদি নির্মাণ করতে হবে তার স্থাপত্য নকশা অনুমোদন করা হয়েছে। বাহা’উল্লাহ্র লেখনীসমূহের কাক্সিক্ষত নতুন গ্রন্থের জন্য মূল লেখনীসমূহের অনুবাদ সম্পন্ন হয়েছে এবং উহা প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে উল্লেখিত পথ ছাড়াও নানাভাবে প্রসার ও দৃঢ়করণে দীর্ঘ পদক্ষেপসমূহ পরিলক্ষিত হয়েছে; পথিকৃতে, ঘোষণায়, সাহিত্য প্রকাশনায়, শিল্পকলার ব্যবহারে, স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহ গঠন এবং বাহা’ই অধ্যয়নসমূহের সংঘসমূহের অগ্রযাত্রায়। প্রায় তিন হাজার তিনশত জন বিশ্বাসী দীর্ঘ ও স্বল্প মেয়াদী আন্তর্জাতিক পথিকৃত হয়েছেন। অনেক দেশে যারা সাধারণতঃ গ্রহিতা ছিলেন, তারা বিদেশে পথিকৃত পাঠিয়েছেন। যা জাতীয় সম্প্রদায়সমূহের পরিপক্কতার ঈঙ্গিত দেয়। সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত আদেশের প্রতি আন্তরিকতার সাথে সাড়া দিয়ে কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমাজগুলো পথিকৃতের সংখ্য বহুগুণ বৃদ্ধি করেছেন। যারা তাদের সমূদ্রের তীরসমূহ ত্যাগ করেছেন এবং আরও অধিক সংখ্যায় ভ্রাম্যামাণ শিক্ষক হয়েছেন।
এদের মধ্যে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। আরও বিশেষভাবে উল্লেখ ছিল আফ্রিকায় বাহা’ই শিক্ষক প্রেরণের আহ্বানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকার বংশদ্ভুত বিশ্বাসীগণের উৎসাহপূর্ণ সাড়া দান।
ধর্মের ঘোষণা কার্যে একটি বৈচিত্র্যের সমাবেশ ছিল, তন্নধ্যে বহুবিধ অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল-বার্ষিকী উদ্যাপন, স্বরণ সভা, আলোচনা সভা, প্রদর্শনী এবং তদ্রুপ অনুষ্ঠানাদি যা দ্বারা বিপুল সংখ্যক লোকদের ধর্মের শিক্ষাসমূহের সাথে পরিচিত করা সম্ভব হয়েছে। উপাসনালয়সমূহে পরিদর্শকগণের জন্য চুম্বুকীয় কেন্দ্র স্বরূপ ছিল, যারা বর্ধিত সংখ্যায় উহাদের দ্বারসমূহে প্রবেশ করেছে, বিশেষ করে ভারতে যেখানে গত এক বছরে প্রায় ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ লোক অভ্যর্থনা পেয়েছেন।এই ধরনের কার্যাদি বিভিন্ন গণমাধ্যমের ব্যবহারের দ্বারা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ষাট হাজার অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তি জাতীয় শিক্ষা সমিতি আয়োজিত গণমাধ্যমের প্রতি সাড়া দিয়েছেন। গণমাধ্যমসমূহ পূর্বের চেয়ে অধিকহারে অপ্রার্থিত সহানুভূতিশীল প্রবন্ধগুলোর প্রকাশের মাধ্যমে ধর্মের জ্ঞান বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করেছে। পরিচিতি প্রস্তুত করার এমনই একটি দিক ছিল কঙ্গো গণতান্ত্রীক প্রজাতন্ত্র এবং লাইবেরিয়ার মতো দেশসমূহে বেতার ও টেলিভিশনসমূহের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাহা’ই অনুষ্ঠানাদি প্রচারে আগ্রহ প্রকাশ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসমূহের নিরপেক্ষ পছন্দ ২০০০ সালের আগমন উপলক্ষ্যে পবিত্র ভূমির অংশ বিশেষ সম্প্রচারকালে মহান বা’ব এর সমাধি এবং সমতল ভূমিসমূহের ব্যবহার এমন ঘটনাসমূহকে মর্যাদাপূর্ণ করেছে।
বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায়ের ধর্মের ঘোষণা, শিক্ষাদান জ্ঞানগভীরকরণ এবং আধ্যাত্মিক কর্মকা-ে শিল্পকলার ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। শিল্পকলা তরুণদের আকর্ষণ করেছে। যারা এগুলো তাদের শিক্ষাদান ও জ্ঞান গভীরকরণ কার্যসমূহে ব্যবহার করেছে, প্রধানত যা বিশ্বের অনেকাংশে বহু সংখ্যক অভিনয় ও নৃত্য কর্মশালার মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু শিল্পকলার গতিশীলতা সঙ্গীত ও নৃত্যের দ্বারা কল্পিত কার্যাবলী থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেছে যা লোকদেরকে ধর্মের সাথে সংযুক্ত করেছে। উদাহরণ, বিশেষভাবে আফ্রিকায় যেখানে লেকাশিল্পকে ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে শিক্ষাদান কার্য অনেকাংশে বর্ধিত হয়েছে। উদাহরণসম্বরূপ, ঘানা এবং লাইব্রেরিয়া, প্রত্যেকে শিক্ষাদান কাজে শিল্পকলার উন্নয়নে একটি করে ‘লাইট অব ইউনিটি’ প্রকল্প স্থাপন করে। ভারতে সাম্প্রদায়িকসম্প্রীতি দলটির একই উদ্দেশ্য ছিল।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপদেষ্টাগণের আহ্বানে এবং মহাদেশীয় অর্থভা-ারের সহযোগীতায় বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকায় বাহা’ই পুস্তকাবলীর অনুবাদ ও প্রকাশনায় গতি সঞ্চার হয়েছে। এছাড়াও কিতাবই আক্বদাস সম্পূর্ণ আরবী এবং অন্যান্য ভাষায় বের হয়েছে।
আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহের গঠন রিজওয়ানের প্রথম দিবসে নির্ধারিত হয়েছে, যা ১৯৯৭ সাল থেকে কার্যকর হয়েছে। যদিও ঐ প্রতিষ্ঠানসমূহ পূর্ব অনুমিত সংখ্যা হ্রাস পেলেও ইহার নি¤œ গতিতে তীব্রতা ছিল না। সংখ্যা একটি পর্যায়ে দৃঢ়তা পেয়েছে এবং দৃঢ়করণের একটি সুষ্ঠু প্রক্রিয়া সেখানে স্থান করে নিয়েছে। সার্বজনীন বিচারালয়ের আটটি নতুন স্তম্ভ উত্থিত হয়েছে, যার দ্বারা জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদের সংখ্যা ১৮১ তে উন্নীত হয়েছে। এই চার বছরে আলোচনামূলক সভার বৃদ্ধি বিশেষভাবে সন্তোষজনক ছিল, পা-িত্যপূর্ণ বাহা’ই কর্মকা- যা ধর্মের কাজে বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তিসমূহকে দৃঢ়তর করার অত্যাবশ্যক কাজকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। বাহা’ই সাহিত্যের হৃদয়স্পশী সমৃদ্ধি লাভ এবং বাহা’ই নীতিসমূহের আলোকে সমকালীন বিভিন্ন সমস্যাগুলো পরীক্ষা করে দেখার জন্য একটি গবেষণাম-লীর উপস্থাপনা ছিল দুইটি অমূল্য অর্জন। বাহা’ই অধ্যয়ন সংঘসমূহের নেটওয়ার্ক এ বছর ইহার পঁচিশতম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদ্্যাপন করে এই পরিকল্পনায় পাঁচটি নতুন প্রতিষ্ঠানকে স্বাগত জানিয়েছে। জাতিগত বৈচিত্র্য এবং সৃজনশীলতার প্রতি মনোযোগ সহকারে সেবার ক্ষেত্রে যা দুষ্টি আকর্ষণ করেছে তা হল পাপুয়া নিউগিনিতে বাহা’ই গ্রন্থাবলী অধ্যয়নে প্রথম সম্মেলন এবং জাপানী সংঘসমূহ কর্তৃক প্রচলিত জাপানী পা-িত্যের আধ্যাত্মিক উৎপত্তি অনুসন্ধানের প্রতি আলোকপাত।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রকল্পসমূহের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সন্তোষজনক হওয়া সত্বেও গুণগত দিক দিয়ে সেগুলো সিদ্ধান্তের প্রতি সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। বার্ষিক প্রতিবেদনে উহাদের সংখ্যা পরিকল্পনার শুরুতে ছিল ১৩৫০ যা উহার শেষে বৃদ্ধি পেয়ে ১৮০০ এর অধিক হয়েছে। এই সময়ে অধিকতর পদ্ধতিগত হওয়ার আন্দোলন কাজের ধারাসমূহকে প্রভাবিত করেছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নীতিসমূহের পরামর্শ ও কাজে উৎসাহদানে বাহা’ই বিশ্বকেন্দ্রে অবস্থিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যালয় ১৩টি আঞ্চলিক শিক্ষা সম্মেলনের আয়োজন করে। যেগুলোতে প্রায় ৬০টি দেশ থেকে আগত ৭০০ জন অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া এ কার্যালয় পথ নির্দেশনা প্রকল্পসমূহ এবং উহাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রীসমূহের ব্যবস্থা করে যা যুবদের ক্ষমতায়ন এবং স্বাক্ষরতা, সমাজ স্বাস্থ্য কর্মী প্রশিক্ষণ, মহিলাদের এগিয়ে নেয়া এবং নৈতিক শিক্ষার জন্য সংগঠিত আন্দোলনসমূহের সহায়ক হয়েছে। একটি উদাহরণ ছিল, গিনির অনুষ্ঠান যা ১৫০০ এর অধিক স্বাক্ষরতা সাহায্যকারীকে প্রশিক্ষণ দেয়, অপরটি হচ্ছে মালয়েশিয়ায় নারীদের অগ্রযাত্রার জন্য একটি পাঠ্যবিষয় সম্পন্ন হওয়া যা এশিয়া, আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকায় অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ভিত্তি রচনা করে। পানামার গুয়াইমী অঞ্চলের বাহা’ই বেতার কেন্দ্রসমূহকে ইন্সটিটিউট প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা একটি উদ্যোগ নেয়া হয়।
যেহেতু সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দানে ইন্সিিটটিউটসমূহের সামর্থ্য রয়েছে, এ লক্ষ্যে একটি আন্দলোনে বারটি ইন্সটিটিউট সম্পৃক্ত হয়, যা বর্তমানে সকল ক্ষেত্রের প্রচেষ্টাসমূহের পরিক্ষা নিরিক্ষা চালাচ্ছে। তন্নোধ্যে রয়েছে স্বাক্ষরতা, শিক্ষাদান, সমাজ স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ। বাহা’ই আয়োজিত এবং বাহা’ই অনুপ্রাণিত বেশ কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রকল্পে আত্মনিয়োগ করেছে, তন্নধ্যে একটি ছিল বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগীতাকে সম্পৃক্ত করে ক্যামেরুনে রিভার ব্লাইন্ডনেস রোগ প্রতিরোধপ্রকল্প। ৩০০০০এর অধিক ব্যক্তি এই বাহা’ই প্রকল্প থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা লাভ করে। ইথিওপিয়ার ব্যক্তি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয় আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যার শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮০০০এ উন্নীত হয়েছে অপটি সুইজারল্যান্ডের ল্যান্ডেগ একাডেমী যাইহার প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠানমালা বিকাশ ও প্রতিষ্ঠানের সাথে সাথে বলকান দেশসমূহে যুদ্ধ থেকে উদ্ভুত আতঙ্কগ্রস্থ সামাজিক অবস্থা থেকে অব্যহতি পেতে চলমান প্রচেষ্টাসমূহে সহযোগীতার জন্য উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া আরও একটি হলো, বলিভিয়ার নূর বিশ্ববিদ্যালয়। যা ইকুয়েডরে একটি সহযোগীতা প্রকল্পের দ্বারা সৎ নেতৃত্ব কার্যক্রমের আওতায় ১০০০ এরও অধিক স্কুল শিক্ষককে প্রশিক্ষণ সুবিধা দিয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের এই ক্ষেত্রে সামর্থ্য গড়ে তোলার এই সকল প্রমাণাদি পরিকল্পনার লক্ষ্যসমূহকে বিপুলভাবে লাভবান করেছে।
একইভাবে ১৯৯৪ সালে জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহের সাথে বহিঃসম্পর্ক বিষয়ে কৌশলগত পথ নির্দেশ দ্বারা পরিচালিত হয়ে কুটনৈতিক এবং গণতথ্য ক্ষেত্রে সমাজসমূহের সামর্থ্য আশ্চর্যজনকভাবে প্রসারিত হয়েছে যা বাহা’ই সমাজকে জাতিসংঘ, সরকারসমূহ বেসরকারী সংস্থাসমূহ (এন, জি, ও) এবং গণমাধ্যমের সাথে একটি গতিশীর সম্পর্কে পৌঁছে দিয়েছে।
জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কার্যাবলী দুইটি মূল বিষয়ে আলোকপাত করেঃ বিশ্বশান্তির জন্য প্রক্রিয়াসমূহকে প্রভাবিত করা এবং ধর্মের প্রতিরক্ষা। ইরানে আমাদের প্রিয়তম সমধর্ম বিশ্বাসীদের রক্ষায় যে সকল পদক্ষেপ নেওয়ার দ্বারা বাহা’ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এক নতুন মাত্রার সম্মান ও সমর্থন অর্জন করেছে যা ভবিষ্যৎ পদক্ষেপসমূহের অন্যান্য লক্ষ্যে সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ইরানের অপ্রশমিত অবস্থার প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমে আমাদের প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বহিঃসম্পর্ক বিষয়ক অঙ্গ সংগঠনগুলো জাতীসংঘ ও সরকারসমূহের বর্তমানসুযোগগুলো ব্যবহারের জন্য নতুন নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন। ইরানে নির্যাতনের ঘটনাসমুহ গ্রহের সর্বোচ্চ প্রশাসনসমূহের মনোযোগ লাভ করেছে। যদিও ইরানের একটি আদালত কর্তৃক বন্ধুদের দুইজনের মৃত্যু দ-াদেশ পূর্ণঃ নিশ্চিত করা এবং তৃতীয় জনকে একই দ-াদেশ দেওয়ার খবরে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং তিনি স্পষ্টভাবে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এবং জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের ফলে ইরানে বাহা’ইদের মৃত্যুদ-সমূহ বস্তুতঃ বন্ধ হয়েছে এবং দীর্ঘ মেয়াদী কারাদ-াদেশ প্রাপ্তদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এই সকল হস্তক্ষেপকে স্বাগত জানানোর সাথে সাথে ইরানে আমাদের ভ্রাতা ও ভগ্নিদের আত্মত্যাগের মহিমা, কষ্ট সহিষ্ণুতা, অজেয় ধর্ম বিশ্বাসের উচ্চ প্রশংসা করছি যা এই পদক্ষেপসমূহকে এত শক্তিশালী করেছে। তাদের প্রতি এত লাম্পট্যপূর্ণ এবং নির্দয় আক্রমণ সত্ত্বেও আত্মাসমূহের এই গুণাবলীগুলো তাদের স্বদেশীয়দের হতভম্ব করেছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে এত বিশাল সংখ্যার সামনে এত অল্প সংখ্যকের টিকে থাকার বর্ণনা আর কে কিভাবে দিতে পারে? যখন কোন এক জন মৃত্যুর হুমকীর সম্মুখীন হয় তখন এছাড়া আর কিভাবে সক্রিয় বিশ্ব বিবেবকে জাগিয়ে তোলা সম্ভব? ইরানের জন্য দুঃখজনক অবস্থা এই যে, আক্রমণকারীগণ এখও এটা দেখতে ব্যর্থ হয়েছে যে, স্বর্গীয় নীতির কারণেএই নির্যাতিতিগণ সহায় সম্পত্তি এমনকি জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিচ্ছেন তারই মধ্যে এই অসন্তোষ পূর্ণ সময়ের একটি অতৃপ্ত জনতার প্রবল ইচ্ছাগুলো পূর্ণ করার সকল সমাধান বিদ্যমান। কিন্তু পরিকল্পিত অত্যাচারের মাত্রা যাই হো না কেন সন্দেহাতীতভাবে আমাদের ইরানী বন্ধুগণ যে নিষ্ঠুরতার শিকারে পরিণত হয়েছেন, সর্বশক্তিমানের নিয়ন্ত্রণের শক্তির রহস্যময় ঘটনার দ্বারা তাদের নিশ্চিত লক্ষ্যে সকল প্রতিশ্রুতি মহিমার কাছে আত্মসর্মপন করবে।
বহিঃসম্পর্ক বিষয়ক কার্যক্রমের অপরটি হচ্ছে চার প্রতিপাদ্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কার্যবিধির প্রতি লক্ষ্য রাখা মানবাধিকার, মহিলাদের সামাজিক মর্যাদা, বিশ্বজনীন সমৃদ্ধি এবং নৈতিক মূল্যবোধের উন্নয়ন। আমাদের নথিসমূহে মানবাধিকার এবং নারীর সামাজিক মর্যাদার উপর কর্মসমূহের অসংখ্য পদক্ষেপ দেখতে পাই। প্রথমটির দিকে তাকালে দেখতে পাই যে, জাতিসংঘ কার্যালয় মানবাধিকার শিক্ষাদানেএকটি সৃজনশীল অনুষ্ঠান চালিয়েছিল যা এ পর্যন্ত ৯৯টি স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদের কুটনৈতিক কাজে দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। নরীর সামাজিক মর্যাদার বিষয়ে নারীদের এগিয়ে নেয়ার জন্য বর্তমানের ৫২ টি জাতীয় কার্যালয়, সকল স্তরের কর্মশালা এবং সম্মেলনে অসংখ্য বাহা’ই মহিলা ও পুরুষদের অবদানসমূহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (এন, জি, ও) সমিতিসমূহের পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বাহা’ই প্রতিনিধিদের নিয়োগ দান। তন্মেধ্যে একটি যা ইউনাইটেড ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট ফান্ড ফর উইমেন দেখিয়েছে সমানাধিকারের নীতিতে কত অধ্যাবসায়ের সাথে বাস্তবায়ন করছেন।
একই সময়ে বিভিন্ন জনগোষ্ঠির মধ্যে বাহা’ই ধর্ম সম্পর্কে তথ্যাদি ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগসমূহের একটি সমাহার দেখতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে এমন সব উদ্ভাবনামূরক পদক্ষেপসমূহ রয়েছে যেমন, বাহা’ই ওয়ার্ল্ড সাইড এর প্রতিষ্ঠা, যা ইতিমধ্যে প্রতিমাসে ২৫০০০দর্শকের গড় দিচ্ছে; ভবিষ্যৎ কে লিখছেন? শীর্ষক লিখিত বিবৃতির প্রকাশ যা বন্ধুগণকে সর্বত্র সমকালীন সমস্যাগুলোর কথা বলতে সাহায্য করছে; গত নভেম্বর থেকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েভের মাধ্যমে ‘পায়াম-ই-দুস্ত’ এর বেতার সম্প্রচার ফারসী ভাষায় ওয়াশিংটন ডি.সি. মেট্রোপলিটন এলাকার এক ঘন্টা সাপ্তাহিক বেতার অনুষ্ঠান, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সব সময় পাওয়া যাচ্ছে এবং খুবই উচ্চ মাত্রার টেলিভিশন অনুষ্ঠানের প্রচার যা দৈনন্দিন সমস্যাগুলোতে সৎ গুণাবলী উপস্থাপন করে যাচ্ছে, যা আলবেনিয়া, বসনিয়া, হারজেগোভিনা, বুলগেরিয়া, ক্রোয়োশিয়া, হাঙ্গেরি, রুমানিয়া, স্লোভাকিয়া, প্রাক্তন মেসেডোনিয়ার যুগস্লাভ রিপাবলিকের সরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূয়সি প্রশংসা অর্জন করেছে।
শতাব্দি তার সমাপ্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে একটি অভাবনীয় বিষয় শক্তি সঞ্চার করেছে। যা ‘অর্গানাইজেশন অব সিভিল সোসাইটি’ নামে পরিচিত। যেখানে পৃথিবীর জনগণ তাদের আশা আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করার জন্য উত্থিত হয়েছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসাবে সর্বত্র বসবাসকারীগণের জন্য ইহা অত্যন্ত সন্তোষজনক যে, বাহা’ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মানবজাতির সর্বস্তরের জনগণের সমন্বয়ে গঠিত যা মানবজাতির ভবিষ্যৎ রচনার লক্ষ্যে বড় বড় আলোচনায় একতা সৃষ্টিকারী মাধ্যমরূপে এমন বিশ্বস্ততা অর্জন করেছে।
জাতিসংঘে আমাদের প্রধান প্রতিনিধিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের কমিটির সহ-সভাপতির আসনে নিয়োগ করা হয় এমন একটি আসন; যা বাহা’ই আন্তর্জাতিক সমাজকে অর্গানাইজেশন অব মিলেনিয়াম ফোরামে একটি নেতৃত্বশীল ভূমিকা দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনান এই সমাবেশ অহ্বান করেছেন এবং তা মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য অর্গানাইজেশন অব সিভিল সোসাইটিকে বিশ্বব্যাপী সমাজসমূহের উপর মতামতগুলোর প্রস্তাবনাসমূহকে বিধিবদ্ধ করার একটি সুযোগ এন দেবে, যা অতঃপর এ বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সকল রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধানদের মিলেলিয়াম সামিট এ উপস্থাপিত হবে।
বিশ্বের আধ্যাত্মিক পরিম-লে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনগুলোর প্রতি মানবজাতির জাগরণ বাহা’ইগণের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আন্তঃধর্মীয় আলোচনা প্রবলতর হয়েছে। চারসালা পরিকল্পনাকালে একটি স্বীকৃত অংশগ্রহণকারীরূপে ইহা ধর্মকে বর্ধিত হারে সম্পৃক্ত করেছে। গত ডিসেম্বরে কেপটাউনে দি পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড রিলিজিওন প্রায় ছয় হাজার অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়। যাদের মধ্যে বাহা’ইগণের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আন্তর্জাতিক বোর্ড অব ডাইরেকটরের সেবাদানকারী বাহা’ইগণ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। ১৮৯৩ সালে শিকাগোতে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্টে প্রথমবারের মত পাশ্চত্যের একটি গণসমাজে বাহা’উল্লাহ্র নাম উল্লেখের ঘটনা তেকে এই উপলক্ষ্যের প্রতি বাহা’ইগণ আগ্রহান্বিত হন। গত নভেম্বরে জর্ডানে অনুষ্টিত দুইটি আন্তঃধর্মীয় আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীগণের মধ্যে বাহা’ইগণ ছিলেন। এই সম্মেলনের বিষয় ছিল মধ্যপ্রাচ্য ‘ধর্ম এবং সংঘাত’ এবং ধর্ম ও শান্তির উপর ওয়ার্ল্ড কনফারেন্সের বার্ষিক সভা। ভ্যাটিক্যানসিটি এবং দিল্লীতে রোমান ক্যাথলিক চার্চ আয়োজিত অনুষ্ঠানসমূহে বাহা’ই প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। শেষোক্ত অনুষ্ঠানে পোপ জন পল দ্বিতীয় এর উপস্থিতিতে সমাবেশে বক্তব্যদানকারী ধর্মসমূহের প্রতিনিধিগণের মধ্যে একজন ছিলেন উপদেষ্টা জিনা সোরাবজী। যুক্তরাজ্যে ধর্মকে জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হয়েছে। যখন বাহা’ই প্রতিনিধিগণ নতুন সহ¯্রাব্দে আন্তঃধর্মীয় উদ্যাপনের জন্য আটটি অন্য ধর্মের সদস্যদের সঙ্গে ওয়েস্ট মিন্সটার প্রাসাদের রাজকীয় মিলনায়তনে মিলিত হন, যেখানে, রাজপরিবারের সদস্যগণ প্রধানমন্ত্রী,. আর্ক বিশপ অব কান্টেরবারী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের নয়টি প্রধান বৃহৎ ধর্মের প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়। জার্মানীতে প্রথমবারের মতো একটি আন্তঃধর্মীয় আলোচনায় বাহা’ইগণকে সম্পৃক্ত করা হয়। এই ঘটনা খৃষ্টান ধর্ম সম্প্রদায়ের এই ধর্মের সাথে যোগাযোগ না রাখার দীর্ঘদিনের মনোভাবে আমূল পরিবর্তন এনেছে, একজন অঙ্গীকার ভঙ্গকারী লিখিত এবং লুথেরান পাবলিশিং হাউস কর্তৃক ১৯৮১ সালে প্রকাশিত একটি বই যার জন্য দায়ী। তিনজন বাহা’ই কর্তৃক যুক্তি দ্বারা খ-িত লেখা এবং একটি নেতৃস্থানীয় অবাহা’ই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ছয়শত পৃষ্ঠা বিশিষ্ট পুস্তক দ্বারা উহার সমাধান হয়েছে, যা জার্মান বাহা’ই সম্প্রদায়ের একটি দর্শনীয় বিজয় বলে গণ্য হয়েছে। ১৯৯৮ সালে ল্যামবেথ প্রাসাদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ব্যাংক এবং নয়টি প্রধান ধর্মের প্রতিনিধিদের সভায় আন্তঃধর্মীয় আলোচনা একটি নতুন রূপ লাভ করে, যা বিশ্ব ধর্মসমূহের আলোচনা উন্নয়ন (ডড়ৎষফ ঋধরঃয উবাবষড়ঢ়সবহঃ উরধষড়মঁব) গঠনের দিকে নিয়ে যায়। আলোচনার এই ঘোষণার লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বব্যাংক ও ধর্মীয় সম্প্রদায়সমূহের মধ্যকার দূরত্বে সেতুবন্ধন রচনা করা যেন বিশ্বের দারিদ্র বিমোচনে আরও কার্যকরভাবে কাজ করা যেতে পারে। আন্তঃধর্মীয় সমাবেশের অনুষ্ঠান সংখ্যা এবং ব্যাপক গ্রহণশীলতা ধর্মসমূহের পরস্পর সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দৃশ্যের চিত্রায়ন করেছে। ইহা দৃশ্যমান যে, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়সমূহ তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক মনোভাব লাভ করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে, যা বাহা’উল্লাহ্ তাঁর অনুসারীগণকে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের প্রতি প্রদর্শনের জন্য আহ্বান করেছেন।
এই চার বছরে বাহা’ই সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টগুলো এমন এক সময়ে সংঘঠিত হয়েছে যখন বাইরের সমাজ পরস্পর বিরোধী স্বার্থের ¯্রােতে থেমে আছে। এই সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত গতিময় সময়ে যে শক্তিসমূহ বাহা’ই সম্প্রদায় এবং বিশ্বব্যাপী সক্রিয় রয়েছে তা প্রচ- গতিতে এগিয়ে গেছে। উহাদের জাগরণে সমাজের চিত্র অতীতের সকল সময়ের চেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে। শৌগী এফেন্দী যার পরোক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
প্রায় ছয় দশকের অধিককাল পূর্বে তিনি এই বলে মনোযোগী হতে অহ্বান করেছিলেন যে, উত্থান ও পতন একত্রিতকরণ, বিচ্ছিন্নতা, শৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলার যুগপৎ প্রক্রিয়া অবিরাম এবং পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। এই যমজ প্রক্রিয়া বাহা’ই সম্প্রদায়ের ঘটনাবলী থেকে বিচ্ছিন্নভাবে সংগঠিত হয় নাই, কিন্তু সময় এমনভাবে এগিয়ে গেছে যে, উহেিত ইতিমধ্যে সক্রিয়ভাবে ধর্মের সম্পৃক্ততার আহ্বান এসেছে। সময়ের সরু পথে বিপরীতমুখী দৌড় বলে মনে হয়েছে। এক দিকে রয়েছে, প্রায় চল্লিশটি স্থানে ধর্ম, রাজনীতি বর্ণ অথবা গোত্রগত সংঘাত থেকে সৃষ্টযুদ্ধ; হঠাৎ করে আইন শৃংখলার অবনতি বেশ কিছু দেশকে সম্পূর্ণ পঙ্গু করে দিয়েছে; রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে সন্ত্রাস মহামারী আকার ধারণ করেছে; আন্তর্জাতিক দুস্কৃতিকারীদের সংঘবদ্ধ চক্র সাড়া জাগিয়েছে। তা সত্ত্বেও অপরদিকে, সম্মিলিত নিরাপত্তার পদ্ধতিসমূহের উন্নয়ন ও প্রয়োগের জন্য আগ্রহপূর্ণ প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে; যা শান্তি বজায় রাখতে বাহা’উল্লাহ্ প্রদক্ত ব্যবস্থাপত্রগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠার অহ্বান জানানো হয়েছে; বিশ্বের সমস্যাগুলো নিরসনে একটি যথার্থ পদ্ধতি অত্যাবশ্যক প্রয়োজনের উপর মনোযোগ নিবদ্ধ করতে বিশ্বনেতৃবর্গ মিলেনিয়াম সামিটে মিলিত হবেন; যোগাযোগের নতুন পদ্ধতি গ্রহের প্রত্যেকের জন্য যে কোন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ স্থাপনের পথ খুলে দিয়েছে। এশিয়ার অর্থনৈতিক বিছিন্নতা বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার হুমকী দিয়েছে। কিন্তু উহার তড়িৎ প্রচেষ্টা একদিকে তাৎক্ষণিক অবস্থার নিরসন করেছে এবং অপরদিকে আন্তর্জাতিক অর্থ ও বাণিজ্যে ন্যায়পরায়ণতার চেতনা নিয়ে আশার পথ খুঁজছে। এগুলো এই সময়ে দুইটি বিপরীত মুখী অথচ পরস্পরের উপর ক্রিয়াশীল শক্তিগুলোর কয়েকটি উদাহরণ মাত্র। ঈশ্বরের বৃহত্তর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শৌগী এফন্দীকে প্রেরণাদানকারী নিয়োজিত শক্তিসমূহের নিশ্চয়তা দান করে “যার শেষ লক্ষ্য হচ্ছে মানবজাতির একতা এবং সকল মানবের শান্তি।”
এই চারটি ঘটনাবহুল বছরের শেষে আমরা খৃষ্টীয় সময় এবং বাহা’ই যুগের হিসাবে শেষ এবং শুরুর এক অসাধারণ বিন্দুতে এসে পৌঁছেছি। এক দিকে এই বিন্দু বিংশ শতাব্দীকে গুটিয়ে ফেলেছে, অপর দিকে গঠনতান্ত্রিক যুগের এক নতুন পর্যায় উন্মোচন করছে। সময়ের এই দুইটি বেষ্টণীর যে দৃশ্য আমাদেরকে বিশ্ব গঠনকারী প্রবণতার প্রতি মনোযোগী হতে তৎপর করে তা কাল উপযোগী করেছে এবং তা করতে গিয়ে শৌগী এফেন্দী কর্তক এত সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত তার দূর দৃষ্টির আলোকে তাঁরই ধারণা মতো আর্কের কাজ করা হয়েছে। পরিকল্পনা চলাকালীন সময়ে কার্মেল পর্বতের উপর নির্মাণ কাজ এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে দূর দৃষ্টি একটি উজ্জ্বল স্বচ্ছতা লাভ করে। যখন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বিশ্ব রাজনীতির কাঠামোকে নতুনভাবে সাজাতে বিরাট পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং যখন স্থানীয় ও জাতীয় বাহা’ই প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের বিবর্তনে নতুন স্তরে পৌঁছেছে। আমরা আমাদের সাথে বিংশ শতাব্দীর একটি পবিত্র ও স্থায়ী স্মৃতি বয়ে চলেছি যা আমাদের শক্তিসমূহকে নাড়া দেয় এমনকি আমাদের পথ নির্দেশ করে। ইহা মানবজাতির ইতিহাসে সেই প্রাথমিক মূহুর্ত যখন বাহা’উল্লাহ্র অঙ্গিকারের কেন্দ্র একটি অতুলনীয় দায়িত্ব পালনকালে একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার নকশা তৈরী করেছিলেন এবং এর পরেই সবচাইতে দুর্যোগপূর্ণ বছরগুলোতে যখন ধর্মের অভিভাবক একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থার কাঠামো গড়ে তুলতে তাঁর সমস্ত শক্তি বিলিয়ে দিয়েছেন, যা শতাব্দির শেষে উহার প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পূর্ণতা বিশ্বের সামনে স্থাপিত করেছে।
এভাবে আমরা সময়ের মধ্যবতী সেতুতে উপস্থিত হয়েছি। বাহা’উল্লাহ্র মুষ্টিমেয় উল্লোসিত প্রেমিকের শতাব্দী ব্যাপী সংগ্রাম ও ত্যাগের দ্বারা অর্জিত সামর্থ্যগুলোকে গঠনতান্ত্রিক যুগের অবশিষ্ট বছরগুলোর অপরিহার্য কার্যসমূহে অবশ্যই প্রয়োগ করতে হবে। যার অবিরাম শ্রমের অনেক ঘটনা আমাদেরকে সোনালী যুগে নিয়ে যাবে। যখন সর্বমহান শান্তি পৃথিবীকে আবেষ্টন করবে।
এই রিজওয়ানে আমরা একটি বার মাসের পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করছি। যদিও ইহা সংক্ষিপ্ত, পরবর্তী ২০ বছরে মাস্টার-এর স্বর্গীয় পরিকল্পনার ভিত্তি রচনা করতে এবং কিছু একান্ত প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদনে অবশ্যই পর্যাপ্ত হবে। যা এত সতর্কতার সাথে চার বছর পূর্বে আরম্ভ হয়েছিল জ্ঞান, গুণাবলী ও সেবাদক্ষতার পদ্ধতিগত অর্জন বর্ধিত করতে হবে। যেখানেই তাদের অবস্থান হোক না কেন জাতীয় ও আঞ্চলিক ইন্সটিটিউটসমূহকে তাদের কার্যক্রম এবং গৃহিত পদ্ধতিসমূহকে অবশ্যই উহার পূর্ণ কর্মদ্যোমে নিয়ে যেতে হবে। যে সকল স্থানে প্রয়োজন রয়েছে বলে জানা যাবে সেখানেই নতুন ইন্সটিটিউট স্থাপন করতে হবে। ব্যাক্তি প্রচেষ্টা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতায় গৃহীত শিক্ষাদান কাজকে পদ্ধতিগত করণে বৃহত্তর পদক্ষেপসমূহ নিতে হবে। ইহা আংশিকভাবে এই উদ্দেশ্যে যে, প্রত্যেক মহাদেশের উপদেষ্টাগণ এবং আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহ কয়েকটি “এরিয়া গ্রোথ প্রোগ্রাম” স্থাপন করেছেন। ফলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসমূহকে লাভবান করতে অভিজ্ঞতার একটি ভা-ার পাওয়া যাবে। ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে এই সকল অতি প্রযোজনীয় কাজে তাদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে আহ্বান করা যাচ্ছে যেন ২০০১ সালে যে পাঁচ বছর মেয়াদী উদ্যোগ শুরু হতে যাচ্ছে তার জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হওয়া যায়।একটি উদ্যোগ বাহা’ই বিশ্বকে দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যাবে।কিন্তু এই দায়িত্বসমূহে মনোযোগ দেওয়া না হলে একটি কঠিন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হবে; আমাদের সন্তানদেরকে আধ্যাত্মিকতা সহকারে লালন পালন করতে হবে এবং ধর্মের জীবনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। তাদেরকে এমন একটি নৈতিক ভাবে বিপদগ্রস্থ বিশ্বে হারিয়ে যেতে দেয়া যায় না। সমাজের বর্তমান অবস্থায় শিশুরা একটি নিষ্ঠুর নিয়তির শিকার হচ্ছে। দেশে দেশে এদের লক্ষ লক্ষ সামাজিকভাবে স্থানচ্যুত শিশুরা তাদেরকে পিতামাতা অথবা বয়স্কদের থেকে বিছিন্ন দেখতে পায় তা তারা সম্পদ অথবা দারিদ্রে বসবাস করুক না কেন। এই বিচ্ছিন্নতার শেকড়সমূহ স্বার্থপরতায় রয়েছে যা বস্তু বাদ থেকে জন্ম নেয় এবং সর্বত্র মানবের হৃদয় হরণকারী ঈশ্বরহীনতার মূলে বিদ্যমান। আমাদের সময় শিশুদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্নতা সমাজের অবক্ষয়ের স্বাক্ষ্য দেয়; যদিও এই অবস্থা কোন একটি বর্ণ, শ্রেণী, জাতি অথবা অর্থনৈতিক অবস্থায় সীমাবদ্ধ নয়। ইহা উহাদের সবাইকে ভেদ করেছে এটা উপলব্ধি করে আমাদের হৃদয় দুঃখ ভারাক্রন্ত হয় যে, বিশ্বের অনেকাংশে শিশুদেরকে সৈনিক হিসাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, শ্রমিক হিসাবে শোষণ করা হচ্ছে, বস্তুত দাস হিসাবে বিক্রি করা হচ্ছে, দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছে, লগ্ন ছবির লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হচ্ছে, পিতামাতার দ্বারা পরিত্যক্ত হয়ে তাদের নিজ ইচ্ছায়ও কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, আরো অনেক ধরণের অবস্থার শিকার হচ্ছে যা বলে শেষ করা যাবে না। এমন অনেক বিভৎসতা পিতা-মাতা কর্তৃক তাদের নিজ সন্তানের উপর হয়ে থাকে। আধ্যাতিক ও মনোস্তাত্বিক ক্ষতিসমূহ হিসাব করে শেষ করা যাবে না। আমাদের বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায় এই অবস্থাসমূহের গুরুত্বকে এড়িয়ে যেতে পারে না। এই অনুধাবন শিশুদের স্বার্থ এবং ভবিষ্যতের জন্য জরুরী এবং অব্যাহত প্রচেষ্টার প্রতি যেন বেগবান করে।
যদিও শিশুদের কার্যক্রম পূর্ব পরিকল্পনার অংশ ছিল সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল। শিশু এবং কিশোরদের আধ্যাত্মিক শিক্ষা আরও সামনে এগিয়ে নেয়া সম্প্রদায়ের জন্য অতান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য এ অসঙ্গতি দূর করা আবশ্যক। ইন্সটিটিউটসমূহের কার্যক্রমে শিশুদের শিক্ষাদানে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অবশ্যই অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। যারা তাদের স্থানীয় সমাজসমূহে সেবা দিতে পারবে। যদিও শিশুদের আধ্যাত্মিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদান একান্ত প্রয়োজন, তবুও তাদের চরিত্রের উন্নয়ন এবং ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা তার একটি অংশ বিশেষ মাত্র। ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে বলতে গেলে সমগ্র সমাজের উচিত হবে শিশুদের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেয়া এবং তাদের কল্যাণে সাধারণভাবে আগ্রহী হতে হবে। এমন একটি মনোভাব যা অবক্ষয়শীল পরস্থিতি হতে দূরে সরিয়ে নিবে।
শিশুরা একটি সমাজের সবচাইতে মূল্যবান সম্পদ, কেননা তাদের মধ্যেই ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা এবং প্রতিশ্রুতি বিদ্যমান। তাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ সমাজের চরিত্রগত বীজসমূহ বিদ্যমান যার বিকাশ সমাজের বয়স্কগণ তাদের শিশুদের সমন্ধে কি করতে পেরেছেন এবং কি পারেন নাই তার উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল কোন সমাজ তাদের উপর এই ন্যাস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যহতি পেতে পারে না। শিশুদের প্রতি সর্ববেষ্টনকারী ভালবাসা, তাদের প্রতি আচরণের ধরণ, তাদের প্রতি যে বৈশিষ্ট প্রদর্শন করা হয়েছে, তাদের প্রতি বয়স্কদের আচরণে যে আন্তরিকতা রয়েছে-এদের সবকিছু প্রয়োজনীয় মনোভাবের বিষয়। ভালবাসা, শৃঙ্খলা এবং বাস্তব কঠিন জীবনের সাথে পরিচিত হওয়ার সাহস দাবী করে, তাদের খেয়ালীপনাকে প্রশ্রয় দেয়া অথবা তাদের ফন্দি ফিকিরের উপর সম্পূর্ণ ছেড়ে দেয়া নয়। এমন একটি পারিপার্শ্বিক অবস্থা বজায় রাখতে হবে যেন শিশুরা অনুভব করে যে, তারা সমাজের এবং ইহার উদ্দেশ্যসমূহের উপর অংশীদার। তাদেরকে অবশ্যই প্রেমপূর্ণভাবে অথচ মান সম্পন্ন বাহা’ই জীবন যাপনে, অধ্যয়নে এবং ধর্মের শিক্ষাদানে তাদের অবস্থার প্রেক্ষিতে যথোপযুক্ত পথসমূহে চলতে আন্তরিকভাবে পরিচালিত করতে হবে। সমাজের ছোটদের মধ্যে যারা কিশোর বয়সী, যাদের বয়স বার থেকে পনেরোর মধ্যে, তারা একটি বিশেষ গোষ্ঠি, যাদের রয়েছে বিশেষ ধরণের চাহিদা যেহেতু তারা কিছুটা শৈশব এবং যুব বয়সের মধ্যবর্তী পর্যায়ে থাকে যখন তাদের মধ্যে বহুবিধ পরিবর্তন সাধিত হয়। আনুষ্ঠানিক কর্মকা-ে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অবশ্যই সৃজনশীলভাবে মনোযোগী হতে হবে, যা তাদের আগ্রহগুলোকে সম্পৃক্ত করবে, শিক্ষাদান এবং সেবাদানে তাদের সামর্থ্যগুলোকে কাক্সিক্ষত রূপ দেবে এবং সামাজিক কর্মকা-ে বয়োজেষ্ঠ্য তরুণদের সাথে সম্পৃক্ত করবে। এধরণের কর্মকা-ে বিভিন্ন প্রকার শিল্পকলার ব্যবহার বিশাল অবদান রাখতে পারে।
এখন আমরা, পিতা মাতাদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি কথা বলতে চাই, যাদের উপর তাদের সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা তাদের কাছে এ আহ্বান করছি যেন তারা তাদের সন্তানদের আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রতি অব্যাহত মনোযোগ দেন। কিছু পিতা-মাতার মনে হতে পারে যে এটা সমাজের একটা বিশেষ দায়িত্ব; অন্যান্যরা বিশ্বাস করেন যে, সত্যানুসন্ধানে সন্তানদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে তাদের ধর্মের শিক্ষা দেওয়া উচিত নয়। এছাড়া অন্যান্যরা ভাবেন যে, এগুলো একাজের জন্য যথেষ্ট নয়, এদের কোনটিই সঠিক নয়। প্রিয় মাস্টার বলেছেন যে, “পিতা-মাতার উপর একটি কর্তব্য হিসেবে ছেলে ও মেয়েদের প্রশিক্ষণে সকল প্রচেষ্টা নিয়োজিত করার দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে”। এতে আরো যোগ হয়েছে- “যদি এ বিষয়টি তারা অবহেলা করে, এজন্য দায়ী থাকতে এবং প্রভুর কঠোর নিন্দার যোগ্য হবে”। পিতা-মাতার শিক্ষাগত যোগ্যতা যাই হোক না কেন তারা তাদের সন্তানদের আধ্যাত্মিক উন্নয়ন সাধনে সামর্থ্য রাখেন। তাদের সন্তানদের নৈতিক চরিত্র গঠনে তাদের সামর্থ্যকে যেন কখনো তুচ্ছ জ্ঞান না করেন। ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা, তার বিধানের প্রতি তাদের সংশ্লিষ্টতা, তার ধর্মে তাদের আগ্রহ, ধর্ম উন্মাদনার অভাব এবং ক্ষয় সৃষ্টিকারী পরনিন্দা থেকে দূরে থাকার সচেতনতার মাধ্যমে যে গৃহে পরিবেশ গড়ে ওঠে তা অপরিহার্যভাবে প্রভাব বিস্তার করে। পিতা-পাতা যিনি আশিষপুতঃ সৌন্দর্য্যরে একজন বিশ্বাসী তা এমনভাবে আচরণের দায়িত্ব রয়েছে যেন তা পিতা-মাতার প্রতি স্বতঃস্ফুর্ত আনুগত্য প্রকাশ করে, শিক্ষাসমূহে যার অতি উচ্চ মূল্যের উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য গৃহের মধ্যকার প্রচেষ্টাসমূহ ছাড়াও সমাজের আয়োজিত শিশু ক্লাসসমূহের প্রতি পিতা-মাতার সমর্থন দেয়া উচিত। এছাড়া ইহা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, শিশুরা এমন একটি পৃথিবীতে বসবাস করছে যা তাদেরকে ইতিমধ্যে বর্ণিত ভীতিপ্রদ অভিজ্ঞতাসমূহের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অথবা গণমাধ্যমের অপ্রতিরোধ্য উপস্থাপনার দ্বারা তাদেরকে কঠিন বাস্তবতার তথ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে অনেকেই অকালপক্কতা লাভে বাধ্য হচ্ছে এবং তারা এদের মধ্যে রয়েছে যারা তাদের জীবনের পথ প্রদর্শনের জন্য আদর্শ ও শৃঙ্খলা খুঁজছে। একটি অবক্ষয়শীল সমাজের এই অন্ধকারাচ্ছন্ন দৃশ্যপটের বিপরীতে বাহা’ই সন্তানদেরকে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের প্রতীক হতে হবে।
আমাদের প্রত্যাশাগুলো এই ভাবনার দ্বারা উজ্জীবিত যে, মহাদেশীয় উপদেষ্টাগণ ২০০১ সালের জানুয়ারি মাসে পবিত্র ভুমিতে একটি উপলক্ষ্যে একত্রিত হবেন, যা ঈশ্বরের পর্বতপরি আন্তর্জাতিক শিক্ষাকেন্দ্রে স্থায়ী আসন গ্রহণের অনুষ্ঠানটি উদ্যাপন করবেন। বিশ্বের সর্বত্র থেকে সাহায্যকারী বোর্ডের সদস্যগণ তাদের সাথে অংশগ্রহণ করবেন, যা নিঃসন্দেহে গঠনতান্ত্রিক যুগের ঐতিহাসিক ঘটনাসমূহের একটি বলে গণ্য হবে। বাহা’ই আধিকারিকগণের এমন একটি সমাবেশে মিলিত হওয়া ইহার নিজস্ব বৈশিষ্টে একটি সমাজকে বর্ণনাতীতভাবে উপকৃত করবে যা এছাড়াও একটি পরিকল্পনার ইতি টানবে। পবিত্র ভুমিতে বসবাসকারী ঈশ্বরের অতি প্রিয় ধর্মবাহু আলী আকবর ফুরুতান এবং আলী মুহাম্মদ ভারকার সংশ্লিষ্টতার কথা বিবেচনা করে আমাদের হৃদয় কৃতজ্ঞতায় ভরে যায়, যারা সেবার সেই মশাল উর্ধ্বে তুলে ধরেছিলেন যা প্রিয়তম অভিভাবক তাদের হৃদয়সমূহে প্রজ্জ্বলিত করেছিলেন।
বারমাসের পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা এমন একটি সেতু অতিক্রম করবো যা দিয়ে আমরা কখনো ফিরে আসবো না। আমরা এই পরিকল্পনা আরম্ভ করতে যাচ্ছি যখন আমাতুল-বাহা রুহিয়া খানম জাগতিকভাবে আমাদের মাঝে অনুপস্থিত। তিনি বিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত আমাদের মাঝে মূলতঃ একটি আলোর কিরণ স্বরূপ ছিলেন, যা মানবজাতির ইতিহাসে অতুলনীয় সময়ে বর্ষিত হয়েছে। স্বর্গীয় পরিকল্পনার ফলকলিপিসমূহের স্বর্গীয় আহ্বান সর্বত্র তুলে ধরতে ভ্রমণে যেতে অপারগতার জন্য প্রিয় মাস্টার আক্ষেপ করেছিলেন এবং তাঁর এই বিচলিত অবস্থার চরমে পৌঁছে তিনি এই আশা লিপিবদ্ধ করেছিলেন, “ঈশ্বরের অনুগ্রহে, তুমি যেন উহা পাইতে পারো,” আমাতুলবাহা সীমাহীন প্রাণ শক্তি নিয়ে এতে সাড়া দিয়েছিলেন, পৃথিবীর ১৮৫টি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহে তাঁর স্পর্শের মাধ্যমে অনুপম উপহারসমূহ লাভের সুযোগ পেয়েছিল। তার উদাহরণ ইহার গৌরবকে চিরদিন ধরে রাখবে। গ্রহের সর্বত্র হাজার হাজার হৃদয়কে আলোকিত করতে থাকবে। আর কোন ইঙ্গিতের প্রত্যাশা না করে এই পরিকল্পনা চলাকালে আমরা কি তাঁর স্বরণে আমাদের সকল প্রচেষ্টা উৎসর্গ করতে পারি না, যার কাছে শিক্ষাদান ছিল প্রাথমিক উদ্দেশ্য, জীবনের পরিপূর্ণ আনন্দ?
আমাদের হৃদয়সমূহে বিপুল আনন্দ এবং উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে আমরা একটি পরিবর্তনের সময়ে এই রিজওয়ান মৌসুমে এসেছি যখন আমাদের সকলের মধ্যে একটি নতুন মানসিক অবস্থা সুস্পষ্ট। বিশ্বের সর্বত্র আমাদের সমাজের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে মানবসম্পদসমূহের উন্নয়ন যা দ্বারা প্রসারণকে পরিপোষণ এবং দৃঢ়করণকে নিশ্চয়তা প্রদান করা যেতে পারে সেই সম্বন্ধে প্রক্রিয়ার উপকারিতা, পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা এবং পদ্ধতিগত কাজের বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে একটি উচ্চ মাত্রার সচেতনতা রয়েছে। অগ্রগতির জন্য এই পূর্বশর্তসমূহ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার গুরুত্বকে তুচ্ছ করে দেখার উপায় নেই এবং সেগুলিকে সুশৃঙ্খল প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে স্থায়িত্ব দানের গুরুত্বকে অবহেলা করা যায় না। অতএব, সচেতনতার এমন এক স্তরে উপনীত হওয়া আমাদের সমাজের জন্য একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্য। আমরা পুতঃপবিত্র সুষমার প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ যে, আমরা এই উৎসমুখর দিনগুলিতে যে গ্রহ পরিবেষ্টনকারী কর্মযজ্ঞের সূচনা করতে যাচ্ছি তার শুরুতেই সে বিষয় উপলব্ধি করতে এবং তাকে স্বাগত জানাতে সক্ষম হচ্ছি।
এই সচেতনতার মাধ্যমে যে ইচ্ছাশক্তি জাগ্রত হয় তা পবিত্র ভূমিতে গত জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত মহাদেশীয় উপদেষ্টাগণ এবং তাদের সাহায্যকারী বোর্ডের সম্মেলনকে তার বিশেষ চরিত্র দান করে। এই সম্মেলনে এমন এক আলো প্রদানকারী অভিজ্ঞতাকে জন্ম দেয় যা ধর্মে একটি নতুন ধাপে (ইপকে) প্রবেশের সংকেত বহন করে Ñ অর্থাৎ ধর্মের সাংগঠনিক যুগের পঞ্চম স্তর। জীবনী শক্তির যে সতেজতা এই ঐতিহাসিক সমাবেশে প্রদর্শিত হয়েছিলো তাকে সমাজব্যাপী কার্যক্রমের উর্ধ্বগামী মানের প্রকাশ রূপে ধরা হয়েছিলো। গত বছর দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপসমূহ এই উক্তির যথার্থতা প্রমাণিত করে। এইভাবে পাঁচসালা পরিকল্পনার জন্য পথ প্রশস্ত হয়ে ছিলোÑযা (পাঁচসালা পরিকল্পনা) পঞ্চম ধাপের (ইপকের) গৃহীত প্রথম উদ্যোগ।
বিগত চারসালা পরিকল্পনার মূল প্রচেষ্টাসমূহকে অধিক শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বারোমাসের পরিকল্পনাÑ(যা ৩০০ এর অধিক প্রশিক্ষণ ইনস্্টিটিউটকে জন্ম দিয়েছে) তার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। উক্ত পরিকল্পনা, শিশুদের আধ্যাত্মিক লালন পালন এবং কিশোরদের বাহা’ই সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণের প্রতি অধিকতর মনোনিবেশ দেওয়ার আহ্বানের প্রতি প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং ব্যক্তিদের লক্ষ্যণীয় সাড়া প্রদানের কারণে আরো গুরুত্ব অর্জন করে। শিশু ক্লাসের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং ইন্্সটিটিউট প্রক্রিয়ার অন্তর্ভূক্তি এখন অনেক দেশে বাহা’ই কার্যকলাপের একটি নিয়মিত অংশে পরিণত হয়েছে। তার কার্যকাল সংক্ষিপ্ত হলেও “বারোমাস” পরিকল্পনায় গুরুত্ব এমনই ছিল যা তার জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহের সীমা ছাড়িয়ে যায়। এই পরিরকল্পনা বাহা’ই ইতিহাসের একটি অত্যন্ত ঘটনাবহুল ধাপ এবং অন্য একটি নতুন ও প্রচুর সম্ভাবনাময় ধাপের মধ্যে একটি গতিশীল সংযোগের ন্যায় ছিলো, যেই নতুন ধাপের জন্য এই পরিকল্পনার অর্জনসমূহ সমাজকে এমন উত্তম রূপে প্রস্তুত করেছে। এই পরিকল্পনা আমাদের ইতিহাসে তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের জন্যও স্মরণীয় হয়ে গেছে, বিংশ শতাব্দীর শেষে আমাদের ধর্মের কর্মকা-ে, এমন এক শতাব্দী যা প্রত্যেক বাহা’ই যে মানবজাতির সামাজিক এবং আধ্যাত্মিক বিবর্তনের এমন এক সংকটময় সময়, এই গ্রহের জীবনের উপর প্রভাব বিস্তারকারী প্রচ- শক্তিসমূহ এবং স্বয়ং ধর্মে প্রক্রিয়াসমূহকে বুঝাতে চায়, তার উচিত হবে এই বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা। এমন এক মহতী উদ্যোগের জন্য সহায়তাস্বরূপ আমাদের তত্ত্বাবধানে এবং আমাদের অনুরোধে “আলোর শতাব্দী” নামক একটি পর্যালোচনা প্রস্তুত করা হয়েছিলো।
এই এক বছরব্যাপী প্রচেষ্টায় একাধিকবার ধর্মের বহির্বিশ্ব সম্পর্কিত কর্মকা- বিশেষভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠে। উদাহরণস্বরূপ, সহ¯্রাব্দ উদ্্যাপন সম্পর্কিত জাতিসংঘের সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক আয়োজিত মে, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর-এ অনুষ্ঠিত সম্মেলনগুলিতে বাহা’ই প্রতিনিধিদের লক্ষ্যণীয় উপস্থিতি বিবেচনা করা যেতে পারে। ক্ষুদ্র শান্তির প্রক্রিয়ার সাথে আন্তর্জাতিক বাহা’ই সমাজ (বি.আই.সি) এর এত ঘনিষ্ঠ এবং দৃষ্টি আকর্ষক সম্পর্কের ফলাফলকে যথার্থভাবে বুঝতে এখনও সময় লাগবে। অন্যান্য ঘটনার মধ্যে ছিলো বাহা’ই আন্তর্জাতিক সমাজের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত একটি নতুন সংস্থা “ইন্্সটিটিউট ফর স্টাডিজ ইন গ্লোবাল প্রসপারিটি” দ্বারা ভারতে আয়োজিত একটি মহাদেশীয় আলোচনা-মতবিনিময় সভা। সম্মেলনটিতে “বিজ্ঞান, ধর্ম এবং উন্নয়ন” কে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেব বেছে নেয়া হয় এবং এতে ভারতের প্রথম সারির বেসরকারী সংস্থাসমূহ ছাড়াও টঘঊঝঈঙ, টঘওঈঊঋ, ডঐঙ এবং বিশ্ব ব্যাংক এর মত বিখ্যাত সংস্থাও অংশগ্রহণ করে। অক্টোবরে বাহা’ই বিশ্ব সংবাদ সার্ভিসকে ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়, এর উদ্দেশ্য ছিলো সমগ্র বিশ্বের ঘটনাসমূহ সম্পর্কে বাহা’ই এবং অবাহা’ইদেরকে অবগত করানো।
গত বছর বাহা’ই বিশ্ব কেন্দ্রে চালিত ব্যাপক কর্মতৎপরতা সম্পর্কে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে বন্ধুদেরকে পূর্বের রিপোর্টগুলির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছে এবং এইসব অর্জনের মধ্যে ছিলো আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্রের কার্মেল পর্বতে তাদের স্থায়ী আসন গ্রহণ; গত জানুয়ারিতে পবিত্র ভূমিতে মহাদেশীয় উপদেষ্টা এবং তাদের সাহায্যকারী বোর্ডের সদস্যদের সম্মেলন, কার্মেল পর্বত প্রকল্পের সমাপ্তি, যেখানে এখন মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য উৎসবের জন্য শেষ প্রস্তুতি চলছে। গত অক্টোবরে হাইফায় অবস্থিত অভ্যর্থনা কেন্দ্রে, যা এখন পুরোপুরি কাজ করছে, প্রথমবারের মত তীর্থযাত্রী এবং অন্যান্য অতিথিদের স্বাগত জানায়। বাহ্জিতে পবিত্র স্থানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ তার বাগানের উন্নয়নের মাধ্যমে অবিরতভাবে চলছে, এই প্রচেষ্টা গত বছরে হাতে নেয়া একটি নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে আরো এগিয়ে গেছে, প্রকল্পটি ছিল বাহা’ই সম্পত্তির উত্তর সীমানায় কলিন্স গেইটের বাইরে একটি প্রদর্শক কেন্দ্রের নির্মাণ। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা। মূল ভবন তৈরী হয়ে গেছে এবং চারিদিকে বাগান এবং অন্যান্য শেষ কাজগুলো এখন চলছে। এই নতুন সুযোগ সুবিধাগুলি বিশ্ব কেন্দ্রে অধিক সংখ্যায় তীর্থযাত্রী, স্বল্পকালীন বাহা’ই দর্শনার্থী এবং বিশেষ অতিথিদের গ্রহণ করার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করবে।
গত বছরের ঘটনাসমূহের এই সংক্ষিপ্ত তালিকা আমরা আপনাদেরকে এই আনন্দ সংবাদদানের মাধ্যমে শেষ করছি যে, প্রায় তিন দশকের বিরতির পর গত রিজওয়ানে জাকার্তায় অনুষ্ঠিত জাতীয় মহাসম্মেলনের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ পুনঃনির্বাচিত হয়েছে। ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে বাহা’ই কর্মকা-ের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এই সময় ইন্দোনেশিয়ার বাহা’ইদের কার্যক্রমকে অত্যন্ত সীমিত করে রেখে ছিলো, কিন্তু তারা তাদের এই দীর্ঘ কষ্টভোগে দৃঢ় এবং বিচক্ষণ ছিলেন। যতদিন না পরিবর্তিত পরিস্থিতির ফলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। আমরা কি আশা করতে পারি না যে, ইরান, মিসর এবং অন্যান্য দেশে আমাদের অবরোধ্য সমধর্মীদের সম্পর্কেও আমরা অদূর ভবিষ্যতে এই জাতীয় সুসংবাদ শুনতে পারবো?
প্রিয় বন্ধুগণ, আজ থেকে দুই দশক পরে বাহা’ই সাংগঠনিক যুগের সূচনার শতবর্ষ পালন করবে। আমরা এই যুগের সূচনাকে আজ সাফল্যের এমন এক চূড়া থেকে দেখছি যা সূচনা লগ্নে কল্পনাতীত ছিল। সম্মুখ দিগন্ত সমাজকে বৃহত্তর বিজয়ের দিকে জরুরী আহ্বান জানাচ্ছে, সেই শত বার্ষিকীর পূর্ব সংক্ষিপ্ত এই সময়। এই শীর্ষ আরোহন সম্ভব এবং অবশ্যই আমাদেরকে তা করতে হবে। পাঁচসালা পরিকল্পনা, যার প্রতি আমরা সারা বিশ্বের বন্ধুদের জরুরী এবং স্থায়ী মনোযোগের আহ্বান জানাচ্ছি, এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য। এই পরিকল্পনা এমন এক ধারাবাহিক সুসংগঠিত প্রচার অভিযানের প্রথম হবে যা আগামী বিশ বছরে পরিচালিত হবে। এই পরিকল্পনা দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রতির লক্ষ্য অর্জনের পরবর্তী ধাপে প্রবেশকে চিহ্নিত করে। এই পরিকল্পনা উক্ত সঞ্জীবনী প্রক্রিয়ার গতি সঞ্চার দাবি করে এবং অধিকন্তু পরিকল্পনার বাস্তবায়নের তিন অংশগ্রহণকারী, তথা ব্যক্তি, সমাজ এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়মাবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্যে ধারাবাহিকতার প্রতি জোর দেয়।
পরিকল্পনার প্রয়োজনগুলির বিস্তারিত বর্ণনার দরকার নেই, কারণ সেগুলি পবিত্র ভূমিতে সমবেত উপদেষ্টাগণের প্রতি আমাদের বার্তায় নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সকল জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদে পাঠানো হয়েছিল। তাদের সম্মেলনের পর পরই উপদেষ্টাগণ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সম্পর্কে নিজ নিজ এলাকার জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদের সাথে আলোচনা আরম্ভ করেন। তাই পরিকল্পনার মূল বিষয়বস্তু সকল অঞ্চলের বন্ধুদের জানা আছে এবং তার মূল লক্ষ্য অর্জনের জন্য আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এতদিনে সাধারণভাবে এই সচেতনতা জন্ম নিয়েছে যে, বিভিন্ন দেশের ভিতরে আরো অধিক অঞ্চলে ধর্মের প্রবেশকে আরো গভীর করার জন্য প্রচেষ্ট চালাতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যেখানে পরিবেশ অনুকূল থাকবে সেখানে সব স্থানীয় সমাজগুলি ভৌগলিাভাবে কাছাকাছি অবস্থান করে তাদেরকে বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক তৎপরতার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। অন্যান্য পথের মধ্যে রয়েছে নিয়মাবদ্ধভাবে নতুন এলাকাসমূহ উন্মুক্ত করা, যার জন্য স্বদেশীয় পথিকৃতদের উত্থানের প্রয়োজন হবে যারা সেই একই উৎসর্গের মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসবে যেমন প্রথম যুগে পথিকৃতগণ বিভিন্ন মহাদেশে এবং সমুদ্র পারে নতুন এলাকা উন্মুক্তকরতে ছড়িয়ে পড়েছিল। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যে প্রক্রিয়া ঐশী শক্তি দ্বারা চালিত এই উদ্যোগকে প্রাণচাঞ্চল্য দান করেছে তা ধাপে ধাপে প্রাসঙ্গিক উপাদানের অন্তর্ভূক্তি এবং সুশৃঙ্খলভাবে মূল পরিকল্পনায় একাত্মকরণের মাধ্যমে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হবে।
পঞ্চম ধাপের একটি বৈশিষ্ট্য হবে, যে সব জাতীয় সমাজে পরিবেশ অনুকুলে সেখানে জাতীয় উপসানালয় নির্মাণের মাধ্যমে সমাজের ভক্তিমূলক (আধ্যাত্মিক) জীবনকে সমৃদ্ধ করা। এই সকল প্রকল্পের সার্বজনীন বিচারালয় সেই দেশের দলে দলে অন্তর্ভূক্তির প্রক্রিয়ার অগ্রগতির স্তর বিবেচনা করে সময় নির্ধারণ করবেন। (জাতীয় উপাসনালয় নির্মাণের) এই প্রক্রিয়া আব্দুল-বাহার ঐশী পরিকল্পনার বিভিন্ন পর্যায় চলতে থাকবে। পাশ্চাত্যের মাতৃ উপাসানালয় নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর, অভিভাবক মহাদেশীয় উপাসনালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তার মধ্যে প্রথম ছিলো কামপালা, সিডনি এবং ফ্রাঙ্কফুট-এর মাশ্্রিকুল-আয্্কারসমূহ, এইগুলি দশসালা পরিকল্পনার আহ্বানে তৈরী করা হয়। সার্বজনীন বিচারালয় পানামা-সিটি, এপিয়া এবং নতুন দিল্লির উপাসনালয় নির্মাণের মাধ্যমে এই ধারা অব্যাহত রাখেন। কিন্তু এই মহাদেশীয় পর্যায় এখনো শেষ হয় নাই। আর একটি ইমারতের নির্মাণ অবশিষ্ট রয়েছে। আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা এবং আনন্দের সাথে এই শুভক্ষণে এই শেষ প্রকল্পের কাজে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। পাঁচসালা পরিকল্পনার মধ্যে চিলির সান্তিয়াগোতে দক্ষিণ আমেরিকার মাতৃ উপাসনালয় নির্মাণের কাজ আরম্ভ হবে এবং এইভাবে শৌগী এফেন্দীর একটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত ইচ্ছা পূর্ণ হবে।
একই সময়, বিশ্ব কেন্দ্রে আর্কে নতুন ইমারতগুলিতে যে সব প্রতিষ্ঠান অবস্থান করবে তাদের কর্মক্ষেত্র প্রসারিত করার জন্য আরো পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখনই শুভক্ষণ। আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্রের কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়াতে, এখন পবিত্র লিখনাবলী অধ্যয়ন কেন্দ্রের কাজকে সুসংগঠিত করার বিশেষ মনোযোগ দেয়া হবে। এই মনোযোগের বিশেষ লক্ষ্য হবে পবিত্র লিখনাবলীর ইংরেজী অনুবাদকে আরো সমৃদ্ধ করা। এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হলো সার্বজনীন বিচারালয়ের সাথে পবিত্র লিখনাবলী সম্পর্কে পরামর্শ করা এবং ধর্মের প্রামাণিক লিখনাবলীর অনুবাদ এবং টিকা প্রস্তুত করা। অধিকন্তু, পবিত্র ভূমিতে, বাহা’ই বিশ্ব কেন্দ্রে আরো অধিক সংখ্যায় তীর্থযাত্রী এবং প্রদর্শকদের আগমনকে সম্ভবপর করার জন্য অবিরত প্রচেষ্টা চালানো হবে।
পাঁচ বছর পূর্বে আমাদের রিজওয়ান বার্তায় আমরা কার্মেল পর্বত প্রকল্প সমাপ্তি এবং মহান বা’বের সমাধির বাগানের ধাপগুলি সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার সময় বিশ্ব কেন্দ্রে একটি বৃহত্তর অনুষ্ঠান আয়োজন করার কথা বলেছিলাম। সেই মুহূর্ত এখন আমাদের সম্মুখে উপস্থিত হয়েছে এবং আমরা প্রায় প্রত্যেকটি দেশ থেকে আগত বন্ধুদেরকে স্বাগত জানানোর প্রত্যাশায় উল্লসিত, এই অনুষ্ঠানমালা ২১-২৫শে মে, পাঁচদিন ব্যাপী হবে। আমরা আনন্দের সাথে আরো জানাচ্ছি যে, বাহা’ই বিশ্বকে এই অনুষ্ঠানের সাথে সংযুক্ত করার জন্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (ইন্টারনেট) এবং উপগ্রহের মাধ্যমে তা সম্প্রচার করা হবে। এই বিষয়ে তথ্য জানানো হচ্ছে। একদিকে যখন বিশ্বকেন্দ্র এই প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করছে, অন্যদিকে হাইফাতে সাধারণ মানুষের উত্তেজনাও ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে, হাইফার পৌর কর্তৃপক্ষ এই উপলক্ষ্যে “বাহা’ই পবিত্র সমাধি এবং হাইফা, ইসরাইলের কার্মেল পর্বতের উদ্যান-একটি সচিত্র যাত্রা” নামক একটি বই প্রকাশ করতে যাচ্ছে। তাছাড়া ইসরাইলের ডাক বিভাগ কর্তৃপক্ষ বাগানের ধাপ সম্পর্কে একটি স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করার তাদের সিদ্ধান্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উক্ত অনুষ্ঠানের গুরুত্ব মূলত এই যে, ধর্ম বিংশ শতাব্দীতে যে আশ্চর্যজনক পথ পেরিয়ে এসেছে তা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য একটু থেমে চিন্তা করার সুযোগ করে দেয়া। এই অনুষ্ঠান ঈশ্বরের পবিত্র পর্বতে যে বিস্ময়কর ইমারতসমূহ নির্মাণ করা হয়েছে তা ভবিষ্যতে কি ফল প্রদান করবে এই বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করার সময়ও হবে এবং এই ইমারতগুলি নির্মাণে আমাদের ধর্মের আধ্যাত্মিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলিকে পৃথিবীর দৃষ্টির নাগালে নিয়ে এসেছে।
আমাদের সমাজ যখন এই সব শিহরণ জাগানো বিষয়ে আনন্দিত, তখন প্রত্যেক সদস্যের মনে রাখা উচিত যে অর্জিত বিজয়সমূহ নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে বসে থাকার সময় আমাদের নেই। মানবজাতির বর্তমান অবস্থা এমনই শোচনীয় যে, তাদেরকে জীবন প্রদানকারী খাদ্য প্রদানে এক মুহূর্ত বিলম্ব করা উচিত নয়। তাই সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় যেন কোন প্রকার বিলম্ব না ঘটে যে প্রক্রিয়া সত্যের জন্য ক্ষুধার্ত প্রত্যেকটি আত্মাকে দেবদূতগণের প্রভু (বাহা’উল্লাহ্্) ভোজের দিকে পরিচালিত করার সব ধরণের সাফল্যের সম্ভাবনা বহন করে।
যিনি তাঁর ঐশী নিয়মতন্ত্রের সর্বাত্মক রক্ষা করেন তিনি যেন আপনাদের সম্মুখে যে জরুরী দায়িত্বসমূহ রয়েছে তা বাস্তবায়নে আপনাদের প্রত্যেক পদক্ষেপের দিক নিদের্শনা, পরিচালনা ও তা অনুমোদন করুন।
সাংগঠনিক যুগের পঞ্চম ধাপের (ঊচঙঈঐ) সূচনালগ্নে ধর্মের অভ্যন্তরে এবং বহির্বিশ্বে ঘটনাসমূহের বেগবান সম্মুখ প্রবাহ আমাদের সামনে এমন একটি দৃশ্য উপস্থিত করে যা সম্ভ্রম উদ্দীপক। ধর্মের অভ্যন্তরে গত মে মাসের ঘটনাগুলিরÑ(যা কার্মেল পর্বতের অট্টলিকাসমূহের নির্মাণ কার্য সম্পন্ন হওয়ার নির্দেশক ছিলো)Ñঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুভূতিকে প্রচ-ভাবে নাড়া দেয়, কেননা তার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে উপগ্রহের মাধ্যমে সারা গ্রহব্যাপী সম্প্রচার হয় এবং গণমাধ্যমে তার প্রচার আজ পর্যন্ত অন্য কোন বাহা’ই অনুষ্ঠানকে দেয়া প্রচারের চেয়ে ব্যাপক ছিলো। যখন কার্মেলের ফলকলিপির বাস্তব উন্মোচনের সর্বশেষ সাক্ষ্যসমূহ তার শ্বাসরোধক উজ্জ্বল্যের সাথে পূর্ণরূপে বিশ্বের চোখের সামনে প্রকাশিত হয় তখন বাহা’উল্লাহ্্র ধর্ম অজ্ঞাত অবস্থা থেকে তার উত্থানের চলমান প্রক্রিয়ায় পরিচিতি একটি নতুন স্তরে দ্রুত চলে আসে। এইরূপ, ধর্মের ইতিহাসে একটি অমোচনীয় অধ্যায় লিপিবদ্ধ হয়।
আমাদের অদম্য ধর্মকে যে শক্তি প্রাণচাঞ্চল্য প্রদান করে তার এই বহিঃপ্রকাশের পরিপূরক ছিলো অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াসমূহের দিক যা গত রিজওয়ানে পাঁচসালা পরিকল্পনার সূচনা থেকে কার্যরত ছিলো। তাই আমরা জাতীয় কনভেনশনসমূহে সমবেত প্রতিনিধিগণ এবং সারা বিশ্বের বাহা’উল্লাহ্্র সকল অনুসারীদেরকে আমাদের সাথে পরিকল্পনার কার্যকালের প্রথম বৎসরে কতিপয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ দিকগুলির প্রতি গভীর চিন্তা-ভাবনা করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছিÑএই বিশেষ দিকগুলি হৃদয়কে আনন্দিত এবং যে পথে পরিকল্পনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তার অপরিমেয় সম্ভাবনাসমূহের প্রতি আত্মবিশ্বাস যোগাবেই।
পরিকল্পনার প্রয়োজনগুলির প্রতি তাদের উৎসাহপূর্ণ সাড়া হিসেবে জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহ রিজওয়ানের পূর্বে এবং তার পর পরই মহাদেশীয় উপদেষ্টাগণের সাথে পরপর কয়েকটি সভায় মিলিত হয়। এই সভাগুলি (পরিকল্পনার) একটি বলিষ্ঠ সূচনার গতি নির্ধারণ করে দিলো, যার বৈশিষ্ট্য ছিলো দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়ায় একটি নতুন উপাদান কার্যকর করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপসমূহ। প্রতিটি জাতীয় সমাজে, বাহা’ই প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের দেশের পদ্ধতিগত পর্যালোচনা আরম্ভ করে, যার লক্ষ্য ছিলো তাকে ক্লাস্টারগুলিতে (গুচ্ছ) ভাগ করা, যার প্রত্যেকটির গঠন ও আকার তাদের কার্যক্রমের মাত্রার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং বৃদ্ধি ও উন্নতির ক্ষেত্রে হবে নিয়ন্ত্রণসাধ্য। এই ধরনের এলাকা ভাগ, যা ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫০টি দেশ থেকে (আমাদেরকে) জানানো হয়েছে, একটি সুশৃঙ্খল বৃদ্ধি এবং দৃঢ়করণের ধারাকে বাস্তবরূপ দেয়াকে সম্ভবপর করে। এইভাবে পদ্ধতিগত বৃদ্ধির তত উন্নতি একটি সম্যক দৃষ্টিকোণ বা দূরদৃষ্টি সৃষ্টি হয়, যাতে কোন দেশে ক্লাস্টার থেকে ক্লাস্টারে সমস্ত অঞ্চলে অব্যাহত রাখা যেতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্মের জন্য উন্মুক্ত হয় নাই এমন ক্লাস্টারগুলি, অতীতে যেভাবে উন্মুক্ত হয় নাই সেরূপ চিহ্নিত অঞ্চলগুলির মত স্বদেশীয় পথিকৃতদের লক্ষ্য হয়ে যায়। অপরদিকে উন্মুক্ত ক্লাস্টারসমূহ তাদের অভ্যন্তরীণ উন্নতির প্রতি মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেÑএই প্রক্রিয়া পরিকল্পনার তিনটি পরস্পরকে শক্তিদানকারী উপাদান ঃ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং সমাজ দ্বারা চালিত।
এটা খুবই উৎসাহজনক যে এই কাজের অগ্রগতি প্রশিক্ষণ ইন্্সটিটিউট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অধিক শক্তিশালী হয়েছে, এই প্রক্রিয়া গত বছরে অনেক দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিউটরদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে লক্ষ্যণীয় মাত্রায় দৃঢ় হয়েছে। যেখানে প্রশিক্ষণ ইন্্সটিটিউট সুপ্রতিষ্ঠিত এবং অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে সেখাানে তিনটি মূল কার্যক্রমÑঅধ্যয়নচক্র, ভক্তিমূলক সভাসমূহ এবং শিশু ক্লাস-তুলনামূলকভাবে সহজে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিঃসন্দেহে, অনুসন্ধানকারীদের তাদের বাহা’ই বন্ধুদের আমন্ত্রণে ক্রমবর্দ্ধমান সংখ্যায় এই সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এই (কার্যক্রমসমূহের) উদ্দেশ্যকে একটি নতুন মাত্রা প্রদান করেছে, ফলস্বরূপ (ধর্মে) নতুন অন্তর্ভূক্তি হচ্ছে। এখানে নিশ্চিতরূপে শিক্ষাদান কাজে একটি অত্যন্ত বৃহৎ সম্ভাবনাময় দিক রয়েছে। এই মূল কার্যক্রমসমূহ যা সূচনাতে মূলত স্বয়ং বিশ্বাসীদের সুবিধার জন্য উদ্ভাবন করা হয়েছিলো তা স্বাভাবিকভাবেই দলে দলে যোগদানের সিংহদ্বারে পরিণত হচ্ছে। অধ্যয়নচক্র, ভক্তিমূলক সভা এবং শিশুদের ক্লাসগুলিকে ক্লাস্টারসমূহের কাঠামোর সাথে যুক্ত করার ফলে কর্মপন্থার একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নমুনা তৈরী হয়েছে যা ইতিমধ্যেই গঠনমূলক ফলাফল প্রদান করছে। আমরা নিশ্চিত যে, এই আদর্শের (নমুনার) বিশ্বব্যাপী প্রয়োগ আগামী বছরগুলোতে ধর্মের প্রগতির জন্য অপরিমেয় সম্ভাবনা বহন করে।
বিশ্ব সমাজের পদ্ধতিগত বৃদ্ধির ধারণাকে সমৃদ্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্র দ্বারা প্রচুর কর্মশক্তি ব্যয় করার কারণে এই রোমাঞ্চকর প্রত্যাদেশাগুলি আরো অধিক সম্ভাবনাময় হয়ে উঠে। সম্প্রতি শুরু হওয়া সাহায্যকারী বোর্ডের সদস্যদের নতুন মেয়াদের সুযোগ নিয়ে শিক্ষা কেন্দ্র বছরের শেষ মাসগুলিতে পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দানের জন্য ১৬টি আঞ্চলিক সম্মেলনের আহ্বান জানান। প্রত্যেকটিতে তারা তাদের দুইজন সদস্যকে প্রেরণ করেন। সম্মেলনগুলিতে কয়েকজন ছাড়া বিশ্বের সমস্ত সাহায্যকারী বোর্ডের সদস্যগণ অংশগ্রহণ করে ছিলেন, “প্রশিক্ষণ ইন্্সটিটিউট এবং পদ্ধতিগত বৃদ্ধি” বিষয়ের প্রতি মনোযোগ কেন্দ্রিভূত করায় অংশগ্রহণকারীগণকে প্রচুর তথ্য প্রদান করে যা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে সমস্ত সমাজের কাঠামোতে ছড়িয়ে পড়বে।
এমন সমৃদ্ধ, এমন অভিজ্ঞ, ঐশী নির্দেশনা দ্বারা অনুপ্রাণিত কর্মপন্থার প্রতি এমন একাগ্রচিত্ত একটি সমাজ এমন এক পৃথিবীর দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করেছে যার অধিবাসীগণ মে ২০০১ সালে পবিত্র ভূমিতে সংঘঠিত ঘটনাবলীর পর থেকে আরো গভীরভাবে বহুমুখি অরাজকতার চোরাবালিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তথাপি, ঠিক এমনই প্রতিকূল অবস্থায় ধর্মের অগ্রগতি লাভ করার কথা এবং এইরূপ বিস্তার লাভ করবেও। সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রন্থ ঞযব ঝঁসসড়হং ড়ভ ঃযব খড়ৎফ ড়ভ ঐড়ংঃং (দেবদূতগণের প্রভুর আহ্বান) যাতে পৃথিবীর রাজন্যবর্গ এবং শাসকদের প্রতি বাহা’উল্লাহ্্র ফলকলিপির সম্পূর্ণ পাঠ রয়েছে, অন্যায়, নিপীড়ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সতর্কবাণী উপেক্ষা করার যে চরম পরিণাম হতে পারে তা আমাদেরকে সুন্দরভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়। সর্বত্র মানুষের চেতনার যে প্রচ- আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে তা তাঁর প্রস্তাবিত চিকিৎসার অত্যাবশ্যকীয়তাকেই বুঝিয়ে দেয়। আমরা, তাঁর বিশ্বস্ত সেবকদের ছড়িয়ে থাকা দলগুলি, এইভাবে আর একবার দুর্নিবার সম্ভাবনার মুখোমুখি হচ্ছিÑ তাঁর ধর্মের শিক্ষাদানের সম্ভাবনাসমূহ, তাঁর আশ্চর্যজনক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ও ত্যাগের সাথে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় বন্তুগত উপাদানসমূহ দান করার সম্ভাবনাÑযার উপর আধ্যাত্মিক কার্যকলাপের সম্পাদন অবশ্যম্ভাবীরূপে নির্ভরশীল।
আমাদের অপরিহার্য্য কর্তব্য হচ্ছে, কোন ভীতি বা দ্বিধা ছাড়া, সেই একমাত্র বার্তার প্রচার এবং তার পরিবর্তন সাধনকারী গুণকে প্রদর্শিত করার জন্য বর্তমান গোলযোগকে কাজে লাগানো। পুতঃপবিত্র সুষমা আমাদেরকে কি ক্ষমতাবান করেন নাই এবং শক্তিশালী বাণীর মাধ্যমে আশ্বাস প্রদান করেন নাই? তাঁর প্রেমপূর্ণ উপদেশ হলো “এই জগতের ঘটনাগুলিকে তোমাদিগকে বিষন্ন করিতে দিও না” তিনি আরো বলেন “আমি ঈশ্বরের শপথ করিয়া বলিতেছি, আনন্দের সাগরে তোমার নৈকট্য লাভ করিবার জন্য ব্যাকুল, কেন না প্রত্যেকটি ভাল বস্তু তোমার জন্য সৃষ্টি করা হইয়াছে এবং সময়ের প্রয়োজন অনুসারে তোমার নিকট প্রকাশিত করা হইবে।”
কোন সন্দেহ দ্বারা বাধাগ্রস্থ না হয়ে বা কোন প্রতিবন্ধকতা দ্বারা বিলম্বিত না হয়ে, বর্তমান পরিকল্পনা নিয়ে দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে যান।
সাংগঠনিক যুগের পঞ্চম ধাপের সূচনা থেকে বাহা’ই বিশ্বে যে সকল বিরাট সাফল্য অর্জিত হয়েছে তা আমাদের জন্য অপরিমেয় আনন্দ বয়ে এনেছে। বিগত বার মাসেও তার ব্যতিক্রম ছিল না। বাহা’ই সমাজ তার পদ্ধতিগত অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে এবং বর্তমানে যখন তারা পাঁচসালা পরিকল্পনার শেষ বছরে প্রবেশ করেছে তখন তারা নিজেকে লক্ষ্যণীয় একটি শক্তিশালী স্থানে দেখতে পাচ্ছেÑএমন একটি শক্তিশালী অবস্থান, যা তারা দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সব জায়গায় বন্ধুদের প্রচ- এবং সুচিন্তিত পরিশ্রমের মাধ্যমে পৌঁছেছে।
যে সকল ঘটনাবলী সংঘটিত হচ্ছে তার সম্পূর্ণ তাৎপর্য প্রকাশ করতে না পারলেও পরিসংখ্যানসমূহ যা অর্জিত হয়েছে তার একটি পরিধি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। ধর্মের মানবসম্পদ নিয়মিতভাবে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়েছে। সর্বমোট বিশ্বব্যাপী ২,০০,০০০- এর অধিক ব্যক্তি রুহী ইন্্সটিটিউটের বই নং-১ সম্পন্ন করেছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ এমন এক স্তরে পৌঁছেছে যেখানে তারা কার্যকরভাবে অধ্যয়ন চক্রের টিউটর হিসেবে কাজ করতে পারে, এই সকল অধ্যয়ন চক্র এখন পৃথিবীর সব অংশেই অধিকতর নিয়মিতভাবে হচ্ছে এবং শেষ গণনায় তার সংখ্যা ১০,০০০Ñএর অধিক ছিল। মূল কার্যক্রমে অনুসন্ধানকারীদের সংখ্যায় বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং তা কয়েক মাস আগে ১,০০,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। একই সময় প্রায় ১৫০টি ক্লাস্টার এমন এক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে যেখানে হয় নিবিড় বৃদ্ধির প্রকল্পগুলি চালু করা হয়েছে অথবা তার সূচনার জন্য তারা প্রস্তুত। এটা প্রায় নিশ্চিত যে পরিকল্পনার শেষ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় এই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হবে।
এই অর্জনগুলি উদ্্যাপন করার সময় আমাদেরকে একই সময় স্বীকার করতে হবে শেখার ক্ষেত্রে সেই সকল অগ্রগতিগুলিকে, যা এই অর্জন থেকে উদ্ভুত হয়েছে। নিবিড় ইন্্সটিটিউট অভিযানসমূহ, যা প্রয়োজনীয় প্রয়োগ বিষয়ক দিকগুলির প্রতি যথাপোযুক্ত গুরুত্ব আরোপ করে, ক্লাস্টার পর্যায় বৃদ্ধিকে উৎসাহদান করার ক্ষেত্রে চালিকা শক্তি হিসেবে তার ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে। যেহেতু প্রয়োজনীয় পরিবেশ এইভাবে সৃষ্টি হয়েছে, সেহেতু ধর্মের সম্প্রসারণ এবং দৃঢ়করণের পদ্ধতিগত পরিকল্পনাগুলিরও সূচনা করা হয়েছে। বৃদ্ধির নিবিড় প্রকল্পসমূহের প্রকৃতি সম্পর্কে মূল্যবান জ্ঞানভা-ার সংগৃহীত হচ্ছে এবং এই সকল প্রচেষ্টার কতিপয় উপাদান এখন বন্ধুদের ভালভাবে বোধগম্য হয়েছে। এই জাতীয় পরিকল্পনাসমূহ সাধারণত কয়েকটি চক্র নিয়ে গঠিত, যার প্রত্যেকটির মেয়াদ কয়েক মাস এবং সেগুলি পরিকল্পনা প্রণয়ন, সম্প্রসারণ এবং দৃঢ়করণের প্রতি নিয়োজিত। মানবসম্পদ উন্নয়ন অব্যাহতভাবে এক চক্র থেকে অন্য চক্রে চলতে থাকে এবং নিশ্চিত করে যে সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া শুধুমাত্র অব্যাহতই থাকেনা বরং প্রগতিশীলভাবে গতি সঞ্চারও করে। যদিও একদিকে যেমন এখনো আরো অনেক শিক্ষা অর্জন করতে হবে, ঠিক তেমনই নিঃসন্দেহে যে অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়েছে তা এই পথটিকে সারা বিশ্বে ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় ক্লাস্টারগুলিতে প্রয়োগ করাকেও সম্ভবপর করে দেয়।
এটা নিঃসন্দেহে সন্তোষজনক যে, এই অর্জিত বিষয়গুলিতে সংখ্যাগত এবং গুণগত উভয় দিক ছিল। এই সকল অর্জনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সব জায়গাতেই বাহা’ই সমাজগুলির আধ্যাত্মিক জীবনের নিরবিচ্ছিন্ন উন্নতি। বিভিন্ন পটভূমি থেকে আসা মানুষের ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় ভক্তিমূলক সভা, শিশুক্লাস এবং অধ্যয়ন চক্রে ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় মূলে রয়েছে এই নতুন আধ্যাত্মিক শক্তি যা অনেক ক্ষেত্রে বাহা’উল্লাহ্কে এই যুগে ঈশ্বরের প্রকাশরূপে তাদের স্বীকৃতি দান এবং ধর্মে তাদের বিশ্বাস ঘোষণায় পরিণত হয়েছে।
একইভাবে বিশ্ব কেন্দ্রে নতুন উন্নয়ন হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, হুকুকুল্লাহর একটি আন্তর্জাতিক ট্রাস্টি বোর্ড সৃষ্টি করার এখন শুভ সময় যা সারা বিশ্বে হুকুকুল্লাহ্্র আঞ্চলিক এবং জাতীয় বোর্ডগুলিকে দিক নিদের্শনা প্রদান করবে এবং তাদের কাজের তদারকি করবে। এই বোর্ড প্রধান ট্রাস্টি ঈশ্বরের ধর্মের বাহু ড. আলী মোহাম্মদ ভারকার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করবে, তারা তাদের দায়িত্ব পালনে তাঁর জ্ঞান এবং উপদেশ থেকে লাভবান হবে। তিনজন সদস্য যাদেরকে বর্তমান আন্তর্জাতিক ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য নিয়োগ করা হচ্ছে তারা হলেন স্যলি ফু, রাহিম খাদেম এবং গ্রান্ট কেভালহাইম। তাদের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে। বোর্ডের সদস্যরা তাদের আবাসস্থল পবিত্রভূমিতে স্থানান্তর করবে না কিন্তু তারা বিশ্ব কেন্দ্রে অবস্থিত হুকুকুল্লাহ্্ দপ্তরের সেবাসমূহ তাদের কার্যক্রম সম্পাদনে ব্যবহার করবেন।
তৃণমূল পর্যায় সম্প্রসারণ ও দৃঢ়করণ আন্তর্জাতিক পর্যায় প্রাতিষ্ঠানিক পরিধি পর্যন্ত ধর্ম সকল স্তরে এবং প্রত্যেক দিকে লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি লাভ করেছে। বাহা’ই সমাজের মধ্যে দিনে দিনে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত একতার এই উৎসাহজনক চিহ্নগুলি এমন এক সময় প্রকাশ পাচ্ছে যখন দুঃখজনকভাবে (বৃহত্তর) সমাজে পতনের লক্ষণসমূহ খুবই স্পষ্ট। এই হৃত মনোবল বিশ্ব যে অচল অবস্থার ফাঁদে আটকিয়ে আছে তার বর্ণনার প্রয়োজন হয় না। তাই এটা ভুললে চলবে না যে ঠিক এই পরিস্থিতিই ধর্মের শিক্ষার প্রতি গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করে এবং তার বিকিরণের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।
আমাদের ২৬শে নভেস্বর, ১৯৯৯-এর বার্তায় আমরা গ্রহব্যাপী একটি পরিকল্পনার শৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করেছিলাম যা বাহা’ই সমাজকে ধর্মের সাংগঠনিক যুগের প্রথম শতাব্দীর শেষ বছরগুলিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল। প্রত্যেক পরিকল্পনায়, আমরা উল্লেখ করেছিলাম যে, দলে দলে অন্তর্ভূক্তির প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কেন্দ্রীয় লক্ষ্যে তাদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করবে। এই শৃঙ্খলার প্রথম অর্থাৎ বর্তমান পাঁচসালা পরিকল্পনা বার মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে শেষ হয়ে যাবে তখন আমরা বাহা’উল্লাহ্্র অনুসারীদেরকে আরেকটি পাঁচ বছরের পরিকল্পনার সূচনা করতে আহ্বান জানাবো। এই অন্তবর্তীকালীন সময়ে আমরা বন্ধুদের কাছ থেকে যা চাচ্ছি তা হলো যে তারা তাদের সমস্ত শক্তি পদ্ধতিগতভাবে শেখার ক্ষেত্রে নিয়োগ করবেন, যে পদ্ধতির প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাদান কেন্দ্র এত বলিষ্টতার সাথে উৎসাহদান করে আসছেন। কোন বাহা’ইÑএর উচিত হবে না এইভাবে আগামী রিজওয়ানে আরো উচ্চ আকাক্সক্ষী পরিকল্পনার ভিত্তি মজবুত করার এই অমূল্য সৃুযোগ হারানো যা বর্তমান পরিকল্পনার অবশিষ্ট দিনগুলি প্রদান করছে। পবিত্র সমাধিগুলিতে আমাদের ঐকান্তিক প্রার্থনা আপনাদেরকে পরিবিষ্ট করে রাখবে।
সর্ব মহান উৎসব নিকটবর্তী হওয়ায় কৃতজ্ঞতা এবং প্রত্যাশার অনুভ‚তিগুলি আমাদেরকে অন্য এক জগতে নিয়ে গেছে কৃতজ্ঞতা সেই সব বিস্ময়কর অর্জনগুলির জন্য যা বাহা’উল্লাহ্ তার অনুসারীদেরকে পেতে সক্ষম করেছেন এবং প্রত্যাশার কারণ হলো যা কিছু নিকট ভবিষ্যৎ তাদের জন্য অপেক্ষা করছে তার জন্য।
বাহা’উল্লাহ্র দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন যে গতিশীলতাকে জন্ম দিয়ে ছিল, তা অব্যাহত রয়েছে। বাহা’ই সমাজের উন্নতির গতি বৃদ্ধি, তার ক্রমবর্ধমান, কর্মক্ষমতা এবং আরো অধিক সংখ্যায় তার সদস্যদের কর্ম চাঞ্চল্যতাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে (সমাজের) দক্ষতা বৃদ্ধি তাদের গ্রহব্যাপী অর্জনগুলির একটি সা¤প্রতিক প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্তসার থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই অর্জনগুলির মধ্যে লক্ষণীয় হলো সমাজ গঠন বিষয়ক তৎপরতাগুলি। বর্তমান পাঁচসালা পরিকল্পনার পিছনে রয়েছে সমাজ গঠনের এই প্রচেষ্টার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অধিকতর পরিমার্জিত করার বিশ বছরের শ্রম কিন্তু যে বিষয়টি অত্যন্ত লক্ষণীয় তা হলো যে পরিকল্পনার আড়াই বছরের মধ্যে মূল কার্যক্রমের সংখ্যা শতকরা পঞ্চাশ ভাগ বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী বাহা’ই সমাজ যে কোন নির্দিষ্ট সময় লক্ষ লক্ষ মানুষকে তাদের আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানে সাহায্য করতে এবং তার প্রতি সাড়া দিতে তাদের সামর্থ্য প্রদর্শন করছে। সেই একই সংক্ষিপ্ত সময়, প্রার্থনার জন্য আয়োজিত সমাবেশগুলির সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছেÑ আশা এবং আশীর্বাদ-এর উৎস (ঈশ্বর) থেকে মানবজাতির ক্রমবর্ধমান বিচ্ছেদের কারণে তার (প্রার্থনাসভার) একান্ত প্রয়োজন ছিল। এই অগ্রগতি একটি বিশেষ প্রতিশ্রæতি বহন করে, কেননা ভক্তিমূলক (প্রার্থনা) সভাগুলি সমাজের জীবনে একটি প্রেরণার অনুপ্রবেশ ঘটায়। সকল বয়সের মানুষের শিক্ষার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকার ফলে তা সেই মহৎ উদ্দেশ্য অর্জনে প্রচেষ্টাগুলিকে শক্তিশালী করে। (প্রার্থনাসভা) এমন সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উৎসাহ দান করে যা ঈশ্বরের উপাসনা এবং মানব সেবার গুণ দ্বারা বৈশিষ্ট্যমÐিত। এই বিষয়টি সব চাইতে বেশী স্পষ্ট সেই সকল ক্লাস্টারগুলিতে যেখানে বৃহৎ সংখ্যায় বাহা’ইগণ অংশগ্রহণ করে। কার্যক্রমকে স্থায়ীভাবে পরিচালিত করছেন এবং বন্ধুরা তাদের সমাজের অগ্রগতির তৃতীয় মাইলফলক অতিক্রম করেছেন। আমরা এই বিষয় লক্ষ্য করে আনন্দিত যে, যে সকল ক্লাস্টার অগ্রগতির এই পর্যায় পর্যন্ত চলে এসেছে ইতিমধ্যেই তাদের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশী হয়েছে এবং তাদের সংখ্যা প্রায় পাঁচ শতের কাছে দাঁড়িয়েছে।
এই সংক্ষিপ্ত সমীক্ষা কোন মতেই সেই রূপান্তরের মাত্রার সাথে সুবিচার করতে পারবে না যা বাহা’ই সমাজে বর্তমানে ঘটছে। পরিকল্পনার আগামী দুই বছরও অত্যন্ত উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত বহন করে। যে সকল ক্লাস্টারগুলি আমাদের আশা অনুযায়ী জ্ঞান এবং (মানব) সম্পদের আঁধারে পরিণত হয়েছে এবং যেখানে বৃদ্ধির শক্তিশালী কার্যক্রম ছিল, সে ক্লাস্টারগুলি থেকে গত বছর অর্জিত শিক্ষাগুলিকে ব্যাপকভাবে কাজে লাগিয়ে অনেক কিছু অর্জিত হয়েছে। বিশ্বের সকল অঞ্চলের বন্ধুরা যেন এই গতি বৃদ্ধি থেকে লাভবান হতে পারেন এবং এই শিক্ষাকে তাদের নিজ এলাকার বাস্তবতার আলোকে প্রয়োগ করতে পারেন তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্র, উপদেষ্টাগণ এবং তাদের অক্লান্তভাবে পরিশ্রমরত সহকারীগণ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা এটা লক্ষ্য করে আনন্দিত যে, ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় ক্লাস্টারগুলিতে এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত মহল্লা ও গ্রামে বন্ধুদের একটি মূলদল গড়ে উঠছে যারা কর্ম এবং প্রতিফলনের মাধ্যমে কোনো বিশেষ সময় / পরিস্থিতিতে তাদের এলাকায় বৃদ্ধির অগ্রগতির জন্য করণীয় কি তা তারা খুঁজে পাচ্ছে। তারা ইন্সটিটিউট-এর শক্তিশালী মাধ্যম থেকে শক্তি সঞ্চার করছে যা দ্বারা সমাজের আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত সমৃদ্ধি অর্জন করা যেতে পারে এবং তারা (সেই মূল দল) যখন কর্মতৎপর হচ্ছে তাদের সাথে যোগদানকারীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই স্থান ভেদে অথবা বৃদ্ধির চারিত্রিক গুণের দিক দিয়ে বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি ভিন্ন থাকতে পারে। কিন্তু পদ্ধতিগত বা নিয়মাবদ্ধভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলে প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বকে অধিকতর কার্যকর ভাবে পালন করতে পারে। যে কোন পরিস্থিতিতে অনন্য আত্মাগুলিকে একটি অর্থবহ এবং উৎসাহজনক কথোপকথনে যুক্ত করা একটি নির্মল আনন্দ দানকারী কর্ম কেননা দ্রæত হোক বা বিলম্বে তা সুপ্ত আধ্যাত্মিক অনুভ‚তিগুলিকে নাড়া দেয়। কেননা বিশ্বাসীর হৃদয়ে শিখা যত উজ্জ্বলভাবে প্রজ্বলিত হবে, যারা সেই অগ্নি শিখার সন্নিকটে আসবে তারা তত বেশী তার উষ্ণতা অনুভব করবে এবং বাহা’উল্লাহ্র প্রেমে মত্ত একটি হৃদয়ের জন্য এর চাইতে বড় কোন অভিলাষ কল্পনা করা যেতে পারে যে সে এমন আত্মা খুঁজে বের করবে এবং তারাও যখন সেবার পথে পা বাড়াবে তখন তাদেরকে উৎসাহ দান করবে, অভিজ্ঞতা অর্জনের যাত্রায় তাদের সঙ্গি হবে এবং সম্ভবত সব চাইতে বড় আনন্দ হবে, সেই আত্মাগুলিকে তাদের বিশ্বাসে দৃঢ় হতে দেখা এবং স্বাধীনভাবে সেবায় উত্থিত হয়ে অন্যদেরকে একই পথে অন্যদেরকে সাহায্য করতে দেখতে পারা। এই মুহ‚র্তগুলিই হলো সেই সর্বাধিক কাক্সিক্ষত মুহ‚র্তগুলি যা আমাদের ক্ষণস্থায়ী জীবন আমাদেরকে দিতে পারে।
এই আধ্যাত্মিক উদ্যোগের সম্ভাবনাগুলি মহান বা’ব-এর দ্বিশতবার্ষিকী কাছে চলে আসার ফলে আরো রোমাঞ্চকর হয়েছে। তার পূর্ববর্তী দ্বিশতবার্ষিকীর মতোই এই মুহ‚র্তও ধারণাতীতভাবে মহামূল ্যবান। এই উপলক্ষে বাহা’ইদেরকে তাদের চারিপাশে যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে ঈশ্বরের এই সুমহান দিবস সম্পর্কে সচেতন করার বিস্ময়কর সুযোগ প্রদান করে এই উপলক্ষ্য যা পরপর দুইজন ঐশী প্রকাশ, দুইটি জ্যোতিস্কের অবির্ভাব এবং তাদের স্বগীয় আলোর বিকিন দ্বারা বৈশিষ্ট মন্ডিত। আগামি দুই চক্রের মধ্যে কি অর্জন করা সম্ভব, তা যাদের দুই বছর পূর্বের দ্বিশতবাষীকির অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের ভাল ভাবেই জানা আছে, সেই সময় যা শিক্ষা অর্জিত হয়েছিল তা সমস্ত রূপে এই বছরের যমজ জন্ম বার্ষিকীর দিকে প্রবাহিত করতে হবে। দুইট শতবার্ষিকী কাছে আসার উপলক্ষ্যে আমরা আপনাদের পক্ষ থেকে পবিত্র সমাধিগুলিতে নিয়মিত প্রার্থনা করবো, যেন মহান বাব এর প্রতি যথাযোগ্যভাবে সম্মান প্রদর্শনের আপনাদের প্রচেষ্টাগুলি সেই ধর্মের অগ্রগতির সফলভাবে লাভ করুক যার তিনি (মহান বাব) পূর্ব বার্তা দিয়েছিলেন।
সাংগঠনিক যুগের প্রথম শতাব্দী শেষ হতে মাত্র আড়াই বছর অবশিষ্ট রয়েছে। এই সময়টি ধর্মের বীরত্বের যুগে ধর্মের ভিত্তিকে প্রসারিত ও দৃঢ় করার জন্য পুত:পবিত্র এবং চরম ত্যাগপূর্ণ যে সকল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল তার একশত বছর পূর্ণ হবে। একই সময় বাহা’ই সমাজ আব্দুল-বাহা’র স্বার্গারোহণের শতবার্ষিকী পালন করবে, ঐ সময় যখন প্রিয় মাস্টার এই নশ্বর জগতের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়ে স্বর্গীয় প্রভায় তাঁর পিতার সাথে মিলিত হয়ে ছিলেন। তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া যা পরের দিন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এমন একটি ঘটনা ছিল “যার নজীর ফিলিস্তিন কোন দিন দেখে নাই।” তার নশ্বর দেহকে মহান বাব-এর সমাধি মন্দিরের একটি কক্ষে সমাহিত করা হয়েছিল কিন্তু শৌগি এফেন্দীর পরিকল্পনা অনুযায়ী এটা একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা মাত্র ছিল, যতক্ষণ না উপযুক্ত সময়ে আব্দুল-বাহা’র অনন্য মর্যাদা অনুযায়ী একটি পবিত্র সমাধি নির্মিত হচ্ছে না।
সেই সময় এসেছে। বিশ্ব বাহা’ই সমাজকে জানানো হচ্ছে সেই অট্টালিকা নির্মাণ করার জন্য যা চির কালের জন্য তাঁর পবিত্র দেহাবশেষকে আলিঙ্গন করে রাখবে। এই সমাধিটি পুতঃপবিত্র সুষমার পদধূলি ধারা আশীর্বাদপ্রাপ্ত রিজওয়ান উদ্যানের সংলগ্ন এলাকায় হবে। এইভাবে আব্দুল-বাহা’র সমাধি মন্দির আক্কা এবং হাইফার মধ্যে অবস্থিত বৃত্তের মধ্যে পড়বে। সমাধির স্থাপত্যের পরিকল্পনার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী মাসগুলিতে অধিক তথ্য জানানো হবে।
আমরা যখন আগামী বছর এবং সেই বছর যে সকল সম্ভাবনা বহন করে তার প্রতি গভীরভাবে চিন্তা করি তখন আমাদের মনে অতিশয় আনন্দে ভরে উঠে। আমরা আপনাদের প্রত্যেকেরইÑযারা বাহা’উল্লাহ্র সেবায় নিয়োজিত, যারা প্রত্যেকটি দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার আদর্শে কাজ করে যাচ্ছেনÑকাছ থেকে প্রত্যাশা করছি যে আপনারা আপনাদের সুমহান দায়িত্ব পালন করবেন।
আমরা ঐ সকল স্মরণীয় ঘটনাপ্রবাহের স্থায়ী গোধূলি-লগ্নে আপনাদের প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি যা আশীষপূতঃ সুষমার জন্মের দ্বিশতবার্ষিকী উৎসবকে লক্ষণীয় করেছে। ঐ সময়ে এবং তখন থেকে যা ঘটেছে তা যখন আমরা বিবেচনা করি, তখন আমরা দেখতে পাই যে বিশ্বব্যাপী বাহা’ই সমাজ এখন দেখতে সেই সময়ের মত নেই যখন এটা বর্তমান পরিকল্পনার প্রথম ছয়টি কালচক্র শুরু করেছিল। এটা এখন নিজ উদ্দেশ্য সম্বন্ধে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশী সচেতন। বন্ধু ও পরিচিত ব্যক্তিদেরকে এর সমাজ জীবনের সংস্পর্শে নিয়ে আসতে; মহল্লা ও গ্রামগুলোকে একতাবদ্ধ প্রচেষ্টায় অনুপ্রাণিত করতে; আধ্যাত্মিক সত্যতাগুলোকে সুষ্ঠু ব্যবহারিক কর্মে কিভাবে রূপান্তরিত করা যায় তা গ্রন্থিবদ্ধ করতে; এবং, সর্বোপরি, শুধু শিক্ষাসমূহ সম্বন্ধে নয় যা নতুন বিশ্ব গড়বে, বরং তাঁর সম্বন্ধে যিনি সেগুলো শিক্ষা দিয়েছেন: বাহাউল্লাহ সম্বন্ধে কথোপকথন করতে এর সামর্থ্যে এক অভূতপূর্ব বৃদ্ধি অনুভব করেছে। তাঁর জীবন সম্বন্ধে এবং তাঁর কষ্টভোগের বর্ণনাগুলো যা অগণিত ভাষায় বয়স্থ, যুব ও শিশুদের দ্বারা বলা হয়েছে তা অসংখ্য হৃদয়কে ছুঁয়ে গেছে। কয়েকজন নিজেরাই তাঁর ধর্ম অনুসন্ধান করার আগ্রহ প্রদর্শন করেছে। অন্যান্যরা সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এবং অনেক আশুগ্রাহী আত্মা বিশ্বাসের একটি ঘোষণার প্রতি চালিত হয়েছিল।
অনেক স্থান অগ্রগতির একটি উল্লেখযোগ্য নির্দেশক ছিল যেখানে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে ধর্ম প্রচ্ছন্নতা থেকে জাতীয় স্তরে আবির্ভূত হয়েছে। যেখানে সরকারী নেতাগণ ও বুদ্ধিজীবিগণ ছিলেন যারা প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়েছেন যেÑএবং কখনো কখনো ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্ব আরোপ করেছেনÑবিশ্বের এখন বাহা’উল্লাহ্র দূরদৃষ্টির প্রয়োজন রয়েছে এবং বাহাইদের প্রচেষ্টাগুলো প্রশংসিত হয়েছে এবং প্রসারিত করতে হবে। এটা দেখতে পেয়ে আমরা আনন্দিত হয়েছি যে একমাত্র বাহাইগণ ছিল না যারা বাহা’উল্লাহকে শ্রদ্ধা জানাতে ও তাঁর জীবন উদযাপন করতে ইচ্ছা করেছিল বাহা’ই সমাজের বাইরে কয়েকজন দ্বারা বিশেষ সমাবেশগুলোর আয়োজন করা হয়েছিল।
এলাকাগুলোতে যেখানে ধর্মের প্রতি শত্রুতা বিদ্যমান, সেখানে বন্ধুগণ সংকল্পে অবিচল ছিলেন; বিষ্ময়কর প্রাণোচ্ছলতা প্রদর্শন করে, তারা তাদের স্বদেশবাসীকে নিজেদের পক্ষ থেকে সত্যতা অনুসন্ধান করতে উৎসাহিত করেন, এবং অনেকে আনন্দের সাথে উৎসবগুলোতে অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়াও দ্বিশতবার্ষিকী উৎসব শৈল্পিক অভিব্যক্তির আপাতদৃষ্টিতে সীমাহীন এক প্রস্ফুটনে উত্থান ঘটিয়েছে, ভালবাসার উৎসের প্রতি চমৎকার সাক্ষ্য যা থেকে এটা উদ্ভূত হয়েছে। এই উপলক্ষের প্রতি সমগ্র বাহাই সমাজের বৈশিষ্ট্য ছিল বিশ্বব্যাপী পরিকল্পনাসমূহের বর্তমান অনুক্রম শুরু হওয়া থেকে, এখন পর্যন্ত দুই দশকের বেশী সময় ধরে কতটা শেখা হয়েছে তার নিশ্চয়তা। ব্যক্তি বিশ্বাসী উদ্যোগ নিয়েছেন, সমাজ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উত্থিত হয়েছে এবং বন্ধুগণ তাদের সৃজনশীল শক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কর্তৃক প্রণীত পরিকল্পনাসমূহে প্রণালীবদ্ধ করেছেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিকী, যা দুই শতাব্দীর গতিপথকে লক্ষণীয় করেছে, তা আগামী শতাব্দীগুলোর জন্য সমাজগুলো গড়ার কাজের প্রতি একটি শক্তিশালী উদ্দীপনা প্রদান করেছে। দ্বিতীয় দ্বিশতবার্ষিকী উৎসবের দিকে চালনাকারী সময়ে, এত প্রেমপূর্ণভাবে বপন করা প্রতিটি বীজকে এর ফলপ্রসূতার দিকে নিয়ে যেতে আসুন প্রথমে একে সহিষ্ণুতার সাথে প্রতিপালন করি।
বর্তমান পরিকল্পনায় দুই বছর, যদিও স্বাভাবিকভাবে অগ্রগতি এক দেশ থেকে অন্য দেশে সমান নয়, বিশ্বে নিবিড় বৃদ্ধির কার্যক্রমের সংখ্যা চলতি বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টায় প্রত্যাশা করা পাঁচ হাজারের অর্ধেকে পৌঁছতে যাচ্ছে, এবং যে হারে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তা দৃঢ়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আরো মনোযোগ দিয়ে দেখা হলে, ব্যক্তিবর্গ, সমাজগুলো, এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তি ও সম্ভাবনাসমূহ যেভাবে প্রকাশিত হচ্ছে তার প্রতিশ্রুতিশীল লক্ষণসমূহ রয়েছে। কারণ সকল স্থানের বিশ্বাসীগণ, দ্বিশতবার্ষিকী উৎসব পালনের অভিজ্ঞতায় প্রদর্শন করেছেন যে তাদের চারপাশের লোকজনের সাথে তাদের দৈনন্দিন অনেক পারস্পরিক আলোচনাকে শিক্ষাদানের চেতনা দ্বারা সঞ্চারিত করা যেতে পারে। এবং হাজার হাজার গ্রাম ও মহল্লায় যখন কাজ ভরবেগ সঞ্চারিত করে, তখন প্রত্যেকটিতে একটি স্পন্দনশীল সামাজিক জীবন সুদৃঢ় হয়। যেখানে কার্যকলাপের এই আদর্শ প্রসারিত করার জন্য পদ্ধতিটি বেশী বেশী লোকালয়ে সু-প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফলস্বরূপ, বন্ধুগণকে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় তৃতীয় মাইলফলকটি অতিক্রম করতে সক্ষম করছে সেখানে ক্লাস্টারগুলোর সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং তা এখানে, বাহাই বিশ্বের শেখার সীমান্তগুলোতে, বিশেষভাবে বাহাউল্লাহর দূরদৃষ্টির দিকে জনগণের সঞ্চালনে, যেখানে কেবল বৃহৎ সংখ্যাগুলো বাহাই কার্যকলাপের প্রসারণশীল আলিঙ্গনে আসছে না বরং বন্ধুগণ এখন শিখছেন কিভাবে বড় আকারের দলগুলো পরম মহান নামের সমাজের সাথে নিজেদেরকে একাত্ম করছে। এইরূপ স্থানগুলোতে আমরা ধর্মের শিক্ষামূলক প্রচেষ্টাসমূহকে একটি অধিকতর আনুষ্ঠানিক বৈশিষ্ট্য গ্রহণ করতে দেখছি, যখন শিশুগণ বছরের পর বছর গ্রেডগুলোর মাধ্যমে নির্বিঘ্নে সঞ্চালিত হচ্ছে এবং জুনিয়র ইয়ুথ আধ্যাত্মিক ক্ষমতায়ন কার্যক্রমের একটি স্তর নির্ভরযোগ্যভাবে অপরটির অনুবর্তী হচ্ছে। এই সকল স্থানে, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নিশ্চিত করতে শিখছে যে চির-বর্ধিষ্ণু সংখ্যায় শিশু ও জুনিয়র ইয়োথদের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উন্নতিসাধনের জন্য পর্যাপ্ত মানব সম্পদসমূহ গড়ে তোলা যায়। এই সকল ভিত্তিমূলক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ জনসংখ্যার সংস্কৃতিতে এতই দৃঢ়ভাবে নিহিত যে একে একটি সমাজের জীবনের একটি অপরিহার্য দিক হিসাবে দেখা হয়। একটি জনসমষ্টির মধ্যে তাদের নিজেদের উন্নয়নের দায়িত্ব গ্রহণকারী একটি নতুন জীবনীশক্তি সুস্পষ্ট হয় এবং সেগুলো ঐ সকল সামাজিক শক্তির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা গড়ে তোলে যা নিষ্ক্রিয়তার জন্ম দেয়। বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক অগ্রগতির জন্য সম্ভাবনাগুলো সৃষ্টি হয়। সামাজিক বাস্তবতা রূপান্তরিত হতে শুরু করে।
প্রিয় বন্ধুগণ, পরম-প্রিয়তমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করার জন্য এটা সত্যিকারভাবে একটি মূহুর্ত। উৎসাহিত হওয়ার প্রচুর কারণ রয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা শুধু কাজের পরিমাণ সম্বন্ধে খুব বেশী সচেতন রয়েছি যা অবশিষ্ট রয়েছে। মৌলিকভাবে, পূর্বে আমরা যেরূপ জ্ঞাপন করেছি, বহু শত ক্লাস্টারে অবশ্যই বিশ্বাসীগণের একটি বর্ধিষ্ণু দল বেরিয়ে আসতে হবে যারা, তাদের চারপাশে যারা রয়েছে তাদেরকে নিয়ে, সযতেœ লালিত বৃদ্ধি ও বর্ধিষ্ণু সামর্থ্যের উপর একটি সুদৃঢ় মনোযোগ বজায় রাখতে পারে। প্রত্যেক জায়গায় ব্যক্তিগণের একটি প্রসারণশীল কেন্দ্রীয় অংশ গড়ে তোলা ও সহগামী হওয়া-কেবল ক্লাস্টার স্তরে নয় বরং মহল্লা ও গ্রামগুলোর মধ্যে-একই সময়ে একটি দুর্দান্ত চ্যালেঞ্জ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। কিন্তু যেখানে তা সংঘটিত হচ্ছে, সেখানে ফলাফলগুলোই তার প্রমাণ হয়ে আছে।
আমরা দেখতে পেয়ে আশ্বস্ত যে ধর্মের প্রতিষ্ঠানগুলো এই সর্বোচ্চ প্রয়োজনকে তাদের চিন্তার অগ্রভাগে রাখছেন, ব্যাপকভাবে প্রয়োগের জন্য অগ্রগতি থেকে উত্থিত অন্তর্দৃষ্টিগুলোকে সক্ষম করতে কার্যকর পদ্ধতিগুলো উদ্ভাবন করছেন। একই সময়ে, বৃহত্তর অভিজ্ঞতা জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরূপ প্রশস্ততর দূরদৃষ্টি দ্বারা ভূষিত করছে। তারা সমাজের উন্নয়নের সকল দিকে সম্পৃক্ত হচ্ছে এবং এর আনুষ্ঠানিক সদস্যতা ছাড়িয়ে জনগণের কল্যাণের সাথে সংশ্লিষ্ট হচ্ছেন। জনগণের অগ্রগতির জন্য ইনস্টিটিউট প্রক্রিয়া যে গভীর তাৎপর্য রাখে সে বিষয়ে সচেতন থেকে, কিভাবে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটকে শক্তিশালী করা যেতে পারে সেদিকে তারা বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন। পরিকল্পনার প্রয়োজনগুলোর উপর সমাজের মনোযোগ এবং বন্ধুদের সদা-প্রসারণশীল চক্রের প্রতি একতার আরো উচ্চতর স্তরগুলোর আহ্বান বজায় রাখার প্রয়োজন সম্বন্ধে তারা সচেতন রয়েছেন। তারা বিশ্বস্ততার সাথে তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক পদ্ধতিগুলো পরিমার্জন করতে তাদের দায়িত্বগুলো সমুন্নত রাখছেন যেন প্রসারণ ও দৃঢ়করণের কাজে যথাযথভাবে সাহায্য করা যায়। এই সকল কাজে, তারা সমাজের মধ্যে ঐ অবস্থাগুলো সৃষ্টি করতে চূড়ান্তভাবে নিয়োজিত রয়েছেন যা শক্তিশালী আধ্যাত্মিক বাহিনীসমূহ বিমুক্ত করার প্রতি সহায়ক।
সমাজ গড়ার কাজ যখন তীব্র হচ্ছে, তখন বন্ধুগণ তাদের চারপাশের সমাজে অবস্থাগুলো উন্নত করতে তাদের গড়ে তোলা নতুন সামর্থ্যগুলো, ঐশ্বরিক শিক্ষাসমূহ সম্বন্ধে তাদের অধ্যয়ন দ্বারা প্রজ্বলিত তাদের উদ্দীপনা ব্যবহার করছেন। স্বল্প-মেয়াদী প্রকল্পগুলো সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে, আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমগুলো তাদের পরিসর প্রসারিত করেছে, এবং এখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অধিক সংখ্যক বাহাই-অনুপ্রাণিত উন্নয়ন সংগঠনগুলো নিয়োজিত রয়েছে। জনগণের ব্যক্তিক ও সম্মিলিত জীবনে দৃশ্যমান রূপান্তরের ফলাফল থেকে বাহাউল্লাহর ধর্মের সমাজ গড়ার ক্ষমতার সুস্পষ্ট আলোড়নগুলো দেখা যেতে পারে। অতঃপর, এতে অবাক হবার কিছু নেই যে এটা সামাজিক কর্মের এইরূপ উপলক্ষগুলো থেকে-হোক তা সরল বা জটিল, নির্ধারিত সময়ের বা দীর্ঘ-সময়ব্যাপী-যা বাহাই আন্তর্জাতিক সমাজের কার্যালয়গুলো সমাজের বিদ্যমান আলোচনাগুলোতে অংশগ্রহণ করতে তাদের প্রচেষ্টাগুলোতে বর্ধিষ্ণুভাবে অনুপ্রেরণা লাভ করছে। এটা ধর্মের জন্য প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যা বেশ ভালভাবে এগিয়ে গেছে। জাতীয় স্তরে, আলোচনা সভাসমূহের প্রতি অবদানগুলো যা ঐ সমাজের প্রতি অর্থপূর্ণ নারী ও পুরুষের সমানাধিকার, অভিবাসন ও একাঙ্গীকরণ, সামাজিক রূপান্তরে যুবদের ভূমিকা, এবং ধর্মীয় সহাবস্থান, অন্যান্যগুলোর মধ্যে রয়েছে-তা আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা, ও অন্তর্দৃষ্টির সাথে করা হচ্ছে। এবং তারা যেখানেই বসবাস, কাজ, বা অধ্যয়ন করছে, সকল বয়স ও পটভূমির বিশ্বাসীগণ বিশেষ আলোচনা সভাগুলোর প্রতি মূল্যবান অবদান রাখছেন, যারা তাদের চারপাশে রয়েছে তাদের মনোযোগের প্রতি বাহাউল্লাহর বিশাল প্রত্যাদেশ দ্বারা গঠিত নীতিগত দৃষ্টিকোন নিয়ে আসছেন।
বিভিন্ন স্থানে যেখানে আলোচনা সভাগুলো উন্মোচিত হয়েছে সেখানে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে এর অফিসিয়াল উপস্থিতি দ্বারা ধর্মের অবস্থান অনেক উন্নত হয়েছে, একটি উপস্থিতি যা অসংখ্য জাতীয় বাহাই ওয়েবসাইটের চালু হওয়া এবং বাহাই.অর্গ এর সাথে সংশ্লিস্ট সাইটগুলোর পরিবারের আরো উন্নয়নের মাধ্যমে যথেষ্ট প্রসারিত হয়েছে। তে ধর্মের প্রচার ও সংরক্ষণ উভয়ের জন্য অপরিমেয় মান রয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যাপ্তিতে ধর্ম সম্বন্ধে সযতেœ ধারণাকৃত বিষয়বস্তুর প্রতি বিশ্বব্যাপী একটি বৃহৎ পাঠকসাধারণকে আকৃষ্ট করেছিল যা দ্বিশতবার্ষিকী উৎসব ওয়েবসাইটে উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং একইসময়ে নয়টি ভাষায় হালনাগাদ করা হয়েছিল এবং উদ্যাপনগুলো যা ঘটেছিল তার বৈচিত্র ব্যাখ্যা করে এখন তা স্বতন্ত্র দেশের ওয়েব পেজগুলো দ্বারা উদ্দীপিত করা হয়েছে। বাহাই রেফারেন্স লাইব্রেরী সাইটের প্রতি একটি বৈশিষ্ট্য উপস্থাপনের জন্য পরিকল্পনাসমূহ ইতিমধ্যে বেশ এগিয়ে গেছে যা একটি সময়ের পরে পবিত্র লিখনাবলী থেকে পূর্বে অন-অনূদিত ও অপ্রকাশিত অনুচ্ছেদ বা ফলকলিপিসমূহ অনলাইনে বিমুক্ত করতে দেবে এবং তা, আগামী বছরগুলোতে বাহাউল্লাহ ও আব্দুল-বাহার ইংরেজী ভাষায় অনূদিত নতুন পুস্তকগুলো আবির্ভূত হওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সান্টিয়াগো, চিলি, এবং বাত্তামবাং, ক্যাম্বোডিয়ায়, বিশ্বের অতি সম্প্রতি উৎসর্গিত উপাসনালয়গুলো আকর্ষণের প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রগুলোতে পরিণত হচ্ছে, তাদের সকলের সমাজগুলোর প্রতি ধর্মের প্রধান উদ্দেশ্য সম্বন্ধে পথনির্দেশ দিচ্ছে। এবং সেগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। আমরা ঘোষণা করতে পেরে আনন্দিত যে কলম্বিয়ার নর্টে ডেল কোকায় উপাসনালয়ের জন্য উৎসর্গ অনুষ্ঠানটি জুলাই মাসে সংঘটিত হবে। এ ছাড়াও, আরো উপাসনালয়ের নির্মাণ কাজ নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ভানুয়াতুতে, নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য অনুমতি নেয়া হচ্ছে। ভারত ও গণ প্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে, একটি অত্যন্ত জটিল ও যথোপযুক্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত সফল ভূমি অধিগ্রহণের দিকে চালিত করেছে। পাপুয়া নিউ গিনিতে নওরোজে উন্মোচিত প্রথম জাতীয় মাশরিকুল-আযকারের নকশা দেখার আনন্দ তখনো মিলিয়ে যায় নাই যখন কেনিয়ায় স্থানীয় উপানসালয়ের নকশাও উদ্ঘাটিত হয়েছিল। ইতিমধ্যে, আমাদের প্রত্যেক প্রত্যাশা রয়েছে যে আমাদের গবেষণা বিভাগ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত, মাশরিকুল-আযকারের প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত বিবৃতি ও সংকলন, সমাজ জীবনে উপাসনার গুরুত্ব সম্বন্ধে বন্ধুদের উপলব্ধি আরো উদ্দীপিত করবে। কারণ তাদের সেবার কর্মগুলোতে, বিশেষভাবে তাদের নিয়মিত ভক্তিমূলক সমাবেশগুলোতে, সকল স্থানের বাহাইগণ ভবিষ্যৎ উপাসনালয়সমূহের আধ্যাত্মিক ভিত্তিগুলো স্থাপন করছেন।
এক চতুর্থাংশ-শতাব্দী প্রচেষ্টার মাত্র তিন বছর অবশিষ্ট রয়েছে যা ১৯৯৬ সালে শুরু হয়েছিল যা একটি অভিন্ন লক্ষ্যের উপর নিবদ্ধ: দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। রিজওয়ান ২০২১ এ, বাহাউল্লাহর অনুসারীগণ একটি এক-বছর ব্যাপী পরিকল্পনা শুরু করবেন। সংক্ষিপ্ত, কিন্তু পূর্বলক্ষণ দ্বারা পূর্ণ, এই এক-বার্ষিক প্রচেষ্টা পরিকল্পনাসমূহের একটি নতুন তরঙ্গ শুরু করবে যা ধর্মের জাহাজকে বাহাই যুগের তৃতীয় শতাব্দীতে নিয়ে যাবে। এই শুভলক্ষণযুক্ত বারো মাসের কার্যপরম্পরার সময়, আব্দুল-বাহার স্বর্গারোহণের শতবার্ষিকী উপলক্ষে বাহাই বিশ্বের স্মৃতি উদ্যাপন বাহাই বিশ্ব কেন্দ্রে একটি বিশেষ সমাবেশকে অন্তর্ভূক্ত করবে যেখানে প্রত্যেক জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ ও প্রত্যেক আঞ্চলিক বাহাই কাউন্সিলের প্রতিনিধিগণকে নিমন্ত্রণ করা হবে। যদিও, এটা ঘটনাবলীর পরম্পরায় প্রথমটি হবে যা বিশ্বাসীগণকে আগামী দশকগুলোর চাহিদার জন্য প্রস্তুত করবে। পরবর্তী জানুয়ারী মাসে, মাস্টারের ইষ্টিপত্র প্রথমবার প্রকাশ্যে পাঠ করার পর থেকে একশত বছর অতিবাহিত হওয়া পবিত্র ভূমিতে একটি সম্মেলনের জন্য উপলক্ষ হবে যা মহাদেশীয় বোর্ডের উপদেষ্টাগণ এবং সংরক্ষণ ও প্রচারের জন্য অক্সিলারী বোর্ডের সকল সদস্যগণকে একত্রে নিয়ে আসবে। এই দুইটি ঐতিহাসিক সমাবেশ থেকে বিমুক্ত আধ্যাত্মিক শক্তি তখন ঈশ্বরের বন্ধুদের দ্বারা অবশ্যই প্রতিটি ভূ-খনডে বাহিত হবে যেখানে তারা বাস করেন। এই উদ্দেশ্যের জন্য, তার পরবর্তী মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী সম্মেলনগুলোর একটি পরম্পরার আহ্বান করা হবে, যা বহু-বার্ষিক প্রচেষ্টার প্রতি একটি অনুঘটক হবে যা আগামী এক-বার্ষিক পরিকল্পনার অনুবর্তী হবে।
এভাবে, মাস্টারের ঐশ্বরিক পরিকল্পনায় একটি নতুন পর্যায় এগিয়ে আসছে। কিন্তু একটি রোমাঞ্চকর ও আরো তাৎক্ষণিক প্রত্যাশা সরাসরি সম্মুখে রয়েছে। বাবের জন্মের দ্বিশতবার্ষিকী উৎসব এখন মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে রয়েছে। এটা একটি সময় যখন আমাদের ধর্মের শহীদ-অগ্রদূতের অসাধারণ বীরত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যার নাটকীয় কার্যকাল মানবজাতিকে ইতিহাসের একটি নতুন যুগে ঠেলে দিয়েছে। যদিও আমাদের নিজেদের সময় থেকে দুই শতাব্দী দ্বারা পৃথক, সমাজটি যার মধ্যে বাব আবির্ভূত হয়েছিলেন তা নিপীড়নের দিক দিয়ে এবং আত্মার তৃষ্ণা নিবারণ করতে উত্তরগুলো খুঁজে পেতে এত অধিক সংখ্যকের আকাঙ্খার জন্য বর্তমান কালের বিশ্বের অনুরূপ ছিল। কিভাবে এই দুই-শত-বছর বার্ষিকী যথোপযুক্তভাবে লক্ষণীয় করা যায় তা বিবেচনা করতে গিয়ে, আমরা স্বীকার করছি যে এই সকল উদ্যাপনের নিজস্ব একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তা সত্ত্বেও, আমরা কার্যকলাপের একটি জাঁকজমক প্রত্যাশা করছি যা ঐ উদ্যাপন থেকে কোনভাবে কম সমৃদ্ধ ও কম ব্যাপক হবে না যা সবে মাত্র ঘটে যাওয়া দ্বিশতবার্ষিকী উৎসবের সহগামী হয়েছিল। এ এক উপলক্ষ যার প্রতি প্রত্যেক সমাজ, প্রত্যেক পরিবার, প্রত্যেক হৃদয় নিঃসন্দেহে অধীর প্রত্যাশায় পথ চেয়ে থাকবে।
এ ছাড়াও আগামী মাসগুলো বাবের অকুতোভয় অনুসারীদের জীবনগুলো স্মরণ করার জন্য একটি সময় হবে--বীরগণ ও বীরাঙ্গনাগণ যাদের বিশ্বাস অতুলনীয়, ত্যাগের কর্মগুলোতে ব্যক্ত হয়েছিল যা চিরকাল ধর্মের বর্ষপঞ্জিগুলোকে অলঙ্কৃত করবে। তাদের নির্ভীকতা, উৎসর্গ এবং ঈশ্বর ব্যতীত অন্য সব থেকে নিরাসক্তির গুণাবলী-ই তাদের প্রত্যেককে প্রভাবিত করে যারা তাদের উদ্যোগগুলো সম্বন্ধে জেনেছে। এ ছাড়াও, কত লক্ষণীয় ছিল তরুণ বয়স যখন ঐ সকল সিংহ-হৃদয় ইতিহাসের উপর তাদের অমোচনীয় চিহ্ন সৃষ্টি করেছিলেন। আগামী দিনগুলোতে, তাদের উদাহরণ যেন বিশ্বস্তদের সম্পূর্ণ দলের প্রতি সাহস প্রদান করেÑÑতরুণদের প্রতি তা কম হবে না, যাদেরকে আরেকবার একটি আন্দোলনের অগ্রদূত হওয়ার আহ্বান করা হয়েছে যার লক্ষ্য বিশ্বের রূপান্তর অপেক্ষা কোনভাবেই কম নয়।
অতঃপর, এটা আমাদের উজ্জ্বল, উজ্জ্বল আশা। ছয়টি কালচক্র যা এই রিজওয়ান এবং পরবর্তী দ্বিশতবার্ষিকী উৎসবের মধ্যে রয়েছে -- প্রকৃতপক্ষে, চলতি পরিকল্পনার অবশিষ্ট তিন বছর --একই সর্ব-গ্রাসকারী, সর্বাতিক্রমী ভালবাসা যা ঐশ্বরিক আলো বিকীর্ণ করতে বাবের শিষ্যদের অনুপ্রাণিত করেছিল তা যেন আপনাদেরকে মহান কাজগুলোর প্রতি অনুপ্রাণিত করে। পবিত্র দ্বারপ্রান্তে আমাদের সানুনয় প্রার্থনা হচ্ছে আপনারা যেন স্বর্গীয় সাহায্যের গ্রহীতা হতে পারেন।
দুইটি উদীয়মান বাস্তবতা আমাদেরকে আপনাদের উদ্দেশ্যে এই কথাগুলি বলতে উৎসাহিত করেছে। প্রথম বাস্তবতাটি হল করো ভাইরাসের অন্ধকারময় এবং আতঙ্কজনক মহামারী সম্পর্কে বিশব^ ্যাপী μমবর্ধমান সচেতনতা। অনেক দেশে বিপর্যয় এড়াতে বীরত্বপূর্ণ এবং দৃঢ় সংকল্প প্ের চষ্টা সত্তে¡ও অবস্থা ইতিমধ্যে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে যা পরিবার ও ব্যক্তির জন্য মর্মান্তিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে এবং সমগ্র সমাজগুলিকে সংকটে নিমজ্জিত করেছে। দুঃখ এবং কষ্টের ঢেউগুলি একের পর এক আসছে এবং তা বিভিন্ন জাতিসমূহকে বিভিন্ন মুহূর্তে, বিভিন্ন ভাবে দুর্বল করছে।
দ্বিতীয় বাস্তবতা, যা প্রতি দিনই প্রতীয়মান হচ্ছে তা হল এমন চ্যালেঞ্জ যার তুলনা স্মরণকালে পাওয়া যায় না, তার মোকাবেলায় বাহা’ই বিশে^র দৃঢ়তা এবং অপ্রশমিত জীবনী শক্তি। এই ক্ষেত্রে আপনাদের সাড়াদান ছিল অসাধারণ। আমরা একমাস পূর্বে যখন নওরোজ উপলক্ষে আপনাদেরকে লিখেছিলাম তখন আমরা যেসকল সমাজের ¯^াভাবিক কার্যμমের ধারা বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিল এবং ঐ সময় তারা যে হৃদয়ে গভীর দাগ কাটার মত গুণাবলী প্রদর্শন করেছিল তার প্রতি জোর দিতে আগ্রহী ছিলাম। এই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যা ঘটেছে তা অনেক বন্ধুদেরকে μমবর্ধমান কঠিন বাধা-নিষেধ মেনে চলতে বাধ্য করছে, তা আমাদের মুগ্ধতার অনুভূতিকে গভীরতর করেছে। বিশে^র অন্যান্য প্রান্তে অর্জীত অভিজ্ঞতা থেকে শিখে কতিপয় সমাজ মানুে ষর মধ্যে গণ-¯^াস্থ্য বিষয়ক প্ের য়াজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য নিরাপদ ও সৃজনশীল পন্থা বের করেছেন। যারা এই ভাইরাস এবং তা থেকে উদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকটের সবচেয়ে বেশি ঝুকিতে রয়েছে তাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ প্রদান করা হচ্ছে। বাহা’ই বিশ^সংবাদ সার্ভিসে এই বিষয়ে যেসকল উদ্যোগের উল্লেখ করা হয়েছে তা এই ধরণের অসংখ্য ঘটনাবলীর মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র। এইগুলিকে সকল আধ্যাত্মিক গুণাবলী এমন সময় প্রয়োজন হয় তার পর্যবেক্ষণ, উৎসাহদান এবং চর্চার মাধ্যমে পরিপূর্ণ করা হচ্ছে। এমন অনেক প্রচেষ্টা ¯া^ ভাবিক ভাবেই পরিবারের অভ্যন্তরে অথবা একাকী হচ্ছে, কিন্তু যেখানেই পরিস্থিতি অনুকূলে অথবা যোগাযোগের মাধ্যমে তা সম্ভব করে সেখানেই যে সকল আত্মাগুলি একই প্রকার পরিস্থিতিতে রয়েছেন তাদের মধ্যে সংহতির একটি অসাধারণ চেতনা সμিয়ভাবে লালিত হচ্ছে। সামাজিক জীবনের ধারাকে যা সম্মিলিত প্রগতির জন্য অতীব রুতপ¡ূর্ণ তা দমিত করা যাবে না। যে দক্ষতার সাথে আলোর সেনাদলের অক্লান্ত সেনাপতি-জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহ তাদের সমাজগুলিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন এবং এই সংকটের প্রতি তাদের সাড়াদানকে গড়ে তুলেছেন তা প্রত্যক্ষ করে আমাদের মনোবল দঢ়ৃ হয়েছে। এই কাজে তারা উপদেষ্টাবৃন্দ এবং তাদের সাহায্যকারীদের দৃঢ় সমর্থন পেয়েছেন, যারা যথারীতি ভালোবাসাপূর্ণ সেবাদানের পতাকা বীরত্বপূর্ণভাবে ঊর্ধ্বে তুে ল ধরেছেন। নিজের দেশে দ্রুত পরিবর্তনশীল অবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত থেকে পরিষদসমূহ ধর্মের প্রশাসনিক বিষয়াবলী পরিচালনা করার জন্য ১
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, বিশেষ করে নির্বাচন অনুষ্ঠান করার মত ঘটনা যে সকল স্থানে সম্ভব ছিল সেখানে তা করা হয়েছে। নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান ও তাদের এজেন্সীসমূহ নিয়মিতভাবে বিজ্ঞতার সাথে উপদেশ, যথার্থ আশ^াসদান এবং অবিরত উৎসাহ দান করেছেন। অনেক ে তারা সে সকল গঠনমূলক বিষয়গুলিকে চিহ্নিত করাও আরম্ভ করেছেন যা তাদের সমাজের আলোচনায় উঠে আসছে। নওরোজ বার্তায় ব্যক্ত আমাদের এই প্রত্যাশা যে, মানবতার কষ্ট-সহিষ্ণুতার এই পরীক্ষা তাকে গভীরতর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করবে এবং তা ইতিমধ্যেই বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। নেতৃবর্গ, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ এবং বিশ্লেষকগণ সেই সব মৌলিক ধারণা এবং সাহসী প্রত্যাশাসমূহের অšে^ষণ শুরু করেছেন যা সাম্প্রতিক কালে গণ আলোচনায় মূলত অনুপস্থিত ছিল। বর্তমানে সেগুলির পূর্বাভাষ মাত্র, তবুও তা এই সম্ভবনা জাগায় যে, সম্মিলিত চেতনার মুহূর্ত এখন হয়তো দৃশ্যমান।
বাহা’ই বিশে^র দৃঢ়তা যা তার সμিয়তায় প্রকাশ পাচ্ছে তা প্রত্যক্ষ করে আমরা যে ¯^স্তি পাই তা মানবতার জন্য এই মহামারীর পরিণামের জন্য আমাদের দঃু খের কারণে অনেকটা হ্রাস পায়। আমরা অবগত আছি যে, বিশ^াসীগণ এবং তাদের সহযোগিরাও এই দুর্দশাগ্রস্থ পৃথিবী বৃহৎ সংখ্যক মানুে ষর মত সাধারণের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তায় বন্ধু এবং আত্মীয়দের থেকে যে দুরত্ব বজায় রাখছে তা কিছু মানুে ষর জন্য স্থায়ী বিচ্ছেদের রূপ নেবে। প্রতিটি ভোর নিশ্চিত করছে যেন দিন শেষ হওয়ার পূর্বে আরো অন্তর্বেদনা সহ্য করতে হবে। অনন্ত রাজ্যে পুনঃমিলনের প্রতিশ্রæতি যেন তাদের সান্ত্বনা প্রদান করুক যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। আমরা তাদের হৃদয়ের শান্তির জন্য প্রার্থনা করি এবং যাদের শিক্ষা, রোজগার, বাড়ীঘর এমনকি তাদের বেঁচে থাকার ননূ ্যতম অবলম্বনও ঝুকির মুখে, ঈশ^রের দয়া যেন তাদেরকে পরিবেষ্টন করে। আমরা আপনাদের এবং যারা আপনাদের প্রিয়জন এবং আপনাদের দেশবাসীদের জন্য বাহা’উল্লাহ্র নিকট মিনতি করি এবং তাঁর আশীর্বাদ ও আনুকূে ল্যর
জন্য সনির্বন্ধ প্রার্থনা করি।
সম্মুখে চলার পথ যতই দীর্ঘ এবং দুরহ হোক না কেনো, আমাদের দীর্ঘ বিশ^াস যে, আপনাদের বীরত্বপূর্ণ সাহসীকতা এবং দৃঢ় প্রত্যয় আপনাদেরকে আপনাদের লক্ষে পৌঁছাতে সক্ষম করবে। আশা, বিশ^াস এবং মহানুভবতার ভাণ্ডারের সহায়তা নিন, অন্যদের প্রয়োজনীয়তাকে নিজের প্রয়োজনের উপর অগ্রাধিকার দিন, যারা বঞ্চিত, তাদের আধ্যাত্মিকভাবে উন্নত হতে সক্ষম করুন, যারা μমাš^য় উত্তর পাওয়ার জন্য তৃষ্ণার্ত তাদের তৃষ্ণা নিবারণ করুন এবং যারা পৃথিবীর উনœিতর জন্য কাজ করার জন্য প্রবল আকাক্সক্ষা পোষণ করে তাদেরকে তার মাধ্যম প্রদান করুন। পুতঃপবিত্র পূর্ণতার একনিষ্ঠ অনুসারীদের নিকট হতে আমরা এর চেয়ে কম আর কী আশা করতে পারি?
১। ধর্মের ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্মরণীয় অধ্যায়ের শেষ কথাগুলি লেখা হয়েছে এবং পৃষ্ঠা উল্টানো হচ্ছে। এই রিজওয়ান একটি অসাধারণ বছরের এটি পাঁচ সালা পরিকল্পনার এবং ১৯৯৬ সালে শুরু হওয়া পরিকল্পনাসমূহের একটি পূর্ণ ধারাবাহিকের সমাপ্তিকে চিহ্নিত করে। পরিকল্পনাসমূহের একটি নতুন μম আমাদেরকে আহ্বান জানাচ্ছে, যা একটি নব যুগ সৃষ্টিকারী বার মাসের প্রতিশ্রুতি এবং যা আগামী রিজওয়ান থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এমন একটি ৯বছর ব্যাপী প্রচেষ্টার প্রস্তাবনার সম্মুখে এমন একটি সমাজ দেখতে পারছি যা দ্রু ত শক্তি সঞ্চার করছে এবং এগিয়ে যাওয়ার জন্য বৃহত্তর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু এই স্থানে পৌছঁ াতে কত কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছিল এবং এই পথে অগ্রসর হতে কত কষ্টার্জিত অšদর্Íৃষ্টি লাভ হয়েছে তার সম্পর্কে কোন ভ্রান্ত ধারণার অবকাশ থাকতে পারে না। অর্জিত শিক্ষাগুলি সমাজের ভবিষ্যৎকে রূপ দান করবে এবং সেই শিক্ষাগুলি কিভাবে অর্জন করা হয়েছিল তার বর্ণনা আগামী দিনগুলির উপর আলোক বর্ষণ করবে।
২। ১৯৯৬ পূর্ববর্তী দশকগুলি যা নিজের অগ্রগতি এবং অন্তর্দৃষ্টিসমূহ দ্বারা সমদ্ধৃ ছিল, কোন সন্দেহের অবকাশ রাখে না যে, অনেক সমাজে বৃহত্তর সংখ্যায় মানুষ ধর্মের পতাকা তলে আসতে প্রস্তুত থাকবে। তবুও বহৃ ত্তর সংখ্যায় ধর্মের অন্তর্ভূক্তির উদাহরণগুলি যতই উৎসাহজনক হোক না কেন সেগুলির বৃদ্ধির টেকসই প্রμিয়ার সাথে তুলনা করা যেতে পারে না যার বৈচিত্র পটভূিমতে লালন করা যেতে পারে। সেই সময় সমাজ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিল যার যথোচিত উত্তর দেওয়ার মত যথেষ্ট অভিজ্ঞতা তখন তার ছিল না। সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলিকে দৃঢ়করণের প্রμিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে এমনভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় যেন বৃদ্ধিকে ধরে রাখার দীর্ঘ দিনের আপাত দৃষ্টিতে দুর্নিবার চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ হওয়া যায়। কিরূপ এমন ব্যক্তি প্রতিষ্টানসমূহ এবং সমাজগুলির গড়ে তোলা যায় যারা বাহা’উল্লাহ্র শিক্ষাকে বাস্তবে পরিণত করার সক্ষমতা রাখে? এবং ভাবে যারা বাহা’ই শিক্ষাসমূহের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। একটি গ্রহব্যাপী আধ্যাত্মিক উদ্যোগের প্রবক্তায় পরিণত হতে পারে?
৩। আজ থেকে সিকি শতাব্দী পূর্বে পরিস্থিতি এই রূপ ছিল যে, বাহা’ই সমজ যখন একটি চারসালা পরিকল্পনা শুরু করে তখন ও তারা তাদের প্রথম সারীতে তিন জন ঈশ্বরের ধর্মের বাহকগণ তাদের সঙ্গে ছিলেন, সেই সময়ের পূর্বে যারা ছিলেন তাদের থেকে তারা (সেই সময়ের বাহা’ইগণ) এইরূপ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ছিলেন যে, তাদের সমস্ত মনোযোগ এক লক্ষ্যের প্রতি কেন্দ্রীভতূ ছিল: দলে দলে যোগদানের প্রμিয়ার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এই লক্ষ্যটিই পরবর্তী পরিকল্পনাসমূহের μমকে সংজ্ঞায়িত করে। সমাজ ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছিল যে, এই প্রμিয়ার অর্থ কেবল মাত্র একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংখ্যায় মানুে ষর দলগুলির ধর্মে প্রবেশ নয় এবং সেটা স্বত:স্ফূর্তভাবেও ঘটবে না; এটার জন্য স্থিরসংকল্প পদ্ধতিগত এবং দ্রুতগতি সম্বলিত সম্প্রসারণ এবং দৃঢ়করণের প্ের য়াজন। এই উদ্যোগের জন্য বৃহৎ সংখ্যায় আত্মাসমূহের উদ্দীপ্ত অংশগ্রহণের প্রয়োজন হবে এবং ১৯৯৬Ñএ বাহা’ই বিশ্বকে এই প্রμিয়া যে বিশাল শিক্ষামূলক চ্যালেঞ্জকে জন্ম দেয় তার ভার গ্রহণ করার জন্য আহবান জানানো হয়েছিল। তাদেরকে প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটসমূহের এমন একটি পরস্পর যুক্ত শক্সৃ খলা তৈরী করতে আহবান জানানো হয় যেগুলি বৃদ্ধির প্রμিয়াকে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা সম্পন্ন মানুষের μমবর্ধমান প্রবাহ সৃষ্টি করার প্িরত মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করবে।
৪। এই উদ্যোগ গ্রহণ করার সময় বন্ধুরা অবগত ছিলেন যে, ধর্মের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে তাদের বিগত বিজয়সমূহ সত্তে¦ও এটা খুবই স্পষ্ট ছিল যে, সামর্থ্যগুলি তাদেরকে অর্জন করতে হবে তা সে বিষয় তাদের অনেকে শেখার রয়েছে এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেই সকল সামর্থ্য কিভাবে অর্জন করা হবে তা শেখা। অনেকভাবে সমাজ এই সামর্থ্যগুলি কাজ করার মাধ্যমে শেখে এবং তারা যে শিক্ষা অর্জন করে তা এবকার দীর্ঘসময় ধরে বিভিন্ন পটভূমিতে পরিমার্জিত এবং বিশোধিত হয়ে অবশেষে শিক্ষামূলক উপকরণে অন্তর্ভূক্ত হয়। এটা স্বীকার করা হয় যে, কতিপয় কার্যμম জনগণের আধ্যাত্মিক চাহিদার প্রতি স্বাভাবিক সাড়া দান ছিল। অধ্যয়ন চμ, শিশু ক্লাস, ভক্তিমূলক সভা এবং পরবর্তীতে জুনিয়র ইয়ুথ গ্রুপগুলি এই ক্ষেত্রে প্রধান গুরুত্ব বহনকারী কার্যμম রূপে লক্ষণীয় এবং যখন এই সকলকে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যμমের সাথে বিজড়িত করা হয় তখন যে গতিশীলতার জন্ম হয় তা একটি স্পন্দনশীল সমাজ জীবনের উত্থানের কারণ হয়। এই সকল মূল কার্যμমে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যায় বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের প্রাথমিক লক্ষ্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়। তারা এমন একটি প্রবেশ দ্বারে পরিণত হয় যার মাধ্যমে যুবক, প্রাপ্ত বয়স্ক এবং বৃহত্তর সমাজের সম্পূর্ণ পরিবারবর্গসমূহ বাহা’উলাø হ্র প্রত্যাদেশের মুখোমুখি হয়। এটাও প্রতীয়মান হয়ে উঠেছিল সমাজ নির্মাণের কর্ম কৌশলগুলিকে ক্লাস্টার অর্থাৎ একটি সহজ পরিচালনাযোগ্য এমন একটি ভৌগোলিক এলাকা, যার স্বতন্ত্র সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে পর্যায় বিবেচনা করা খুবই বাস্তবসম্মত। ক্লাস্টার পর্যায়ে সরল পরিকল্পনা প্রস্তুত করার চর্চা শুরু হয় এবং এই জাতীয় পরিকল্পনাসমূহ থেকে ধর্মের বৃদ্ধির কর্মসূচীগুলি উত্থিত হয়, যা পরবর্তীতে তিনমাস ব্যাপী কার্যμমের চμের রূপ ধারণ করে। শুরুতেই স্পষ্টতার একটি বিন্দু উঠে আসে: কোর্সসমূহের μমে মানুষের প্রবাহ ক্লাস্টারসমূহের উন্নতির ধারাকে উৎসাহ দান এবং তার পাশাপাশি তাকে স্থায়ীত্ব দান করে। একে অপরের পরিপূরক পরিবেশে বৃদ্ধির গতির পর্যালোচনা করতে পারেন এবং বর্ধিত শক্তি অর্জনের পথ তৈরী করে নিতে পারে। সময়ের সাথে সাথে ক্লাস্টারে যা ঘটছে তাকে তিনটি অত্যাবশ্যক শিক্ষামূলক কার্যμম অর্থাৎ শিশু, জুনিয়র ইযুথ এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের সেবার এবং তার পাশাপাশি বৃদ্ধির ছন্দ বজায় রাখার জন্য কার্যμমের চμগুলির পরিপ্রেক্ষিতে দেখা প্রচেষ্টায় এক পর্যায় আমরা বৃদ্ধিকে সকল সুপরিচিত বৈশিষ্ট্যসমূহ দেখতে পাই যেগুলি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিল।
৫। কার্যμমের প্রচেষ্টাগুলির তীব্রতর হওয়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি প্রμিয়ার সাথে সার্বজনীনভাবে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন নীতি, ধারণা এবং কর্মকৌশলগুলি একটি কাঠামোয় রূপ নিতে থাকে যার মধ্যে নতুন উপদানগুলিকে স্থান দেওয়ার মত বিবর্তীত হওয়ার যোগ্যতা ছিল। এই কাঠামোটি প্রচ- জীবনী শক্তি উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে মৌলিক প্রমাণিত হয়। এই কাঠামো বন্ধুদেরকে তাদের শক্তিসমূহকে এমনভাবেপরিচালিত করতে সহায়তা প্রদান করে যা প্রমাণিত হয়েছে যে সমাজগুলির সুস্থ্য বৃদ্ধি জন্য উপকারী ছিল, কিন্তু কোন কাঠামো কোন ধরাÑবাঁধা নিয়ম নেই। কোন একটি ক্লাস্টার স্থান বা শুধু একটি পাড়ায় μিয়ারত একটি কাঠামোর বিভিন্ন উপাদানের বাস্তব পর্যালোচনা করার সময় কার্যμমের একটি ছক বা নমুনা তৈরী করা যেতে পারে যেখানে থেকে বাহা’ই বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল তাদের নিজস্ব অবস্থানের প্িরত সাড়া দান করার সময় শিখতে পারে। এক দিকে অনুমোদনীয় শর্তাবলী এবং অপর দিকে সীমাহীন ব্যক্তিগত পছন্দের মত পরস্পর বিরুদ্ধে অবস্থানের পরিবর্তে তখন একটি অধিকতর সুখ উপলব্ধি স্থান করে নেয় যেখানে বিভিন্নভাবে একক ব্যক্তিরা এমন একটি প্িরμয়াকে সমর্থন দান করতে পারে, যা মূলত সুসংহত এবং যা অভিজ্ঞতা অর্জনের সাথে সাথে অব্যাহতভাবে পরিমার্জিত হচ্ছে। এই বিষয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ যেন না থাকে যে, এই কাঠামোর উত্থান যে অগ্রগতির প্রতিনিধিত্ব করছে তা পুরো বাহা’ই বিশ্বের সমন্বয়ন সাধন এবং একত্রীকরণের প্রচেষ্টার জন্য এবং তার অগ্রযাত্রার দিকে চালিত করার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।
৬। যখন একটা পরিকল্পনার পর আর একটা পরিকল্পনা ধারাবাহিকতাভাবে আসতে থাকে তখন সমাজ নির্মাণের কার্যμম সম্পৃক্ততা অধিকতর প্রস্তুত ভিত্তিতে লাভ করে এবং সংস্কৃতিক স্তরে অগ্রগতি আরো ফুটে উঠে। উদাহরণস্বরূপ নতনু প্রজন্মের শিক্ষাদানের বিষয়টা আরো ব্যাপকভাবে স্বীকৃত লাভ করতে থাকে, বিশেষভাবে কিশোরদের যে অসাধারণ সম্ভাবনার প্রতিনিধিত্ব করে তা উপলব্ধি করা হয়। আত্মাগুলির একে অপরের সাথে অভিন্ন পথে সঙ্গদান করা সহযোগিতার অব্যাহতভাবে সম্পসারণশীল বৃত্ত সেবার কাক্সক্ষীত সামর্থ্য বৃি দ্ধর লক্ষ্য একটি আদর্শে পরিণত হয়। এমনকি বন্ধুদের নিজেদের মধ্যে এবং যারা তাদের আশে পাশে রয়েছে তাদের সাথে মিথস্ক্রিয়া একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়, আধ্যাত্মিক সংবেদনশীলতাকে প্রজ¦ি লত এবং উৎসাহ দানে অর্থবহ কথোপকথনের শক্তির সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় এবং অধিকতর গুরুত্বপর্ণূ ছিল যে বাহা’ই সমাজগুলি μমবর্ধমানভাবে বর্হিমুখী হয়ে উঠে। ধর্মের দর্শনের প্রতি আগ্রহী যে কোন আত্মা একজন সμিয় অংশগ্রহণকারী এমন কি শিক্ষামূলক এবং সমাজ গঠনের অন্যান্য প্রাথমিক কর্মকা-ের প্রবর্তক বা সহায়তাদানকারীর পর্যন্ত হয়ে যেতে পারতো: এমন সব আত্মার মধ্যে ঘোষণা ও করেন। এইভাবে দলে দলে যোগদানের প্রμিয়ার এমন একটি ধারণার জন্ম নেয় যা তত্ত্ব এবং অনুমানের উপর নিভর্র না করে কিভাবে অধিকতর সংখ্যায় মানুষ বাহা’ই ধর্মের সন্ধান পায় তার বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর বেশি মনোযোগ স্থাপন করে, তারা এই ধারনার অভ্য¯ Í কার্যμমের এবং আলোচনায় যোগ দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করে। নিঃসন্দেহে ইন্সটিটিউট প্রμিয়া অঞ্চলের পর অঞ্চলে শক্তিশালী হওয়ার সাথে পরিকল্পনার কাজে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা এমন ব্যক্তিদেরকে দ্রুতবেগে আলিঙ্গন করে যারা খুবই সম্প্রতি কালে ধর্ম গ্রহণ করেছিল। কিন্তু এই প্রμিয়াটি শুধু মাত্র সংখ্যায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে চালিত ছিল না। একই সময় ব্যক্তিগত এবং সমষ্টিগত রূপান্তরের একই সাথে সংগঠিত হচ্ছে, যার ভিত্তি হচ্ছে ঈশ্বরীয় বাণী এবং এই বিষয়ের উপলব্ধি যে একটি প্রগাঢ় আধ্যাত্মিক ঘটনার মূল নায়ক হওয়ার সামর্থ্য প্রত্যেকটি ব্যক্তির রয়েছে এবং একটি অভিন্ন প্রচেষ্টার অনুভূতিকে জন্ম দিয়েছে।
৭। এই পঁচিশ বছর ব্যাপী সময়ের একটি অন্যতম লক্ষণীয় এবং অনুপ্রেরণাদানকারী বৈশিষ্ট্য হলো বাহা’ই যুবকদের সেবাদান তারা তাদের বিশ্বাস এবং সাহসীকতা দিয়ে সমাজের কর্মকা-ে প্রথম সারিতে থাকার অধিকার ন্যায়সঙ্গতভাবেই অর্জন করেছে। পাঁ চটি মহাদেশে যুবকরা ধর্মের শিক্ষক, কিশোরদের শিক্ষক, ভ্রাম্যমান টিউটর ও স্বদেশীয় পথিকৃৎ, ক্লাস্টার কোÑঅর্ডিনেটর এবং বাহা’ই এজেন্সীসমূহের সদস্য হিসেবে তারা তাদের সমাজের সেবাদানের জন্য উৎসর্গ এবং ত্যাগের সাথে উত্থিত হয়েছে। যে দায়িত ¡ পালনের উপর ঐশী পরিকল্পনার অগ্রগতি নির্ভরশীল, সেই দায়িত্ব পালনে তারা যে পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন তা তাদের আধ্যাত্মিক প্রাণশক্তি এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রতি তাদের অঙ্গিকার বদ্ধতার পরিচয় বহন করে। তাদের এই μমবর্ধমান পরিপক্কতার প্রতি স্বীকৃত স্বরূপ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এই রিজ্ওয়ান (২০২১) এর পর থেকেই যদিও কোন আধ্যাত্মিক পরিষদে সেবাদানের জন্য বয়সের যোগ্যতা একুশ বছরই থাকবে কিন্তু যে বয়সে কোন বিশ্বাসী বাহা’ই নির্বাচনে ভোট দিতে পারে, সেই বয়সটি আঠারোতে নিয়ে আসা হবে। আমাদের কোন সন্দেহ নাই যে, সর্বত্র সকল প্রাপ্ত বয়স্ক যুব বাহা’ইরা তাদের পবিত্র দায়িত্ব পালনে যার জন্য প্রত্যেকটি বাহা’ই নির্বাচককে আহবান জানানো হয় তা বিবেকনিষ্ঠভাবে এবং সযতেœ পূর্ণ করার ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্বাসের যথার্থতা পম্র াণ করবেন।
৮। আমরা অবগত আছি যে, স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন সমাজের বাস্তবতার মধ্যে ব্যাপক ব্যবধানে রয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় বাহা’ই সমাজে এবং তাদের মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন স্থানীয় সমাজগুলি পরিকল্পনার এই μমগুলি উন্নয়নের পৃথক পৃথক স্তর থেকে শুরু করে এবং তখন থেকে আজ পযর্šÍ তারা ভিন্ন ভিন্ন গতিতে উন্নতি লাভ করে অগ্রগতির আলাদা আলাদা স্তর অর্জন করেছে। এই বিষয়টা নিজের মধ্যে নতুন কিছু না। এটা সব সময়ই হয়ে আসছে যে, বিভিন্ন স্থানে অবস্থা ভিন্নতর থাকে এবং একইভাবে সেখানে গ্রহণশীলতার মাত্রাও ভিন্ন থাকে। কিন্তু আমরা একটি উচ্ছসিত জোয়ার ও উপলব্ধি করতে পারছি যার মাধ্যমে সামর্থ্য, আত্মবিশ্বাস এবং পুঞ্জিভূত অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা বেশীর ভাগ সমাজের দিগদিগন্তের তাদের ভ্রাত ৃ সমাজগুলির সাফল্য দ্বারা উৎসাহিত হয়। উদাহরণ স্বরূপ ১৯৯৬ এ আত্মাগুলি একটি নতুন স্থান উন্মক্তু করার জন্য এগিয়ে এসেছিল তারা সাহস, বিশ্বাস এবং নিষ্ঠার দিক দিয়ে তাদের কোন ঘাটতি ছিল না, আজকে সর্বত্র তাদের অনুরূপ ব্যক্তিরা সেই একই গুণাবলীর সাথে গোটা বাহা’ই বিশ্বের পঁচিশ বছরের সঞ্চিত জ্ঞান, অন্তর্দৃষ্টি এবং দক্ষতাসমূহকে সম্প্রসারণ এবং দৃঢ়করণ পদ্ধতিগত এবং পরিমার্জিত করার কাজের সাথে সংযুক্ত করেছেন।
৯। কোন সমাজের সূচনা বিন্দু নির্বিশেষে যখনই বিশ্বাস, অধ্যাবসায় এবং নিষ্ঠতার গুণাবলী গুলি শেখার জন্য আগ্রহের সাথে সংযুক্ত হয়েছে তা বৃদ্ধির প্রμিয়াকে এগিয়ে নিয়েছে। প্রকৃত পক্ষে এই পরিকল্পনাসমূহের ধারাবাহিকতার একটি লালিত দান ছিল এই সত্যের প্রতি ব্যাপক স্বাকৃতি প্রদান যে অগ্রগতির দিকে যে কোন প্রচেষ্টা শেখার প্রতি মনোযোগ প্রদান করা শুরু হয়। এই নিতির সরলতা তা থেকে যে ফলাফল উৎপন্ন হয় তার গুরুত্বটাকে আড়াল করে দেয়। আমাদের কোন সন্দেহ নাই যে, সময় দিলে প্রত্যেকটি কা¬ স্টার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় অগ্রসর হবে। যে সকল সমাজ তাদের মতই অবস্থা এবং সম্ভাবনার অধিকারী সমাজগুলির তলু নায় অনেক দ্রুত অগ্রসর হয়েছে, তারা নিজেদের মধ্যে চিন্তার একতার উৎসাহ লালন করা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গহ্র ন করা সম্পর্কে শেখার সামর্থ্য প্রদর্শন করেছেন, এবং তারা এই পদক্ষেপ সমূহ গ্রহন করতে ইতস্তত করে নাই।
১০। শেখার প্রতি অঙ্গীকার বদ্ধ হওয়ার এমটি অর্থ এটাও ছিল যে ভুল হতেই পারে তার জন্য প¯্র‘ত থাকা এবং অবশ্যই অনেক সময় ভুল অস্বস্তির কারন ও হয়ে ছিল, এবং অবাক হওয়ার কোন কারণ নাই যে প্রথম দিকে নতুন পদ্ধতি এবং পথগুলিকে অভিজ্ঞতার অভাবে সঠিকভাবেপরিচালনা করা হয় নাই; অনেক সময় কোন একটি নতুন অর্জিত দক্ষতা হারিয়ে যায় কারন সমাজ তখন অন্য একটি দক্ষতা উনতœ করার নিমগ্ন হয়ে যায়। কোন ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা এই নিশ্চয়তা প্রদান করে না যে ভুল ভ্রাšি Í হবে না এবং এই ভুলগুলি অতিμম করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিন¤্রতা এবং অনাসক্তি উভয়ের প্রয়োজন হয়। যখন কোন সমাজ স্বাভাবিকভাবে ঘটে যাওয়ার ভুলের প্রতি ধৈর্য প্রদর্শনের বিষয়ে দৃঢ় তাকে তখ প্রগতি কখনো নাগালের বাহিরে থাকে না।
১১। পরিকল্পনাসমূহের মাঝপথে বৃহত্তর সমাজের জীবনের সাথে বাহা’ই সমাজের সম্পৃক্ততা অধিকতর সরাসরি মনোযোগ লাভ করা আরম্ভ করে। বিশ্বাসীদেরকে এই বিষয়ে দুইটি পরস্পর যুক্ত কর্মক্ষেত্রের চিন্তা করতে উৎসাহ দান করা হয়েছিল। সামাজিক কার্যকলাপ এবং সমাজে আলোচনায় অংশগ্রহণ। এইগুলি অবশ্যই প্রচলিত। সম্প্রসারণ এবং দৃঢ়করণের কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া তো দুরের কথা, তার বিকল্প না। বরং (এই কাজ দুটি) তারই মধ্যে অন্তর্নিহিত। বাহা’ই সমাজ যত অধিক সংখ্যায় মানব সম্পদকে কাজে লাগাতে পারে তত বেশী বাহাউল্লাহ্র প্রত্যাদেশে অন্তর্ভূক্ত বিজ্ঞতা তত বেশি বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জসমূহের সাথে সম্পর্ক যুক্ত করতে এবং তাঁর শিক্ষাগুলিকে বাস্তবে পরিণত করতে পারবে এবং এই সময় মানবজাতির বিষয়াবলীর অস্থির অবস্থা ঐশী চিকিৎসক আবেগের জন্য যে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছিল তার প্রয়োজন কত তীব্র ছিল, তার গুরুত্বের দিকে ঈঙ্গিত করে। এ সব কিছুর মধ্যে অন্তর্নিহিত ছিল ধর্ম সম্পর্কে এমন এক ধারণা যা বিশ্বে সাধারণভাবে পৃথিবীতে ধর্মের প্রচলিত ধারণা যে ধর্মকে চির প্রগতিশীল সভ্যতার শক্তি রূপে স্বীকৃতি প্রদান করে। এটা বিশা¦ স করা হয় যে এই রূপ একটি সভ্যতা স্বত:স্ফূতভাবে আবির্ভূত হবে না, তা নিজে নিজে হবে নাÑ এটা বাহা’উল্লাহ্র অনুসারীদের কর্তব্য ছিল তার আবির্ভাবের জন্য, শ্রম দান করা। এই জাতীয় কার্য সামাজিক কার্যμম এবং গণ আলোচনার ক্ষেত্রেও পদ্ধতিগত শেখার প্রμিয়া দাবি করে।
১২। গত আড়াই দশকের পরিপ্রেক্ষিতে দেখলে সামাজিক কার্যμমের দায়িত্বভার গ্রহন করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা এমন কার্যμমসমূহের অসাধারণ বিকাশের দিকে চালিত করেছে। ১৯৯৬ Ñএর তুলনায় যখন প্রায় ২৫০ টি সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প এক বছর থেকে অন্য বছর পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল বর্তমানে এমন ১৫০০ টি প্রকল্প বিদ্যমান রয়েছে। বাহা’ই শিক্ষা দ্বারা অনুপ্রানিত পšা’ গুলির সংখ্যা চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৬০ এ দাড়িয়েছে। ৭০,০০০ এর অধিক তৃনমূল পর্যায়ে স্থান মেয়াদি সামাজিক পদক্ষেপ মূলক উদ্যোগ প্রতি বন্ধুর প্রতি বছরে হাতে নওয়া হচ্ছে যা এই ক্ষেত্রে প্রকাশ গুন বৃদ্ধি। আমরা প্রত্যাশা করছি যে বাহা’ই অভিভাবক উন্নয়ন সংস্থার একনিষ্ঠ সহায়তা এবং প্ের ণাদনা যা এখন তাদেরকে প্রদান করা হচ্ছে, তার ফলে এই সংখ্যা বৃি দ্ধ পেতে থাকবে। ইতিমধ্যে, সমাজে চলমান আলোচনা সমূহের মধ্যে বাহা’ই অংশগ্রহন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্ধুরা তাদের কর্মস্থল বা ব্যক্তিগত পরিসরে সুে যাগ পেলে তাদের কথোপকথনে বিভিন্ন বিষয়ে বাহা’ই দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন তাছাড়া আনুষ্ঠানিক স্তরেও আলোচনায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃিদ্ধ পেয়েছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু ব্যাপকভাবে প্রসারিত প্রচেষ্টা এবং আর্ন্তজাতিক বাহা’ই সমাজ (বি,আই,সি) μম বৃদ্ধিমান পরিশীলিত অবদানই নয়, যা এই সময়ে আফ্রীকা, এশিয়া এবং ইউরোপে তাদের অফিসমূহ যোগ করেছে বরং আমরা বহির বিভাগের জাতীয় অফিসগুলির একটি নেটওয়ার্কের কথাও আমাদের দৃষ্টিতে আছে, যার কার্যμম হবে ব্যাপকভাবে সংযোজিত এবং শক্তিশালী তারা তাদের প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য হবে এই ক্ষেত্রে (বাহির বিষয়াবলী) তার অতিরিক্ত ছিল বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে একক বিশ্বাসীদের অর্ন্তদৃষ্টিপূর্ন এবং লক্ষণীয় অবদান। এই সব কিছু মিলে সমাজের সর্বস্তরের নেতৃত্বস্থানীয় চিšাÍ বিদ এবং অন্যান্য গনমান্য ব্যক্তিবর্গ বারংবার বাহা’ই ধর্ম, তার অনুসারীগন এবং তাদের কার্যμমের প্রশংসা তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, করেছেন তার কারন কিছুটা অনুমান করা যায়।
১৩। সম্পূর্ণ পঁচিশ বছরের পর্যালোচনা করার সময় আমরা বাহা’ই বিশ ¦ একযোগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে প্রগতি অর্জন করেছি তা আমাদেরকে বিস্ময় বিহ্বল করছে। সমাজের বুদ্ধিভিত্তিক জীবন শ্রীবৃি দ্ধ লাভ করেছেন যার প্রমান শুধু যে সকল ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টাসমূহ আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনা করছিতাই প্রদর্শন করে না, বরং বাহা’ই লেখকদের কর্তৃক উন্নতমানের রচনা সমূহের প্রকাশনা জ্ঞানের কতিপয় ক্ষেত্রগুলিতে বাহা’ই শিক্ষাসমূহের গবেষনার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা, এবং বাহা’ই প্রতিষ্ঠান গুলির সহযোগিতায় ইন্সটিটিউট ফর স্টাডিজ ইন গ্লোবাল প্রসপারিটি কর্তৃক পরিচালিত পদ্ধোতিগত অম্লাতক এবং ¯œাতক সেমিনারগুলির এখন ১০০ এর অধিক দেশে বাহা’ই যুবকদেরকে এই সেবা প্রদান করছে তার প্রভাব ও এর অর্ন্তভূক্ত বাহা’ই উপাসনালয়গুলি নির্মাণের কাজ ও দৃষ্টিগোচরভাবে ত্বরান্বিত হয়েছে। সর্বশেষ মাত্র উপাসনালয় দৈনিক সান্তিয়াগোতে নিমিত্তে, হয়েছিল এবং দুইটি জাতীয় এবং পাঁচটি স্থানীয় মাত্র বিরল আয়করের নির্মাণ প্রμিয়াধিন রয়েছে কলম্বোডিয়ার বাটমবাং এবং কলম্বিয়ার নাট ডেল কাটিমার উপাসনালয়গুলি ইতিমধ্যে তাদের স্থীর উন্মুক্ত করেছে। বাহা’ই উপাসনা মন্দিরগুলি, হোক সেগুলি সমন্বিত সময়ে উন্মুক্ত অথবা দীঘর্ সময় পূর্বে প্রতিষ্ঠিত μমবর্ধমানভাবে বাহা’ই জীবনের প্রাণ কেন্দ্রের স্থান দখল করে নিচ্ছে। ঈশ্বরের বন্ধুদের কর্তৃক গৃহীত অসংখ্য প্রচেষ্টাসমূহের প্রতি সাধারণভাবে বিশ্বাসীদের জাগতিক উপায়সমূহ দিয়ে সহায়তা ছিল অনুষ্ঠিত। এটাকে শুধু যদি সম্মিলিত আধ্যাত্মিক প্রাশক্তির পরিমাপে হিসেবে যদি দেখা হয়, তাহলে চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সময় অর্থভান্ডারের অত্যন্ত গুরুত্ব পব্র াহ যে অব্যাহত ছিল, না বরং তা আরো শক্তিশালী হয়েছে, তা লক্ষ্য করার মত ছিল। বাহা’ই প্রশাসনিক ব্যবস্থার তার μমবর্দ্ধমান সম্প্রসারণের ফলে যে জটিল আকার ধারণ করেছে তার মধ্যে জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহের বিষয়াবলী পরিচালনায় তাদের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। তারা এই ক্ষেত্রে উপদেষ্টাগণের সাথে একটি নতুন, উচ্চতর সহযোগিতা থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছিল। উপদেষ্টাগণ বিশেষভাবে তৃণমূল পর্যায় থেকে পদ্ধতিগতভাবে অন্তর্দৃষ্টি সংগ্রহ করা এবং তা ব্যাপকভাবে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। এটা একই সময় ছিল যখন আঞ্চলিক বাহা’ই কাউন্সিল ধর্মের পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রূপে আবির্ভূত হয় এবং এখন তারা ২৩০ টি অঞ্চলে তাদের অধীনে থাকা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের সাথে মিলে বৃদ্ধির প্রμিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদেরকে অপরিহার্য প্রমাণিত করেছেন। হুকুকুল্লার্হ প্রধান ট্রাষ্টি ঈশ্বরের ধর্মের বাহু আলী মুহাম্মদ ভার্কার দায়িত্বসমূহকে ভবিষ্যতে সম্প্রসারিত করার জন্য ২০০৫ সালে হুকুকুল্লাহ্র ট্রাষ্টিদের আন্তর্জা তিক বোর্ড গঠন করা হয়, যা আজকে সারা বিশ্বে কমপক্ষে ৩৩টি জাতীয় এবং আঞ্চলিক ট্রাষ্টিদের বোর্ডগুলির দেখা শুনা করছে, যারা আবার ১০০০ এরও অধিক প্রতিষ্ঠানকে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সময় বাহা’ই বিশ্ব কেন্দ্রে যে উনয়œ নের কাজ হয়েছে তা ছিল বহুবিধ: এই সময়টি বা’ব-এর সমাধির ধাপগুলির নির্মাণের সমাপ্তির এবং আকা-এর দুইটি ভবনের নির্মাণ ও আব্দুলবাহার সমাধি নির্মাণ কাজের সূচনার সাক্ষ্য বহন করে এবং বাহা’ই ধর্মের একাধিক অত্যন্ত মূল্যবান পবিত্র স্থাপনাসমূহের সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজতো ছিলই। বাহা’উল্লাহ্ এবং বা’বÑএর সমাধিগুলিকে মানবজাতির জন্য অমূল্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ রূপে বিশ্বের ঐতিহ্য বাহী স্থানরূপে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। লক্ষ্য লক্ষ্য মানষু সমাধিগুলি দর্শনের জন্য আসে, কোন কোন বছরে তাদের সংখ্যা পনের লক্ষ্য ছাড়িয়ে যায়। তা ছাড়া বিশ্ব কেন্দ্রে নিয়মিতভাবে শত শত তীর্থ যাত্রীদের একই সময়ে স্বাগত জানায়, অনেক সময় একই বছরে তাদের সংখ্যা ৫০০০ এর বেশি ছিল এবং প্রায় একই সংখ্যায় অন্যান্য বাহা’ই দর্শনার্থীও থাকতেন। আমরা একদিকে যেমন যারা তীর্থযাত্রার বদান্যতা প্রাপ্ত হয়েছেন তাদের সংখ্যায় বৃদ্ধি দেখে আনন্দিত ঠিক তেমনই তাদের মধ্যে বিভিন্ন দেশ এবং জাতীর মানুষের প্রতিনিধিত্ব লক্ষ্য করে আনন্দিত হয়েছি। পবিত্র লেখানবলীর অনুবাদ প্রকাশ এবং বিতরণ উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুততর হয়েছে, যা ছিল বাহা’ই কেন্দ্রে (রেফারেন্স) ইংরেজিতে রেফারেন্স হবে লাইব্রেরীর উন্নয়নের সমান্তরাল একটি ঘটনা। এই কেন্দ্রে লাইব্রেরী বাহা’ই ডট অর্গ পরিবারের μমবর্ধমান সদস্যদের মধ্যে একটি অন্যতম সদস্য। স্বয়ং বাহা’ই ডট অর্গ এখন দশটি ভাষায় উপলব্দ। বাহা’ই বিশ্ব কেন্দ্র এবং অন্যান্য স্থানে বিভিন্ন দপ্তর এবং এজেন্সীসমূহ স্থাপিত করা হয়েছে, যাদের দায়িত্ব হলো সারা বাহা’ই বিশ্বে প্রচেষ্টার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে শেখার প্রμিয়া উন্মোচিত হচ্ছে সেগুলিকে সমর্থন দান করা। বিশ্বাসে আমাদের ভাই ও বোনেরা, এই সব কিছুই সেই উপাখ্যানের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র সেই বিশ্বের অত্যাচারিত জনের প্রতি আপনাদের ভক্তি সম্ভবপর করেছে। আমরা শুধু প্রিয় মাষ্টারের মর্মভেদী শব্দগুলিরই প্রতিধ্বনিত করতে পারি যা তিনি একদা আবেগে অভিভূত হয়ে চিৎকার করে বলে উঠে ছিলেন “হে বাহা’উল্লাহ্! আপনি কি করছেন!
১৪। সিকি শতাব্দীর বি¯ৃÍত দৃশ্য থেকে আমরা আমাদের দৃষ্টি সবচেয়ে সাম্প্রতিক পাঁচসালা পরিকল্পনার দিকে কেন্দ্রীভূত করি, এই পরিকল্পনা অনেক দিক দিয়ে পূর্ববর্তী যে কোন পরিকল্পনা থেকে বেশ পৃথক ছিল। এই পরিকল্পনায় আমরা বিশ্বের বাহা’ইদেরকে তারা বিগত পঁচিশ বছরে যা কিছু শিখেছেন তাকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমরা আনন্দীত যে এই বিষয়ে আমাদের আশার থেকে অধিক অর্জিত হয়েছিল। যদিও আমরা পুত:পবিত্র সুষমার অনুসারীদের কাছ থেকে স্বাভাবিক ভাবেই মহান কিছু প্রত্যাশা করি, তবুও তারা তাদের বীরত্বপূর্ন প্রচেষ্টায় যা অর্জন করেন তা সত্যই শ্বাসরোধকর ছিল। এটা ছিল এমন একটি অর্জনের মুকুট যা পঁচিশ বছরের সাধনার মুকুট ছিল।
১৫। পরিকল্পনাটি আরো স্মরণীয় হয়ে উঠে দুইটি পবিত্র দ্বি-শত বাষীর্কির দ্বারা তিন ভাগে বিভক্ত হওয়ার কারণে যা বিশ্বব্যাপী স্থানীয় সমাজগুলিকে উজ্জীবিত করে। বিশ্বস্তদের দল সমাজের সর্বস্তরের মানুষদেরকে একজন ঈশ্বরের প্রকাশকে সম্মান জানানোর জন্য এমন বৃহত সংখ্যায় এবং তুলনামূলক ভাবে এমন স্বাচ্ছন্দ্য সংযুক্ত করতে পারার দক্ষতা প্রদর্শন করে যা পূর্বে কখনো দেখা যায় নাই। এটা বৃহত্তর কোন কিছুর একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত ছিল: ধর্মের অগ্রগতির জন্য প্রচ- আধ্যাত্মিক শক্তিগুলিকে উন্মুক্ত করে প্রবাহিত করার দক্ষতা (মানুষের) এই সাড়া এমনই
চমৎকার ছিল যে, অনেক স্থানে ধর্ম জাতীয় পর্যায় অজ্ঞাত অবস্থায় থেকে বেরিয়ে আসে। যে সকল পরিবেশে তা অপ্রত্যাশিত এমন কি সম্ভবত অবহেলিত ছিল, সেখানেই বাহা’ই ধর্মের প্রতি লক্ষণীয় গ্রহণযোগ্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠলো। লক্ষ লক্ষ মানুষ আজকে সর্বত্র বাহা’ই সমাজগুলিকে যে ভক্তিমূলক উদ্দীপনায় বৈশিষ্ট মন্ডীত করছে তার সংস্পর্সে এসে মোহিত হোন। বাহা’ই পবিত্র দিবস পালনের মাধ্যমে অর্জীত হতে পারে সেই কল্পনাদৃষ্টি অপরিসীম ভাবে সম্প্রসারিত হয়।
১৬। পরিকল্পনার অর্জনগুলি, শুধু সংখ্যার দিক দিয়ে ধরলেও দ্রুত ১৯৯৬ পূর্ববর্তী সকল পরিকল্পনাগুলিকে ছাড়িয়ে যায়। এই পরিকল্পনার শুরুতে, যে কোন নিদিষ্ট সময় শুধু মাত্র ১০০,০০০ মূল কার্যμম পরিচালনা করার দক্ষতা ছিল, এই সামথ্যের ফল ছিল ২০ বছরের সার্বজনীন প্রচেষ্টার বর্তমানে ৩০০,০০০ মূল কার্যμম একই সময় চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই সকল কার্যμমে অংশগ্রহনকারীদের সংখ্যা বিশ লাখে ছাড়িয়ে গেছে, যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধির সমান। ৩২৯ টি জাতীয় এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট কর্মরত রয়েছে এবং তারা যে এক মিলিয়নের তিন চতুর্থাংশ (৭ লাখ ৫০ হাজার) মানুষকে এই অনুμমের কমপক্ষে একটি বই সম্পন্ন করতে পেরেছে তাই তাদের সামর্থের প্রমাণ। সামগ্রিকভাবে যে সকল ব্যক্তিরা বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করেছেন তাদের সংখ্যাও এখন বিশ লক্ষ। যেটা কিনা গত পাঁচ বছরে তিনগুনের বেশী বৃদ্ধি।
১৭। বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধির কর্মসূচীগুলি যে তীব্রতার সাথে অনুসন্ধান করা হচ্ছে তা নিজেই একটি চিত্রাকর্ষক উপাখ্যান। এই পাঁচ বছর মেয়াদে ৫,০০০ টি ক্লাস্টারের প্রত্যেকটিতে যেখানে বৃদ্ধির কর্মসূচী শুরু করা হয়েছিল
আমরা বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। এই উপদেশ সারা বিশ্বে আন্তরিক প্রচেষ্টাসমূে হর জন্য অনুপ্রেরণার কারণ হয়ে যায়। যার ফলে নীবিড় বৃদ্ধির কার্যμমগুলির সংখ্যা দ্বিগুন হয়ে এখন প্রায় ৪০০০ এ উন্নিত হয়েছে। একটি গ্রহব্যাপী স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে ধর্মের জন্য কোন গ্রাম বা এলাকাকে উন্মুক্ত করা বা কার্যμম বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে মহামারির প্রাথমিক পর্যায়ে যে সকল সমস্যা ছিল তার জন্য পরিকল্পনার শেষ বছরে আরো উচ্চ সংখ্যায় পৌঁছানো যায় নাই। কিন্তু এই বিষয়ে বলার আরো অনেক কিছু আছে। পরিকল্পনার সচূ নাতে আমরা আশা প্রকাশ করেছিলাম যে এমন সব ক্লাস্টারে যেখানে বন্ধুরা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার তৃতীয় মাইলফলক অতিμম করেছেন বৃহত সংখ্যায় মানুষকে স্বাগত জানানো এবং কার্যμমগুলিতে অন্তর্ভূক্ত করা শেখার ফলশ্রুতিতে তারা শত শত বৃদ্ধি লাভ করবে। তখন মোট সংখ্যা ছিল প্রায় ২০০, যা ৪০টির মত দেশে ছড়িয়ে ছিল, পাঁচ বছর পরে এই সংখ্যা ১,০০০ এর একটি আশ্চর্যজনক অঙ্কে পৌঁছেছে যা প্রায় ১০০ টি দেশে বিস্তৃত এবং বিশ্বের মোট নিবিড় বৃদ্ধির কর্মসূচীর এক চতর্থু অংশ এবং তা এমন একটি অর্জন যা আমাদের প্রতাশাগুলিকে অনেক ঊর্ধ্বে। তবুও এই পরিসংখ্যানগুলি সমাজ যে সুউচ্ছ শিখরে উড্ডয়ন করছে তাকে প্রকাশ করে না। ৩০ এর অধিক ক্লাস্টার রয়েছে স্থায়ী মূলকার্যμমের সংখ্যা ১,০০০-এর বেশী। কিছু কিছু স্থানে এই সংখ্যা সহ¯্রাধিক, যেখানে একটি ক্লাস্টারই অংশগ্রহণকারীদের সংখা ২০,০০০ এর অধিক। μমবর্ধমান সংখ্যায় স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদগুলি এখন এমন সকল শিক্ষামূলক কর্মসূচীগুলি উন্মোচনের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছে যারা বেশীর ভাগে কোন গ্রামের সকল শিশু এবং জুনিয়র ইয়ুথদের সেবার আয়ত্বে এনেছে। একই বাস্তবতা কিছু শহর এলাকায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাহা’উল্লাহ্র প্রত্যাদেশের সাথে সম্পৃক্ততা কিছু কিছু লক্ষণীয় ক্ষেত্রগুলিতে ব্যক্তি, পরিবার এবং বৃহত্তর পারিবারিক গ-িকে অতিμম করেছে, এখন যা পরিলক্ষিত হচ্ছে তা হল একটি জনগোষ্ঠীর অভিন্ন কেন্দ্রে দিক যাত্রা। অনেক সময় পরস্পর বিরোধী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে যুগ যুগ ধরে চলে আসা বৈরিতা পিছনে ফেলে দেওয়া হচ্ছে এবং কতিপয় সামাজিক কাঠামো সমাজকে পরিচালনাকারী রীতি-নীতিগুলি ঐশী শিক্ষার আলোকে রূপান্তরীত হচ্ছে।
১৮। এমন চিত্তাকর্ষক অগ্রগতি আমাদেরকে অতিশয় আনন্দ প্রদান না করে পারে না। বাহা’উল্লাহ্র ধর্মের সমাজ বিনির্মান শক্তি অধিকতর স্পষ্টতার সাথে প্রকাশ পাচ্ছে এবং এটা হলো সেই দৃঢ় ভিক্তি যার উপর আসছে নয় সালা পরিকল্পনা গড়ে তোলা হবে। যেমন আশা করা হয়েছিল চিহিৃত শক্তি সম্বোলিত ক্লাস্টারগুলি তাদের প্রতিবেশিদের জন্য এবং সম্পদসমূে হর উৎস স্বরূপ প্রমাণিত হয়েছে এবং যে সকল অঞ্চলে এই স্তরের একাধিক কা¬ স্টার রয়েছে, সে সকল স্থানে ক্লাস্টারের পর ক্লাস্টার বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার উপায় পরিনত করা সহজতর হয়েছে। কিš ‘ আমরা আবার নিজেদের এই বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করতে বাধ্য অনুভব করছি যে অগ্রগতি প্রায় সার্বজনীন ছিলএক স্তান থেকে অন্য স্থানে প্রগতির পার্থক্য হলো তুলনামূলক মাত্রার। দলে দলে যোগদান প্রμিয়া এবং সেই প্রμিয়াকে যে কোন পরিস্থিতিতে উদ্দীপিত করার ক্ষেত্রে সমাজের সম্মেলিত উপলব্ধী এমন একটি স্তরে উন্নতি হয়েছে যা বিগত দশকগুলিতে ছিল অকল্পনীয়। যে সকল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন প্রশ্নগুলি দীর্ঘকাল ধরে প্রাধান্য বিস্তার করে আসছিল সেগুলি ১৯৯৬-এ আরো স্পষ্টভাবে সামনে চলে আসলো এবং সেগুলি উত্তর বাহা’ই বিশ্ব প্রত্যয়যোগ্য ভাবে দিয়েছে। বিশ্বাসীদের পুরো একটি প্রজন্ম রয়েছে যাদের সম্পুর্ন জীবন সমাজের প্রগতির ছাপ বহন করে। কিš ‘ যে সকল ক্লাস্টারে যেখানে শিখার সিমাগুলিকে প্রসারিত করা হচ্ছে, সেখানে যা ঘটেছে তার মাত্রাই এমন বিশাল যে তা দলে দলে যোগদানের প্রμিয়ার অগ্রগতিকে একটি যুগান্তকারী ঐতিহাসিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
১৯। অনেকেই এই বিষয়ে অবগত আছেন যে, অভিভাবক বাহা’ই ধর্মের যুগগুলিকে উপযুপরি সংগঠিত কাল বা অধিযুগে ভাগ করেছেন। সাংগঠনিক যুগের পঞ্চম অধিকালের সূচনা হয় ২০০১ যে বিষয়টি কম জানা তা হলো অভিভাবক ঐশী পরিকল্পনার মধ্যে কাল বা অধিকাল রয়েছে এবং সেই অধিকালের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায় বা ধাপ রয়েছে তার সম্পর্কে সুনিদিষ্ট উল্লেখ করেছেন। দুই দশক ধরে যখন স্থানীয় এবং জাতীয় সং¯া’ গুলি প্রতিষ্ঠা এবং দৃঢ় করা হচ্ছিল আব্দুল-বাহা কর্তৃক পরিকল্পিত এই ঐশী পরিকল্পনা তখন স্থগিত অবস্থায় রাখা হয়েছিল এবং ১৯৩৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তার উদ্বোধন করা হয়। অভিভাবক সাত সালা পরিকল্পনার দায়িত্ব উত্তর আমেরিকার বাহা’ই সমাজকে দেন, এই প্রথম অধিককাল ১৯৬৩ সালে দশ বছরব্যাপী ধর্ম অভিযানের সমাপ্তির সাথে শেষ হয়, যার ফল ছিল সারা বিশে^ ধর্মের পতাকার উত্তোলন করা হয়। দ্বিতীয় অধিকালের সূচনাকারী হয় প্রথম নয় সালা পরিকল্পনার মাধ্যমে এবং তার অনুগামী হয় দশটি পরিকল্পনা, এই পরিকল্পনাসমূহের স্থায়িত্বকাল ছিল বারো মাস থেকে সাত বছর পর্যন্ত। এই দ্বিতীয় অধিকালের ঊষাকালেই বাহা’ই বিশ^ ধমের্ মানুষের দলে দলে যোগদানের সর্ব প্রথম সাক্ষ্য দেখতে পারছিল যার পূবার্ভ াষ ঐশী পরিকল্পনার রচয়িতা দিয়েছিলেন। পরবর্তী দশকগুলিতে মহত্তোম নামের সমাজের উৎসর্গকৃত প্রজন্মগুলি ঐশী দ্রাক্ষাক্ষেত্রে স্থায় ও বৃহৎ আকারে বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করার জন্য পরিশ্রম করে গেছেন এবং এই প্রভাময় রিজওয়ানকালে তাদের শ্রমের ফল কতই না সীমাহীন। সমাজের কর্মকা-ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় স্ফীত হওয়ার মত ঘটনা, বিশ^াসের স্ফুলিঙ্গ দ্বারা প্রজ¦লিত হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত পরিকল্পনার অগ্রভাগে সেবাদানে চলে আসা এখন বিশ^াস নির্ভর পূর্বাভাষ থেকে একটি পনু ঃ পুনঃ ঘটিত বাস্তবতায় পরিবর্তীত হয়েছে। এমন একটি সুস্পষ্ট এবং প্রমাণযোগ্য অগ্রগতি ধর্মের ইতিহাসে চিহ্নিত করে রাখার দাবি করে। পরম উল্লসিত হৃদয়ে আমরা ঘোষণা করছি যে, মাষ্টারের ঐশী পরিকল্পনার তৃতীয় অধিকাল শুরু হয়েছে। ধাপে ধাপে কালের পর কাল তাঁর পরিকল্পনা উন্মোচিত হবে, যতক্ষণ পযর্šÍ না ঐশী রাজ্যের আলো প্রত্যেকটি হৃদয়কে আলোকিত করবে।
২০। প্রিয় বন্ধুগণ, ঐশী পরিকল্পনার দ্বিতীয় অধিকাল যা পাঁচ বছর ব্যাপী উদ্যোগের সমাপ্তি ঘটালো তার কোন পর্যালোচনা সম্পূর্ণ হবে না যদি তার শেষ বছরে যে উথাল-পাথাল হলো এবং যা এখনো অব্যাহত রয়েছে তার বিশেষভাবে উল্লেখ করা না হয়। ব্যক্তিগত মেলামেশার প্রতি এই সময় বেশিরভাগ দেশে যে বাধানিষেধের যে দোলাচাল ছিল তা সমাজের সমষ্টিগত প্রচেষ্টাসমূহের প্রতি প্রচ- আঘাত হানতে পারতো, যার থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক বছর লেগে যেতে পারতো কিন্তু দুটি কারণে তা হয় নাই। একটি ছিল বাহা’ইদের মানব জাতির সেবা করা দায়িত্ব সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা বিশেষ করে বিপদ এবং প্রতিকুলতার সময়। অন্যটি ছিল সেই সচেতনতাকে প্রকাশ করার বাহা’ই বিশে^র সক্ষমতায় অসাধারণ উত্থান। অনেক বছর ধরে নিজেকে পদ্ধতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার ছকে অভ্যস্ত করার ফলে, বন্ধুরা তাদের সৃজনশীলতা এবং অভীষ্ট লক্ষ্যের জ্ঞানকে তারা অপ্রত্যাশিত সংকটের কাজে লাগায়, একই সময় তারা এই বিষয়টা নিশ্চিত করে যেন তারা যে সকল নতনু পথগুলি উদ্ভাবন করছে সেগুলি যেন তা সেই কাঠামোর সাথে সঙ্গত হয়ে থাকে নিখুঁত করার জন্য পরিকল্পনাগুলি ধারাগুলিতে শ্রম দিয়ে আসছিলেন। এটার অর্থ এই না যে সব দেশেই তাদের দেশ বাসীদের মত বাহা’ইরা যে চরম দুর্দশা সহ্য করছেন তাকে অবজ্ঞা করা ; কিন্তু চরম দুর্দশার পুরো সময় বিশ্বাসীরা অবিচল থাকলো। যে সকল সমাজে প্রয়োজন ছিল সেখানে প্রয়োজনীয় সাহায্য প্রেরন করা হয় যেখানেই সম্ভব ছিল সেখানে নির্বা চন অনুষ্ঠীত হয় এবং সর্ব অবস্থায় ধর্মের প্রতিষ্ঠানগুলি তাঁদের দায়িত্ব পালন করে গেছে। এমন কি সম্মুখ দিকে কিছু সাহসী পদক্ষেপ ও গ্রহন করা হয়। সাও তোমে এবং প্রিনসিপÑএর জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ এই রিজ্ওয়ানে পুর্ণ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সার্বজনীন বিচারালয়ের দুইটি নতুন স্তম্ভ নির্মাণ করা হবে : যথা μোয়েশিয়া জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ যার কেন্দ্র হবে জাগ্রেব এবং তিমুর লেস্তের জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ, যার কেন্দ্র দিলীøতে অবস্থিত হবে।
২১) এইভাবেই এক বছরের পরিকল্পনা শুরু। তার লক্ষ্য এবং প্রয়োগসমূহ ইতিমধ্যেই আমাদের চুক্তিপত্র দিবসের বার্তায় জানানো হয়েছে। এই পরিকল্পনা, যদিও সং্িক্ষপ্ত কিš ‘ তা বাহা’ই বিশ্ব তার পরবর্তী নয় সালা পরিকল্পনার জন্য প্র¯ত‘ করার জন্য যথেষ্ট হবে। বিশেষ শক্তিধর এই সময়, যার সূচনা হচ্ছে ঐশী পরিকল্পনার এই সময়, যার সূচনা হচ্ছে ঐশী পরিকল্পনার ফলকলিপির প্রকাশ হওয়া একশত বছর পরে, শিঘ্রই আব্দুল বাহা’র স্বর্গারোহনের শত বার্ষীকির সাথে সমাপ্ত হবে এবং তা সাংগঠনিক যুগের প্রথম শতাব্দীর সমাপ্তি এবং দ্বিতীয়টি সূচনার চিহ্নিত করবে। বিশ্বাসীদের দল এমন এক সময় এই নতুন পরিকল্পনায় প্রবেশ করে যখন মানবতা তার দুর্বলতা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ফলে সংযত হয়েছে এবং মনে হচ্ছে যে গ্রহব্যাপি চ্যালেঞ্জের মুখে সহযোগিতার প্রয়োজন সম্পর্কে অধিকতর সচেতন। কিন্তু পতিযোগিতা স্বার্থপরতা, বিদ্বেষ এবং গোড়ামি দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা অভ্যাসগুলি একতার দিকে চলার পথে বাধা প্রদান করা অব্যাহত রেখেছে, যদিও সমাজে μমবদ্ধমান সংখ্যায় মানুষ কথা ও কর্মের মাধ্যমে প্রকাশ করছে যে তারা ও মানবতার সহজাত একতার অধিকতর স্বীকৃতির জন্য আকুল। আমরা প্রার্থনা করি জাতিসমূহের এই পরিবার যেন অভিন্ন কালের জন্য তাদের তাদের বিভেদগুলি ত্যাগ করতে পারে। আগামী মাসগুলিকে যে অনিশ্চয়তা আবৃত করে রেখেছে তা সত্ত্বেও আমরা বাহা’উল্লাহ ্ কাছে অনুনয় করি তাঁর সমর্থন তাঁর অনুসারীদেরকে যে দীর্ঘকাল ধরে শক্তিদান করেছে তা অধিকতর হোক, যেন আপনারা আপনাদের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান, আপনাদের একাগ্রতা কোলাহলে বিস্মৃত না হয়, যেই বিশ্বের তাঁর নিরাময়কারী বাণী প্রয়োজন আজ সর্বাধিক। ঐশী পরিকল্পনা একটি নতুন অধিকাল এবং একটি নতুন পর্যায় প্রবেশ করছে। ইতিহাসে একটি অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে
১। ধর্মের ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্মরণীয় অধ্যায়ের শেষ কথাগুলি লেখা হয়েছে এবং পৃষ্ঠা উল্টানো হচ্ছে। এই রিজওয়ান একটি অসাধারণ বছরের এটি পাঁচ সালা পরিকল্পনার এবং ১৯৯৬ সালে শুরু হওয়া পরিকল্পনাসমূহের একটি পূর্ণ ধারাবাহিকের সমাপ্তিকে চিহ্নিত করে। পরিকল্পনাসমূহের একটি নতুন ক্রম আমাদেরকে আহ্বান জানাচ্ছে, যা একটি নব যুগ সৃষ্টিকারী বার মাসের প্রতিশ্রুতি এবং যা আগামী রিজওয়ান থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এমন একটি ৯ (নয়) বছর ব্যাপী প্রচেষ্টার প্রস্তাবনার সম্মুখে এমন একটি সমাজ দেখতে পারছি যা দ্রুত শক্তি সঞ্চার করছে এবং এগিয়ে যাওয়ার জন্য বৃহত্তর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু এই স্থানে পৌঁছাতে কত কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছিল এবং এই পথে অগ্রসর হতে কত কষ্টার্জিত অন্তর্দৃষ্টি লাভ হয়েছে তার সম্পর্কে কোন ভ্রান্ত ধারণার অবকাশ থাকতে পারে না। অর্জিত শিক্ষাগুলি সমাজের ভবিষ্যৎকে রূপদান করবে এবং সেই শিক্ষাগুলি কিভাবে অর্জন করা হয়েছিল তার বর্ণনা আগামী দিনগুলির উপর আলোক বর্ষণ করবে।
২। ১৯৯৬ পূর্ববর্তী দশকগুলি যা নিজের অগ্রগতি এবং অন্তর্দৃষ্টিসমূহ দ্বারা সমৃদ্ধ ছিল, কোন সন্দেহের অবকাশ রাখে না যে, অনেক সমাজে বৃহত্তর সংখ্যায় মানুষ ধর্মের পতাকা তলে আসতে প্রস্তুত থাকবে। তবুও বৃহত্তর সংখ্যায় ধর্মের অন্তর্ভূক্তির উদাহরণগুলি যতই উৎসাহজনক হোক না কেন সেগুলির বৃদ্ধির টেকসই প্রক্রিয়ার সাথে তুলনা করা যেতে পারে না যার বৈচিত্র পটভূমিতে লালন করা যেতে পারে। সেই সময় সমাজ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিল যার যথোচিত উত্তর দেওয়ার মত যথেষ্ট অভিজ্ঞতা তখন তার ছিল না। সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গৃহিত পদক্ষেপগুলিকে দৃঢ়করণের প্রক্রিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে এমনভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় যেন বৃদ্ধিকে ধরে রাখার দীর্ঘ দিনের আপাত দৃষ্টিতে দুর্নিবার চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ হওয়া যায়। কিরূপে এমন ব্যক্তি প্রতিষ্টানসমূহ এবং সমাজগুলির গড়ে তোলা যায় যারা বাহা’উল্লাহর শিক্ষাকে বাস্তবে পরিণত করার সক্ষমতা রাখে? এবং ভাবে যারা বাহা’ই শিক্ষাসমূহের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। একটি গ্রহব্যাপি আধ্যাত্মিক উদ্যোগের প্রবক্তায় পরিণত হতে পারে?
৩। আজ থেকে সিকি শতাব্দী পূর্বে পরিস্থিতি এই রূপ ছিল যে, বাহা’ই সমজ যখন একটি চারসালা পরিকল্পনা শুরু করে তখন ও তারা তাদের প্রথম সারিতে তিন জন ঈশ্বরের ধর্মবাহুগণ তাদের সঙ্গে ছিলেন, সেই সময়ের পূর্বে যারা ছিলেন তাদের থেকে তারা (সেই সময়ের বাহা’ইগণ) এইরূপ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ছিলেন যে, তাদের সমস্তমনোযোগ এক লক্ষ্যের প্রতি কেন্দ্রীভূত ছিল: দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এইলক্ষ্যটিই পরবর্তী পরিকল্পনাসমূহের ক্রমকে সংজ্ঞায়িত করে। সমাজ ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছিল যে, এই প্রক্রিয়ার অর্থ কেবলমাত্র একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংখ্যায় মানুষের দলগুলির ধর্মে প্রবেশ নয় এবং সেটা স্বত:স্ফূর্তভাবেও ঘটবে না; এটার জন্য স্থিরসংকল্প পদ্ধতিগত এবং দ্রুতগতি সম্বলিত সম্প্রসারণ এবং দৃঢ়করণের প্রয়োজন। এই উদ্যোগের জন্য বৃহৎ সংখ্যায় আত্মাসমূহের উদ্দীপ্ত অংশগ্রহণের প্রয়োজন হবে এবং ১৯৯৬-এ বাহা’ই বিশ্বকে এই প্রক্রিয়া যে বিশাল শিক্ষামূলক চ্যালেঞ্জকে জন্ম দেয় তার ভার গ্রহণ করার জন্য আহবান জানানো হয়েছিল। তাদেরকে প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটসমূহের এমন একটি পরস্পর যুক্ত শৃঙ্খলা তৈরী করতে আহবান জানানো হয় যেগুলি বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা সম্পন্ন মানুষের ক্রমবর্ধমান প্রবাহ সৃষ্টি করার প্রতি মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করবে।
৪। এই উদ্যোগ গ্রহণ করার সময় বন্ধুরা অবগত ছিলেন যে, ধর্মের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে তাদের বিগত বিজয়সমূহ সত্বেও এটা খুবই স্পষ্ট ছিল যে, সামর্থ্যগুলি তাদেরকে অর্জন করতে হবে তা সে বিষয় তাদের অনেকে শেখার রয়েছে এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেই সকল সামর্থ্য কিভাবে অর্জন করা হবে তা শেখা। অনেকভাবে সমাজ এই সামর্থ্যগুলি কাজ করার মাধ্যমে শেখে এবং তারা যে শিক্ষা অর্জন করে তা আবার দীর্ঘসময় ধরে বিভিন্নপটভূমিতে পরিমার্জিত এবং বিশোধিত হয়ে অবশেষে শিক্ষামূলক উপকরণে অন্তর্ভূক্ত হয়। এটা স্বীকার করা হয় যে, কতিপয় কার্যক্রম জনগণের আধ্যাত্মিক চাহিদার প্রতি স্বাভাবিক সাড়া দান ছিল। অধ্যয়ন চক্র, শিশু ক্লাস, ভক্তিমূলক সভা এবং পরবর্তীতে জুনিয়র ইয়ুথ গ্রুপগুলি এই ক্ষেত্রে প্রধান গুরুত্ব বহনকারী কার্যক্রমরূপে লক্ষণীয় এবং যখন এই সকলকে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমের সাথে বিজড়িত করা হয় তখন যে গতিশীলতার জন্ম হয় তা একটি স্পন্দনশীল সমাজ জীবনের উত্থানের কারণ হয়। এই সকল মূল কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যায় বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের প্রাথমিক লক্ষ্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়। তারা এমন একটি প্রবেশ দ্বারে পরিণত হয় যার মাধ্যমে যুবক, প্রাপ্ত বয়স্ক এবং বৃহত্তর সমাজের সম্পূর্ণ পরিবারবর্গসমূহ বাহা’উল্লাহর প্রত্যাদেশের মুখোমুখি হয়। এটাও প্রতীয়মান হয়ে উঠেছিল সমাজ নির্মাণের কর্ম কৌশলগুলিকে ক্লাস্টার অর্থাৎ একটি সহজ পরিচালনাযোগ্য
এমন একটি ভৌগোলিক এলাকা, যার স্বতন্ত্র সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে পর্যায় বিবেচনা করা খুবই বাস্তবসম্মত। ক্লাস্টার পর্যায়ে সরল পরিকল্পনা প্রস্তুত করার চর্চা শুরু হয় এবং এই জাতীয় পরিকল্পনাসমূহ থেকে ধর্মের বৃদ্ধির কর্মসূচীগুলি উত্থিত হয়, যা পরবর্তীতে তিনমাস ব্যাপী কার্যক্রমের চক্রের রূপ ধারণ করে। শুরুতেই স্পষ্টতার একটি বিন্দু উঠে আসে: কোর্সসমূহের ক্রমে মানুষের প্রবাহ ক্লাস্টারসমূহের উন্নতির ধারাকে উৎসাহ দান এবং তার পাশাপাশি তাকে স্থায়িত্ব দান করে। একে অপরের পরিপূরক পরিবেশে বৃদ্ধির গতির পর্যালোচনা করতে পারেন এবং বর্ধিত শক্তি অর্জনের পথ তৈরী করে নিতে পারে। সময়ের সাথে সাথে ক্লাস্টারে যা ঘটছে তাকে তিনটি অত্যাবশ্যক শিক্ষামূলক কার্যক্রম অর্থাৎ শিশু, জুনিয়র ইযুথ এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের সেবার এবং তার পাশাপাশি বৃদ্ধির ছন্দ বজায় রাখার জন্য কার্যক্রমের চক্রগুলির পরিপ্রেক্ষিতে দেখা প্রচেষ্টায় এক পর্যায় আমরা বৃদ্ধিকে সকল সুপরিচিত বৈশিষ্ট্যসমূহ দেখতে পাই যেগুলি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিল।
৫। কার্যক্রমের প্রচেষ্টাগুলির তীব্রতর হওয়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি প্রক্রিয়ার সাথে সার্বজনীনভাবে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন নীতি, ধারণা এবং কর্মকৌশলগুলি একটি কাঠামোয় রূপ নিতে থাকে যার মধ্যে নতুন উপদানগুলিকে স্থান দেওয়ার মত বিবর্তিত হওয়ার যোগ্যতা ছিল। এই কাঠামোটি প্রচন্ড জীবনী শক্তি উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে মৌলিক প্রমাণিত হয়। এই কাঠামো বন্ধুদেরকে তাদের শক্তিসমূহকে এমনভাবেপরিচালিত করতে সহায়তা প্রদান করে যা প্রমাণিত হয়েছে যে সমাজগুলির সুস্থ্য বৃদ্ধি জন্য উপকারী ছিল, কিন্তু কোন কাঠামো কোন ধরা-বাঁধা নিয়ম নেই। কোন একটি ক্লাস্টার স্থান বা শুধু একটি পাড়ায় প্রক্রিয়ারত একটি কাঠামোর বিভিন্ন উপাদানের বাস্তব পর্যালোচনা করার সময় কার্যক্রমের একটি ছক বা নমুনা তৈরী করা যেতে পারে যেখানে থেকে বাহা’ই বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল তাদের নিজস্ব অবস্থানের প্রতি সাড়া দান করার সময় শিখতে পারে। এক দিকে অনুমোদনীয় শর্তাবলী এবং অপর দিকে সীমাহীন ব্যক্তিগত পছন্দের মত পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থানের পরিবর্তে তখন একটি অধিকতর সুখ উপলব্ধি স্থান করে নেয়, যেখানে বিভিন্নভাবে একক ব্যক্তিরা এমন একটি প্রক্রিয়াকে সমর্থন দান করতে পারে, যা মূলত সুসংহত এবং যা অভিজ্ঞতা অর্জনের সাথে সাথে অব্যাহতভাবে পরিমার্জিত হচ্ছে। এই বিষয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ যেন না থাকে যে, এই কাঠামোর উত্থান যে অগ্রগতির প্রতিনিধিত্ব করছে তা পুরো বাহা’ই বিশ্বের সমন্বয়ন সাধন এবং একত্রীকরণের প্রচেষ্টার জন্য এবং তার অগ্রযাত্রার দিকে চালিত করার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।
৬। যখন একটা পরিকল্পনার পর আর একটা পরিকল্পনা ধারাবাহিকতাভাবে আসতে থাকে তখন সমাজ নির্মাণের কার্যক্রম সম্পৃক্ততা অধিকতর প্রস্তুত ভিত্তিতে লাভ করে এবং সংস্কৃতিক স্তরে অগ্রগতি আরো ফুটে উঠে। উদাহরণস্বরূপ নতুন প্রজন্মের শিক্ষাদানের বিষয়টা আরো ব্যাপকভাবে স্বীকৃত লাভ করতে থাকে, বিশেষভাবে কিশোরদের যে অসাধারণ সম্ভাবনার প্রতিনিধিত্ব করে তা উপলব্ধি করা হয়। আত্মাগুলির একে অপরের সাথে অভিন্ন পথে সঙ্গদান করা সহযোগিতার অব্যাহতভাবে সম্পসারণশীল বৃত্ত সেবার কাঙ্খিত সামর্থ্য বৃদ্ধির লক্ষ্য একটি আদর্শে পরিণত হয়। এমনকি বন্ধুদের নিজেদের মধ্যে এবং যারা তাদের আশে পাশে রয়েছে তাদের সাথে মিথস্ক্রিয়া একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়, আধ্যাত্মিক সংবেদনশীলতাকে প্রজ্জ্বলিত এবং উৎসাহ দানে অর্থবহ কথোপকথনের শক্তির সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় এবং অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে বাহা’ই সমাজগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে বর্হিমুখি হয়ে উঠে। ধর্মের দর্শনের প্রতি আগ্রহী যে কোন আত্মা একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী এমন কি শিক্ষামূলক এবং সমাজ গঠনের অন্যান্য প্রাথমিক কর্মকান্ডের প্রবর্তক বা সহায়তাদানকারীর পর্যন্ত হয়ে যেতে পারতো: এমন সব আত্মার মধ্যে ঘোষণা ও করেন। এইভাবে দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়ার এমন একটি ধারণার জন্ম নেয় যা তত্ত্ব এবং অনুমানের উপর নির্ভর না করে কিভাবে অধিকতর সংখ্যায় মানুষ বাহা’ই ধর্মের সন্ধান পায় তার বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর বেশি মনোযোগ স্থাপন করে, তারা এই ধারনার অভ্যস্ত কার্যক্রমের এবং আলোচনায় যোগ দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করে। নিঃসন্দেহে ইন্সটিটিউট প্রক্রিয়া অঞ্চলের পর অঞ্চলে শক্তিশালী হওয়ার সাথে পরিকল্পনার কাজে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা এমন ব্যক্তিদেরকে দ্রুতবেগে আলিঙ্গন করে যারা খুবই সম্প্রতিকালে ধর্ম গ্রহণ করেছিল। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি শুধু মাত্র সংখ্যায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে চালিত ছিল না। একই সময় ব্যক্তিগত এবং সমষ্টিগত রূপান্তরের একই সাথে সংগঠিত হচ্ছে, যার ভিত্তি হচ্ছে ঈশ্বরীয় বাণী এবং এই বিষয়ের উপলব্ধি যে একটি প্রগাঢ় আধ্যাত্মিক ঘটনার মূল নায়ক হওয়ার সামর্থ্য প্রত্যেকটি ব্যক্তির রয়েছে এবং একটি অভিন্ন প্রচেষ্টার অনুভূতিকে জন্ম দিয়েছে।
৭। এই পঁচিশ বছর ব্যাপী সময়ের একটি অন্যতম লক্ষণীয় এবং অনুপ্রেরণাদানকারী বৈশিষ্ট্য হলো বাহা’ই যুবকদের সেবাদান তারা তাদের বিশ্বাস এবং সাহসিকতা দিয়ে সমাজের কর্মকান্ডে প্রথম সারিতে থাকার অধিকার ন্যায়সঙ্গতভাবেই অর্জন করেছে। পাঁচটি মহাদেশে যুবকরা ধর্মের শিক্ষক, কিশোরদের শিক্ষক, ভ্রাম্যমান টিউটর ও স্বদেশীয় পথিকৃৎ, ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর এবং বাহা’ই এজেন্সীসমূহের সদস্য হিসেবে তারা তাদের সমাজের সেবাদানের জন্য উৎসর্গ এবং ত্যাগের সাথে উত্থিত হয়েছে। যে দায়িত্ব পালনের উপর ঐশী পরিকল্পনার অগ্রগতি নির্ভরশীল, সেই দায়িত্ব পালনে তারা যে পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন তা তাদের আধ্যাত্মিক প্রাণশক্তি এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রতি তাদের অঙ্গিকার বদ্ধতার পরিচয় বহন করে। তাদের এই ক্রমবর্ধমান পরিপক্কতার প্রতি স্বীকৃত স্বরূপ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এই রিজ্ওয়ান (২০২১) এর পর থেকেই যদিও কোন আধ্যাত্মিক পরিষদে সেবাদানের জন্য বয়সের যোগ্যতা ২১ (একুশ) বছরই থাকবে কিন্তু যে বয়সে কোন বিশ্বাসী বাহা’ই নির্বাচনে ভোট দিতে পারে, সেই বয়সটি ১৮(আঠারো)তে নিয়ে আসা হবে। আমাদের কোন সন্দেহ নাই যে, সর্বত্র সকল প্রাপ্ত বয়স্ক যুব বাহা’ইরা তাদের পবিত্র দায়িত্ব পালনে যার জন্য প্রত্যেকটি বাহা’ই নির্বাচককে আহবান জানানো হয় তা বিবেকনিষ্ঠভাবে এবং সযত্নে পূর্ণ করার ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্বাসের যথার্থতা প্রমাণ করবেন।
৮। আমরা অবগত আছি যে, স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন সমাজের বাস্তবতার মধ্যে ব্যাপক ব্যবধানে রয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় বাহা’ই সমাজে এবং তাদের মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন স্থানীয় সমাজগুলি পরিকল্পনার এই ক্রমগুলি উন্নয়নের পৃথক পৃথক স্তর থেকে শুরু করে এবং তখন থেকে আজ পর্যন্ত তারা ভিন্ন ভিন্ন গতিতে উন্নতি লাভ করে অগ্রগতির আলাদা আলাদা স্তর অর্জন করেছে। এই বিষয়টা নিজের মধ্যে নতুন কিছু না। এটা সব সময়ই হয়ে আসছে যে, বিভিন্ন স্থানে অবস্থা ভিন্নতর থাকে এবং একইভাবে সেখানে গ্রহণশীলতার মাত্রাও ভিন্ন থাকে। কিন্তু আমরা একটি উচ্ছসিত জোয়ার ও উপলব্ধি করতে পারছি যার মাধ্যমে সামর্থ্য, আত্মবিশ্বাস এবং পুঞ্জিভূত অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা বেশীর ভাগ সমাজের দিগদিগন্তের তাদের ভ্রাতৃ সমাজগুলির সাফল্য দ্বারা উৎসাহিত হয়। উদাহরণস্বরূপ ১৯৯৬ এ আত্মাগুলি একটি নতুন স্থান উন্মুক্ত করার জন্য এগিয়ে এসেছিল তারা সাহস, বিশ্বাস এবং নিষ্ঠার দিক দিয়ে তাদের কোন ঘাটতি ছিল না, আজকে সর্বত্র তাদের অনুরূপ ব্যক্তিরা সেই একই গুণাবলীর সাথে গোটা বাহা’ই বিশ্বের পঁচিশ বছরের সঞ্চিত জ্ঞান, অন্তর্দৃষ্টি এবং দক্ষতাসমূহকে সম্প্রসারণ এবং দৃঢ়করণ পদ্ধতিগত এবং পরিমার্জিত করার কাজের সাথে সংযুক্ত করেছেন।
৯। কোন সমাজের সূচনা বিন্দু নির্বিশেষে যখনই বিশ্বাস, অধ্যাবসায় এবং নিষ্ঠতার গুণাবলী গুলি শেখার জন্য আগ্রহের সাথে সংযুক্ত হয়েছে তা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়েছে। প্রকৃত পক্ষে এই পরিকল্পনাসমূহের ধারাবাহিকতার একটি লালিত দান ছিল এই সত্যের প্রতি ব্যাপক স্বাকৃতি প্রদান যে অগ্রগতির দিকে যে কোন প্রচেষ্টা শেখার প্রতি মনোযোগ প্রদান করা শুরু হয়। এই নিতির সরলতা তা থেকে যে ফলাফল উৎপন্ন হয় তার গুরুত্বটাকে আড়াল করে দেয়। আমাদের কোন সন্দেহ নাই যে, সময় দিলে প্রত্যেকটি ক্লাস্টার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় অগ্রসর হবে। যে সকল সমাজ তাদের মতই অবস্থা এবং সম্ভাবনার অধিকারী সমাজগুলির তুলনায় অনেক দ্রুত অগ্রসর হয়েছে, তারা নিজেদের মধ্যে চিন্তার একতার উৎসাহ লালন করা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা সম্পর্কে শেখার সামর্থ্য প্রদর্শন করেছেন, এবং তারা এই পদক্ষেপ সমূহ গ্রহন করতে ইতস্তত করে নাই।
১০। শেখার প্রতি অঙ্গীকার বদ্ধ হওয়ার এমটি অর্থ এটাও ছিল যে ভুল হতেই পারে তার জন্য প্রস্তুত থাকা এবং অবশ্যই অনেক সময় ভুল অস্বস্তির কারণ ও হয়েছিল, এবং অবাক হওয়ার কোন কারণ নাই যে প্রথম দিকে নতুন পদ্ধতি এবং পথগুলিকে অভিজ্ঞতার অভাবে সঠিকভাবে পরিচালনা করা হয় নাই; অনেক সময় কোন একটি নতুন অর্জিত দক্ষতা হারিয়ে যায় কারণ সমাজ তখন অন্য একটি দক্ষতা উন্নত করার নিমগ্ন হয়ে যায়। কোন ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা এই নিশ্চয়তা প্রদান করে না যে ভুল ভ্রান্তি হবে না এবং এই ভুলগুলি অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিনম্রতা এবং অনাসক্তি উভয়ের প্রয়োজন হয়। যখন কোন সমাজ স্বাভাবিকভাবে ঘটে যাওয়ার ভুলের প্রতি ধৈর্য প্রদর্শনের বিষয়ে দৃঢ়তাকে তখন প্রগতি কখনো নাগালের বাহিরে থাকে না।
১১। পরিকল্পনাসমূহের মাঝপথে বৃহত্তর সমাজের জীবনের সাথে বাহা’ই সমাজের সম্পৃক্ততা অধিকতর সরাসরি মনোযোগ লাভ করা আরম্ভ করে। বিশ্বাসীদেরকে এই বিষয়ে দুইটি পরস্পর যুক্ত কর্মক্ষেত্রের চিন্তা করতে উৎসাহ দান করা হয়েছিল। সামাজিক কার্যকলাপ এবং সমাজে আলোচনায় অংশগ্রহণ। এইগুলি অবশ্যই প্রচলিত। সম্প্রসারণ এবং দৃঢ়করণের কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া তো দুরের কথা, তার বিকল্প না। বরং (এই কাজ দুটি) তারই মধ্যে অন্তর্নিহিত। বাহা’ই সমাজ যত অধিক সংখ্যায় মানব সম্পদকে কাজে লাগাতে পারে তত বেশী বাহাউল্লাহর প্রত্যাদেশে অন্তর্ভূক্ত বিজ্ঞতা তত বেশি বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জসমূহের সাথে সম্পর্ক যুক্ত করতে এবং তাঁর শিক্ষাগুলিকে বাস্তবে পরিণত করতে পারবে এবং এই সময় মানবজাতির বিষয়াবলীর অস্থির অবস্থা ঐশী চিকিৎসক আবেগের জন্য যে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছিল তার প্রয়োজন কত তীব্র ছিল, তার গুরুত্বের দিকে ঈঙ্গিত করে। এ সব কিছুর মধ্যে অন্তর্নিহিত ছিল ধর্ম সম্পর্কে এমন এক ধারণা যা বিশ্বে সাধারণভাবে পৃথিবীতে ধর্মের প্রচলিত ধারণা যে ধর্মকে চির প্রগতিশীল সভ্যতার শক্তিরূপে স্বীকৃতি প্রদান করে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে এইরূপ একটি সভ্যতা স্বত:স্ফূর্তভাবে আবির্ভূত হবে না, তা নিজে নিজে হবে না- এটা বাহা’উল্লাহর অনুসারীদের কর্তব্য ছিল তার আবির্ভাবের জন্য, শ্রম দান করা। এই জাতীয় কার্য সামাজিক কার্যক্রম এবং গণ আলোচনার ক্ষেত্রেও পদ্ধতিগত শেখার প্রক্রিয়া দাবি করে।
১২। গত আড়াই দশকের পরিপ্রেক্ষিতে দেখলে সামাজিক কার্যক্রমের দায়িত্বভার গ্রহন করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা এমন কার্যক্রমসমূহের অসাধারণ বিকাশের দিকে চালিত করেছে। ১৯৯৬ -এর তুলনায় যখন প্রায় ২৫০ টি সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প এক বছর থেকে অন্য বছর পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল বর্তমানে এমন ১৫০০ টি প্রকল্প বিদ্যমান রয়েছে। বাহা’ই শিক্ষা দ্বারা অনুপ্রানিত পন্থাগুলির সংখ্যা চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৬০ এ দাড়িয়েছে। ৭০,০০০ এর অধিক তৃনমূল পর্যায়ে স্থান মেয়াদি সামাজিক পদক্ষেপ মূলক উদ্যোগ প্রতি বন্ধুর প্রতি বছরে হাতে নেওয়া হচ্ছে যা এই ক্ষেত্রে প্রকাশ গুন বৃদ্ধি। আমরা প্রত্যাশা করছি যে বাহা’ই অভিভাবক উন্নয়ন সংস্থার একনিষ্ঠ সহায়তা এবং প্রণোদনা যা এখন তাদেরকে প্রদান করা হচ্ছে, তার ফলে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। ইতিমধ্যে, সমাজে চলমান আলোচনা সমূহের মধ্যে বাহা’ই অংশগ্রহন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্ধুরা তাদের কর্মস্থল বা ব্যক্তিগত পরিসরে সুযোগ পেলে তাদের কথোপকথনে বিভিন্ন বিষয়ে বাহা’ই দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন তাছাড়া আনুষ্ঠানিক স্তরেও আলোচনায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু ব্যাপকভাবে প্রসারিত প্রচেষ্টা এবং আর্ন্তজাতিক বাহা’ই সমাজ (বি,আই,সি) ক্রম বৃদ্ধিমান পরিশীলিত অবদানই নয়, যা এই সময়ে আফ্রিকা, এশিয়া এবং ইউরোপে তাদের অফিসমূহ যোগ করেছে বরং আমরা বহির বিভাগের জাতীয় অফিসগুলির একটি নেটওয়ার্কের কথাও আমাদের দৃষ্টিতে আছে, যার কার্যক্রম হবে ব্যাপকভাবে সংযোজিত এবং শক্তিশালী তারা তাদের প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য হবে এই ক্ষেত্রে (বাহির বিষয়াবলী) তার অতিরিক্ত ছিল বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে একক বিশ্বাসীদের অর্ন্তদৃষ্টিপূর্ন এবং লক্ষণীয় অবদান। এই সব কিছু মিলে সমাজের সর্বস্তরের নেতৃত্বস্থানীয় চিন্তাবিদ এবং অন্যান্য গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বারংবার বাহা’ই ধর্ম, তার অনুসারীগন এবং তাদের কার্যক্রমের প্রশংসা তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, করেছেন তার কারন কিছুটা অনুমান করা যায়।
১৩। সম্পর্ণূ পঁচিশ বছরের পর্যালোচনা করার সময় আমরা বাহা’ই বিশ্ব একযোগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে প্রগতি অর্জন করেছি তা আমাদেরকে বিস্ময় বিহ্বল করছে। সমাজের বুদ্ধিভিত্তিক জীবন শ্রীবৃদ্ধি লাভ করেছেন যার প্রমান শুধু যে সকল ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টাসমূহ আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনা করছি তাই প্রদর্শন করে না, বরং বাহা’ই লেখকদের কর্তৃক উন্নতমানের রচনা সমূহের প্রকাশনা জ্ঞানের কতিপয় ক্ষেত্রগুলিতে বাহা’ই শিক্ষাসমূহের গবেষনার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা, এবং বাহা’ই প্রতিষ্ঠান গুলির সহযোগিতায় ইন্সটিটিউট ফর স্টাডিজ ইন গ্লোবাল প্রসপারিটি কর্তৃক পরিচালিত পদ্ধতিগত অম্লাতক এবং স্নাতক সেমিনারগুলির এখন ১০০ এর অধিক দেশে বাহা’ই
যুবকদেরকে এই সেবা প্রদান করছে তার প্রভাব ও এর অর্ন্তভূক্ত বাহা’ই উপাসনালয়গুলি নির্মাণের কাজ ও দৃষ্টিগোচরভাবে ত্বরান্বিত হয়েছে। সর্বশেষ মাত্র উপাসনালয় দৈনিক সান্তিয়াগোতে নির্মিত হয়েছিল এবং দুইটি জাতীয় এবং পাঁচটি স্থানীয় মাত্র বিরল আকারের নির্মাণ প্রক্রিয়াধিন রয়েছে কলম্বোডিয়ার বাটমবাং এবং কলম্বিয়ার নাট ডেল কাটিমার উপাসনালয়গুলি ইতিমধ্যে তাদের স্থির উন্মুক্ত করেছে। বাহা’ই উপাসনা মন্দিরগুলি, হোক সেগুলি সমন্বিত সময়ে উন্মুক্ত অথবা দীর্ঘ সময় পূর্বে প্রতিষ্ঠিত ক্রমবর্ধমানভাবে বাহা’ই জীবনের প্রাণ কেন্দ্রের স্থান দখল করে নিচ্ছে। ঈশ্বরের বন্ধুদের কর্তৃক গৃহিত অসংখ্য প্রচেষ্টাসমূহের প্রতি সাধারণভাবে বিশ্বাসীদের জাগতিক উপায়সমূহ দিয়ে সহায়তা ছিল অনুষ্ঠিত। এটাকে শুধু যদি সম্মিলিত আধ্যাত্মিক প্রাণশক্তির পরিমাপে হিসেবে যদি দেখা হয়, তাহলে চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সময় অর্থভান্ডারের অত্যন্ত গুরুত্ব প্রবাহ যা অব্যাহত ছিল, না বরং তা আরো শক্তিশালী হয়েছে, তা লক্ষ্য করার মত ছিল। বাহা’ই প্রশাসনিক ব্যবস্থার তার ক্রমবর্দ্ধমান সম্প্রসারণের ফলে যে জটিল আকার ধারণ করেছে তার মধ্যে জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহের বিষয়াবলী পরিচালনায় তাদের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। তারা এই ক্ষেত্রে উপদেষ্টাগণের সাথে একটি নতুন, উচ্চতর সহযোগিতা থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছিল। উপদেষ্টাগণ বিশেষভাবে তৃণমূল পর্যায় থেকে পদ্ধতিগতভাবে অন্তর্দৃষ্টি সংগ্রহ করা এবং তা ব্যাপকভাবে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। এটা একই সময় ছিল যখন আঞ্চলিক বাহা’ই কাউন্সিল ধর্মের পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানরূপে আবির্ভূত হয় এবং এখন তারা ২৩০ টি অঞ্চলে তাদের অধীনে থাকা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের সাথে মিলে বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদেরকে অপরিহার্য প্রমাণিত করেছেন। হুকুকুল্লাহর প্রধান ট্রাষ্টি ঈশ্বরের ধর্মবাহু আলী মুহাম্মদ ভার্কার দায়িতসমূহকে ভবিষ্যতে সম্প্রসারিত করার জন্য ২০০৫ সালে হুকুকুল্লাহর ট্রাষ্টিদের আন্তর্জাতিক বোর্ড গঠন করা হয়, যা আজকে সারা বিশ্বে কমপক্ষে ৩৩টি জাতীয় এবং আঞ্চলিক ট্রাষ্টিদের বোর্ডগুলির দেখাশোনা করছে, যারা আবার ১০০০ এরও অধিক প্রতিষ্ঠানকে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সময় বাহা’ই বিশ্ব কেন্দ্রে যে উন্নয়নের কাজ হয়েছে তা ছিল বহুবিধ: এই সময়টি বা’ব-এর সমাধির ধাপগুলির নির্মাণের সমাপ্তির এবং আক্কার দুইটি ভবনের নির্মাণ ও আব্দুল বাহার সমাধি নির্মাণ কাজের সূচনার সাক্ষ্য বহন করে এবং বাহা’ই ধর্মের একাধিক অত্যন্ত মূল্যবান পবিত্র স্থাপনাসমূহের সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজতো ছিলই। বাহা’উল্লাহর এবং বা’ব-এর সমাধিগুলিকে মানবজাতির জন্য অমূল্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহরূপে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থানরূপে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ সমাধিগুলি দর্শনের জন্য আসে, কোন কোন বছরে তাদের সংখ্যা পনের লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। তা ছাড়া বিশ্ব কেন্দ্রে নিয়মিতভাবে শত শত তীর্থ যাত্রীদের একই সময়ে স্বাগত জানায়, অনেক সময় একই বছরে তাদের সংখ্যা ৫০০০ এর বেশি ছিল এবং প্রায় একই সংখ্যায় অন্যান্য বাহা’ই দর্শনার্থীও থাকতেন। আমরা একদিকে যেমন যারা তীর্থযাত্রার বদান্যতা প্রাপ্ত হয়েছেন তাদের সংখ্যায় বৃদ্ধি দেখে আনন্দিত ঠিক তেমনই তাদের মধ্যে বিভিন্ন দেশ এবং জাতীর মানুষের প্রতিনিধিত্ব লক্ষ্য করে আনন্দিত হয়েছি। পবিত্র লেখানবলীর অনুবাদ প্রকাশ এবং বিতরণ উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুততর হয়েছে, যা ছিল বাহা’ই কেন্দ্রে (রেফারেন্স) ইংরেজিতে রেফারেন্স হবে লাইব্রেরীর উন্নয়নের সমান্তরাল একটি ঘটনা। এই কেন্দ্রে লাইব্রেরী বাহা’ই ডট অর্গ পরিবারের ক্রমবর্ধমান সদস্যদের মধ্যে একটি অন্যতম সদস্য। স্বয়ং বাহা’ই ডট অর্গ এখন দশটি ভাষায় উপলব্দ। বাহা’ই বিশ্ব কেন্দ্র এবং অন্যান্য স্থানে বিভিন্ন দপ্তর এবং এজেন্সীসমূহ স্থাপিত করা হয়েছে, যাদের দায়িত্ব হলো সারা বাহা’ই বিশ্বে প্রচেষ্টার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে শেখার প্রক্রিয়া উন্মোচিত হচ্ছে সেগুলিকে সমর্থন দান করা। বিশ্বাসে আমাদের ভাই ও বোনেরা, এই সব কিছুই সেই উপাখ্যানের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র সেই বিশ্বের অত্যাচারিত জনের প্রতি আপনাদের ভক্তি সম্ভবপর করেছে। আমরা শুধু প্রিয় মাষ্টারের মর্মভেদী শব্দগুলিরই প্রতিধ্বনিত করতে পারি যা তিনি একদা আবেগে অভিভূত হয়ে চিৎকার করে বলে উঠে ছিলেন “হে বাহা’উল্লাহ্! আপনি কি করছেন!
১৪। সিকি শতাব্দীর বিস্তৃত দৃশ্য থেকে আমরা আমাদের দৃষ্টি সবচেয়ে সাম্প্রতিক পাঁচসালা পরিকল্পনার দিকে কেন্দ্রীভূত করি, এই পরিকল্পনা অনেক দিক দিয়ে পূর্ববর্তী যে কোন পরিকল্পনা থেকে বেশ পৃথক ছিল। এই পরিকল্পনায় আমরা বিশ্বের বাহা’ইদেরকে তারা বিগত পঁচিশ বছরে যা কিছু শিখেছেন তাকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমরা আনন্দিত যে এই বিষয়ে আমাদের আশার থেকে অধিক অর্জিত হয়েছিল। যদিও আমরা পুত:পবিত্র সুষমার অনুসারীদের কাছ থেকে স্বাভাবিকভাবেই মহান কিছু প্রত্যাশা করি, তবুও তারা তাদের বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টায় যা অর্জন করেন তা সত্যই শ্বাসরুদ্ধকর ছিল। এটা ছিল এমন একটি অর্জনের মুকুট যা পঁচিশ বছরের সাধনার মুকুট ছিল।
১৫। পরিকল্পনাটি আরো স্মরণীয় হয়ে উঠে দুইটি পবিত্র দ্বি-শত বার্ষিকীর দ্বারা তিন ভাগে বিভক্ত হওয়ার কারণে যা বিশ্বব্যাপী স্থানীয় সমাজগুলিকে উজ্জীবিত করে। বিশ্বস্তদের দল সমাজের সর্বস্তরের মানুষদেরকে একজন ঈশ্বরের প্রকাশকে সম্মান জানানোর জন্য এমন বৃহৎ সংখ্যায় এবং তুলনামূলক ভাবে এমন স্বাচ্ছন্দ্য সংযুক্ত করতে পারার দক্ষতা প্রদর্শন করে যা পূর্বে কখনো দেখা যায় নাই। এটা বৃহত্তর কোন কিছুর একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত ছিল: ধর্মের অগ্রগতির জন্য প্রচন্ড আধ্যাত্মিক শক্তিগুলিকে উন্মুক্ত করে প্রবাহিত করার দক্ষতা (মানুষের) এই সাড়া এমনই চমৎকার ছিল যে, অনেক স্থানে ধর্ম জাতীয় পর্যায় অজ্ঞাত অবস্থায় থেকে বেরিয়ে আসে। যে সকল পরিবেশে তা অপ্রত্যাশিত এমন কি সম্ভবত অবহেলিত ছিল, সেখানেই বাহা’ই ধর্মের প্রতি লক্ষণীয় গ্রহণযোগ্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠলো। লক্ষ লক্ষ মানুষ আজকে সর্বত্র বাহা’ই সমাজগুলিকে যে ভক্তিমূলক উদ্দীপনায় বৈশিষ্টমন্ডিত করছে তার সংস্পর্শে এসে মোহিত হোন। বাহা’ই পবিত্র দিবস পালনের মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে সেই কল্পনাদৃষ্টি অপরিসীমভাবে সম্প্রসারিত হয়।
১৬। পরিকল্পনার অর্জনগুলি, শুধু সংখ্যার দিক দিয়ে ধরলেও দ্রুত ১৯৯৬ পূর্ববর্তী সকল পরিকল্পনাগুলিকে ছাড়িয়ে যায়। এই পরিকল্পনার শুরুতে, যে কোন নিদিষ্ট সময় শুধু মাত্র ১০০,০০০ মূল কার্যক্রম পরিচালনা করার দক্ষতা ছিল, এই সামর্থ্যের ফল ছিল ২০ বছরের সার্বজনীন প্রচেষ্টার বর্তমানে ৩০০,০০০ মূল কার্যক্রম একই সময় চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বিশ লাখে ছাড়িয়ে গেছে, যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধির সমান। ৩২৯ টি জাতীয় এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট কর্মরত রয়েছে এবং তারা যে এক মিলিয়নের তিন চতুর্থাংশ (৭ লাখ ৫০ হাজার) মানুষকে এই অনুক্রমের কমপক্ষে একটি বই সম্পন্ন করতে পেরেছে তাই তাদের সামর্থের প্রমাণ। সামগ্রিকভাবে যে সকল ব্যক্তিরা বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করেছেন তাদের সংখ্যাও এখন বিশ লক্ষ। যেটা কিনা গত পাঁচ বছরে তিনগুনের বেশী বৃদ্ধি।
১৭। বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধির কর্মসূচীগুলি যে তীব্রতার সাথে অনুসন্ধান করা হচ্ছে তা নিজেই একটি চিত্রাকর্ষক উপাখ্যান। এই পাঁচ বছর মেয়াদে ৫,০০০ টি ক্লাস্টারের প্রত্যেকটিতে যেখানে বৃদ্ধির কর্মসূচী শুরু করা হয়েছিল আমরা বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। এই উপদেশ সারা বিশ্বে আন্তরিক প্রচেষ্টাসমূহের জন্য অনুপ্রেরণার কারণ হয়ে যায়। যার ফলে নীবিড় বৃদ্ধির কার্যক্রমগুলির সংখ্যা দ্বিগুন হয়ে এখন প্রায় ৪০০০ এ উন্নিত হয়েছে। একটি গ্রহব্যাপী স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে ধর্মের জন্য কোন গ্রাম বা এলাকাকে উন্মুক্ত করা বা কার্যক্রম বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে মহামারির প্রাথমিক পর্যায়ে যে সকল সমস্যা ছিল তার জন্য পরিকল্পনার শেষ বছরে আরো উচ্চ সংখ্যায় পৌছানো যায় নাই। কিন্তু এই বিষয়ে বলার আরো অনেক কিছু আছে। পরিকল্পনার সূচনাতে আমরা আশা প্রকাশ করেছিলাম যে এমন সব ক্লাস্টারে যেখানে বন্ধুরা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার তৃতীয় মাইলফলক অতিক্রম করেছেন বৃহৎ সংখ্যায় মানুষকে স্বাগত জানানো এবং কার্যক্রমগুলিতে অন্তর্ভূক্ত করা শেখার ফলশ্রুতিতে তারা শত শত বৃদ্ধি লাভ করবে। তখন মোট সংখ্যা ছিল প্রায় ২০০, যা ৪০টির মত দেশে ছড়িয়ে ছিল, পাঁচ বছর পরে এই
সংখ্যা ১,০০০ এর একটি আশ্চর্যজনক অঙ্কে পৌঁছেছে যা প্রায় ১০০ টি দেশে বিস্তৃত এবং বিশ্বের মোট নিবিড় বৃদ্ধির কর্মসূচীর এক চতুর্থাংশ এবং তা এমন একটি অর্জন যা আমাদের প্রতাশাগুলির অনেক ঊর্ধ্বে। তবুও এই পরিসংখ্যানগুলি সমাজ যে সুউচ্চ শিখরে উড্ডয়ন করছে তাকে প্রকাশ করে না। ৩০ এর অধিক ক্লাস্টার রয়েছে স্থায়ী মূলকার্যক্রমের সংখ্যা ১,০০০-এর বেশী। কিছু কিছু স্থানে এই সংখ্যা সহস্রাধিক, যেখানে একটি ক্লাস্টারেই অংশগ্রহণকারীদের সংখা ২০,০০০ এর অধিক। ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদগুলি এখন এমন সকল শিক্ষামূলক কর্মসূচীগুলি উন্মোচনের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছে যারা বেশীর ভাগে কোন গ্রামের সকল শিশু এবং জুনিয়র ইয়ুথদের সেবার আয়ত্বে এনেছে। একই বাস্তবতা কিছু শহর এলাকায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাহা’উল্লাহর প্রত্যাদেশের সাথে সম্পৃক্ততা কিছু কিছু লক্ষণীয় ক্ষেত্রগুলিতে ব্যক্তি, পরিবার এবং বৃহত্তর পারিবারিক গন্ডিকে অতিক্রম করেছে, এখন যা পরিলক্ষিত হচ্ছে তা হল একটি জনগোষ্ঠীর অভিন্ন কেন্দ্রে দিক যাত্রা। অনেক সময় পরস্পর বিরোধী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে যুগ যুগ ধরে চলে আসা বৈরিতা পিছনে ফেলে দেওয়া হচ্ছে এবং কতিপয় সামাজিক কাঠামো সমাজকে পরিচালনাকারী রীতি-নীতিগুলি ঐশী শিক্ষার আলোকে রূপান্তরিত হচ্ছে।
১৮। এমন চিত্তাকর্ষক অগ্রগতি আমাদেরকে অতিশয় আনন্দ প্রদান না করে পারে না। বাহা’উল্লাহর ধর্মের সমাজ বিনির্মান শক্তি অধিকতর স্পষ্টতার সাথে প্রকাশ পাচ্ছে এবং এটা হলো সেই দৃঢ় ভিত্তি যার উপর আসছে নয় সালা পরিকল্পনা গড়ে তোলা হবে। যেমন আশা করা হয়েছিল চিহ্নিত শক্তি সম্বলিত ক্লাস্টারগুলি তাদের প্রতিবেশিদের জন্য এবং সম্পদসমূহের উৎসস্বরূপ প্রমাণিত হয়েছে এবং যে সকল অঞ্চলে এই স্তরের একাধিক ক্লাস্টার রয়েছে, সে সকল স্থানে ক্লাস্টারের পর ক্লাস্টার বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার উপায় পরিণত করা সহজতর হয়েছে। কিন্তু আমরা আবার নিজেদের এই বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করতে বাধ্য অনুভব করছি যে অগ্রগতি প্রায় সার্বজনীন ছিলএক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রগতির পার্থক্য হলো তুলনামূলক মাত্রার। দলে দলে যোগদান প্রক্রিয়া এবং সেই প্রক্রিয়াকে যে কোন পরিস্থিতিতে উদ্দীপিত করার ক্ষেত্রে সমাজের সম্মেলিত উপলব্ধি এমন একটি স্তরে উন্নতি হয়েছে যা বিগত দশকগুলিতে ছিল অকল্পনীয়। যে সকল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন প্রশ্নগুলি দীর্ঘকাল ধরে প্রাধান্য বিস্তার করে আসছিল সেগুলি ১৯৯৬-এ আরো স্পষ্টভাবে সামনে চলে আসলো এবং সেগুলি উত্তর বাহা’ই বিশ্ব প্রত্যয়যোগ্যভাবে দিয়েছে। বিশ্বাসীদের পুরো একটি প্রজন্ম রয়েছে যাদের সম্পুর্ন জীবন সমাজের প্রগতির ছাপ বহন করে। কিন্তু যে সকল ক্লাস্টারে যেখানে শিখার সীমাগুলিকে প্রসারিত করা হচ্ছে, সেখানে যা ঘটেছে তার মাত্রাই এমন বিশাল যে তা দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়ার অগ্রগতিকে একটি যুগান্তকারী ঐতিহাসিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
১৯। অনেকেই এই বিষয়ে অবগত আছেন যে, অভিভাবক বাহা’ই ধর্মের যুগগুলিকে উপর্যপরি সংগঠিত কাল বা অধিযুগে ভাগ করেছেন। সাংগঠনিক যুগের পঞ্চম অধিকালের সূচনা হয় ২০০১ যে বিষয়টি কম জানা তা হলো অভিভাবক ঐশী পরিকল্পনার মধ্যে কাল বা অধিকাল রয়েছে এবং সেই অধিকালের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায় বা ধাপ রয়েছে তার সম্পর্কে সুনিদিষ্ট উল্লেখ করেছেন। দুই দশক ধরে যখন স্থানীয় এবং জাতীয় সংস্থাগুলি প্রতিষ্ঠা এবং দৃঢ় করা হচ্ছিল আব্দুল-বাহা কর্তৃক পরিকল্পিত এই ঐশী পরিকল্পনা তখন স্থগিত অবস্থায় রাখা হয়েছিল এবং ১৯৩৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তার উদ্বোধন করা হয়। অভিভাবক সাত সালা পরিকল্পনার দায়িত্ব উত্তর আমেরিকার বাহা’ই সমাজকে দেন, এই প্রথম অধিকাল ১৯৬৩ সালে দশ বছরব্যাপী ধর্ম অভিযানের সমাপ্তির সাথে শেষ হয়, যার ফল ছিল সারা বিশ্বে ধর্মের পতাকা উত্তোলন করা হয়। দ্বিতীয় অধিকালের সূচনাকারী হয় প্রথম নয় সালা পরিকল্পনার মাধ্যমে এবং তার অনুগামী হয় দশটি পরিকল্পনা, এই পরিকল্পনাসমূহের স্থায়িত্বকাল ছিল বারো মাস থেকে সাত বছর পর্যন্ত। এই দ্বিতীয় অধিকালের ঊষাকালেই বাহা’ই বিশ্ব ধর্মে মানুষের দলে দলে যোগদানের সর্বপ্রথম সাক্ষ্য দেখতে পারছিল যার পূর্বাভাষ ঐশী পরিকল্পনার রচয়িতা দিয়েছিলেন। পরবর্তী দশকগুলিতে মহত্তোম নামের সমাজের উৎসর্গকৃত প্রজন্মগুলি ঐশী দ্রাক্ষাক্ষেত্রে স্থায়ী ও বৃহৎ আকারে বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করার জন্য পরিশ্রম করে গেছেন এবং এই প্রভাময় রিজওয়ানকালে তাদের শ্রমের ফল কতই না সীমাহীন। সমাজের কর্মকান্ডে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় স্ফীত হওয়ার মত ঘটনা, বিশ্বাসের স্ফুলিঙ্গ দ্বারা প্রজ্জ্বলিত হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত পরিকল্পনার অগ্রভাগে সেবাদানে চলে আসা এখন বিশ্বাস নির্ভর পূর্বাভাষ থেকে একটি পুনঃ পুনঃ ঘটিত বাস্তবতায় পরিবর্তিত হয়েছে। এমন একটি সুস্পষ্ট এবং প্রমাণযোগ্য অগ্রগতি ধর্মের ইতিহাসে চিহ্নিত করে রাখার দাবি করে। পরম উল্লসিত হৃদয়ে আমরা ঘোষণা করছি যে, মাষ্টারের ঐশী পরিকল্পনার তৃতীয় অধিকাল শুরু হয়েছে। ধাপে ধাপে কালের পর কাল তাঁর পরিকল্পনা উন্মোচিত হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না ঐশী রাজ্যের আলো প্রত্যেকটি হৃদয়কে আলোকিত করবে।
২০। প্রিয় বন্ধুগণ, ঐশী পরিকল্পনার দ্বিতীয় অধিকাল যা পাঁচ বছর ব্যাপী উদ্যোগের সমাপ্তি ঘটালো তার কোন পর্যালোচনা সম্পূর্ণ হবে না যদি তার শেষ বছরে যে উথাল-পাথাল হলো এবং যা এখনো অব্যাহত রয়েছে তার বিশেষভাবে উল্লেখ করা না হয়। ব্যক্তিগত মেলামেশার প্রতি এই সময় বেশিরভাগ দেশে যে বাধানিষেধের যে দোলাচাল ছিল তা সমাজের সমষ্টিগত প্রচেষ্টাসমূহের প্রতি প্রচন্ড আঘাত হানতে পারতো, যার থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক বছর লেগে যেতে পারতো কিন্তু দুটি কারণে তা হয় নাই। একটি ছিল বাহা’ইদের মানব জাতির সেবা করা দায়িত্ব সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা বিশেষ করে বিপদ এবং প্রতিকুলতার সময়। অন্যটি ছিল সেই সচেতনতাকে প্রকাশ করার বাহা’ই বিশ্বের সক্ষমতায় অসাধারণ উত্থান। অনেক বছর ধরে নিজেকে পদ্ধতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার ছকে অভ্যস্ত করার ফলে, বন্ধুরা তাদের সৃজনশীলতা এবং অভীষ্ট লক্ষ্যের জ্ঞানকে তারা অপ্রত্যাশিত সংকটের কাজে লাগায়, একই সময় তারা এই বিষয়টা নিশ্চিত করে যেন তারা যে সকল নতুন পথগুলি উদ্ভাবন করছে সেগুলি যেন তা সেই কাঠামোর সাথে সঙ্গত হয়ে থাকে নিখুঁত করার জন্য পরিকল্পনাগুলি ধারাগুলিতে শ্রম দিয়ে আসছিলেন। এটার অর্থ এই না যে সব দেশেই তাদের দেশবাসীদের মত বাহা’ইরা যে চরম দুর্দশা সহ্য করছেন তাকে অবজ্ঞা করা ; কিন্তু চরম দুর্দশার পুরো সময় বিশ্বাসীরা অবিচল থাকলো। যে সকল সমাজে প্রয়োজন ছিল সেখানে প্রয়োজনীয় সাহায্য প্রেরন করা হয় যেখানেই সম্ভব ছিল সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সর্বাবস্থায় ধর্মের প্রতিষ্ঠানগুলি তাঁদের দায়িত্ব পালন করে গেছে। এমন কি সম্মুখ দিকে কিছু সাহসী পদক্ষেপ ও গ্রহন করা হয়। সাও তোমে এবং প্রিনসিপ-এর জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ এই রিজ্ওয়ানে পুর্ণ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সার্বজনীন বিচারালয়ের দুইটি নতুন স্তম্ভ নির্মাণ করা হবে : যথা ক্রোয়েশিয়া জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ যার কেন্দ্র হবে জাগ্রেব এবং তিমুর লেস্তের জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ, যার কেন্দ্র দিলীতে অবস্থিত হবে।
২১) এইভাবেই এক বছরের পরিকল্পনা শুরু। তার লক্ষ্য এবং প্রয়োগসমূহ ইতিমধ্যেই আমাদের চুক্তিপত্র দিবসের বার্তায় জানানো হয়েছে। এই পরিকল্পনা, যদিও সংক্ষিপ্ত কিন্তু তা বাহা’ই বিশ্ব তার পরবর্তী নয় সালা পরিকল্পনার জন্য প্রস্তুত করার জন্য যথেষ্ট হবে। বিশেষ শক্তিধর এই সময়, যার সূচনা হচ্ছে ঐশী পরিকল্পনার এই সময়, যার সূচনা হচ্ছে ঐশী পরিকল্পনার ফলকলিপির প্রকাশ হওয়া একশত বছর পরে, শিঘ্রই আব্দুল বাহা’র স্বর্গারোহনের শত বার্ষিকীর সাথে সমাপ্ত হবে এবং তা সাংগঠনিক যুগের প্রথম শতাব্দীর সমাপ্তি এবং দ্বিতীয়টি সূচনার চিহ্নিত করবে। বিশ্বাসীদের দল এমন এক সময় এই নতুন পরিকল্পনায় প্রবেশ করে যখন মানবতা তার দুর্বলতা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ফলে সংযত হয়েছে এবং মনে হচ্ছে যে গ্রহব্যাপি চ্যালেঞ্জের মুখে সহযোগিতার প্রয়োজন সম্পর্কে অধিকতর সচেতন। কিন্তু প্রতিযোগিতা স্বার্থপরতা, বিদ্বেষ এবং গোড়ামি দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা অভ্যাসগুলি একতার দিকে চলার পথে বাধা প্রদান করা অব্যাহত রেখেছে, যদিও সমাজে ক্রমবদ্ধমান সংখ্যায় মানুষ কথা ও কর্মের মাধ্যমে প্রকাশ করছে যে তারা ও মানবতার সহজাত একতার অধিকতর স্বীকৃতির জন্য আকুল। আমরা প্রার্থনা করি জাতিসমূহের এই পরিবার যেন অভিন্ন কালের জন্য তাদের তাদের বিভেদগুলি ত্যাগ করতে পারে। আগামী মাসগুলিকে যে অনিশ্চয়তা আবৃত করে রেখেছে তা সত্ত্বেও আমরা বাহা’উল্লাহর কাছে অনুনয় করি তাঁর সমর্থন তাঁর অনুসারীদেরকে যে দীর্ঘকাল ধরে শক্তিদান করেছে তা অধিকতর হোক, যেন আপনারা আপনাদের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান, আপনাদের একাগ্রতা কোলাহলে বিস্মৃত না হয়, যেই বিশ্বের তাঁর নিরাময়কারী বাণীর প্রয়োজন আজ সর্বাধিক। ঐশী পরিকল্পনা একটি নতুন অধিকাল এবং একটি নতুন পর্যায় প্রবেশ করছে। ইতিহাসে একটি অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে ।
১) আমরা পুলকিত যে আমরা এমন এক সম্প্রদায়কে সম্বোধন করছি যাদের উচ্চ মনোবৃত্তি আর উচ্চ সঙ্কল্প তাদের প্রতি নির্দেশিত সমুচ্চ আহ্বানের সমকক্ষ। তোমাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা তীব্র শুধু নয় সুতীব্র। বাহাউল্লাহর শিক্ষার মাধ্যমে রূপায়িত জীবন-যাপন করার নিমিত্তে, নিদারুণ তৃষ্ণার্ত এক বিশ্বকে তাঁর ঐশী প্রত্যাদেশের জীবনদায়ী বারি প্রদান করার জন্য তোমাদের একনিষ্ঠ নিবেদিত প্রয়াস যখন আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়, তখন আমাদের চেতনা কতই না উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে। উদ্দেশ্য সম্পর্কে তোমাদের সুদৃঢ় অনুভূতি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত। সম্প্রসারণ ও দৃঢ়ীকরণ, সামাজিক কর্মকান্ড ও জনসাধারণের সঙ্গে কথোপকথন অব্যাহত গতিতে অগ্রসর হচ্ছে এবং এই সকল উদ্যোগের স্বাভাবিক সুসঙ্গতা ক্লাস্টার স্তরে ক্রমাগত ও অবিরামভাবে প্রতীয়মান হয়ে উঠছে। এটা সেই সব জায়গাতেই বেশি স্পষ্ট, যে সমস্ত জায়গায় জনসম্প্রদায় অধিক মাত্রায় এমন সব প্রচেষ্টায় বিজড়িত হচ্ছে যেগুলো প্রত্যেকটিই প্রভুধর্মের সমাজ নির্মাণকারী শক্তি অবমুক্তির এক একটি পথ।
২) নয়সালা পরিকল্পনা শুরু হওয়ার পর থেকে যে বারো মাস অতিবাহিত হয়েছে, তার মধ্যে যেভাবে এই বিশ্বব্যাপী উদ্যম বন্ধুদেরকে অনুপ্রাণিত ও চমকিত করেছে এবং কার্যক্রমের বিশিষ্ট কর্মধারাগুলিতে গতি সঞ্চার করেছে তাতে আমরা সুপ্রসন্ন। এই কার্যক্রমের বর্তমান কেন্দ্রবিন্দু হল সেই সমস্ত পরিকল্পনা কার্যকর করা, যা সুনিশ্চিত করবে যে প্রতিটি দেশ ও প্রতিটি অঞ্চলে যাতে অন্তত একটি ক্লাস্টার তৃতীয় মাইলফলক অতিক্রম করে। যেখানে এক বৃহৎ জনগোষ্ঠী মিলেমিশে কাজ করছে এবং এক স্পন্দনশীল সম্প্রদায় জীবন গঠনে অবদান রাখছে। আগামী পঁচিশ বছরের লক্ষ্য হল পৃথিবীর সমস্ত ক্লাস্টারে একটি প্রগাঢ় বৃদ্ধি প্রকল্প স্থাপন করা, এই বিষয়ে সজাগ থেকে বিশ্বাসীরা বিদ্যমান প্রগাঢ় বৃদ্ধির কার্যক্রমগুলি জোরদার করার সাথে সাথে প্রভুধর্মের জন্য নতুন নতুন ক্লাস্টার উন্মুক্ত করার প্রয়াস প্রবল করতে আরম্ভ করেছে। বিশ্বের সর্বত্রই যে পথিকৃৎদের উত্থান সম্ভব এ প্রসঙ্গে অধিকতর সচেতনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বহু নিবেদিত আত্মা চিন্তাভাবনা করছে যে কিভাবে এই সুযোগের প্রতি সাড়া দেওয়া যায়। অনেকে ইতোমধ্যেই পথিকৃৎদের জন্য নির্দিষ্ট স্থলে পৌঁছে গিয়েছে, লক্ষনীয়ভাবে স্বদেশীয় পথিকৃৎদের পাশাপাশি ক্রমশঃ অধিকতর মাত্রায় আন্তর্জাতিক স্তরেও এটা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটা সেই সকল পন্থার একটি, যার মাধ্যমে আমরা যেমন আশা করেছিলাম ঠিক তেমনভাবে সকল এলাকার বন্ধুবর্গ পারস্পরিক সমর্থনের চেতনাকে ব্যক্ত করছে। যে সমস্ত সম্প্রদায়ে ইতোমধ্যেই শক্তি অর্জিত হয়েছে সেখানকার বন্ধুরা অন্য এক স্থলের অগ্রগতির সহায়তায় অঙ্গীকারাবদ্ধ, যা অন্য আরেক ক্লাস্টার, অঞ্চল, দেশ এমন কি মহাদেশও হতে পারে। দূর থেকে উৎসাহ দেবার এবং অভিজ্ঞতা সরাসরি ভাগ করে নেবার জন্য বহু সৃজনশীল উপায় আবিষ্কৃত হয়েছে। ইত্যোবসরে মূল পন্থা, অর্থাৎ এক ক্লাস্টারে অর্জিত শিক্ষা লিপিবদ্ধ করা, যাতে তা স্থানীয় স্তরে ও অন্যত্র গৃহীত পরিকল্পনা অবহিত করে ব্যাপকভাবে অনুশীলন করা যায়। আমরা এই দেখে তৃপ্ত যে ইনস্টিটিউট প্রদত্ত শিক্ষাগত অভিজ্ঞতার গুণগত মানোন্নয়ন কিভাবে করা যায় তা শেখার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। যখন ইনস্টিটিউট প্রক্রিয়া কোন সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরে শিকড় বিস্তার করে তখন তার প্রভাব হয় নাটকীয়। উদাহরণস্বরূপ প্রত্যক্ষ করুন সেইসব প্রগাঢ় কার্যক্রমের কেন্দ্র যেখানকার অধিবাসীরা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটকে নিজেদের এক শক্তিশালী যন্ত্র হিসাবে ভাবে, এমন এক যন্ত্র যার পাকাপোক্ত বিকাশের মুখ্য দায়িত্ব তারা নিজেদের কাঁধে নিয়েছে। তারা ভালোভাবেই জানে যে প্রভুধর্মের দ্বার সর্বদাই প্রশস্তভাবে উন্মুক্ত, এটা জেনে তারা শিখছে যে যারা প্রবেশ করতে প্রস্তুত তাদের কিভাবে উৎসাহিত করতে হবে। এইসব আত্মাদের সঙ্গে সঙ্গে চলা, দ্বারপ্রান্ত অতিক্রম করতে তাদের সহায়তা করা এক সৌভাগ্য ও বিশেষ আনন্দ। প্রত্যেক সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটেই স্বীকৃতি ও অন্তর্ভুক্তির এই গতিশীল অনুরণনময় মূহুর্ত সম্বন্ধে অনেক কিছু শেখার আছে। ব্যস এটাই সব নয়, যদিও অনেক ক্লাস্টারেই সামাজিক রূপান্তরে অবদান রাখার প্রচেষ্টা একেবারে প্রাথমিক স্তরে আছে, জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদগুলি উপদেষ্টাগণের কুশলতাপূর্ণ সমর্থনে সক্রিয়ভাবে এই বিষয়ে শিক্ষারত যে, কিভাবে এই প্রয়াসগুলি সম্প্রদায় নির্মাণকারী প্রক্রিয়া থেকে উদ্ভূত হয়। একটি জনমন্ডলীর সামাজিক ও বৈষয়িক কল্যাণ সম্বন্ধে এইসকল আলোচনা গ্রুপ অব ফ্যামিলি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে চর্চিত হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুরা চারদিকের নিকট পরিবেশে উন্মুক্ত হতে থাকা অর্থপূর্ণ কথোপকথনেও অংশগ্রহণ করতে শিখছে।
৩) আমরা যা কিছু বর্ণনা করেছি তার মধ্যে তরুণদের কর্মকান্ড উজ্জ্বলভাবে প্রদীপ্ত। প্রভাব শুভ হোক বা না হোক, প্রভাবের নিষ্ক্রিয় শোষক হওয়া তো দূরের কথা, তারা এটা প্রমান করে দিয়েছে যে তারা পরিকল্পনার নির্ভীক ও বিচক্ষণ নায়ক। যেখানেই সম্প্রদায় তাদেরকে এই আলোকে দেখেছে ও তাদের অগ্রগতির অনুকূল পরিস্থিতি সৃজন করেছে, সেখানেই তারা তাদের প্রতি অর্পিত বিশ্বাস আশাতীতভাবে ন্যায্য প্রমান করেছে। ওরা নিজেদের বন্ধুদের প্রভুধর্মের শিক্ষাদান করছে এবং সেবাকে অধিকতর অর্থপূর্ণ বন্ধুত্বের বুনিয়াদে পরিণত করছে। প্রায়শই এই সেবা তাদের থেকে ছোটদের শিক্ষাদানের রূপ নেয়, কেবল নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা নয়, অনেক সময় তাদের স্কুলের পড়াশোনাতেও ওরা সাহায্য করে। ইনস্টিটিউট প্রক্রিয়াকে মজবুত করার পবিত্র দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে আমাদের সব লালিত আশা তারা পরিপূর্ণ করছে।
৪) এই সকল প্রয়াসের পরিপ্রেক্ষিত গহীনভাবে অস্থির এক কাল। এই কথা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত যে বর্তমান সমাজের কাঠামো মানুষের এখনকার সমস্যার নিরসন করার জন্য প্রস্তুত নয়। বহু বিষয় যা পূর্বে নিশ্চিত ও স্থির হিসাবে পরিগণিত হতো তার উপর প্রশ্ন উঠছে এবং পরিণামে সৃষ্ট বিক্ষোভ এক ঐক্যসাধনকারী দৃষ্টির আকাঙ্খার জন্ম দিচ্ছে। একত্ব, সমতা ও ন্যায়ের সমর্থনের ঐকতান এটাই দেখায় যে অসংখ্য মানুষ নিজেদের সমাজের জন্য এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। অবশ্যই আশীষপুতঃ সুষমার অনুসারীদের কাছে এটা বিস্ময়কর নয় যে তাঁর প্রস্তাবিত আধ্যাত্মিক আদর্শসমূহের জন্যে মানবহৃদয় লালায়িত থাকবে। তথাপি আমরা ইহাকে মর্মস্পর্শী মনে করি যে, এমন এক বছরে যখন মানবতার সামগ্রিক অগ্রগতির সম্ভাবনা কদাচিৎ ঘোর তমসাচ্ছন্ন বলে মনে হয়েছিল, দশ হাজারের বেশি সম্মেলনে প্রভুধর্মের প্রকাশ আশ্চর্যজনক দীপ্তির সঙ্গে ঘটে, যাতে প্রায় পনের লক্ষ মানুষ অংশগ্রহণ করে এবং ঐ সকল আদর্শের উন্নতি বর্ধনের উপায়ের প্রতি ধারণা কেন্দ্রীভূত করে। বাহাউল্লাহর দর্শন এবং বিশ্বের উন্নতিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য মানবজাতির প্রতি তাঁর আবাহন, একেই কেন্দ্র করে সমাজের বিবিধ তত্ত্ব উৎসুকভাবে একত্রিত হয়। এটা আশ্চর্যজনক কিছু নয় কারণ আব্দুল-বাহা ব্যাখ্যা করেছেন "বিশ্বের সমস্ত সম্প্রদায় এই ঐশী শিক্ষাবলীর মাঝে তাদের উচ্চতম আকাঙ্খার অভিব্যক্তি খুঁজে পায়।" প্রারম্ভিকভাবে মানবতার কিছু কিছু শুভচিন্তক এক সমবর্তিত ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত বিশ্বের আশ্রয় ও শরণস্থল রূপে বাহাই সম্প্রদায়ের প্রতি আকর্ষিত হয়। তথাপি শরণাস্থলের ধারণা অতিক্রম করে তারা কুটুম্ব আত্মাসমূহকে খুঁজে পায় যারা এক সাথে মিলে বিশ্বকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য পরিশ্রম করছে।
৫) সম্মেলনসমূহের ভৌগোলিক বিস্তারের বিষয়ে, নতুন পরিকল্পনায় অসাধারণ অনুপ্রেরণা প্রদান সম্পর্কে অথবা উপস্থিত জনহৃদয়ে উৎসারিত আনন্দ ও উদ্দীপনা নিয়ে অনেক কিছুই লেখা সম্ভব। কিন্তু পরের কয়েকটি পংক্তিতে আমরা প্রভুধর্মের বিকাশের ক্ষেত্রে এর কী তাৎপর্য, সেই প্রসঙ্গের প্রতিই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এগুলি ছিল সেই বাহাই সম্প্রদায়ের প্রতিবিম্ব যা একে অপরকে ভেদাভেদ না করে কুটুম্ব হিসেবে দেখে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে যে সম্মেলনে সবাই স্বাগত, সেখানে নয়সালা পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্লেষণ করা স্বাভাবিক হয়ে যায়। বন্ধুরা শুধু ব্যাক্তি ও পরিবার নয়, স্থানীয় নেতা ও কর্তৃপক্ষদের সাহচর্যে নিজেদের সমাজের উপর পরিকল্পনার নিহিতার্থ বিচার করতে সক্ষম হয়। এতো লোককে এক সাথে এক জায়গায় জড়ো করার ফলে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক প্রগতি সম্পর্কে এক রূপান্তরকারী কথোপকথনের উপযুক্ত পরিবেশ উৎপন্ন হয়, যে কথোপকথন ক্রমশঃ সমগ্র বিশ্বে অনাবৃত হতে থাকছে। ক্লাস্টারে সম্প্রদায় উন্নয়নের বিস্তারিত হতে থাকা ছকের উপর এই প্রকার সম্মেলন, যা একাধারে উৎসাহব্যঞ্জক ও উদ্দেশ্যপূর্ণ, যে বিশেষ অবদান রাখে তা বাহাই প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে এক মূল্যবান শিক্ষা যা তারা ভবিষ্যতের জন্য মনে রাখবে।
৬) আর এই ভাবেই নিষ্ঠাবান ভক্তমন্ডলী তারা কী অর্জন করতে চায়, সে সম্পর্কে এক নবীন দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর অন্তর্দৃষ্টি সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনার দ্বিতীয় বছরে প্রবেশ করল। সমাজ নির্মাণকারী শক্তির অবমুক্তির আলোকে দেখলে কার্যক্রমকে কতই না স্বতন্ত্র মনে হয়। এই বিস্তৃতির সম্ভাবনা একটি টেকসই কার্যক্রমকে শুধুই একটি সেবাকার্য বা ডেটা পয়েন্ট না ভেবে আরো অনেক বড় কিছু ভাবার অবকাশ দেয়। এক স্থল থেকে আরেক স্থলে, চলতে থাকা উদ্যোগগুলি জানান দেয় যে, এখানে এমন এক জনগোষ্ঠী বিরাজমান, যারা শিখছে কিভাবে নিজেদের উন্নয়নের পথ খোঁজার ক্রমবর্ধমান দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে হয়। পরিণামে যে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক রূপান্তর ঘটে তা জনজীবনে বিভিন্নভাবে প্রতিভাত হয়। পূর্বের পরিকল্পনাগুচ্ছে সমষ্টিগত উপাসনা ও আধ্যাত্মিক শিক্ষাক্রমে এটি সব থেকে স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছিল। নতুন পরিকল্পনাগুচ্ছে ক্রমবর্ধমানভাবে সেই সব প্রক্রিয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়া আবশ্যক যা সম্প্রদায়ের উন্নতি সাধনে সক্ষম - উদাহরণস্বরূপ জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, পরিবেশের সুরক্ষা, অথবা শিল্পকলার শক্তিকে আরো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা। পরস্পরের পরিপুরক এই সব প্রয়াসের জন্য যা প্রয়োজন তা হলো পদ্ধতিগত শিক্ষাক্রমে নিযুক্ত থাকার সামর্থ্য, সেই সামর্থ্য যা ঐশী শিক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ফলশ্রুতিতে পূঞ্জীভূত মানব জ্ঞানের ভান্ডার উভয় থেকেই উদ্ভূত অন্তর্দৃষ্টিকে কাজে লাগাতে সক্ষম। এই সামর্থ্যের বৃদ্ধির সাথে সাথে আগামী দশকগুলিতে অনেক কিছুই অর্জিত হবে।
৭) এই সম্প্রসারিত সমাজ নির্মাণকারী দৃষ্টির প্রভাব সুদূরপ্রসারী। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজের নিজের পথে এই সার্থকতার দিকে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু এক জায়গার প্রগতি আর আরেক জায়গার প্রগতির মধ্যে প্রায়শই একই ধরণের কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন এক বৈশিষ্ট্য হল সামর্থ্য যত বৃদ্ধি পায় স্থানীয় ও জাতীয় সম্প্রদায়ের শক্তি তত গুণ বেড়ে যায়। তারপর সময়ের পূর্ণতায় রিজওয়ান ২০১২ এর বার্তায় মাশরিকুল আযকার এর উদ্ভবের জন্য স্থির করা শর্ত অবশেষে পরিপূর্ণ হয়। শেষ রিজওয়ান বার্তায় আমরা ইঙ্গিত করেছিলাম যে পর্যায়ক্রমে আমরা সেই সব স্থান সনাক্ত করব যেখানে বাহাই উপাসনালয় নির্মাণ করা হবে। আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে এই সময়ে নেপালের কাঞ্চনপুর এবং জাম্বিয়ার ম্যুনিলুঙ্গাতে স্থানীয় উপাসনালয় স্থাপন করার আহ্বান করা হলো। এছাড়াও আহ্বান জানানো হচ্ছে কানাডার জাতীয় উপাসনালয় স্থাপনের যা টরন্টোর দীর্ঘ প্রতিষ্ঠিত জাতীয় হাজিরাতুল কুদ্স এর কাছাকাছি নির্মিত হবে। এই প্রকল্প এবং ভবিষ্যতের অন্যান্য যে সব প্রকল্প শুরু হবে তা টেম্পল ফান্ডে প্রদত্ত পৃথিবীর সব দেশের বন্ধুদের সহায়তা থেকে লাভবান হবে।
৮) কল্যাণময় প্রভু তাঁর পরমপ্রিয়জনদের উপর অঢেল আশীর্বাদ বর্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আহ্বান সমুচ্চ, সম্ভাবনা দুর্দান্ত। সময় সংক্ষিপ্ত যার মধ্যে আমরা সেবার জন্য নিমন্ত্রিত। তাই আমাদের প্রার্থনা আবেগপূর্ণ যা তোমাদের এবং তোমাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার জন্য আমরা বাহাউল্লাহর দ্বারপ্রান্তে যাচনা করি।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ,
একটি দুর্দান্ত নয়-বর্ষীয় উদ্যমের দুটি বছর দ্রুত কেটে গেছে। ঈশ্বরের বন্ধুগণ সেটির উদ্দেশ্যগুলিকে হৃদয়ে দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছেন। সম্প্রদায় গঠন প্রক্রিয়াকে আরো বিস্তৃত করতে এবং সুগভীর সামাজিক রূপান্তরকে প্রভাবিত করতে কী করা প্রয়োজন সে বিষয়ে সমগ্র বাহা’ই বিশ্বে উপলব্ধি আরো গভীর হয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন আমরা এও দেখছি যে বিশ্বের পরিস্থিতি আরো মরিয়া হয়ে উঠছে, তার বিভাজনগুলি হয়ে উঠছে আরো তীব্র। সমাজ ও জাতিসমূহের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভিন্ন স্থানের উপর অসংখ্য উপায়ে প্রভাব বিস্তার করছে।
এই বিষয়টি প্রতিটি বিবেকবান আত্মার তরফ থেকে একটি প্রতিক্রিয়ার দাবি রাখে। আমরা সকলেই খুব ভালো করে জানি, সমাজের যন্ত্রণা থেকে যে সর্বমহান নামের সম্প্রদায় মুক্ত থাকবে, এটা আশা করা সমীচীন নয়। যন্ত্রনা দ্বারা প্রভাবিত হওয়া সত্ত্বেও, এই সম্প্রদায় সেগুলির দ্বারা বিভ্রান্ত নয়; মানবতার কষ্ট দ্বারা দুঃখিত হওয়া সত্ত্বেও, এই সম্প্রদায় সেগুলির দ্বারা পক্ষাঘাতগ্রস্ত নয়। এই আন্তরিক উদ্বেগ থেকে সম্প্রদায় গঠনের এমন এক দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টার উদ্ভব হওয়া উচিত, যা হতাশার পরিবর্তে আশা যোগাবে, বিরোধের বদলে ঐক্য স্থাপন করবে।
শৌগী এফেন্দি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছিলেন, "নানা বিষয়ে মানবজাতির ক্রমবর্ধমান অবনতির" প্রক্রিয়া কিভাবে অন্য আরেকটি প্রক্রিয়ার সমান্তরালে ঘটে চলেছে, যা হল একীকরণের প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে "মানব পরিত্রাণের তরী", সমাজের "সর্বশেষ আশ্রয়", গড়ে উঠছে। আমরা দেখে আনন্দিত যে প্রতিটি দেশে ও অঞ্চলে শান্তির প্রকৃত সাধকরা এই আশ্রয় গড়ে তুলতে ব্যস্ত। এ বিষয়টি আমরা দেখতে পাই এমন প্রতিটি বিবরণে, যেখানে ঈশ্বরের প্রেমে একটি হৃদয় প্রজ্জ্বলিত হচ্ছে, যেখানে নতুন বন্ধুদের জন্য একটি পরিবার তাদের দ্বার খুলে দিচ্ছে, যেখানে বাহা'উল্লাহ্'র শিক্ষাবলীর শক্তির সাহায্য নিয়ে সহযোগীরা কোনো সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে সচেষ্ট হচ্ছে, একটি সম্প্রদায় নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সহায়তার সংস্কৃতিকে দৃঢ় করে তুলছে, একটি মহল্লা অথবা গ্রাম নিজেদের আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত প্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকলাপ শুরু করতে ও চালু রাখতে শিখছে, একটি লোকালয় একটি নতুন আধ্যাত্মিক পরিষদের আবির্ভাব দ্বারা আশীর্বাদিত হচ্ছে।
(নয়-বর্ষীয়) পরিকল্পনার পদ্ধতি ও সাধনগুলি প্রতিটি আত্মাকেই এমন কোনো না কোনো অবদান রাখার পথ তৈরি করে দেয়, যা আজকের দিনে মানব সমাজের জন্য প্রয়োজন। এই মুহূর্তের ব্যাধিগুলির সাময়িক প্রতিকার করার বদলে পরিকল্পনার পরিচালনা হল সেই পন্থা, যার মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উন্মোচিত হতে থাকা দীর্ঘমেয়াদী, গঠনমূলক প্রক্রিয়াগুলি প্রতিটি সমাজে চলমান হয়ে উঠছে। এই সবকিছু একটি জরুরী, অনিবার্য সিদ্ধান্তের দিকে ইঙ্গিত করছে: যারা এই কাজের সাফল্যের জন্য তাদের সময়, তাদের কর্মশক্তি, তাদের একাগ্রতা উৎসর্গ করছেন, তাদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি হওয়া ও সেই বৃদ্ধি বজায় রাখা প্রয়োজন।
বাহা'উল্লাহ্'র মানবজাতির একত্বের নীতি ছাড়া এই বিশ্ব আর কোথায় এমন রূপকল্প খুঁজে পাবে, যা তার নানাবিধ উপাদানগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করার পক্ষে যথেষ্ট বিস্তৃত? সেই রূপকল্পকে বৈচিত্রের মাঝে একতার উপর ভিত্তি করা একটি ব্যবস্থায় পরিণত করা ছাড়া, এই বিশ্ব কিভাবে সেই সামাজিক ভাঙ্গনগুলির উপশম করবে, যা তাকে বিভক্ত করছে? আর কেই বা সেই খামির হয়ে উঠতে পারে, যার মাধ্যমে বিশ্ববাসী জীবনযাপনের এক নতুন পন্থা আবিষ্কার করতে পারে, যা চিরস্থায়ী শান্তির পথ? অতএব, সকলের প্রতি বন্ধুত্বের, যৌথ উদ্যমের, সম্মিলিত সেবার, সমষ্টিগত শিক্ষা গ্রহণের হাত বাড়িয়ে দিন, এবং একাত্ম হয়ে অগ্রসর হন।
যে কোনো সমাজে বাহা'উল্লাহ্'র রূপকল্পের প্রতি জাগ্রত হতে থাকা ও পরিকল্পনার নায়ক হয়ে উঠতে থাকা, যুবশক্তির দ্বারা কী পরিমান স্পন্দন ও শক্তি সৃষ্টি হয়, সে সম্পর্কে আমরা সচেতন। সেই কারণে, কী অপরিমেয় সহৃদয়তা, সাহস এবং ঈশ্বরের প্রতি সম্পূর্ণ নির্ভরতার সাথেই না বাহা’ই যুবশক্তিকে নিজেদের সঙ্গীদের এই কাজে নিয়ে আসতে তাদের দিকে হাত বাড়ানোর সংকল্প নিতে হবে! সকলকেই তরঙ্গায়িত হতে হবে, কিন্তু যুবশক্তিকে উড্ডীন হতে হবে।
বর্তমান সময়ের জরুরি অবস্থা যেন সেবা থেকে প্রাপ্ত সেই বিশেষ আনন্দকে ঢেকে না দেয়। সেবার আহ্বান হল এক উৎসাহব্যাঞ্জক, সর্ব-আলিঙ্গনকারী তলব। এই আহ্বান প্রত্যেক বিশ্বস্ত আত্মাকে আকৃষ্ট করে, এমনকি তাদেরও যারা দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতার ভারে কাতর। কারণ সেই বিশ্বস্ত আত্মাটি যতরকমভাবে ব্যস্ত, তার প্রত্যেকটির মধ্যে সুগভীর নিষ্ঠা ও অন্যের মঙ্গলের জন্য আজন্ম লালিত চিন্তা খুঁজে পাওয়া যাবে। এই ধরনের গুণগুলি নানাবিধ দাবি দ্বারা পরিপূর্ণ জীবনে সঙ্গতি নিয়ে আসে। একটি প্রজ্বলিত হৃদয়ের পক্ষে সর্বাপেক্ষা মধুর মুহূর্তগুলি হল সেই মুহূর্তগুলি যখন সে তার আধ্যাত্মিক ভাইবোনদের সাথে, আধ্যাত্মিক পুষ্টির প্রয়োজন আছে এমন একটি সমাজের সেবা করার কাজে নিযুক্ত থাকে।
পবিত্র সমাধিগুলিতে, আমরা উচ্ছ্বসিত হৃদয়ে বাহা'উল্লাহ্'কে ধন্যবাদ দিচ্ছি, তাঁর পথে আপনাদের উত্থিত ও প্রশিক্ষিত করার জন্য, এবং আমরা তাঁর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি যেন তিনি আপনাদের উপর তাঁর আশীর্বাদ বর্ষণ করেন।
নয় বর্ষীয় পরিকল্পনার প্রথম ধাপটি শেষ হতে যখন আর মাত্র এক বছর বাকি, তখন আমরা এই পরিকল্পনার প্রগতির বিষয়ে আপনাদের অবগত করতে উৎসুক - কীভাবে, মহৎ প্রচেষ্টার আলোকোজ্জ্বল উদাহরণের মাধ্যমে, প্রভুধর্মের নিবেদিত রূপকল্প আরো অধিক সংখ্যক হৃদয়কে আশায় পরিপূর্ণ করে তুলছে।
বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ক্রমাগত এগিয়ে চলছে। সেই সকল বৈচিত্র্যপূর্ণ স্থানেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে, যেখানে অতীতে গুরুত্বপূর্ণ প্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি, যেখানে প্রভুধর্মের বীজ সবুজ চারা গাছের জন্ম দিচ্ছে এবং অসংখ্য আত্মাদের সঙ্গে একই সাথে কাজ করার সামর্থ্য গড়ে উঠতে শুরু করেছে। এই অগ্রগতি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভব হয়েছে নিবেদিতপ্রাণ পাইওনিয়ারদের কারণে, যারা নিজেদের প্রভুর প্রেমে হৃদয় আলোকিত করে, অধিক সংখ্যায় স্বদেশে ও বিদেশে নির্দিষ্ট অবস্থানস্থলের দিকে ধাবিত হয়েছে। যেসব ক্লাস্টারে বৃদ্ধির কার্যক্রম শুরু হয়ে গিয়েছিল, সেখানে সেই স্বীকৃত কৌশল ও কর্মপন্থাগুলিকে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনকুশলতার সাথে প্রয়োগ করতে নতুন করে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, যেগুলি বন্ধুদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাইলফলক অতিক্রম করতে সক্ষম করবে। যেসব ক্লাস্টার ইতিমধ্যেই শক্তিশালী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, যেখানে বাহা'ই জীবনের এক স্পন্দনশীল ও রূপান্তরকারী প্যাটার্নকে উদ্দীপ্ত আত্মাদের ক্রমবর্ধমান একটি দল আলিঙ্গন করছে, সেখানে প্রভুধর্মের সমাজ-গঠনকারী শক্তির কিরণ আরো দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
ইতোমধ্যে, তৃণমূল স্তরে সমাজের সাথে বিজড়ন উল্লেখযোগ্যভাবে অগ্রসর হয়েছে। শিক্ষার উপর কেন্দ্রীভূত সামাজিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রদায়গত উদ্যোগগুলি সর্বাপেক্ষা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, উপরন্তু কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নারীর ক্ষমতায়ন, এবং শিল্পকলার মত অন্যান্য উদ্যোগগুলিও অগ্রসর হয়েছে। এই ধরনের অগ্রগতি সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ক্লাস্টারগুলিতে সব থেকে সুস্পষ্ট, যেখানে অনেক গ্রাম বা মহল্লা – এমনকি একটি রাস্তা অথবা কোন ভবন যেখানে বিপুল সংখ্যক জনগণ বসবাস করে - যেগুলো হলো সেই জনগোষ্ঠীর গৃহ, যারা প্রভুধর্মের নীতিগুলিকে দৃশ্যমান বাস্তবে পরিণত করা থেকে প্রাপ্ত উত্থানের অভিজ্ঞতা লাভ করছে। কিছু কিছু স্থানে, শিশু শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে স্থানীয় স্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর নেতা ও ব্যক্তিরা বাহা'ইদের দিকে শুধু নতুন দৃষ্টিভঙ্গি লাভের জন্যই তাকাচ্ছে না, বরং বাস্তব সমাধানের সন্ধানে তাদের সাথে একত্রে কাজ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করছে। এছাড়াও, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ চর্চার প্রতি বাহা'ই দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বিবেচনা ও প্রশংসা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে দেখে আমরা আনন্দিত হচ্ছি।
নয় বর্ষীয় পরিকল্পনাটি সেই সুবিশাল, বিশ্বব্যাপী শিক্ষাগ্রহণের প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল যেটি বলিভিয়ার পার্বত্য অঞ্চল থেকে শুরু করে সিডনির শহরতলী পর্যন্ত সমানভাবে কার্যকর। শিক্ষাগ্রহণের এই প্রক্রিয়া সকল পরিবেশের সাথে মানানসই কৌশল ও কর্মকান্ডের জন্ম দিয়েছে। এই প্রক্রিয়া প্রণালীবদ্ধ, জৈবিক ও সর্ব-আলিঙ্গনকারী। এটি পরিবারগুলোর মধ্যে, প্রতিবেশীদের মধ্যে, যুবকদের মধ্যে, এবং সেই সকলদের মধ্যে যারা এই মহিমান্বিত কর্মযজ্ঞের নায়ক হতে প্রস্তুত তাদের মধ্যে সংযোগ সৃষ্টি করে, এমন সংযোগ যা এক গতিশীল সম্পর্ককে পুষ্পায়িত করে। এটি এমন সম্প্রদায়সমূহ গড়ে তোলে যেগুলো সম্ভাবনায় পরিপূর্ণ। এটি সেই সমস্ত মানুষের একত্রে ভাগ করে নেওয়া উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুলির পরিপূর্ণতা সম্ভব করে তোলে —যারা ভৌগোলিক, ভাষা, সংস্কৃতি বা সামাজিক অবস্থানের কারণে বিচ্ছিন্ন ছিল, কিন্তু এখন তারা বাহাউল্লাহর সেই সার্বজনীন আহ্বান "একে অপরের জীবন উন্নত করার জন্য নিরন্তর চেষ্টা কর” শুনেছে ও সাড়া দিয়েছে। এই প্রক্রিয়া ঈশ্বরের বাণীর সেই সঞ্জীবনী শক্তি, সেই "ঐক্য সৃষ্টিকারী শক্তি”র উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল - যা হল, "আত্মাদের চালক এবং মানববিশ্বকে এক সূত্রে বন্ধনকারী ও নিয়ন্ত্রক" - এবং সেই দীর্ঘস্থায়ী কর্মকান্ডের উপরও নির্ভরশীল যা এই শক্তি দ্বারা অনুপ্রাণিত।
তিমিরাচ্ছন্ন ঝটিকাপূর্ণ গগনের বিপরীতে, আপনাদের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা থেকে বিচ্ছুরিত আলোক কতই না উজ্জ্বল! যখন পৃথিবীতে ঝড়ের প্রবল তাণ্ডব চলছে, ঠিক তখনই দেশে দেশে, অঞ্চলে অঞ্চলে, ক্লাস্টারে ক্লাস্টারে মানবতার জন্য আশ্রয়স্থল নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু এখনো অনেক কাজ বাকি। প্রতিটি জাতীয় সম্প্রদায়েরই এই (নয় বর্ষীয়) পরিকল্পনার প্রারম্ভিক পর্যায়ে কী অগ্রগতি সাধিত হবে তা নিয়ে নিজস্ব কিছু প্রত্যাশা আছে। সময় বয়ে যাচ্ছে। সুপ্রিয় বন্ধুগণ, দিব্য শিক্ষাবলীর প্রচারকগণ ও পূতপবিত্র সুষমার বীরগণ - এই মুহূর্তে আপনাদের প্রচেষ্টার বড়ই প্রয়োজন। পরবর্তী রিজওয়ানের আগে দ্রুত ধাবমান মাসগুলিতে অর্জিত প্রতিটি অগ্রগতি সর্বমহান নামের সম্প্রদায়কে (নয় বর্ষীয়) পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে তাদের যা অর্জন করতে হবে তার জন্য আরো ভালোভাবে
প্রস্তুত করবে। আপনারা সফলকাম হোন। এই উদ্দেশ্যে আমরা সার্বভৌম প্রভুর চরণে সনির্বন্ধ প্রার্থনা জানাচ্ছি; এই উদ্দেশ্যে আমরা তাঁর অব্যর্থ সাহায্য কামনা করছি; এই উদ্দেশ্যে আমরা তাঁকে আপনাদের প্রত্যেকের সাহায্যকারীরূপে তাঁর শ্রেষ্ঠ দেবদূতগণকে প্রেরণ করতে অনুনয় করছি।
নয় র্র্বীয় পবরকল্পনার প্রথম ধাপবি শের্ হশ্বি যখন আর মাত্র এক র্ছর র্াবক, িখন আমরা এই পবরকল্পনার প্রগবির বর্র্শ্বয় আপনাশ্বের অর্গি করশ্বি উৎসুক - কীভাশ্বর্, মহৎ প্রশ্বচষ্টার আশ্বলাশ্বকাজ্জ্বল উোহরশ্বণর মাধযশ্বম, প্রভু ধশ্বমরব বনশ্বর্বেি রূপকল্প আশ্বরা অবধক সংখযক হৃেয়শ্বক আোয় পবরপূণব কশ্বর িু লশ্বছ। র্ৃবির প্রবিয়া িমাগি এবগশ্বয় চলশ্বছ। শসই সকল বর্বচত্রযপূণব স্থাশ্বনও উশ্বেখশ্বযাগয সাফলয অবজবি হশ্বয়শ্বছ, শযখাশ্বন অিীশ্বি গুরুত্বপূণব প্রগবি লক্ষ্য করা যায়বন, শযখাশ্বন প্রভু ধশ্বমরব র্ীজ সর্ুজ চারা গাশ্বছর জন্ম বেশ্বে এর্ং অসংখয আত্মাশ্বের সশ্বে একই সাশ্বথ কাজ করার সামথবয গশ্ব়ে উঠশ্বি শুরু কশ্বরশ্বছ। এই অগ্রগবি অবধকাংে শক্ষ্শ্বত্র সম্ভর্ হশ্বয়শ্বছ বনশ্বর্বেিপ্রাণ পাইওবনয়ারশ্বের কারশ্বণ, যারা বনশ্বজশ্বের প্রভু র শপ্রশ্বম হৃেয় আশ্বলাবকি কশ্বর, অবধক সংখযায় স্বশ্বেশ্বে ও বর্শ্বেশ্বে বনবেবষ্ট অর্স্থানস্থশ্বলর বেশ্বক ধাবর্ি হশ্বয়শ্বছ। শযসর্ ক্লাস্টাশ্বর র্ৃবির কাযবিম শুরু হশ্বয় বগশ্বয়বছল, শসখাশ্বন শসই স্বীকৃ ি শকৌেল ও কমবপন্থাগুবলশ্বক সৃজনেীলিা ও উদ্ভার্নকু েলিার সাশ্বথ প্রশ্বয়াগ করশ্বি নিু ন কশ্বর মশ্বনাশ্বযাগ শেওয়া হশ্বয়শ্বছ, শযগুবল র্ন্ধু শ্বের বিিীয় ও িৃিীয় মাইলফলক অবিিম করশ্বি সক্ষ্ম করশ্বর্। শযসর্ ক্লাস্টার ইবিমশ্বধযই েবিোলী বহশ্বসশ্বর্ প্রমাবণি হশ্বয়শ্বছ, শযখাশ্বন র্াহা'ই জীর্শ্বনর এক স্পন্দনেীল ও রূপান্তরকারী পযািানবশ্বক উদ্দীপ্ত আত্মাশ্বের িমর্ধবমান একবি েল আবলেন করশ্বছ, শসখাশ্বন প্রভু ধশ্বমরব সমাজ-গঠনকারী েবির বকরণ আশ্বরা েৃেযমান হশ্বয় উঠশ্বছ।
ইশ্বিামশ্বধয, িৃণমূল স্তশ্বর সমাশ্বজর সাশ্বথ বর্জ়েন উশ্বেখশ্বযাগযভাশ্বর্ অগ্রসর হশ্বয়শ্বছ। বেক্ষ্ার উপর শকন্দ্রীভূ ি সামাবজক কমবকাশ্বের সম্প্রোয়গি উশ্বেযাগগুবল সর্বাশ্বপক্ষ্া দ্রুি র্ৃবি শপশ্বয়শ্বছ, উপরন্তু কৃ বর্, স্বাস্থয, পবরশ্বর্ে, নারীর ক্ষ্মিায়ন, এর্ং বেল্পকলার মি অনযানয উশ্বেযাগগুবলও অগ্রসর হশ্বয়শ্বছ। এই ধরশ্বনর অগ্রগবি সর্াব শ্বপক্ষ্া েবিোলী ক্লাস্টারগুবলশ্বি সর্ শথশ্বক সুস্পষ্ট, শযখাশ্বন অশ্বনক গ্রাম র্া মহো – এমনবক একবি রাস্তা অথর্া শকান ভর্ন শযখাশ্বন বর্পুল সংখযক জনগণ র্সর্াস কশ্বর -
শযগুশ্বলা হশ্বলা শসই জনশ্বগাষ্ঠীর গৃহ, যারা প্রভু ধশ্বমরব নীবিগুবলশ্বক েৃেযমান র্াস্তশ্বর্ পবরণি করা শথশ্বক প্রাপ্ত উত্থাশ্বনর অবভজ্ঞিা লাভ করশ্বছ। বকছু বকছু স্থাশ্বন, বেশু বেক্ষ্া ও সামাবজক উন্নয়শ্বন স্থানীয় স্তশ্বর োবয়ত্বপ্রাপ্ত শপৌর শনিা ও র্যবিরা র্াহা'ইশ্বের বেশ্বক শুধু নিু ন েৃবষ্টভবে লাশ্বভর জনযই িাকাশ্বে না, র্রং র্াস্তর্ সমাধাশ্বনর সন্ধাশ্বন িাশ্বের সাশ্বথ একশ্বত্র কাজ করার ইোও প্রকাে করশ্বছ। এছা়োও, জািীয় ও আন্তজবাবিক স্তশ্বর, বকছু গুরুত্বপূণব চচবার প্রবি র্াহা'ই েৃবষ্টভবে সম্পশ্বকব বর্শ্বর্চনা ও প্রেংসা িমে র্ৃবি পাশ্বে শেশ্বখ আমরা আনবন্দি হবে।
নয় র্র্বীয় পবরকল্পনাবি শসই সুবর্োল, বর্ের্যাপী বেক্ষ্াগ্রহশ্বণর প্রবিয়ার উপর বনভরব েীল শযবি র্বলবভয়ার পার্িবয অঞ্চল শথশ্বক শুরু কশ্বর বসডবনর েহরিলী পযবন্ত সমানভাশ্বর্ কাযকবর। বেক্ষ্াগ্রহশ্বণর এই প্রবিয়া সকল পবরশ্বর্শ্বের সাশ্বথ মানানসই শকৌেল ও কমবকাশ্বের জন্ম বেশ্বয়শ্বছ। এই প্রবিয়া প্রণালীর্ি, বজবর্ক ও সর্ব-আবলেনকারী। এবি পবরর্ারগুশ্বলার মশ্বধয, প্রবিশ্বর্েীশ্বের মশ্বধয, যুর্কশ্বের মশ্বধয, এর্ং শসই সকলশ্বের মশ্বধয যারা এই মবহমাবিি কমযব শ্বজ্ঞর নায়ক হশ্বি প্রস্তুি িাশ্বের মশ্বধয সংশ্বযাগ সৃবষ্ট কশ্বর, এমন সংশ্বযাগ যা এক গবিেীল সম্পকবশ্বক পুষ্পাবয়ি কশ্বর। এবি এমন সম্প্রোয়সমূহ গশ্ব়ে শিাশ্বল শযগুশ্বলা সম্ভার্নায় পবরপূণব। এবি শসই সমস্ত মানুশ্বর্র একশ্বত্র ভাগ কশ্বর শনওয়া উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুবলর পবরপূণবিা সম্ভর্ কশ্বর শিাশ্বল —যারা শভৌশ্বগাবলক, ভার্া, সংস্কৃ বি র্া সামাবজক অর্স্থাশ্বনর কারশ্বণ বর্বেন্ন বছল, বকন্তু এখন িারা র্াহাউোহর শসই সার্বজনীন আহ্বান "এশ্বক অপশ্বরর জীর্ন উন্নি করার জনয বনরন্তর শচষ্টা কর” শুশ্বনশ্বছ ও সা়ো বেশ্বয়শ্বছ। এই প্রবিয়া ঈেশ্বরর র্াণীর শসই সঞ্জীর্নী েবি, শসই "ঐকয সৃবষ্টকারী েবি”র উপর সম্পূণবরূশ্বপ বনভরব েীল - যা হল, "আত্মাশ্বের চালক এর্ং মানর্বর্েশ্বক এক সূশ্বত্র র্ন্ধনকারী ও বনয়ন্ত্রক" - এর্ং শসই েীর্স্থব ায়ী কমবকাশ্বের উপরও বনভরব েীল যা এই েবি িারা অনুপ্রাবণি। বিবমরােন্ন ঝবিকাপূণব গগশ্বনর বর্পরীশ্বি, আপনাশ্বের একবনষ্ঠ প্রশ্বচষ্টা শথশ্বক বর্েু বরি আশ্বলাক কিই না উজ্জ্বল! যখন পৃবথর্ীশ্বি ঝশ্ব়ের প্রর্ল িাের্ চলশ্বছ, বঠক িখনই শেশ্বে শেশ্বে, অঞ্চশ্বল অঞ্চশ্বল, ক্লাস্টাশ্বর ক্লাস্টাশ্বর মানর্িার জনয আশ্রয়স্থল বনবমবি হশ্বে। বকন্তু এখশ্বনা অশ্বনক কাজ র্াবক। প্রবিবি জািীয় সম্প্রোশ্বয়রই এই (নয় র্র্বীয়) পবরকল্পনার প্রারবম্ভক পযবাশ্বয় কী অগ্রগবি সাবধি হশ্বর্ িা বনশ্বয় বনজস্ব বকছু প্রিযাো আশ্বছ। সময় র্শ্বয় যাশ্বে। সুবপ্রয় র্ন্ধু গণ, বের্য বেক্ষ্ার্লীর প্রচারকগণ ও পূিপবর্ত্র সুর্মার র্ীরগণ - এই মুহূশ্বিব আপনাশ্বের প্রশ্বচষ্টার র়্েই প্রশ্বয়াজন। পরর্িবী বরজওয়াশ্বনর আশ্বগ দ্রুি ধার্মান মাসগুবলশ্বি অবজিব প্রবিবি অগ্রগবি সর্বমহান নাশ্বমর সম্প্রোয়শ্বক (নয় র্র্বীয়) পবরকল্পনার বিিীয় ধাশ্বপ িাশ্বের যা অজবন করশ্বি হশ্বর্ িার জনয আর ো ভোর োভোরে
প্রস্তুি করশ্বর্। আপনারা সফলকাম শহান। এই উশ্বদ্দশ্বেয আমরা সার্বশ্বভৌম প্রভু র চরশ্বণ সবনর্বন্ধ প্রাথবনা জানাবে; এই উশ্বদ্দশ্বেয আমরা িারাঁ অর্যথব সাহাযয কামনা করবছ; এই উশ্বদ্দশ্বেয আমরা িাাঁশ্বক আপনাশ্বের প্রশ্বিযশ্বকর সাহাযযকারীরূশ্বপ িাাঁর শশ্রষ্ঠ শের্েূিগণশ্বক শপ্ররণ করশ্বি অনুনয় করবছ।